ক্যামেরার ক্লিক করবেন না আর প্রিয়ক

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০১৮      

এম তুষারী, কালিয়াকৈর প্রতিনিধি

প্রিয়কের এই ছবিই ঘুরছে এখন ফেসবুকে

ক্যামেরায় ছবি বন্দি শখ ছিল প্রিয়কের, স্কুল জীবন থেকেই। একাধিক পুরস্কারও পেয়েছিলেন তিনি এতে। মস্ত বড় ফটোগ্রাফার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়েও যাচ্ছিলেন দুর্বার গতিতে। কিন্তু সেই স্বপ্ন-গতি থেমে গেল, সত্যি হলো না আর। কোনওদিন ক্যামেরার বাটনে ক্লিক করবেন না প্রিয়ক।

মঙ্গলবার তার গ্রামের বাড়ীতে গিয়ে দেখা যায় শোকের মাতম। মা ফিরোজা বেগম বুক চাপাড়িয়ে বার বার সংজ্ঞাহীন হচ্ছিলেন আর বলছিলেন, 'বাবারে তুই কই গেলি, ফিরা আয়।'

একমাত্র সন্তান ও তিন বছর বয়সী নাতনিকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছেন মা ফিরোজা বেগম। বাড়ি ভর্তি আত্মীয় স্বজনের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে মাঝে মধ্যে বলে উঠছেন, 'সবাই আছে, আমার বাবা কই!' প্রিয়কের গ্রামের (নগরহাওলা) বাড়ির পাশের রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী পথচারীদের চোখেও জল।

২০১৩ সালে অ্যামেচার ফটোগ্রাফি বাংলাদেশের আয়োজনে ফটো প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছিলেন প্রিয়ক। ২০১৬ সালের বেঙ্গল ইমেজ ফার্স্ট ন্যাশনাল ফটো কনটেস্ট ৪র্থ হয়েছিলেন তিনি। এ ছাড়া বাংলাদেশ সোসাইটি অব ফটোগ্রাফি আর্ট ২০১৪, কালারস অব লাইফ ২০১৪ কম্পিটিশনেও পুরস্কার জিতেছিলেন, পুরস্কৃত হয়েছিলেন সুইস অ্যাম্বাসির আয়োজনে 'ফোকাস অন কালচার' প্রতিযোগিতাতেও। সম্প্রতি 'হামদান ইন্টারন্যাশনাল ফটোগ্রিিফ এ্যাওয়ার্ড-হিপা'-এর জন্য ছবি জমা দিয়েছিলেন তিনি।

তার পরিবার সূত্রে আরও জানা যায়, ২০১২ সালে প্রিয়ক বিয়ে করেন। গত ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসের চৌদ্দ তারিখ কন্যা সন্তানের বাবা হন তিনি। নাম রাখা হয় তামারা প্রিয়ন্ময়ী। সন্তান জন্মের পর থেকেই প্রিয়কের মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন চলে আসে। সারাক্ষণ যেখানেই থাকুন না কেন দিনে কয়েকবার মেয়ের সাথে ফোনে কথা বলতেনই।

প্রিয়কের ঘনিণ্ঠ বন্ধু ইকবাল আহমেদ নিশাত বলেন, 'তিনি মানুষকে ভীষণভাবে পাঠ করতে পারতেন। এই সমাজ নিয়ে তার ছিল গভীর চিন্তা। প্রিয়কের মৃত্যুতে আমরা হারিয়েছে একজন চিন্তাশীল মানুষকে।'

আরেক বন্ধু ফারুক জানান, 'সিএনয়া, হিপা প্রতিযোগিতায় বহু ছবি পাঠিয়ে রেখেছে প্রিয়ক। তার একটা স্বপ্ন ছিল নিজের তোলা ছবি দিয়ে ফটো মিউজিয়াম বানাবে। তা আর হলো না।'

নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় প্রিয়ক চলে গেছেন, চলে গেছে তার তিন বছরের মেয়ে প্রিয়ন্ময়ীও। যে প্রিয়ক একদিন ছবি তুলতেন, ছাপা হতো এখানে ওখানে, সেই তার এবং তার মেয়ের নিজ ছবি এখন ছাপা হচ্ছে এখানে ওখানে! নিচে লেখা-এরা আজ মৃত!


আরও পড়ুন

সালাহ-ফিরমিনোয় হার নেইমার-এমবাপ্পেদের

সালাহ-ফিরমিনোয় হার নেইমার-এমবাপ্পেদের

সালাহ-সাদিও মানে-ফিরমিনো বনাম নেইমার-এমবাপ্পে-কাভানি! কিংবা বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের সাবেক দুই কোচ ...

হংকংয়ের বিপক্ষে কষ্টের জয় ভারতের

হংকংয়ের বিপক্ষে কষ্টের জয় ভারতের

হংকংয়ের ইনিংসের তখন ২৯ ওভার চলছে। কোন উইকেট না হারিয়ে ...

মুশফিক বিশ্রামে খেলবেন মুমিনুল

মুশফিক বিশ্রামে খেলবেন মুমিনুল

রুটি সেঁকতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত না আবার হাতটাই পুড়ে যায়- ...

শিক্ষার্থীরা আশাবাদী, সন্দেহ যাচ্ছে না ছাত্রনেতাদের

শিক্ষার্থীরা আশাবাদী, সন্দেহ যাচ্ছে না ছাত্রনেতাদের

সাধারণ শিক্ষার্থীরা আশাবাদী। তবে কিছুটা সন্দেহ আর সংশয়ে আছে ক্যাম্পাসে ...

স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে বাড়ছে গড় আয়ু

স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে বাড়ছে গড় আয়ু

বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু ক্রমশই বাড়ছে। ১০ বছর আগে ২০০৮ ...

৩০০ আসনে প্রার্থী দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য

৩০০ আসনে প্রার্থী দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য

চলমান রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য। আওয়ামী ...

'থাহনের জাগা নাই, পড়ালেহা করব ক্যামনে'

'থাহনের জাগা নাই, পড়ালেহা করব ক্যামনে'

ভিটেমাটির সঙ্গে শিশু নাসরিন আক্তারের স্কুলটিও গেছে পদ্মার গর্ভে। তীরে ...

রোগশোক ভুলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ওরা

রোগশোক ভুলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ওরা

হাটহাজারীর কাটিরহাট থেকে ছয় কিলোমিটার ইটবিছানো রাস্তার পর প্রায় এক ...