অভিজিৎ হত্যা মামলা

চার্জশিট হয়নি তিন বছরেও সান্ত্বনা তদন্তের 'অগ্রগতি'

প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৮      

সাহাদাত হোসেন পরশ

বইমেলা এলেই আলোচনায় আসে বিজ্ঞানমনস্ক লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়ের কথা। ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলা চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয় অভিজিৎকে। এ সময় তার স্ত্রী ডা. রাফিদা আহমেদ বন্যাও মারাত্মক আহত হন। অভিজিৎ হত্যার তিন বছর পার হলেও বহুল আলোচিত এ মামলার তদন্তই শেষ হয়নি। তাই এখনও মামলার চার্জশিট দাখিল করা যায়নি। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)। 


অভিজিতের বাবা অধ্যাপক অজয় রায় সমকালকে বলেন, মামলাটির তদন্ত ধীরগতিতে চলছে। এটা হতাশাজনক। দ্রুত মামলার তদন্ত শেষ করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। সিটিটিসির ডিসি  মহিবুল ইসলাম খান বলেন, অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের চার্জশিট দাখিল করার মতো তথ্য-উপাত্ত আমাদের কাছে রয়েছে। আশা করছি, দ্রুত চার্জশিট দাখিল করা হবে। তবে কিছু আলামতের ফরেনসিক প্রতিবেদন এখনও পাওয়া যায়নি। 


পুলিশের উচ্চপদস্থ এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, এ মামলার চার্জশিট দাখিল করা না হলেও তদন্তে বেশ অগ্রগতি রয়েছে। এখন পর্যন্ত অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন- এমন তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল। ওই তিনজন হলো- সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের ছাত্র মোজাম্মেল হোসেন ওরফে সাইমন, তিতুমীর কলেজের ছাত্র সোহেল ও আরাফাত হোসেন ওরফে সাজ্জাদ ওরফে শামস। তিনজনই নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের (সাবেক আনসারুল্লাহ বাংলা টিম) সক্রিয় সদস্য। গ্রেফতার এ তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এ ছাড়া মুকুল রানা নামে তাদের এক সহযোগী ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হয়েছে। অভিজিৎ হত্যাকাণ্ডে মুকুল সরাসরি অংশ নিয়েছিল। 


মামলার তদন্তের সঙ্গে যুক্ত দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, অভিজিৎ হত্যায় সরাসরি আনসার আল ইসলামের ১১ সদস্য অংশ নেয়। তাদের মধ্যে সাতজনের পূর্ণ নাম-ঠিকানা পাওয়া গেছে। অন্যদের সাংগঠনিক নাম পাওয়া গেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মামলার চার্জশিট দাখিল করা হলে সাতজনকে আসামি করা যেতে পারে। তবে চাঞ্চল্যকর একটি মামলা হিসেবে কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া সবার পরিচয় জেনে তাদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। তাই বিলম্ব হলেও তাদের পরিচয় জানার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। অভিজিৎ হত্যার ঘটনায় যেসব জঙ্গির ছদ্মনাম পাওয়া গেছে তারা হলো- শামীম, সিয়াম, তাহরিক, মারুফ, জামান, আকাশ, রাফি, আসাদ, আলম, তৈয়ব, জনি ও রায়হান। তাদের প্রকৃত পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। 


তদন্ত-সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, আনসার আল ইসলামের আধ্যাত্মিক নেতা মেজর (বরখাস্ত) জিয়াউল হক জিয়া ঘটনার দিন টিএসসি এলাকায় সশরীরে উপস্থিত থেকে অভিজিতের ওপর হামলার বিষয়টি তদারক করেন। 


সূত্র আরও জানায়, এবিটি মূলত দুটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে কাজ করে। একটি অপারেশন উইং ও আরেকটি ইন্টিলিজেন্স উইং। ইন্টিলিজেন্স উইংয়ের সদস্য হিসেবে সোহেলের দায়িত্ব ছিল টার্গেট ব্যক্তির বিস্তারিত প্রোফাইল তৈরি করে মেজর জিয়াকে অবহিত করা। ২০১৫ সালের ২২ ও ২৪ ফেব্রুয়ারি অভিজিতের গতিবিধি বুঝতে বইমেলায় যায় সোহেল ও তার সঙ্গীরা। এর আগে তার ইন্দিরা রোডের বাসাও তারা রেকি করে। প্রথমে জিয়ার নির্দেশ ছিল অভিজিৎকে বাসায় হত্যা করার। তবে বাসা সঠিকভাবে রেকি করতে ব্যর্থ হওয়ায় ২৬ ফেব্রুয়ারি টিএসএসি এলাকায় অভিজিৎকে হত্যা করা হয়েছে। 


সোহেল পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, কোনো টার্গেট করা ব্যক্তির মূল প্রোফাইল ও রেকি করা সম্পন্ন করে তার বিবরণ পাঠানো হয় জিয়ার কাছে। এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে জিয়া তা পাঠান এবিটির শূরা বোর্ডে। শূরা বোর্ড থেকে অনুমোদন পাওয়ার পরই জিয়া তার অনুসারীদের অভিজিৎকে হত্যার নির্দেশ দেয়। অভিজিতের হত্যাকারীরাই জাগৃতি প্রকাশনীর কর্ণধার ফয়সাল আরেফিন দীপন, ব্লগার নীলাদ্রি চ্যাটার্জি নিলয় ও ইউএসএইড এবং ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের সাবেক কর্মকর্তা জুলহাস মান্নান হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল। জুলহাস মান্নানকে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে সাইমন। এ ছাড়া দীপন হত্যার কথা স্বীকার করেছে সাইমন ও সোহেল। 


এদিকে অভিজিৎ হত্যার পর ফারাবিসহ আটজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছিল। তবে পরে তদন্তে হত্যার সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা বেশ কিছু আলামত পরীক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে এফবিআইর ডিএনএ ল্যাবে পাঠানো হয়। এরই মধ্যে আলামত পরীক্ষার প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে পুলিশ। তবে এখনও সন্দেহভাজনদের ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। অভিজিৎ হত্যার পর আলোচিত এ মামলার তদন্ত করে আসছিল ডিবি। সম্প্রতি এ মামলার তদন্তভার সিটিটিসির ওপর ন্যস্ত হয়। 


২০১৫ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে অভিজিৎ তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যাকে সঙ্গে নিয়ে বইমেলা থেকে বের হওয়ার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় হামলার শিকার হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অভিজিৎ। এ ঘটনায় বাংলাদেশে আসে এফবিআইর একটি প্রতিনিধি দল।

বিষয় : অভিজিৎ

পরবর্তী খবর পড়ুন : ভালোবাসা এবার নতুন গোলাপে

 বিকল্প অনেক ফরমেশন হাতে আছে: তিতে

বিকল্প অনেক ফরমেশন হাতে আছে: তিতে

জার্মানির কাছে ৭-১ গোল বিধ্বস্ত হওয়া দলটাকে বেশ গুছিয়ে নিয়েছেন ...

জনগণকে সেবা করতে পারলেই খুশি : আইনমন্ত্রী

জনগণকে সেবা করতে পারলেই খুশি : আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, তিনি জনগণের সেবক এবং জনগণের সেবা ...

মাংস ব্যবসায়ীদের এত কারসাজি!

মাংস ব্যবসায়ীদের এত কারসাজি!

মাংসের দোকানিদের কারসাজির যেন শেষ নেই। কেউ পানিতে চুবিয়ে মাংসের ...

অমীমাংসিত ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা জাতি জানতে চায়: মির্জা ফখরুল

অমীমাংসিত ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা জাতি জানতে চায়: মির্জা ফখরুল

ভারতের সঙ্গে তিস্তার পানি বণ্টনসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর ...

নির্বাচনের আগে সংসদ ভাঙার দাবি বি. চৌধুরীর

নির্বাচনের আগে সংসদ ভাঙার দাবি বি. চৌধুরীর

যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী একাদশ ...

আর্জেন্টিনাকে আত্মবিশ্বাসে ফিরতে হবে: মাচেরানো

আর্জেন্টিনাকে আত্মবিশ্বাসে ফিরতে হবে: মাচেরানো

বছর চারের ধরে দারুণ ফুটবলের প্রদর্শনী দেখিয়েছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু সামগ্রিকভাবে ...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি দুষ্টগ্রহ: কামরুল

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি দুষ্টগ্রহ: কামরুল

খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি দুষ্টগ্রহ।এই দুষ্টগ্রহকে বাংলাদেশের ...

কবিরাজির নামে নারীদের ধর্ষণ করতেন তারা!

কবিরাজির নামে নারীদের ধর্ষণ করতেন তারা!

কবিরাজি চিকিৎসার নামে নারীদের ধর্ষণ, ধর্ষণের ভিডিওচিত্র ধারণ ও সেই ...