রক্তাক্ত গুলশান

হাসনাত ও তাহমিদকে নিয়ে গোলকধাঁধা

জট খুলতে যাচাই করা হচ্ছে ৩২ প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০১৬     আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০১৬      

সাহাদাত হোসেন পরশ

গুলশানের হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনার তদন্তে প্রতিদিনই গোয়েন্দাদের সামনে আসছে নতুন নতুন রহস্য। আসছে অনেক জটিল সমীকরণও। তদন্তের ক্ষেত্রে এসব সমীকরণের সূত্র মেলাতে নানাভাবে কাজ করছেন তারা। এখন তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের কাছে বড় প্রশ্ন- ওই ঘটনায় জঙ্গিদের সঙ্গে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক হাসনাত করিম ও ব্যবসায়ীপুত্র তাহমিদ হাসিব খানের কোনো যোগসাজশ ছিল কি-না। যদিও হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় হামলার সময় ওই ভবনের ছাদে জঙ্গিদের সঙ্গে 'ঘনিষ্ঠ অবস্থায়' হাসনাত ও তাহমিদকে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে। একাধিক ছবিতে তাদের দু'জনকে দৃশ্যত 'স্বাভাবিক' মনে হয়েছে। এমন ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর জনমনে তাদের নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে নানা ধূম্রজালও। তদন্তকারী কর্মকর্তারা বলছেন, অনেক সময় শুধু ছবি দেখে কাউকে সন্দেহাতীতভাবে 'আসামি' হিসেবে শনাক্ত করা সম্ভব নয়। সন্দেহাতীতভাবে কাউকে অপরাধী হিসেবে প্রমাণ করতে হলে ছবির পাশাপাশি অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত লাগে। এরপর তদন্তে সব সূত্র জোড়া লাগলেই চূড়ান্তভাবে সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব।

গুলশানে জঙ্গি হামলার পর থেকে শুরু করে অপারেশন থান্ডারবোল্ট চালানো পর্যন্ত হলি আর্টিসানের ভেতরে হাসনাত ও তাহমিদের কী ভূমিকা ছিল- তার চুলচেরা যাচাই-বাছাই করতে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করছে তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ। জিম্মিদশা থেকে মুক্ত ৩২ জন হাসনাত ও তাহমিদকে কী অবস্থায় হোটেলে দেখেছেন- তা বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। ছবির আগে-পরে তাদের কী ভূমিকা ছিল তা অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত তদন্ত চলছে। আদালতের অনুমতি নিয়ে গতকাল সোমবার হাসনাতের মোবাইল ফোন সেটের ফরেনসিক পরীক্ষা করতে পুলিশের বিশেষ অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে গুলশানের ঘটনায় হাসনাত ও তাহমিদের ভূমিকার ব্যাপারে সন্দেহাতীত সিদ্ধান্তে পেঁৗছা সম্ভব হবে। ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাদের দু'জনকে আট দিনের রিমান্ডে নিয়ে এখন জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

এ ব্যাপারে গত রোববার কাউন্টার টেররিজম ও ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, জঙ্গিদের সঙ্গে হাসনাত ও তাহমিদের সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি রিমান্ড শেষে সুস্পষ্টভাবে জানানো হবে। এখন পর্যন্ত এই হামলায় তাদের জড়িত থাকার বিষয়ে পুলিশ নিশ্চিত নয়।

সম্প্রতি বিবিসি বাংলা সার্ভিসের সঙ্গে আলাপকালে হাসনাতের বাবা রেজাউল করিম দাবি করেন, 'হলি আর্টিসানে তার ছেলে হিরোর মতো কাজ করেছে। সে আটজনের প্রাণ বাঁচিয়েছে। সে যদি জঙ্গিদের সঙ্গে আলাদা ব্যবহার করত তাহলে হয়ত তারা মারা যেত।'

দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, রিমান্ডে হাসনাত ও তাহমিদ দাবি করেছেন, জঙ্গিরা অস্ত্রের মুখে তাদের ছাদে নিয়েছিল। উগ্রপন্থিরা যখন বুঝতে পেরেছে যে কোনো সময় হোটেলে কমান্ডো অভিযান শুরু হতে পারে, তখনই তাদের ছাদে নেওয়া হয়। তাহমিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল একটি অস্ত্রও। জঙ্গিদের সঙ্গে ওই হোটেলের ছাদে হাসনাত ও তাহমিদের ঘোরাঘুরি আশপাশের বাসার কয়েকজন বাসিন্দা ক্যামেরায় ধারণ করেন। ওই এলাকার বাসিন্দা একজন বিদেশি নাগরিকও এমন দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করেন। জঙ্গিদের সঙ্গে হাসনাত ও তাহমিদের ছাদে ঘোরাঘুরির যে ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় তার অধিকাংশ কমান্ডো অভিযান চালানোর ঘণ্টা দু'এক আগের তোলা।

মামলার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত একটি সূত্র সমকালকে জানায়, হলি আর্টিসানের জিম্মিদশা থেকে মুক্ত ভারতীয় নাগরিক ডা. সত্য প্রকাশ এরই মধ্যে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। ওই জবানবন্দিতে সত্য প্রকাশ হোটেলের ভেতরে হাসনাত ও তাহমিদের কী ভূমিকা ছিল তার বর্ণনা দেন। হাসনাত ও তাহমিদ জঙ্গিদের অস্ত্রের মুখেই এই কাজ করেছেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন সত্য প্রকাশ। তবে তদন্ত সংস্থা কেবল সত্য প্রকাশের বক্তব্যে নয়, জিম্মিদশা থেকে মুক্ত অন্য সবার জবানবন্দি নিচ্ছে। এরই মধ্যে অনেকের বক্তব্য নেওয়াও সম্পন্ন হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী সবার বক্তব্যের মিল-অমিল খতিয়ে দেখা হবে। একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা গতকাল সমকালকে বলেন, জঙ্গিদের সঙ্গে যে ছবিতে হাসনাত ও তাহমিদকে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে তা যদি অস্ত্রের মুখে তারা করে থাকে তাহলে এটা অভিযুক্তদের প্রথমে যুক্তি-তর্ক দিয়ে 'মিথ্যা' প্রমাণ করতে হবে। জঙ্গিরা হলি আর্টিসানে নিজেদের কোনো মোবাইল ফোনসেট ব্যবহার করেনি। তারা হাসনাতসহ অন্তত ছয় জিম্মির মোবাইল ফোনসেট ব্যবহার করে ছবি অন্য কোনো আইডিতে পাঠিয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, প্রথমে যে আইডিতে ছবি গেছে তা ছিল পুরস্কার ঘোষিত জঙ্গি তামিম চৌধুরীর। তবে হলি আর্টিসানে হামলার মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যে হাসনাতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনসেটে 'উইকার' নামে একটি অ্যাপ ডাউনলোড করা হয়। কেন হামলার এত অল্প সময়ের মধ্যে তার ফোনে এই অ্যাপ ডাউনলোড করা হয়েছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওই অ্যাপ হাসনাত নিজে; নাকি জঙ্গিরা ব্যবহার করেছিল তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। হাসনাতের ফোনসেটের কোনো রেকর্ড ডিলিট করা হয়েছিল কি-না তাও প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে বের করা হবে।

হলি আর্টিসান রেস্তোরাঁয় হামলার এক দিন আগে কানাডা থেকে দেশে ফেরেন তাহমিদ। ঘটনার দিন দুই বান্ধবীকে নিয়ে আর্টিসানে যান তিনি। তাহমিদের দুই বান্ধবী নর্থ সাউথের ছাত্রী। তাহমিদ বিশেষ কোনো 'অ্যাসাইনমেন্ট' বাস্তবায়ন করতে দেশে এসেছেন কি-না তা নিয়ে নানামুখী তদন্ত চলছে। নাকি কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তাহমিদ তার দুই বান্ধবীকে হলি আর্টিসানে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি কাকতালীয় তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে। গুলশানের ঘটনার অন্যতম পরিকল্পনাকারী তামিম চৌধুরী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক হওয়ায় এই বিষয়টি আরও গুরুত্ব দিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা বলেন, তদন্তে যদি সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ হয় হাসনাত ও তাহমিদের সঙ্গে জঙ্গিদের যোগসাজশ ছিল, তাহলে সেটা হবে দেশের ইতিহাসে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনার আরেকটি নতুন অধ্যায়। কারণ হলি আর্টিসানে সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে গিয়েছিলেন হাসনাত। তখন প্রমাণ হবে, ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে হাসনাত হলি আর্টিসানে যান। একইভাবে দুই বান্ধবীকে নিয়ে গিয়েছিলেন তাহমিদ। এরই মধ্যে তাহমিদের দুই বান্ধবীর বক্তব্য নেওয়া হয়েছে।

দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, হাসনাত করিম এক সময় হিযবুত তাহ্রীরের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে ওই সংগঠনটি নিষিদ্ধ হওয়ার পর তিনি আর হিযবুতের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন না বলে গোয়েন্দাদের জানিয়েছেন। হাসনাতের পূর্ব ইতিহাস, নর্থ সাউথের দুই ছাত্রীকে নিয়ে তাহমিদের হলি আর্টিসানে যাওয়া, আবার তাহমিদের কানাডা থেকে ফেরত- সব মিলিয়ে তাদের নিয়ে এখনও জটিল গোলকধাঁধায় পুলিশ।

পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, যদি জঙ্গিদের সঙ্গে হাসনাত ও তাহমিদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় তখন তাদেরকে গুলশানের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হবে। এখনও এই মামলায় কাউকে গ্রেফতার দেখানো হয়নি।

এখন সংলাপের প্রয়োজন নেই

এখন সংলাপের প্রয়োজন নেই

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও 'নির্বাচনকালীন সরকার' বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে ...

আজ সেই ভয়াল দিন

আজ সেই ভয়াল দিন

স্মরণকালের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার চতুর্দশ বার্ষিকী আজ। ২০০৪ সালের এই ...

মানব পাচার করে ১০ কোটি টাকার মালিক

মানব পাচার করে ১০ কোটি টাকার মালিক

একটি সংঘবদ্ধ চক্র দীর্ঘদিন ধরে নানা কৌশলে মানব পাচার করে ...

পশুর ঢল, দাম পড়তি

পশুর ঢল, দাম পড়তি

শেষবেলায় জমে উঠেছে রাজধানীর পশুর হাট। অস্ট্রেলিয়ান, নেপালি, ভুটানি ও ...

হাটে পশুর ঢল, দাম পড়তি শেষবেলায়

হাটে পশুর ঢল, দাম পড়তি শেষবেলায়

শেষবেলায় জমে উঠেছে রাজধানীর পশুর হাট। অস্ট্রেলিয়ান, নেপালি, ভুটানি ও ...

রাজধানীতে কখন কোথায় ঈদ জামাত

রাজধানীতে কখন কোথায় ঈদ জামাত

যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে বুধবার সারাদেশে উদযাপিত হবে ...

নরিসংদীতে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে প্রাণ গেল ১০ জনের

নরিসংদীতে বাস-লেগুনা সংঘর্ষে প্রাণ গেল ১০ জনের

নরসিংদীর বোলাবতে ঢাকাগামী 'ঢাকা বস' পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস ও ...

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন শুরু

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে উৎপাদন শুরু

টানা ২৯ দিন বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ ...