বিশ্লেষণ

আমরা কি বিবেকশূন্য হয়ে যাচ্ছি?

 প্রকাশ : ৩১ জানুয়ারি ২০১৮ | আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০১৮      

 রাশেদ মেহেদী

ফাইল ছবি

১.

আমরা কি বিবেকশূন্য হয়ে যাচ্ছি? এখন বোধ হয় প্রশ্ন করার কিছু নেই; এটাই বাস্তবতা। নীতিহীনতা, বিবেকহীনতার গা শিউরে ওঠা উদাহারণ সামনে আসছে একের পর এক। অথচ আমরা নিশ্চুপ! নিশ্চুপ মন্ত্রী সকল,নিশ্চুপ নাগরিক সমাজ। অদ্ভুত এক নির্লজ্জতা গ্রাস করেছে আমাদের!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আবু বকর হত্যা মামলায় রায়ে সব আসামিকে খালাস করার ব্যবস্থা করে রায় গোপন রাখা হয়, যেন আপিল করা না যায়! আর খুনি হিসেবে অভিযুক্তরা মুক্ত হয়ে নানা দায়িত্বশীল পেশায় দিব্যি বুক ফুলিয়ে বেড়াচ্ছেন। পার পেয়ে যাওয়া এই অভিযুক্তরা একদিন মনোনয়ন বাণিজ্যের বাজারে সফল ক্রেতা হিসেবে হয়তো এমপি হবেন, হয়তো মন্ত্রীও হবেন। তখন তারাই দেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখাবেন! এভাবেই জাতির সামনে ভবিষ্যতের অন্ধকার সুড়ঙ্গ তৈরি হচ্ছে; অথচ দেশের কর্ণধারদের কোনো বিকার নেই।

এত বড় চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ময়নাতদন্ত,পুলিশি তদন্ত থেকে মামলায় রায় লুকিয়ে আপিল করার সময় পার করা পর্যন্ত যারা দায়িত্বে ছিলেন সেসব তদন্ত কর্মকর্তা, আইনজীবী কী দিয়ে গড়া মানুষ? মানুষ হতে হলে নিজের বিবেকের কাছে দায়বদ্ধ থাকতে হয়। সেটা তাদের নেই বলেই প্রমাণ হয়েছে। তারা হয়তো বলবেন, 'ওপরের চাপ ছিল, তাদের করার কিছুই ছিল না।' কী আর করা! মেনে নিতে হবে, কারণ এই কর্মকর্তাদের যারা পরিচালনা করেন তারা মানুষ হিসেবে কতটা সংবেদনশীল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। এত বড় একটা ঘটনা নিয়ে পত্রিকায় রিপোর্ট হলো,অথচ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কোনো বক্তব্য নেই। আইনমন্ত্রীর একটা বক্তব্য রিপোর্টে আছে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে যিনি উজ্জ্বল ভূমিকা রেখেছেন,তার কাছে আইনমন্ত্রী হিসেবে এটুকু বক্তব্যই কি যথেষ্ট?

একজন গরিব, মেহনতি মানুষ অনেক বড় স্বপ্ন নিয়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ছেলেকে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে পাঠিয়েছিলেন। সেই সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ তাকে ডিগ্রি দেয়নি, বাবা-মা'র কাছে ছেলের লাশ পাঠিয়েছে। এর পর খুনের বিচারও পেলেন না আবু বকরের বাবা। এই অসহায় পিতা এই রাষ্ট্রে কার প্রতি আস্থা রাখবেন? 

এখন আইনগত প্রক্রিয়ায় কীভাবে এ মামলায় নিম্ন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে দ্রুত আপিল করা যায় তার ব্যবস্থা করা উচিত। আইন মানুষকে ন্যায়বিচার দেওয়ার জন্য। চাইলে প্রথাগত আপিলের সময় পার হলেও রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার ব্যবস্থা করা সম্ভব। আইনমন্ত্রী, আইনজীবীসহ সংশ্নিষ্টরা সেটা সবার চেয়ে ভালো জানেন।

২.

শিক্ষকদের মধ্যে এখন আনুগত্য প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতার অন্যতম লক্ষ্য হলো- উপাচার্য, প্রক্টর হওয়া। তবে ওইসব শিক্ষকের অনেকের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। একজন শিক্ষক সফল গবেষক হবেন, নতুন উদ্ভাবনে গর্বিত হওয়ার স্বপ্ন দেখবেন, শিক্ষার্থীদের সামনে অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করবেন, সর্বোপরি জাতির সম্পদ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করবেন— সেটাই হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। শিক্ষকদের কেউ কেউ স্বপ্ন দেখেন উপাচার্য, প্রক্টর কিংবা হাউস টিউটর হওয়ার। তারা শিক্ষার্থীদের জ্ঞানদানে কতখানি মনোযোগী তা নিয়ে যেমন প্রশ্ন রয়েছে; তেমনি প্রশ্ন রয়েছে তাদের নীতি-নৈতিকতা নিয়েও। অনেকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতির ধরনটাই এখন এমন! 

ফেসবুকে ছাত্রলীগের অনেকে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন বিএনপি'র আমলে ছাত্রদল কী করেছে তার ইতিহাস তুলে ধরে। আমার প্রশ্ন— আজকের ছাত্রলীগ কি অতীতের গৌরব ভুলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ত্যাগের মহান আদর্শকে দূরে ঠেলে দিয়েছে? না হলে তারা ছাত্রদল-ছাত্রশিবিরের হামলার উদাহরণ দিয়ে নিজের অপকর্মের দায় এড়ানোর চেষ্টা করবে কেন?

৩.

নীতিহীনতা,অসততা আমাদের সমাজ-জীবনে ভয়াবহ অবক্ষয়ের সৃষ্টি করেছে। কয়েকদিন আগে রাজধানীর ওয়ারীতে একটি ভবনের ছাদে মধ্যরাতে উচ্চস্বরে গান বাজানো হচ্ছিল। ওই ভবনের ফ্ল্যাট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেনের ভাতিজার গায়ে হলুদ উপলক্ষে উচ্চস্বরে গান বাজছিল। ভবনের বাসিন্দা বাইপাস সার্জারি করানো ৬৫ বছরের নাজমুল হক উচ্চ শব্দের জন্য ঘুমাতে পারছিলেন না এবং অসুস্থ বোধ করছিলেন। এ কারণে ছেলে নাসিমুল হককে তিনি পাঠান শব্দ কমাতে বলার জন্য। আলতাফ হোসেন প্রভাবশালী মানুষ। তিনি যা ইচ্ছে করার ক্ষমতা রাখেন। তাই সাঙ্গোপাঙ্গ দিয়ে নাসিমুল হককে পিটিয়ে ক্ষমতা জাহির করেন। বৃদ্ধ পিতা সন্তানকে বাঁচাতে গেলে আলতাফ হোসেন তাকেও মারধর করতে ছাড়লেন না। মারধরে মৃত্যু হলো বৃদ্ধের।

কী মর্মান্তিক খবর! আমাদের সমাজ ব্যবস্থার নিদারুণ চিত্র! পুলিশ আলতাফ হোসেন ও তার কয়েক সাঙ্গোপাঙ্গকে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু ময়নাতদন্ত, পুলিশি তদন্ত, বিচার প্রক্রিয়া— সবকিছুতেই আসামিদের মুক্ত করার চেষ্টা না তো? সেই আশঙ্কা থেকে মুক্ত হবো কীভাবে?

লেখক: সাংবাদিক



  • প্রভাবশালী বন্ধু দেশগুলোর কার্যকর ভূমিকা চাই

    প্রভাবশালী বন্ধু দেশগুলোর কার্যকর ভূমিকা চাই

  • প্রভাবশালী বন্ধু দেশগুলোর কার্যকর ভূমিকা চাই

    প্রভাবশালী বন্ধু দেশগুলোর কার্যকর ভূমিকা চাই

  • পলাতক খুনিদের ফেরাতে আইনি জটিলতা

    পলাতক খুনিদের ফেরাতে আইনি জটিলতা

  • পলাতক খুনিদের ফেরাতে আইনি জটিলতা

    পলাতক খুনিদের ফেরাতে আইনি জটিলতা

  • ‘বাচ্চারা ভাল, বড়রা খারাপ’

    ‘বাচ্চারা ভাল, বড়রা খারাপ’


‘বাচ্চারা ভাল, বড়রা খারাপ’

 রাশেদ মেহেদী

বছর পনেরোর এক কিশোর, আমরা যাদের বাচ্চা বলি। দু’দিন আগে ...

০৭ আগস্ট ২০১৮

নারীকর্মী না ‘রেমিটেন্স মেশিন’

 ইমতিয়ার শামীম

'আমি তো দেহ ব্যবসা করার জন্যে যাই নাই। আমি গেছি ...

১০ জুলাই ২০১৮

আমানতকারীরা কার কাছে যাবেন?

 জাকির হোসেন

কয়েকদিন আগে একটি টিভি চ্যানেলে টকশোর বিরতিতে বেসরকারি একটি ব্যাংকের ...

২৮ জুন ২০১৮

একটি প্রজ্ঞাপন ও ডিজিটাল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ

 রাশেদ মেহেদী

ব্যবধান এক বছরের। চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার ...

১১ জুন ২০১৮