ভোটের আগে অবৈধ যানবাহন বন্ধ নয়: কাদের

প্রকাশ: ১২ নভেম্বর ২০১৭      

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

সড়ক-মহাসড়কে দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত নসিমন, করিমন, ভটভটির মতো অবৈধ যান চলাচল ভোটের আগে বন্ধ হচ্ছে না।

দুর্ঘটনা অর্ধেকে কমিয়ে আনতে সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের এক সভায় 'ন্যাশনাল রোড সেফটি স্ট্র্যাটিজিক অ্যকশন প্ল্যান' অনুমোদন করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের একথা জানান।

রোববার রাজধানীর রমনার একটি হোটেলে কাউন্সিলের ওই ২৫ তম সভায় আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে বহুল আলোচিত 'এপেল লোড নীতিমালা-২০১২' কার্যকরের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

একই সঙ্গে মালিকদের দাবির মুখে পণ্যবাহী পরিবহনে ওজন সীমা বাড়িয়েছে সরকার। কাউন্সিলের সভায় দেওয়া অনুমতি অনুযায়ী, এখন থেকে ছয় চাকার (দুই এপেল) ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানে ২২ টন এবং প্রাইম মুভারে (চার এপেল) ৪২ টন পর্যন্ত পরিবহন করা যাবে।

২০১৫ সালের ১ আগস্ট জাতীয় মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচল নিষিদ্ধ করে সরকার। তারও আগে ২০১১ সালে ব্যাটরিচালিত ইজিবাইক আমদানি নিষিদ্ধ করা হয়। শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নসিমন, করিমন, ভটভটি সড়কে চলাচল বন্ধ করতে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু রোববার কাউন্সিরে সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল বলেছেন, এসব যানবাহন বন্ধ করলে ভোটের রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। নির্বাচনের আগে অবৈধ যান চলাচল বন্ধে অভিযান চলবে না।

সভায় উপস্থিত নৌমন্ত্রী শাজাহান খান এবং পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গাঁও সড়ক পরিবহনমন্ত্রীর বক্তব্যকে সমর্থন করেন।

তবে কাউন্সিলের সদস্য কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, রাজনীতিতে দলীয় স্বার্থ প্রাধান্য যায়, কিন্তু জনগণের স্বার্থ বির্জন দিয়ে হতে পারে না। অবৈধ যানবাহন বন্ধের সিদ্ধান্ত এখন নেওয়া না গেলে, নির্বাচনে জয়ী হয়েও নেওয়া যাবে না। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

কাউন্সিলের পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মোখলেসুর রহমান বলেন, নছিমন, করিমন, ভটভটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষ দেখা দেয়। কার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্বল্প দূরত্বে চলাচলের জন্য বিকল্প যানবাহন নেই। বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া বন্ধ করা জুলুম।

এ বক্তব্যের পর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম বলেন, স্বল্প দূরত্বে পথে হিউম্যান হলার অনুমোদন দেয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। কিন্তু এখনও সুরাহা হয়নি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নছিমন, করিমন, ভটভটি, মাহেন্দ্র ছত্রাকের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। তবে এসব বন্ধে অপারগতা প্রকাশ করে বলেন, সামনে নির্বাচনী মৌসুম। এসব যানবাহন বন্ধ করা হলে মানুষ বলতে শুরু করবে, সরকার সারাবছর কিছু করলো না; নির্বাচনের আগে বন্ধ করলো। আবার বিরোধী পক্ষ বলবে, সরকার গরীব মানুষের পেটে লাথি মেরেছে।

অবৈধ যান চলাচল বন্ধ না করতে এমপিদেরও চাপ রয়েছে বলে জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, জনপ্রতিনিধিদের অনেকেই বলা শুরু করেছেন নির্বাচনের আগে বিপদে ফেলবেন না। এমপিদের বক্তব্যের বরাতে তিনি জানান, অবৈধ যান চলাচল বন্ধ করলে চালকা হঠাৎ বেকার হয়ে পড়বেন। এতে ভোটের রাজনীতিতে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়তে হবে। চালক-শ্রমিকদের সমর্থন হারাতে পারে ক্ষমতাসীন দল।

আগামী নির্বাচনের পর অবৈধ যানবাহানের অভিযান শুরুর পরিকল্পনার কথা জানান সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। তিনি বলেন, নির্বাচনের বছরে এগুলো এখন বন্ধ করা কঠিন। জনপ্রতিনিধিরা বন্ধ করতে দেবেন না। বাস্তবতা বুঝতে হবে। আপতত; সম্ভব নয়। তাই ভোট শেষ করে সরকার গঠন করা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে সচেতনতা ও কাউন্সিলিং বাড়াতে হবে।

ভোটের কারণে অবৈধ যান চলাচল বন্ধ না করার সিদ্ধান্ত দুর্ঘটনা আরো বাড়াবে বলে মনে করেন নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলেরও সদস্য। সভাতেও উপস্থিত ছিলেন তিনি। সভা শেষে ইলিয়াস কাঞ্চন সমকালকে বলেছেন, শুধু ভোটের অঙ্ক দেখে রাজনৈতিক দলগুলো, মানুষের জীবন দেখে না। এদিকে বলা হচ্ছে, ২০২০ সালের মধ্যে দুর্ঘটনা অর্ধেকে কমানো হবে, আবার নির্বাচনের আগে অবৈধ যান চলাচলও বন্ধ করবে না, এভাবে সড়ক নিরাপদ হবে না।

শুধু অবৈধ নয়, অতিরিক্ত ওজনবাহী যানবাহনের ক্ষেত্রেও পিছু হটেছে সরকার। ২০১২ সালে প্রণীত এপেল লোড নীতিমালা পাঁচ বছরেও কার্যকর হয়নি। এতদিন দুই এপেলের ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যানে সর্বোচ্চ ২০ টন এবং প্রাইম মুভারে ৩৩ টন পণ্য পরিবহেন অনুমতি ছিল। অতিরিক্ত পণ্যবহনে দুই থেকে ১২ হাজার জরিমনার বিধান রয়েছে নীতিমালায়। তবে এখন থেকে ২২ ও ৪২ টন পণ্য পরিবহন করা যাবে এসব যানবাহনে।

সড়ক নিরাপত্তার সর্বোচ্চ সংস্থা 'জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল'র সভা তিন মাস অন্তর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু রোববার প্রায় দুই বছর পর সভা হয়। সভাস্থল থেকে মাত্র দুইশ' গজ দূরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে একই সময়ে অনুষ্ঠিত হয় বিএনপির সমাবেশ। এ কারণে বিস্তারিত আলোচনা না করেই সভা মুলতবি করা হয়।

সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি একাব্বর হোসেন, বিআরটিএ চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান, সড়ক পরিবহন সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ, শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলীসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

হলিউডে মুক্তি পাচ্ছে 'পদ্মাবতী'

হলিউডে মুক্তি পাচ্ছে 'পদ্মাবতী'

বলিউডের পর্দায় কাঙ্ক্ষিত দিনে 'পদ্মাবতী' মুক্তি না পেলেও হলিউডের পর্দায় ...

নির্বাচনে না এলে বিএনপির অস্তিত্ব থাকবে না: তোফায়েল

নির্বাচনে না এলে বিএনপির অস্তিত্ব থাকবে না: তোফায়েল

বিএনপিকে বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচনে আসতে হবে— এমন মন্তব্য করে ...

মুক্তি পেয়েই কাশ্মীর নিয়ে হুংকার হাফিজ সাঈদের

মুক্তি পেয়েই কাশ্মীর নিয়ে হুংকার হাফিজ সাঈদের

গৃহবন্দি অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর কাশ্মীর নিয়ে ফের হুঁশিয়ারি ...

বারী সিদ্দিকীর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

বারী সিদ্দিকীর মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক

প্রথিতযশা বংশীবাদক, গীতিকার ও সংগীত শিল্পী বারী সিদ্দিকীর মৃত্যুতে গভীর ...

ভুল প্রশ্নে প্রাথমিকের সমাপনী, দায়ী কে?

ভুল প্রশ্নে প্রাথমিকের সমাপনী, দায়ী কে?

ভুল প্রশ্নপত্রে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর পরীক্ষা নেওয়ায় সমালোচনার মধ্যে পড়েছে ...

গোপালগঞ্জে ২৪৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই

গোপালগঞ্জে ২৪৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই

গোপালগঞ্জের পাঁচ উপজেলার ২৪৬ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই। বিদ্যালয়গুলো ...

হুমকির জবাব বিকিনিতে দিলেন দীপিকা

হুমকির জবাব বিকিনিতে দিলেন দীপিকা

বলিউডে এই সময়ে জনপ্রিয় ও গুণী নায়িকাদের নাম নিতে হলে ...

গাছের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, ২ বন্ধু নিহত

গাছের সঙ্গে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, ২ বন্ধু নিহত

মাদারীপুরে রাস্তার পাশে থাকা গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে মোটরসাইকেল আরোহী ...