শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি

প্রকাশ: ১১ মে ২০১৮     আপডেট: ১১ মে ২০১৮      

অনলাইন ডেস্ক

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শুক্রবার বিকেলে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলন উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা— ফোকাস বাংলা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যে কোনো প্রকারের নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, তার সরকার এ ধরনের অপরাধ কোনোভাবেই বরদাশত করবে না।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি একথা বলেন। খবর বাসসের

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমি আমাদের ছাত্রদের বলবো— কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের ভাংচুর করা চলবে না। ছাত্ররা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর করবে— এটা আমি বরদাশত করবো না। কারণ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে স্বায়ত্তশাসন থাকলেও সেগুলো চালাতে সকল খরচ সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়।'

তিনি বলেন, 'যদি কেউ ভাংচুর করে, সেখানে আমার কিন্তু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর প্রতি নির্দেশ রয়েছে— সে দলের হোক, আর যেই হোক কাউকে ছাড়া হবে না, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।'

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় সম্প্রতি কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের বাসভবন ভাংচুরের সমালোচনা করে রাজনীতির নামে শিক্ষকদের দলাদলি পরিহার এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধ করার জন্যও শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে তার সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির পুনরুল্লেখ করে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ এবং মাদক থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে থাকার আহবান জানান।

প্রধানমন্ত্রী সবাইকে রাস্তায় চলাচলের জন্য ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ সর্বত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্যও পরামর্শ দেন।

কোটা সংস্কারের দাবিতে ঢাবির ভিসির বাংলোতে হামলা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাড়িতে আক্রমণ করা হলো— আমরাও তো আন্দোলন করেছি, সেই '৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলন। স্কুলের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে মিছিলে চলে এসেছি। আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে যখন পড়েছি আন্দোলনে ছিলাম। ভিসির বাড়ি ভিতরে ঢুকে তার রুমে লুটপাট করা, রুম ভাঙা, তাকে ধাক্কা দেওয়া এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনা কোনো ইতিহাসে ঘটে নাই।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'তদন্ত চলছে, ইতোমধ্যে অনেকে ধরা পড়েছে এবং আরো ধরা পড়বে। এরসঙ্গে যারাই জড়িত আর ওই লুটপাট যারাই করেছে তাদের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে আমি নির্দেশ দিয়েছি।'

তিনি বলেন, 'আর কথায় কথায় দাবি করলে তো হবে না। একটা দেশের কল্যাণ কিভাবে করতে হয়, উন্নয়ন কিভাবে করতে হয়, কিভাবে শিক্ষার মান উন্নত করতে হয়, শিক্ষার পরিবেশ কিভাবে রক্ষা করতে হয়, কিভাবে শিক্ষিত জাতি গড়ে তুলতে হয়, আমরা তা ভালোই জানি। আর জানি বলেই আজকে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।'

প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'আমি ধন্যবাদ জানাবো আজকে ছাত্রলীগসহ অন্যান্য সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের, যে অন্তত শিক্ষার পরিবেশটা তারা বজায় রাখতে পেরেছে।'

তিনি বলেন, 'এই নয় বছরে দু’একটা ঘটনা ছাড়া এমন কোনো ঘটনা ঘটে নাই এবং ভিসির বাড়িতে আক্রমণ, শিক্ষকদের অপমান করা— এ ধরনের কোনো ঘটনা আমি আর চাই না এখানে ঘটুক।'

প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, 'শিক্ষকদেরকেও আমি বলবো— শিক্ষকরা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে লাগবে আর তারা দ্বন্দ্ব করবে আর তার ফল ছাত্ররা ভোগ করবে, সেটাও আমি চাই না। শিক্ষকরা যদি শিক্ষকদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ায় তাহলে ছাত্ররা শিখবেটা কি?'

তিনি দিনে ৫/৬ ঘণ্টা ছাড়া সমস্ত দিন দেশের কাজে ব্যয় করেন এবং যে কেউ যেকোনো সমস্যা নিয়ে তার কাছে গেলে এর প্রতিকারে সবরকম ব্যবস্থা গ্রহণ করেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, 'তবে, কোনো কিছু নিয়ে বাড়াবাড়ি করা আমরা কিন্তু বরদাশত করবো না।'

ডিজিটাল প্রযুক্তি ধ্বংসাত্মক কাজে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'ডিজিটাল বাংলাদেশ করেছি। আমাদের ছেলে-মেয়েরা যেন এ থেকে শিক্ষা-দীক্ষা গ্রহণ করে তার জন্য। এটাকে অপব্যবহার করার জন্য নয়। সেই কারণে ছাত্রলীগের ছেলে-মেয়ে সকলের ওপরে যেমন আমার নির্দেশ, সেই সাথে সাথে সকল ছাত্র সমাজ-জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদকাসক্তি থেকে দূরে থাকতে হবে। এ ধরনের অসামাজিক কার্যকলাপের সঙ্গে কেউ যেন সম্পৃক্ত না হয়।'

তিনি বলেন, 'যদি কেউ হাতেনাতে ধরা পড়ে তাহলে তাকে যেমন বহিষ্কার করা হবে, সাথে সাথে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। ইতোমধ্যে আমি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী থেকে শুরু করে র‌্যাব- সকলকে নির্দেশ দিয়েছি, যেখানেই মাদক এবং যেখানেই সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার।'

ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, ছাত্রলীগের সহ সভাপতি এবং নতুন কমিটি নির্বাচনে গঠিত নির্বাচন কমিশনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার আরিফুর রহমান লিমন, সম্মেলন আয়োজক উপকমিটির আহবায়ক ছাত্রলীগ সহসভাপতি কাজী এনায়েত হোসেন, অভ্যর্থনা উপকমিটির আহ্বায়ক ইমতিয়াজ বুলবুল বাপ্পি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

সংঠনের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন এবং সাধারণ সম্পাদকের রিপোর্ট উপস্থাপন করেন। দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন শাহজাদা অনুষ্ঠানে শোক প্রস্তাব পাঠ করেন।

এরআগে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক এ সময় দলীয় পতাকা ওড়ান।

আরও পড়ুন

তিস্তায় 'বরফ' গলছে

তিস্তায় 'বরফ' গলছে

তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি কি আলোর মুখ দেখবে? এ নিয়ে বহুদিন ...

ধর্ষণের অনুসন্ধান ও বিচারে হাইকোর্টের ১৮ দফা নির্দেশনা

ধর্ষণের অনুসন্ধান ও বিচারে হাইকোর্টের ১৮ দফা নির্দেশনা

ধর্ষণের ঘটনার সুষ্ঠু অনুসন্ধান ও বিচার নিশ্চিতে ১৮ দফা নির্দেশনা ...

পরিকল্পনাতেই ঘুরপাক খাচ্ছে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ

পরিকল্পনাতেই ঘুরপাক খাচ্ছে শৃঙ্খলা ফেরানোর উদ্যোগ

ঢাকার রাস্তায় প্রাণঘাতী বাসগুলোকে শৃঙ্খলায় আনার উদ্যোগ এখন পর্যন্ত পরিকল্পনাতেই ...

ফ্যাশন এবার ওড়নায়

ফ্যাশন এবার ওড়নায়

শহরজুড়ে বিভিন্ন রঙে সেজেছে বিপণিবিতানগুলো। ক্রেতার কলতানে মুখর সকাল থেকে ...

ওয়াটসনের সেঞ্চুরিতে আইপিএল শিরোপা চেন্নাইয়ের

ওয়াটসনের সেঞ্চুরিতে আইপিএল শিরোপা চেন্নাইয়ের

মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে হারিয়ে আইপিএলের ১১তম আসরের শিরোপা ...

দেশের এ অবস্থা জাতির জন্য হুমকি: ফখরুল

দেশের এ অবস্থা জাতির জন্য হুমকি: ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজকে গণতন্ত্রকে যেভাবে ...

সৌদি থেকে ফিরলেন আরও ৪০ নারী

সৌদি থেকে ফিরলেন আরও ৪০ নারী

সৌদি আরবে কর্মক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার আরও ৪০ নারী দেশে ফিরছেন। ...

বিশিষ্টজনের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির ইফতার

বিশিষ্টজনের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির ইফতার

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ রোববার বঙ্গভবনে প্রধানমন্ত্রীসহ দেশের বিশিষ্ট নাগরিকদের ...