বিশ্লেষণ

বিদেশি ফুটবলার ও দেশি ফুটবল

 প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮ | আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৮      

 রেজওয়ান উজ জামান

প্রতারণার অভিযোগে গত ২ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর বিভিন্ন স্থান থেকে নাইজেরিয়ার পাঁচ ফুটবলারকে আটক করে সিআইডি— সমকাল

দৃশ্য ১

রামপুরার একটি রেস্টুরেন্টে কথা হলো পিটারের সঙ্গে। দেখেই আফ্রিকান বলে দেওয়া যায়। কিন্তু সত্যিই ফুটবলার কি-না সে প্রশ্ন থেকেই যায়। কথায় কথায় জানতে চাইলাম কবে এসেছেন বাংলাদেশে? উত্তরটা ভুলতে বসেছেন না বলতে চাইছেন না, তা বোঝা গেল না। এড়িয়ে গেলেন। অন্য প্রসঙ্গে অনেক কথা হলো। ঢাকার যানজট, খাবার, রিকশা সবকিছু নিয়ে। পাশে থাকা দুই স্বদেশি আর বাংলাদেশি এক বন্ধুর সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, পিটার এসেছিলেন ২০১৫ সালে। সেই থেকে এখনও আছেন। উদ্দেশ্য ফুটবল খেলা হলেও তার সঙ্গে অনেক কিছুই ডালপালা মেলেছে গত আড়াই বছরে।


ঘটনা ১ ও ২

সম্প্রতি আরামবাগের একটি হোটেলে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে মারা গেছেন এক ফুটবলার।

আর পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন পাঁচ আফ্রিকান। তারা পরিচয় দিয়েছেন ফুটবলার হিসেবে।

ঘটনা আর দৃশ্যগুলো আলাদা হলেও তাদের মধ্যে সম্পর্ক বিস্তর। জন্ম দিয়েছে নানা প্রশ্নের, সঙ্গে জোগাচ্ছে চিন্তার খোরাক। বাংলাদেশের ফুটবল ক্রমেই বিদেশি দলগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পিছিয়ে পড়ছে। আর দেশি ফুটবলে বিদেশিরা শিকড় গেড়ে বসেছেন। সেই শিকড় এতটাই হালকা, পলকে বাতাসে তা উড়ে যেতে চায়। মানে, নামে, দামে, আচরণে কোনো কিছুতেই তাদের সেরা বলার জো নেই। হ্যাঁ, তাদের আছে কেবল বিশালাকৃতির দেহ, যা দিয়ে শক্তিতে টেক্কা দেয় দেশি ফুটবলারদের। দৃষ্টি কাড়ে ক্লাবগুলোর।

ব্যতিক্রম যে নেই, তা কিন্তু নয়। ব্যতিক্রম সনি নর্দে, ওয়েডসন, লি টাকরা। কিন্তু ব্যতিক্রম কি কখনো উদাহরণ হয়?

প্রতি বছর জানা হিসাবে (২০১৭ আসর) বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ তথা পেশাদার লীগের শীর্ষ স্তরের ১২ ক্লাবে দু'জন করে বিদেশি ফুটবলার খেলেন, রেজিস্ট্রেশন করেন তিনজন করে। সেই হিসাবে সংখ্যাটা ৩৬। দ্বিতীয় স্তর বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশিপে অবশ্য কোনো বিদেশি ফুটবলার খেলেন না। তার পরও মধ্যবর্তী দল বদলে বিদেশি পরিবর্তন আর ট্রায়াল দিতে ঝাঁকে ঝাঁকে আসার বিচারে সংখ্যাটা শতাধিকে গিয়ে ঠেকে। এর মধ্যে গুটিকয় বাদ দিলে বাকি সবাই আফ্রিকা মহাদেশের প্রতিনিধি। কিন্তু বাদ পড়ারা দেশ ছাড়ল কি-না তার হিসাব নেই কারও কাছে। তাই পিটার বা অজানা বিদেশিরা নিজেদের ফুটবলার পরিচয় দিয়ে থেকে যেতে পারছেন বাংলাদেশে।

যখন বিদেশি ফুটবলার আসতে থাকেন, তখন তাদের তালিকা ক্লাব থেকে ফেডারেশন হয়ে ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টে যায়। কিন্তু বিদায় বেলায় নেই সেই রীতি। তাই ঢাকা থেকে বিভাগ-জেলা-উপজেলার বিভিন্ন ছোট থেকে বড় টুর্নামেন্টে দেখা যায় অখ্যাত এসব ফুটবলারকে। দেখা যায় বিভিন্ন অননুমোদিত ব্যবসায় তাদের জড়িয়ে পড়তে। এসব আফ্রিকানকে ফুটবলার পরিচয় দিতেও কষ্ট হয়। শারীরিক সক্ষমতা ফুটবলার হওয়ার একটা ধাপ হতে পারে। কিন্তু সেই শৈল্পিকতা কোথায়?

এটা তো গেল একটি দিক। আর সরকার বঞ্চিত হচ্ছে রাজস্ব থেকে। এসব ফুটবলারের পারিশ্রমিক থেকে আয়কর পাচ্ছে না বাংলাদেশ সরকার। কেননা, তাদের আসা থেকে শুরু করে চুক্তি, পারিশ্রমিকে অনেক কিছুই আছে অনিয়ম। তাই অনেকের ভিসা যেমন ওয়ার্ক পারমিট মেনে নয়, ঠিক তেমনি তাদের চুক্তিও লিখিত নয়। লিখিত থাকলেও তার বিপরীতে দেওয়া হয় না আয়কর।

এত হতাশা, এত অনিয়মের গল্প। অথচ এই আফ্রিকা থেকেই ঢাকার ফুটবলে খেলে গেছেন চিমা ওকোরি, এমেকার মতো তারকা। আফ্রিকান প্রীতি শুরু হয়েছিল আশির দশকে। ১৯৮৬ সালে প্রথম আফ্রিকান ফুটবলার ইব্রাহিম সেঙ্গরকে এনেছিল মোহামেডান। সেই শুরুটা এখন কালিমালিপ্ত।

আসছে মৌসুমে আবারও বাড়ছে বিদেশি ফুটবলারের সংখ্যাটা। বাড়ন্ত সমস্যার চিন্তাটাও শুরু, এখন থেকে। কিন্তু যেসব বিদেশি এখনও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে আছেন, তাদের কী হবে? মাত্র তো পাঁচজন ধরা পড়েছেন নিরাপত্তা বাহিনীর জালে!


লেখক: সাংবাদিক



‘বাচ্চারা ভাল, বড়রা খারাপ’

 রাশেদ মেহেদী

বছর পনেরোর এক কিশোর, আমরা যাদের বাচ্চা বলি। দু’দিন আগে ...

০৭ আগস্ট ২০১৮

নারীকর্মী না ‘রেমিটেন্স মেশিন’

 ইমতিয়ার শামীম

'আমি তো দেহ ব্যবসা করার জন্যে যাই নাই। আমি গেছি ...

১০ জুলাই ২০১৮

আমানতকারীরা কার কাছে যাবেন?

 জাকির হোসেন

কয়েকদিন আগে একটি টিভি চ্যানেলে টকশোর বিরতিতে বেসরকারি একটি ব্যাংকের ...

২৮ জুন ২০১৮

একটি প্রজ্ঞাপন ও ডিজিটাল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ

 রাশেদ মেহেদী

ব্যবধান এক বছরের। চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার ...

১১ জুন ২০১৮