এবিটির পলাতক আট জঙ্গির খোঁজে পুলিশ

প্রকাশ: ১৪ জুন ২০১৮     আপডেট: ১৪ জুন ২০১৮       প্রিন্ট সংস্করণ     

আতাউর রহমান

মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে লেখক, প্রকাশক ও মুক্তমনা ব্লগার শাহজাহান বাচ্চু হত্যাকাণ্ডের পর আবার আলোচনায় এসেছে 'ঝিমিয়ে পড়া' জঙ্গি সংগঠনগুলো। ওই লেখককে হত্যার পর আলামত বিশ্নেষণে গোয়েন্দারা ধারণা করছেন, জঙ্গি সংগঠনের হাতেই তিনি খুন হতে পারেন। এ জন্য দেশে বিভিন্ন সময়ে টার্গেট কিলিংয়ে জড়িত আনসার আল ইসলামের (সাবেক আনসারুল্লাহ বাংলাটিম-এবিটি) অপারেশন  সেলের পলাতক অন্তত আটজনকে সন্দেহের তালিকায় রেখেছেন গোয়েন্দারা। তারা মনে করছেন, পলাতক ওই গ্রুপটিই হত্যাকাণ্ডে অংশ নিতে পারে বা নিষিদ্ধ সংগঠনটিতে নতুন সদস্য যুক্ত করা হতে পারে। এরই মধ্যে ওই গ্রুপটিকে চিহ্নিত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।


গত সোমবার সন্ধ্যায় সিরাজদীখানের কাকালদী এলাকায় শাহজাহানকে গুলি করে হত্যা করা হয়। মোটরসাইকেলে আসা চার দুর্বৃত্ত প্রথমে বোমা ছুড়ে আতঙ্ক তৈরি করে। এর পর তাকে গুলি চালিয়ে হত্যার পর পালিয়ে যায়। শাহজাহান বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মুন্সীগঞ্জ জেলার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ঢাকার বাংলাবাজার এলাকার 'বিশাকা প্রকাশনী'র স্বত্বাধিকারী তিনি। ওই ঘটনায় দায়ের মামলাটি থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পুলিশ সদর দপ্তরে এন্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ) এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ছায়া তদন্ত করছে।


এদিকে গত দু'দিনেও হত্যায় জড়িত কেউ শনাক্ত বা গ্রেফতার না হলেও আশার বাণী শুনিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। গতকাল বুধবার ঢাকার তেজগাঁও বিজ্ঞান কলেজের এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, হত্যাকাে র ঘটনায় আমাদের কয়েকটি টিম কাজ করছে। আমরা নিশ্চয়ই তাদের ধরে ফেলব। গত কয়েক বছরে যত হত্যাকা হয়েছে, সবগুলোই আমরা উদ্ঘাটন করেছি। জড়িতদের শনাক্ত করেছি এবং বেশিরভাগই আমরা ধরে ফেলেছি। এই ঘটনায় জড়িতরাও পার পাবে না।


কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের ডিসি মহিবুল ইসলাম খান সমকালকে বলেন, লেখক শাহজাহান বাচ্চুর বিভিন্ন কার্যক্রম বিশ্নেষণে মনে হচ্ছে, তিনি উগ্রপন্থিদের হাতে টার্গেট কিলিংয়ের শিকার হয়েছেন। এ ধরনের হত্যাকাণ্ডে সাধারণত এবিটি অংশ নেয়। তবে হত্যার ধরনে ভিন্নতা রয়েছে। তা ছাড়া জঙ্গি সংগঠনগুলো হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে এর আগে দায় স্বীকার করেছে। শাহজাহান হত্যার পর এমন কিছু চোখে পড়েনি। 


এই কর্মকর্তা আরও বলেন, হত্যাকাণ্ডে অন্য কোনো জঙ্গি সংগঠন অংশ নিল কি-না, এর নেপথ্যে পারিবারিক, ব্যবসায়িক কোনো দ্বন্দ্ব রয়েছে কি-না তাও তদন্তের আওতায় রয়েছে।


কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের অপর এক কর্মকর্তা বলেন, তারা বিভিন্ন সময়ে চিহ্নিত করেছিলেন এবিটির অপারেশন সেলের এমন সাত থেকে আট জঙ্গি এখনও পলাতক। সিরাজদীখানে ওই হত্যাকাণ্ডের পর পলাতক এসব জঙ্গির গোপন কার্যক্রমের বিষয়েও নানাভাবে তদন্ত চলছে। এ ছাড়া এবিটির অপারেশন কমান্ডার হিসেবে চিহ্নিত মেজর (চাকরিচ্যুত) সৈয়দ জিয়াউল হকও পলাতক। তার মাধ্যমেও নিষ্ফ্ক্রিয় সংগঠনটি সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করতে পারে। সব বিষয় মাথায় রেখেই তদন্ত চলছে। 


পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, টানা অভিযানে নব্য জেএমবি বা আনসার আল ইসলামের মতো অতি উগ্রপন্থি নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর কার্যক্রম একেবারেই নিষ্ফ্ক্রিয় পড়ে পড়েছে। এরপরও ওই দুটি সংগঠনের যে অংশটি এখন ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে, তারা হয়তো সংগঠনের অস্তিত্ব ধরে রাখতে একসঙ্গেই কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা করছে। এদেরই কোনো গ্রুপ লেখক শাহজাহান বাচ্চু হত্যায় জড়িত কি-না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 


ডিবির টিম ঘটনাস্থলে :সমকালের মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, গতকাল দুপুরে জেলা ডিবি পুলিশের একটি টিম সিরাজদীখানের কাকালদী গ্রামের নিহত শাহজাহান বাচ্চুর পৈতৃক বাড়িতে গিয়ে তার স্ত্রী ও সন্তানদের সঙ্গে কথা বলেছে। পাশাপাশি তারা হত্যাকাণ্ডস্থল পরিদর্শন করেছেন। 


স্বজনরা জানিয়েছেন, ধর্মীয় বিষয় নিয়ে বিশ্নেষণধর্মী লেখালেখি করার কারণে শাহজাহান বাচ্চু কয়েক বছর ধরেই উগ্রপন্থি জঙ্গিদের হুমকি পেয়ে আসছিলেন। তিনি এ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের এবং স্বজন-বন্ধুদেরও নিজের শঙ্কার কথা বলতেন। এ জন্য নিজের চলাফেরাও সীমিত করে দেন। এমনকি গত মার্চে তিনি স্থায়ীভাবে ভারতে থাকার চেষ্টাও করেছিলেন। এ জন্য পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে ১৩ দিন অবস্থান করে আবার গ্রামে ফিরে আসেন। তবে কখনও থানায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে জিডি করেননি। 


হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের মামলার বাদী ও নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী আফসানা জাহান বলেন, থানায় জিডি করলে পুলিশের লোকজনও তাকে চোখে চোখে রাখবে, এতে তার স্বাধীনতা খর্ব হবে- এমন ভাবনায় থানা পুলিশকে বিষয়টি জানাননি। পাশাপাশি তিনি মনে করতেন, তার গ্রামে গিয়ে কেউ তার ওপর আক্রমণ করতে পারবে না। এলাকায় তিনি বন্ধু ও পরিচিতজনদের নিয়ে চলাফেরা করতেন। 


মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম সমকালকে বলেন, থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবি ও জেলা পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। এ ছাড়া কাউন্টার টেররিজম ইউনিটও ঘটনা তদন্ত করছে। তবে এখনও বলার মতো কোনো অগ্রগতি নেই। 

আরও পড়ুন

ছয় কেন্দ্রে ইভিএম, তিন কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা

ছয় কেন্দ্রে ইভিএম, তিন কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ছয়টি কেন্দ্রে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ...

মিশরকে এগিয়ে দিলেন সালাহ

মিশরকে এগিয়ে দিলেন সালাহ

এই ম্যাচের ফলাফল এবারের বিশ্বকাপে কোনো প্রভাব ফেলবে না। তবে ...

ইন্টারনেট ব্যবহারে ভ্যাট কমছে

ইন্টারনেট ব্যবহারে ভ্যাট কমছে

অবশেষে ইন্টারনেট ব্যবহারে গ্রাহকের কাঁধ থেকে ভ্যাটের বোঝা কমছে। সোমবার অর্থমন্ত্রী ...

শুরুতেই দুই গোলে এগিয়ে উরুগুয়ে

শুরুতেই দুই গোলে এগিয়ে উরুগুয়ে

'এ' গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে নেমেছে উরুগুয়ে ও রাশিয়া। ...

নেইমারদের এড়াতে যা করতে হবে জার্মানি-মেক্সিকো-সুইডেনকে

নেইমারদের এড়াতে যা করতে হবে জার্মানি-মেক্সিকো-সুইডেনকে

ঘটন-অঘটনের রাশিয়া বিশ্বকাপ প্রথম রাউন্ড শেষ হতে চললো। তবে এখন ...

আর্জেন্টিনা দলে যেসব পরিবর্তন হতে পারে

আর্জেন্টিনা দলে যেসব পরিবর্তন হতে পারে

ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারের পর আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় রাউন্ড পড়ে ...

বেতন দিয়ে চোর পোষেন ইদু মামা!

বেতন দিয়ে চোর পোষেন ইদু মামা!

ইদু মিয়া ওরফে হাতকাটা ইদু। চট্টগ্রামের অপরাধ জগতে তার পরিচিতি ...

দেবরকে বাঁচাতে বউ সেজেছিলেন ভাবি!

দেবরকে বাঁচাতে বউ সেজেছিলেন ভাবি!

দেবরকে পুলিশের হাত থেকে বাঁচাতে গিয়ে ভাবী এখন শ্রীঘরে। সোমবার ...