বিশেষ লেখা

আলোর মুখ দেখুক অজানা অধ্যায়

প্রকাশ: ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭      

রশীদ হায়দার

হাজার বছরের সংগ্রাম শেষে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ এবং একসাগর রক্তের বিনিময়ে বহুকাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। বর্বর পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে বীর মুক্তিযোদ্ধারা গর্বিত, ঋজু ভঙ্গিমায় তুলে ধরে প্রিয় লাল-সবুজের পতাকা। জাতিকে মেধাশূন্য করতে নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের শুরু থেকেই পাকিস্তানিরা সচেষ্ট ছিল আমাদের বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করতে। এদেশীয় দালালদের সহযোগিতায় টার্গেট করে হত্যাকাণ্ড চালায়। যুদ্ধ যত শেষের দিকে গড়িয়েছে, হত্যার মাত্রা তত বেড়েছে। শুধু ঢাকা নয়, আমাদেরকে মেধাশূন্য করার এ পরিকল্পিত বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড পিশাচরা চালিয়েছে দেশজুড়ে।

শহীদ বুদ্ধিজীবীদের নিয়ে যখন কাজ শুরু করি, তখন জানতে পারি এর সংখ্যা দুই হাজারেরও বেশি। তের খণ্ডের 'স্মৃতি :১৯৭১' সংকলনটির মাধ্যমে আমরা তুলে আনতে পেরেছি তিন শতাধিক শহীদের কথা। রক্তে রাঙানো যে কাহিনী কালির অক্ষরে তুলতে গিয়ে নিভৃতে আমাদেরও ফেলতে হয়েছে চোখের পানি।

"আমার স্বামী একটা গান শুনতে খুব ভালবাসতেন। গানটা হচ্ছে- 'মা আমার সাধ না মিটিল, আশা না পুরিল, সকলি ফুরায়ে যায় মা' সত্যি তাঁর সাধ-আশা পুরাবার আগেই সব শেষ হয়ে গেল। আমারও সব শেষ হয়ে গেল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে আমার ছয় বছরের মেয়ে তার খালার গলা জড়িয়ে ধরে আকুল হয়ে বলেছিল (যখন সবাই স্বাধীনতার আনন্দে উল্লসিত) আমার বাপী তো স্বাধীনতা চেয়েছিল, তাহলে আমার বাপী কেন আসে না? ও তখনও বোঝে না যে ওর বাপী যেখানে গিয়েছে, সেখান থেকে কেউ আর ফিরে আসতে পারে না কোনোদিন, হাজার ইচ্ছা থাকলেও।"

স্মৃতি : ১৯৭১ সমগ্রতে প্রকৌশলী লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মোয়াজ্জেম হোসেনের স্ত্রী কোহিনূর হোসেন তাঁর স্বামীর স্মৃতির কথাটুকু এভাবেই তুলে ধরেছেন।

আরেক স্ত্রী রহিমা খাতুন। পাবনার ঈশ্বরদীর অ্যাগ্রোনমিক্যাল অ্যাসিসট্যান্ট আমিনুল ইসলামের স্ত্রী তাঁর স্মৃতিচারণায় লেখেন- 'স্বাধীনতা আমার ছোট্ট সাজানো সংসারটা কেড়ে নিয়েছে। আমি পড়ে আছি চারটি নাবালক সন্তান নিয়ে এক অনিশ্চিত জীবনে। বিয়ের মাত্র নয় বছর পর সে হারিয়ে গেল আমার জীবন থেকে। হারিয়ে গেল চিরদিনের জন্য। কোনোদিন আর ফিরে এলো না। রেখে গেল শুধুই স্মৃতি। স্বাধীন বাংলাদেশের সেই স্মৃতি আঁকড়ে ধরে আজও আমি বেঁচে আছি।' যাদের রক্ত দিয়ে এই স্বাধীনতা গড়া, এত বছর পর তার কতটুকু মূল্যায়ন হয়েছে? কি কৈফিয়ৎ দেবে এই দেশবাসী শহীদদের সন্তানদের কাছে? তাদের পিতার রক্তের মূল্য কী? পেয়েছে কি তারা বেঁচে থাকার নিশ্চয়তা?

পিতার রক্তের বিনিময়ে এ দেশের শহীদ বুদ্ধিজীবীর সন্তানরা কিছুই পাননি। সেই যে তাদের হারানো শুরু হয়েছিল বাবাকে বা মাকে হারানোর মধ্য দিয়ে। পৌনঃপুনিক তার অবহেলা-লাঞ্ছনা বয়েই বেড়িয়েছে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারগুলো।

আমি তখন বাংলা একাডেমিতে। সে সময় একাডেমি থেকে ১৯৮৪ সালে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মারকগ্রন্থ, ১৯৮৫ সালে শহীদ বুদ্ধিজীবী কোষগ্রন্থ এবং ১৯৮৮ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত স্মৃতি : ১৯৭১-এর ১৩টি খণ্ড প্রকাশ করতে সক্ষম হয়েছিলাম। লেখা বাহুল্য, একাডেমি কর্তৃপক্ষ আমাকে দায়িত্ব দিয়েছিল বলে সাধ্য ও সামর্থ্য অনুসারে তা পালন করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি। আমি এখনও দাবি করে বলি, স্মৃতি : ১৯৭১-এ সম্পাদক হিসেবে আমার নাম থাকলেও আমি 'সম্পাদক' নই, 'সংগ্রাহক' মাত্র। কারণ, যাঁরা আপনজন হারিয়েছেন, তাঁদের দুঃখকষ্টশূন্যতা হাহাকার বেদনার কথা সম্পাদনা করা সম্ভব? অসম্ভব। দাপ্তরিক নিয়ম অনুসারে সম্পাদকের নাম ছাপতে হয়, তাই ছাপা।

এই সূত্রেই সবিনয়ে জানাই, উপরিউক্ত স্মৃতি : ১৯৭১ ১৩টি খণ্ডে তিন শতাধিক লেখা ছাপা হলেও লেখকদের মধ্যে মাত্র ২০ থেকে ২৫ জন ছিলেন প্রকৃত লেখক। আর অবশিষ্টগণ?- তাঁদের অধিকাংশই জীবনেও একটা লাইন লেখেননি। তাঁরা আমার অনুরোধে অপারগতা জানিয়েছেন। আমি তাঁদের বলেছি, আপনার কাছে গল্প-কবিতা নয়, শহীদ বুদ্ধিজীবী সম্পর্কে শুধু স্মৃতিচারণাটি চাই। যাতে ইতিহাসের প্রয়োজনেই জানা যাবে তিনি কবে, কোথায়, কার দ্বারা কীভাবে শহীদ হয়েছিলেন।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, প্রকৃত লেখকদের চেয়ে অনেক 'অলেখকের' লেখা পড়ে আমি চোখের পানি ধরে রাখতে পারিনি, রক্তক্ষরণের শব্দ শুনছি, যেন চোখের সামনে হত্যাকাণ্ডটি দেখতে পাচ্ছি।

হত্যাকারীরা 'শহীদ'দের বয়স বিবেচনা করেনি, তাঁদের শিক্ষা, মর্যাদা, দেশে-বিদেশে অবস্থান ও সম্মান, অবদান, স্বীকৃতি সবই তুচ্ছজ্ঞান করে নির্দয়ভাবে যন্ত্রণা দিয়ে হত্যা করেছে, পৈশাচিক উল্লাসে মেতে উঠেছে। একে একে বিবরণে এলে বোঝা যাবে তাদের নিষ্ঠুরতা কত গভীরে।

প্রথমেই আসা যাক আমাদের মহান ভাষা আন্দোলনের প্রথম প্রাণপুরুষ শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত প্রসঙ্গে। জন্মভূমি ছেড়ে যাননি, ৮৫ বছরেও দেশকে, ভাষাকে ভালোবেসে উচ্চারণ করেছিলেন, 'আমার রক্তের ওপরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পতাকা উড়বে।' ২৯ মার্চ তাঁকে দ্বিতীয় পুত্রসহ কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে গিয়ে এমন অত্যাচার করা হয় যে, তাঁকে হামাগুড়ি দিয়ে টয়লেটে যেতে হতো; সারা শরীরে ছিল বীভৎস অত্যাচারের ক্ষতচিহ্ন। শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের সঠিক মৃত্যু তারিখ জানা যায়নি, তাঁর মরদেহও পাওয়া যায়নি।

যাওয়া যাক চট্টগ্রামে। গভীর দেশপ্রেমে নিবেদিত নূতন চন্দ্র সিংহ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সম্মানিত শিক্ষকের শত আন্তরিক অনুরোধ সত্ত্বেও রাউজান ত্যাগ করলেন না। সে সুযোগটাই নেয় সদ্য মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী। নূতন চন্দ্র সিংহকে হত্যায় সে সরাসরি জড়িত। ৭০ বছরের বৃদ্ধকে পাকিস্তানি সৈন্যরা হত্যা না করে চলে গেলে সাকাচৌ সৈন্যদের পুনরায় ডেকে এনে হত্যা করায়। আজ সাধনা ঔষধালয়ের নাম জানেন না, এমন লোক নেই বললেই চলে। ৮৮ বছরের বৃদ্ধ সাধনা ঔষধালয়ের প্রতিষ্ঠাতা যোগেশ চন্দ্র ঘোষ মাতৃভূমিকে ভালোবেসে দেশেই রয়ে গেলেন। কিন্তু ১৯৭১ সালের ৪ এপ্রিল স্বাধীনতাবিরোধীদের প্ররোচনায় গেণ্ডারিয়ায় নিজ কার্যালয়ে পাকিস্তানি ঘাতকরা তাঁকে নির্মমভাবে হত্যা করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবীণতম শিক্ষক আপনভোলা দার্শনিক মানুষ ড. জিসি দেব কী অন্যায় করেছিলেন যে, তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগৃহ থেকে টেনেহিঁচড়ে বের করে নিয়ে গিয়ে জগন্নাথ হলের মাঠে ছাত্রদের সঙ্গে গুলি করে মারল, সবার সঙ্গে মাটিচাপা দিল?

চলে যাই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে। ওখানে তিনজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হাবিবুর রহমান, সুখরঞ্জন সমাদ্দার ও মীর আবদুল কাইয়ুমকে যে হত্যা করা হলো, তার মধ্যে আবদুল কাইয়ুমের মৃত্যুদৃশ্যটি তো কল্পনাতেই আনা যায় না। তাঁকে পদ্মা নদীর তীরে গর্ত খুঁড়ে জীবন্ত কবর দেওয়া হয়। জানা যায়, রাজশাহীতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হত্যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. সৈয়দ সাজ্জাদ হোসায়েনের প্রত্যক্ষ প্ররোচনা ছিল। তাঁর প্ররোচনা বা ভূমিকার কিছুটা পরিচয় দেওয়া যাক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যক্ষ ছাত্র, ইউনিভার্সিটির ডেপুটি রেজিস্টার ও জনসংযোগ বিভাগের কর্মকর্তা নাজিম মাহমুদ ওই বিপদের দিনে ড. সাজ্জাদের কাছে ব্যাংক থেকে টাকা তোলার বিষয়ে পরামর্শ চাইতে গেলে তিনি নানা কথার পর বললেন : 'দ্যাখো, আমি সবাইকে যে কথা বলি, ড. কাদেরকে সেদিন যে কথা বলেছি, তোমাকেও তাই বলি- ওরা যদি তোমাকে গুলি করতে চায়, তাহলে ঠিক কপালের মাঝখানে গুলি করতে বলো, চধরহষবংং ফবধঃয, ধনংড়ষঁঃবষু চধরহষবংং (যখন ক্রীতদাস : স্মৃতি ৭১- নাজিম মাহমুদ, মুক্তধারা, পৃষ্ঠা ৫৫, দ্বিতীয় প্রকাশ, ফেব্রুয়ারি ১৯৯৩)। এই ড. হোসায়েনই মুক্তিযুদ্ধকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি হিসেবে এসে কিছু শিক্ষককে হত্যার প্ররোচনা দিয়েছিলেন, তালিকা দিয়েছিলেন। আমার প্রত্যক্ষ শিক্ষক অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে জেনেছি, হত্যার উদ্দেশ্যে তিনিসহ আরও কিছু শিক্ষককে প্রথমে রমনা থানায় নিয়ে গেলে ড. ইসলাম আর্মিদের অনেক অনুরোধ করে মধ্যরাতেই ভিসি ড. হোসায়েনকে ফোন করেছিলেন। ড. ইসলাম কাকে কাকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে বলা শেষ করতেই ড. হোসায়েন প্রবল আগ্রহে জানতে চাইলেন, 'আর কাকে নিয়েছে?' অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের স্পষ্ট ধারণা হয়, ড. হোসায়েনের দেওয়া তালিকা অনুসারে সবাইকে নিয়েছে কি-না সেটা জানতেই তিনি আগ্রহী ছিলেন। ড. হোসায়েন দেশ স্বাধীন হওয়ার আগেই পালিয়ে সৌদি আরব চলে গিয়েছিলেন। ফিরেছিলেন বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর।

বুদ্ধিজীবীদের হত্যার ধরন শুনলে নিজের কানকেই অবিশ্বাস করতে ইচ্ছা হবে। যশোরের আইনজীবী মশিউর রহমানকে এতটাই অত্যাচার করা হয় যে, তাঁর চেহারা বীভৎসভাবে বিকৃত হয়ে যায়, তাঁকে তাঁর অতি আপনজনই চিনতে পারেননি। কী দোষ করেছিলেন কবি মেহেরুন্নেসা? ঢাকার মিরপুরে তাঁর মাথাটা কেটে তাঁরই লম্বা চুল দিয়ে ফ্যানের সিলিংয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ঠাকুরগাঁওয়ে বহু বুদ্ধিজীবীকে জীবন্ত অবস্থায় বাঘের খাঁচায় ফেলে দেওয়া হয়েছিল। মিরপুরে ১০ নম্বর গোল চত্বরের অদূরে জল্লাদখানা নামক বধ্যভূমিতে বাঙালি জবাই করে করে একটা কুয়োয় ফেলে দেওয়া হতো, ওখানেই ইত্তেফাক-এর সাংবাদিক আবু তালেবকে জবাই করে হত্যা করা হয়। মাগুরায় লুৎফুননাহার হেলেন নামে এক স্কুলশিক্ষয়িত্রীকে জিপের পেছনে বেঁধে সারা শহর ঘুরিয়ে বোঝানো হয়েছিল, স্বাধীনতা চাওয়ার ফল কী এবং সৈয়দপুরে ডা. শামশাদ আলী নামে একজন চিকিৎসককে ট্রেনের জ্বলন্ত কয়লার ইঞ্জিনের মধ্যে ছুড়ে ফেলে হত্যা করা হলো। সে সময় সৈয়দপুর ছাড়াও পার্বতীপুর, পাকশী, ঈশ্বরদী, পাহাড়তলী ইত্যাদি বড় রেলওয়ে জংশনে ইঞ্জিন জ্বালিয়েই রাখা হতো, কেবল ভেতরে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার অপেক্ষায়।

আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ জীবিতকালে বলেছিল, দেশে কোনো যুদ্ধাপরাধী নেই। শেষে ফাঁসির দড়িতে দেখল, সে নিজেই যুদ্ধাপরাধী এবং সাকা চৌধুরী হুঙ্কার ছেড়ে বলেছিল, 'দাঁড়া, বেরোই আগে।' হ্যাঁ, ওই যুদ্ধাপরাধী বেরিয়েছে ঠিকই, তখন সঙ্গে তার প্রাণটিই নেই।

অনেকের ধারণা, ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর তারিখেই শুধু সর্বাধিকসংখ্যক বুদ্ধিজীবী শহীদ হন বলে ওই তারিখটিকেই 'শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস' ঘোষণা করা হয়েছে। তথ্যটি সর্বাংশে সত্য নয়। মুক্তিযুদ্ধের সূচনাতেই বুদ্ধিজীবী হত্যা শুরু হয়। ১৯৭১ সালের ২৫ থেকে ২৬ মার্চেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক, সপ্তাহখানেকের মধ্যে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষক ছাড়াও সারাদেশে বেশকিছু প্রগতিশীল ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছিল। পুরো নয় মাসই হত্যাকাণ্ড চলতে থাকে। যাঁদের বুদ্ধিজীবী হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তাঁদের তালিকা তৈরি করা হয় স্থানীয় দালালদের কাছ থেকে। তারাই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের বুদ্ধিজীবীদের চিনিয়ে দেয়। খোঁজ দেয়, তথ্য সরবরাহ করে। দুঃখজনক হলেও সত্য, বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক বুদ্ধিজীবীদের চিহ্নিত করে, ঠিকানা দিয়ে রাজাকারদের সহায়তা করে।

হত্যাকাণ্ড হয়েছিল পরিকল্পিতভাবে। তার গতি কখনও তীব্র, কখনও মাঝারি বা কখনও ধীরে। অর্থাৎ পুরো নয় মাসই ছিল বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের সময়। তবে হ্যাঁ স্বাধীনতাবিরোধীরা ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরেই যখন বুঝে যায়, তাদের পরাজয় অনিবার্য, তখনই হত্যাকাণ্ডের, বিশেষ করে বুদ্ধিজীবীদের নিধন করার পরিমাণ বেড়ে যায়। যাতে বাঙালিরা আর মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারে। কিন্তু ইতিহাসের বিধান বলে ভিন্ন কথা। ন্যায়যুদ্ধ কখনও বৃথা যায় না।

বাংলা একাডেমি যে কাজটি শুরু করেছিল তা ২০০০ সালে ১৩ খণ্ডে এসে থমকে দাঁড়ায়। সরকার পরিবর্তনের কারণে। একটি দেশের ইতিহাস থমকে দাঁড়ায় সরকার পরিবর্তনের পর। এর জন্যই কি স্বাধীন হয়েছিল দেশ? সেই পরিবারগুলোর কষ্টের কথা আমাদের বুকে শুধু গভীর বেদনা হয়েই রইল। মাত্র তিনশ' শহীদ বুদ্ধিজীবীর কথা আমরা জানতে পেরেছি কিন্তু বাকি শহীদ বুদ্ধিজীবীরা? আমাদের কাজ অসমাপ্ত রয়ে গেছে অনেকখানি। শুরু করেও শেষ করতে পারিনি যে মহান কাজটি, আমাদের প্রজন্মের সবার আশা থাকবে বর্তমান প্রজন্মের তুখোড় গবেষক, দেশপ্রেমিকরা সব শহীদ বুদ্ধিজীবীকে পুরো দেশের মানুষের সামনে নিয়ে আসবেন। তাদের অক্ষয় আত্মদানের বিনিময়ে এই দেশ। আমরা তোমাদের চির সম্মানের আসনে রাখব; আমরা তোমাদের ভুলব না।

বিষয় : বিশেষ লেখা

পরবর্তী খবর পড়ুন : আওয়ামী লীগে প্রার্থীজট বিএনপিতে গৃহদাহ

তিন পরিবর্তন নিয়ে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে নামল আর্জেন্টিনা

তিন পরিবর্তন নিয়ে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে নামল আর্জেন্টিনা

আগের ম্যাচে জয় পাওয়ায় কিছুটা হলেও ফুরফুরে ভাব নিয়ে আজেন্টিনার ...

বাঁশবাড়িয়া সৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ ২ ভাই

বাঁশবাড়িয়া সৈকতে গোসলে নেমে নিখোঁজ ২ ভাই

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া সৈকতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হয়েছে ...

২৪ ঘণ্টার মধ্যে নৌকার জয়-পরাজয় নিশ্চিত হতে পারে: জাহাঙ্গীর

২৪ ঘণ্টার মধ্যে নৌকার জয়-পরাজয় নিশ্চিত হতে পারে: জাহাঙ্গীর

গাজীপুর মহানগরের প্রত্যেক ভোটারের কাছে গিয়ে গিয়ে বিনয়ের সঙ্গে নৌকা ...

নেইমারকে ঝুঁকি নিয়ে খেলানো হচ্ছে?

নেইমারকে ঝুঁকি নিয়ে খেলানো হচ্ছে?

আটানব্বই দিন ইনজুরিতে থেকে মাঠে ফিরেছেন নেইমার। ফিরেই ক্রোয়েশিয়া এবং ...

ঢাকা-কলকাতার গান নিয়ে অভিনব 'প্রয়াস'

ঢাকা-কলকাতার গান নিয়ে অভিনব 'প্রয়াস'

বিশ্ব সংগীত দিবসে অভিনব পদক্ষেপ নিয়েছে কলকাতার ব্যান্ডদল 'হাফ মেজর'। ...

শিকলে বন্দি ৬ বছর!

শিকলে বন্দি ৬ বছর!

'আমার জ্ঞান-বুদ্ধি হবার পর আমি প্রথম দেখি নানির মুখ, হুনছি ...

দিনদুপুরে পার্কে কিশোরীকে দলবেঁধে ধর্ষণ

দিনদুপুরে পার্কে কিশোরীকে দলবেঁধে ধর্ষণ

খাগড়াছড়ি জেলা শহরের অদূরে অবস্থিত ‘জেলা পরিষদ পার্কে’ এক কিশোরী ...

অস্ট্রেলিয়া সঙ্গে সমতায় ঝুলে গেল ডেনমার্কের দ্বিতীয় রাউন্ড

অস্ট্রেলিয়া সঙ্গে সমতায় ঝুলে গেল ডেনমার্কের দ্বিতীয় রাউন্ড

রাশিয়ার সামারায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গ্রুপ 'সি'র দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয় ডেনমার্ক ...