বিশেষজ্ঞ মত

কর্মস্থল আকর্ষণীয় করতে হবে

প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০১৮       প্রিন্ট সংস্করণ     

সমকাল প্রতিবেদক

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসক অনুপস্থিতির কারণে গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। উপজেলায় পদায়ন করা হলেও চিকিৎসকরা সেখানে থাকতে চান না। তারা কেন উপজেলায় থাকতে চান না- এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বললে নানা অসঙ্গতি পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, গ্রামের কর্মস্থলে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে না পারা সরকারের ব্যর্থতা। তাদের মতে, গ্রামের কর্মস্থলকে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারলে চিকিৎসকরা গ্রামমুখী হতেন। গ্রামে চিকিৎসকদের ধরে রাখতে সরকারের যে সদিচ্ছা আছে, তা বাস্তবায়নে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণের ওপরও জোর দিয়েছেন তারা।


সরকারের ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই মাহবুব সমকালকে বলেন, গ্রামে অর্ধেকের বেশি পদে কোনো চিকিৎসকই পদায়ন করতে পারেনি সরকার। এটি সরকারেরই ব্যর্থতা। কত সংখ্যক চিকিৎসক প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষা গ্রহণের জন্য ছুটি ভোগ করবেন এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা সঠিক রাখার জন্য কত সংখ্যক চিকিৎসক প্রয়োজন হবে- সে সম্পর্কে সরকারের সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই। একই সঙ্গে কী কী কারণে চিকিৎসকরা গ্রামে থাকতে চান না, তা চিকিৎসকদের কাছ থেকেই জানতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনে সরকারকে তাদের সঙ্গে সংলাপে বসতে হবে।


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি শর্তের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গাইডলাইন অনুযায়ী, একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থা সঠিকভাবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম, তথ্য-উপাত্ত, সেবাদানের সঠিক নির্দেশিকা ও যথাযথ ব্যবস্থাপনা থাকা প্রয়োজন। এসব উপাদানের যে কোনো একটির অনুপস্থিতিতে অন্যটি সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। একটি উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে যে পরিমাণ ওষুধ ও যন্ত্রপাতি প্রয়োজন, তা না থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পদায়ন করে কোনো লাভ হবে না।


গণস্বাস্থ্যের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ্‌ চৌধুরী চলমান অবস্থার জন্য সরকারকে দায়ী করে সমকালকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম গ্রামে চিকিৎসকদের পাঠানোর বিষয়ে আগ্রহী। তবে সে জন্য বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিতে হবে। 


তিনি বলেন, ইন্টার্নশিপ দুই বছর চালু করা প্রয়োজন। প্রথম বছর মেডিকেল কলেজে এবং দ্বিতীয় বছর উপজেলায়। অন্যান্য চিকিৎসকের পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় ১০ জন করে ইন্টার্ন চিকিৎসক থাকলে রোগীর সেবা পেতে সমস্যা হবে না। এ জন্য সরকারকে অতিরিক্ত কিছু অর্থ বরাদ্দ করতে হবে। যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হবে, সে তুলনায় রোগীরা অনেক বেশি সেবা পাবেন বলে মনে করেন তিনি।


ডা. জাফরুল্লাহ্‌ আরও বলেন, গ্রাম ও শহরের মধ্যে সুযোগ-সুবিধার সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। কেউ সারাজীবন শহরে থাকবেন, আবার কেউ গ্রামে পড়ে থাকবেন- তা হবে না। এ বিষয়ে সরকারকে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তাহলে এ সংকট দূর হবে।


চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. ইসমাইল খান সমকালকে বলেন, বিগত কয়েক বছরে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের তথ্য বিশ্নেষণ করে দেখা গেছে, ৯০ শতাংশ শহরের স্কুল-কলেজ থেকে আসা। একই সঙ্গে তারা ধনাঢ্য পরিবারের সন্তান। পড়াশোনা শেষে চাকরিজীবনে গ্রামের কর্মস্থলে পদায়ন করা হলে তারা সেই পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেন না। কর্মস্থলে চিকিৎসক অনুপস্থিতির এটিও একটি বড় কারণ।


এ বৈষম্য কীভাবে হ্রাস করা যায়- সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মেডিকেল ভর্তিতে বর্তমানে ২০ শতাংশ জেলা কোটা চালু আছে। তবে সেটি জন্মস্থান অনুযায়ী। এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় কোন জেলার প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থী পাস করেছে, সে অনুযায়ী জেলা কোটা নির্ধারণ করা উচিত। অন্যথায় ঢাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি ও এইচএসসি পাস করা শিক্ষার্থীরা গ্রামের জন্মস্থান উল্লেখ করে জেলা কোটায় সুযোগ পাচ্ছেন।


বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন সমকালকে বলেন, গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার যে পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তা সমর্থনযোগ্য। সবাই ঢাকায় থাকতে চাইলে গ্রামের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার দায়িত্ব কে নেবে? তবে বছরের পর বছর একজন চিকিৎসক গ্রামে থাকবেন, অন্যদিকে আরেকজন ঢাকায় অবস্থান করবেন- এটি হতে পারে না। এ ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। গ্রামে যে চিকিৎসক থাকবেন, তাকেও রাজধানীতে থাকা চিকিৎসকের সমান সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে দূরবর্তী কোথাও পদায়ন করা হলে তার জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা থাকতে হবে। অর্থাৎ, গ্রামের কর্মস্থলকে এমন সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনতে হবে, যাতে চিকিৎসকদের কাছে গ্রাম আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।


চিকিৎসকদের উদ্দেশ করে তিনি বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গ্রামের কর্মস্থলে চিকিৎসকদের থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তাই আপনাদের প্রতি আহ্বান থাকবে- সরকার-নির্ধারিত সময় পর্যন্ত গ্রামের কর্মস্থলে অবস্থান করে মানুষের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করুন।

আরও পড়ুন

আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া মিছিল শুরু

আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া মিছিল শুরু

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে শিয়া সম্প্রদায়ের তাজিয়া মিছিল শুরু হয়েছে। শুক্রবার ...

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৩তম অধিবেশনে যোগ দিতে সপ্তাহব্যাপী সরকারি সফরে ...

একক নয়, যৌথ নেতৃত্ব

একক নয়, যৌথ নেতৃত্ব

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে চলতি মাসেই আত্মপ্রকাশ ...

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনে যেতে চায় বিএনএ

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনে যেতে চায় বিএনএ

বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ও তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার ...

কালাইয়ে বেড়েছে কিডনি বিক্রি

কালাইয়ে বেড়েছে কিডনি বিক্রি

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় অভাবী মানুষের কিডনি বেচাকেনা আবারও বেড়েছে। অভাবের ...

চট্টগ্রামে মহড়া, অস্ত্রধারী ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

চট্টগ্রামে মহড়া, অস্ত্রধারী ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গত বুধবার দু'পক্ষের ...

জেএমবিকে অর্থ জোগাচ্ছে জঙ্গি শায়খের পরিবার

জেএমবিকে অর্থ জোগাচ্ছে জঙ্গি শায়খের পরিবার

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা'আতুল মুজাহিদীন অব বাংলাদেশকে (জেএমবি) চাঙ্গা ...

রাত ১১টার পর ফেসবুক বন্ধ করে দেয়া উচিত: রওশন

রাত ১১টার পর ফেসবুক বন্ধ করে দেয়া উচিত: রওশন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক রাত ১১টার পর বন্ধ করে দেয়া ...