মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল সম্ভব নয়: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশ: ১২ জুলাই ২০১৮     আপডেট: ১২ জুলাই ২০১৮      

সমকাল প্রতিবেদক

সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা- ফোকাস বাংলা

আদালতের রায়ের কারণে মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা নিয়ে হাইকোর্টের রায় আছে। রায়ে বলা আছে মুক্তিযোদ্ধাদের কোটা সংরক্ষিত থাকবে। তাহলে কোটার বিষয়ে আমরা কীভাবে আদালতের ওই রায় লঙ্ঘন করব। সেটা তো আমরা করতে পারছি না। এটা করলে তো আমরা আদালত অবমাননায় পড়ে যাব। এটা কেউ করতে পারবে না।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কোটা আন্দোলনকারীদের মধ্যে যারা ভিসির বাড়িতে ভাংচুর ও আক্রমণ করেছে তাদেরই গ্রেফতার করা হচ্ছে। উচ্ছৃঙ্খলা কখনও বরদাশত করা যায় না।

বৃহস্পতিবার দশম সংসদের একুশতম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে বিকেলে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

কোটা সংস্কারের আন্দোলন চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবনে হামলা চালানোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভাংচুরকারীরা ভিসির বাড়ির ক্যামেরার চিপস নিয়ে গেলেও আশপাশে থাকা ক্যামেরা দেখে তাদের একজন একজন করে খুঁজে বের করা হচ্ছে। যারা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে, আক্রমণ করেছে, তাদের ছাড় নেই। তাদের গ্রেফতার ও তদন্ত করা হচ্ছে। অনেকে স্বীকারও করছে। যত আন্দোলনই হোক না কেন তাদের ছাড়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, যেখানে কোটা পূরণ হবে না, খালি থাকবে, তা মেধা থেকে নিয়োগ হবে। এটা করে দেওয়া হয়েছে। গত কয়েক বছর থেকেই এই প্রক্রিয়া চালু রয়েছে।

কোটা আন্দোলনের দাবি সুনির্দিষ্ট নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা যে ঠিক কী চায় বারবার জিজ্ঞেস করা হয়েছে; কিন্তু তা সঠিকভাবে বলতে পারে না। আন্দোলন তারা করছে খুব ভালো কথা। বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, ছেলেপুলে আন্দোলন করতেই পারে। কিন্তু ভিসির বাড়িতে আক্রমণ করে সেখানে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া, গাড়ি আগুন দিয়ে পোড়ানো, বাড়ি ভাংচুর করা, বেডরুম পর্যন্ত পৌঁছে ভাংচুর এবং লুটপাট করা, স্টিলের আলমারি ভেঙে অলঙ্কার, টাকা-পয়সা সবকিছু লুটপাট করেছে। ভিসির পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে লুকিয়ে থেকে প্রাণ বাঁচিয়েছেন। এটা কি কোনো শিক্ষার্থীর কাজ? এটা কি কোনো শিক্ষার্থী করতে পারে?

সংসদ নেতা আরও বলেন, কথায় কথায় বলে ক্লাস করবে না। ক্লাসে তালা দেয়? ক্ষতিগ্রস্ত কারা হবে? অনেক কষ্টে সেশনজট দূর করা হয়েছে। তাদের কারণে এখন আবার সেই সেশনজট।

ছাত্রছাত্রীরা রাষ্ট্রের ভর্তুকির টাকায় লেখাপড়া করে- এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ১৫ টাকা সিট ভাড়া আর ৩৮ টাকা খাবার- এমনটি পৃথিবীর কোথায় আছে? আজ নতুন নতুন হল বানানো হয়েছে। ১৫ টাকা সিট ভাড়া আর ৩৮ টাকায় খাবার খেয়ে তারা লাফালাফি করে। তাহলে সিট ভাড়া আর খাবারে বাজারদর যা রয়েছে, তাদের তা দিতে হবে। সেটা তারা দিক।

তিনি বলেন, তারা হলের গেট ভেঙে ফেলে দেবে। মধ্যরাতে হল থেকে ছাত্রীরা বেরিয়ে যাবে। আমার টেনশনে আমি বাঁচি না। আমি পুলিশকে, ছাত্রলীগ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বলেছি- এই মেয়েদের যেন কোনো ক্ষতি না হয়। ভোর ৬টা পর্যন্ত জেগে থেকে যার যার হলে পৌঁছে যাওয়ার পর আমি ঘুমাতে গিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বলেছি কোটা সংস্কার আমরা করব। আমি তো বলেছি কোটা পুরোপুরি বাদ দিতে। আমরা তো মন্ত্রিপরিষদ সচিব দিয়ে একটি কমিটিও করে দিয়েছি। তারা সেটা দেখছে। তাহলে এদের অসুবিধাটা কোথায়?

আগামী নির্বাচনে বিরোধী দলসহ যারা আছে সবাই অংশ নেবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে এ ব্যাপারে জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশের জনগণ ২০০৮ নৌকা মার্কায় দিয়েছিল; আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করেছিল। ২০১৪ সালে শত বাধার মুখে সবকিছু উপেক্ষা করে তারা ভোট দিয়েছে। আবারও জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে সেবার সুযোগ পাওয়া গেছে। জনগণ যদি মনে করে, আওয়ামী লীগকে সেবা করার সুযোগ দিয়ে তারা ভুল করেনি, সেবা করার সুযোগ দিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার সহযোগিতা করছে। আগামীতেও তারা যদি চায়, আবারও নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে সেবা করার সুযোগ দেবে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বিশ্বে যে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছে, সেটা ধরে রেখে এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ।

সংরক্ষিত আসনের মেয়াদ ২৫ বছর পুনর্নির্ধারণ নিয়ে সমালোচনার জবাবে তিনি বলেন, নারীরা আন্দোলনও করেন আবার সুযোগও চান। যদি কেউ সরাসরি নির্বাচন করতে চান সেই সুযোগ তো রয়েছেই। এই সংসদে তিনি নিজে ও বিরোধীদলীয় নেতাসহ ২৩ জন নারী সংসদ সদস্য সরাসরি নির্বাচিত। স্পিকারও সরাসরি নির্বাচিত। এই সুযোগ তো কেউ কেড়ে নিচ্ছে না। কাজেই তারা যেন আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হন। নির্বাচন করে জনগণের কাছে গিয়ে যেন ভোট চান। তারা নির্বাচন করলে তো সরাসরি ভোটে চলে আসবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখন চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি। আমরা বিদেশ থেকেও বিদ্যুৎ আমদানি করছি। ৯৩ শতাংশ মানুষ এখন বিদ্যুৎ পাচ্ছে। শিগগিরই শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ পাবে। বিদেশে চিকিৎসায় যাওয়ার প্রবণতা প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান বলেন, বিদেশে চিকিৎসায় যাওয়াটা এখন ফ্যাশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের একটু হাঁচি-কাশি হলেই বিদেশ যায়। সবকিছু আমরা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দিয়েছি। জেনারেল এরশাদকেও একটি ব্যাংক দিয়েছি। সেখানে অনেকেই কর্মসংস্থান হচ্ছে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এখন আর পিছিয়ে নেই। এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশকে কেউ এখন অবহেলার দৃষ্টিতে দেখতে পারে না। আমরা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।

আরও পড়ুন

ভরসার প্রতীক সেই নৌকা-ধানের শীষ

ভরসার প্রতীক সেই নৌকা-ধানের শীষ

নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে নিজের প্রতীক ছেড়ে আওয়ামী লীগের নৌকা ...

রংপুর বিভাগের ১১ আসনে আ'লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত

রংপুর বিভাগের ১১ আসনে আ'লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত

আওয়ামী লীগের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ...

চট্টগ্রামে জাপা শরিকদের স্বপ্নভঙ্গ

চট্টগ্রামে জাপা শরিকদের স্বপ্নভঙ্গ

বিএনপি ভোটে না এলে ১০০ আসন ছেড়ে দেবে আওয়ামী লীগ- ...

ভোটের মাঠে একঝাঁক তারকা

ভোটের মাঠে একঝাঁক তারকা

বিভিন্ন অঙ্গনের তারকাদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ নতুন নয়। বিশেষত উপমহাদেশে এই ...

সুফি গান আমার কাছে ঈশ্বরবন্দনার মতো

সুফি গান আমার কাছে ঈশ্বরবন্দনার মতো

'সঙ্গীতের আলাদা কোনো ভাষা নেই। কোনো মানচিত্রের মধ্যেও একে বন্দি ...

কুলাউড়ার সাবেক তিন এমপির ডিগবাজি

কুলাউড়ার সাবেক তিন এমপির ডিগবাজি

নির্বাচন দুয়ারে। মনোনয়ন নিশ্চিতে চলছে দল ও জোট বদলের মৌসুম। ...

হৃদয় ছুঁয়েছে 'হাসিনা :অ্যা ডটার'স টেল'

হৃদয় ছুঁয়েছে 'হাসিনা :অ্যা ডটার'স টেল'

কেউ রাজনীতি পছন্দ করুক, আর না করুক- 'হাসিনা :অ্যা ডটার'স ...

ফৌজদারি অপরাধ ছাড়া গ্রেফতার করবে না পুলিশ: মনিরুল

ফৌজদারি অপরাধ ছাড়া গ্রেফতার করবে না পুলিশ: মনিরুল

ফৌজদারি অপরাধে জড়িত না হলে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কাউকে পুলিশ ...