হুইল চেয়ারে ঘুরে স্বামী-সন্তানকে খুঁজছেন অ্যানী

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০১৮     আপডেট: ১৪ মার্চ ২০১৮      

ইজাজ আহমেদ মিলন, কাঠমান্ডু থেকে

স্বামী আর সন্তানের খোঁজে চিকিৎসকের সহযোগিতায় হুইল চেয়ারে করে হাসপাতালের বারান্দায় ঘুরছেন কাঠমান্ডু ট্রাজেডিতে নিহত আলোকচিত্রী এফএই প্রিয়কের স্ত্রী আলমুন নাহার অ্যানী। এখনও প্রিয়জনের মৃত্যুর কথা জানেন না তিনি।

বুধবার কাঠমান্ডু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, মাত্র তিন-চার সেকেন্ডের ভয়ঙ্কর সেই দৃশ্যের স্মৃতি মনে পড়তেই শিউরে উঠছেন আহত অ্যানী। হাসপাতালের বেডে শুয়ে তিনি ছটফট করছেন আর সন্তানকে বুকে এনে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করছেন ডাক্তার-নার্সদের। 

স্বামী আর একমাত্র কন্যাকে হারিয়ে অ্যানী মানসিকভাবে বিপর্যন্ত হয়ে পড়েছেন। আনমনে অন্য দিকে তাকিয়ে থাকছেন আর গাল গড়িয়ে অশ্রু ঝরছে। এক পর্যায়ে অ্যানী ডাক্তার ও নার্সকে অনুরোধ করে তাকে হাসপাতালের বাইরে একটু ঘুরিয়ে আনার জন্য করছেন। স্বামী আর কন্যাকে খোঁজার জন্য তিনি বাইরে বের হতে চান। তার অনুরোধেই বেলা দু’টার দিকে একজন চিকিৎসক ও নার্স হুইল চেয়ারে করে অ্যানীকে হাসপাতালের অষ্টম তলার বারান্দায় কিছু সময় ঘুরিয়ে আনেন। এ সময় অ্যানী বারবার ডাক্তারের কাছে তাকে কিছু সময় একা থাকার সুযোগ করে দেওয়ার অনুরোধ করেন। মাঝে মাঝে আবার বলে উঠেন, 'আমার বাবুরে এনে দেন। ও একা থাকতে পারবে না। আমার প্রিয়ক কোথায়!' 

অ্যানীর বেডের পাশেই অন্য একটি বেডে শুয়ে অসহ্য যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন দুর্ঘটনায় আহত মেহেদী হাসান মাসুম। 

সমকালকে তিনি বলেন, তিন বছরের শিশুকন্যাকে নিয়ে বাঁচতে গিয়ে প্রাণ হারালেন এফএইচ প্রিয়ক। ইচ্ছে করলে প্রিয়ক একা বিমান থেকে লাফিয়ে বাইরে বের হয়ে আসতে পারতেন। কিন্তু চোখের সামনে কন্যার এমন মৃত্যু সইতে পারবেন না জেনেই হয়তো তাকে কোলে নিয়ে বের হতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। 

তিনি বলেন, মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধান। তার স্ত্রী স্বর্ণা আর প্রিয়কের স্ত্রী অ্যানীকে নিয়ে দ্রুত তিনি বের হয়ে এসে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। 

প্রিয়কের স্বজন সোহানুর রহমান সোহান বলেন, অ্যানী ভাবীকে এখনও বলতে পারিনি তার স্বামী আর সন্তান নেই! কিন্তু হয়তো বুঝে গেছেন তার আদরের তামাররা ও স্বামী প্রিয়ক বেঁচে নেই। মাঝে মাঝে অ্যানী এলোমেলো কথা বলছেন হাসপাতালের বেডে শুয়ে। 

উল্লেখ্য, ক্যামেরায় ছবি বন্দি শখ ছিল প্রিয়কের, স্কুল জীবন থেকেই। একাধিক পুরস্কারও পেয়েছিলেন তিনি এতে। মস্ত বড় ফটোগ্রাফার হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়েও যাচ্ছিলেন দুর্বার গতিতে। কিন্তু সেই স্বপ্ন-গতি থেমে গেল, সত্যি হলো না আর। গত সোমবার নেপালের কাঠমান্ডুতে ইউএস বাংলার বিমান বিধ্বস্ত হয়ে মেয়েসহ প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আরও ৪৯ জন।

২০১২ সালে বিয়ে করেন প্রিয়ক। ২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর কন্যা সন্তানের বাবা হন তিনি। নাম রাখা হয় তামারা প্রিয়ন্ময়ী। সন্তান জন্মের পর থেকেই প্রিয়কের মধ্যে ব্যাপক পরিবর্তন চলে আসে। সারাক্ষণ যেখানেই থাকুন না কেন দিনে কয়েকবার মেয়ের সাথে ফোনে কথা বলতেন তিনি।

আরও পড়ুন

একক নয়, যৌথ নেতৃত্ব

একক নয়, যৌথ নেতৃত্ব

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে চলতি মাসেই আত্মপ্রকাশ ...

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনে যেতে চায় বিএনএ

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনে যেতে চায় বিএনএ

বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ও তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার ...

কালাইয়ে বেড়েছে কিডনি বিক্রি

কালাইয়ে বেড়েছে কিডনি বিক্রি

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় অভাবী মানুষের কিডনি বেচাকেনা আবারও বেড়েছে। অভাবের ...

চট্টগ্রামে মহড়া, অস্ত্রধারী ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

চট্টগ্রামে মহড়া, অস্ত্রধারী ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গত বুধবার দু'পক্ষের ...

জেএমবিকে অর্থ জোগাচ্ছে জঙ্গি শায়খের পরিবার

জেএমবিকে অর্থ জোগাচ্ছে জঙ্গি শায়খের পরিবার

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা'আতুল মুজাহিদীন অব বাংলাদেশকে (জেএমবি) চাঙ্গা ...

রাত ১১টার পর ফেসবুক বন্ধ করে দেয়া উচিত: রওশন

রাত ১১টার পর ফেসবুক বন্ধ করে দেয়া উচিত: রওশন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক রাত ১১টার পর বন্ধ করে দেয়া ...

আফগানদের কাছে বড় হার বাংলাদেশের

আফগানদের কাছে বড় হার বাংলাদেশের

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটা বাংলাদেশ প্রস্তুতি হিসেবে নিচ্ছে। এমন একটা কথা ...

বিশ্বে প্রতি ৫ সেকেন্ডে ১ শিশুর মৃত্যু: জাতিসংঘ

বিশ্বে প্রতি ৫ সেকেন্ডে ১ শিশুর মৃত্যু: জাতিসংঘ

ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), জাতিসংঘের জনসংখ্যা বিভাগ ও বিশ্ব ...