রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দ্রুত শুরুতে ঐকমত্য

প্রকাশ: ১৭ মে ২০১৮      

কূটনৈতিক প্রতিবেদক

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন থেকে বাঁচতে গত আগস্ট থেকে দলে দলে রোহিঙ্গা পালিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয়— ফাইল ছবি

রোহিঙ্গা প্র্যতাবাসন দ্রুত শুরু করতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার। এ লক্ষ্যে গঠিত বাংলাদেশ-মিয়ানমার যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের দ্বিতীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক এবং মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব ইউ মিন্ট থো।

বৃহস্পতিবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায় এ বৈঠক হয়। সকাল ১১টায় শুরু হয়ে বিকেল ৩টায় বৈঠক শেষ হয়। মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরীসহ ওয়ার্কিং গ্রুপের সদস্যরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে পররাষ্ট্র সচিব এম শহীদুল হক সাংবাদিকদের বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে প্রস্তুতিমূলক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উভয় পক্ষই দ্রুত প্রত্যাবাসনে সম্মত হয়েছে।

বৈঠকে মিয়ানমারকে নতুন কোনো তালিকা দেওয়া হয়েছে কি-না জানতে চাইলে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, রোহিঙ্গাদের আগের যে তালিকা দেওয়া হয়েছিল, সেটার যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে। আশা করা যায়, এ বৈঠকের মধ্য দিয়ে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হবে।

এ সময় মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব ইউ মিন্ট থো বলেন, খুবই তাৎপর্যপূর্ণ এবং অর্থবহ বৈঠক হয়েছে। মিয়ানমারের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ থেকেই খোলামেলা আলোচনা এসেছে। প্রত্যাবাসন শুরু করতে মিয়ানমার কী ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে এবং নেবে, সে সম্পর্কেও বৈঠকে অবহিত করা হয়েছে।

বাংলাদেশে প্রাণভয়ে পালিয়ে এসে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফিরতে কেন ভয় পাচ্ছে এবং রাখাইনে ভীতিকর পরিবেশ এখনও বিদ্যমান কি-না— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রত্যাবাসন শুরুর জন্য বাংলাদেশে অবস্থান নেওয়া মিয়ানমারের জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি কীভাবে করা যায় তা নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

তবে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ঠিক কতদিনের মধ্যে শুরু হবে, সে সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি তা এড়িয়ে গিয়ে বলেন, দ্রুত প্রত্যাবাসন শুরু করতেই প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের জন্য দুই দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে গত বছরের ১৯ ডিসেম্বর ঢাকায় যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন হয়। চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি মিয়ানমারে ওয়ার্কিং গ্রুপের প্রথম বৈঠক হয়। বৃহস্পতিবার ঢাকায় হলো দ্বিতীয় বৈঠক। 

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর লক্ষ্যে গত ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারকে ৮ হাজার ৩২ জনের একটি তালিকা হস্তান্তর করে বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত তালিকা যাচাই-বাছাই শেষ করতে পারেনি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবারের বৈঠকে এই তালিকা যাচাই-বাছাই নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয় বলে সূত্র জানায়। এ-সংক্রান্ত জটিলতায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কবে শুরু হবে সে সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা পাওয়া গেল না যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের ঢাকা বৈঠক থেকেও।

আরও পড়ুন

ডাকাতি শেষে চার নারী ধর্ষণ: বিনা অপরাধে জেল খাটছে তিন যুবক

ডাকাতি শেষে চার নারী ধর্ষণ: বিনা অপরাধে জেল খাটছে তিন যুবক

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে ডাকাতি ও তিন গৃহবধূসহ ...

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে পারষ্পারিক: মির্জা ফখরুল

ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে পারষ্পারিক: মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এ দেশের জনগণও ভারতের ...

তিস্তা নিয়ে কথা বলার অধিকার বিএনপির নেই: হাছান মাহমুদ

তিস্তা নিয়ে কথা বলার অধিকার বিএনপির নেই: হাছান মাহমুদ

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ...

ঢাকার দুই মাদক স্পট থেকে আটক পাঁচ শতাধিক

ঢাকার দুই মাদক স্পট থেকে আটক পাঁচ শতাধিক

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জেনেভা ক্যাম্প ও বনানীর কড়াইল বস্তিতে অভিযান চালিয়ে ...

খালেদা জিয়ার তিন জামিন আবেদন রোববারের কার্যতালিকায়

খালেদা জিয়ার তিন জামিন আবেদন রোববারের কার্যতালিকায়

কুমিল্লার হত্যার একটি মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার হাইকোর্টে ...

'আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ যে কারো জন্য ভয়ের'

'আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগ যে কারো জন্য ভয়ের'

আর্জেন্টিনা ফুটবলে ১৯৭৮ থেকে ২০১৮ এই ৪০ বছরের নায়ক দু'জন। ...

বন্দুকযুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন এরশাদের

বন্দুকযুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন এরশাদের

চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে 'বন্দুকযুদ্ধে' একের এক পর মৃত্যুর ঘটনার ...

মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে তিন ভাইয়ের মৃত্যু

মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে তিন ভাইয়ের মৃত্যু

সিলেটে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ হারিয়েছেন তিন ভাই। শনিবার ...