সিপিডির গবেষণা

পোশাক খাতে নারী শ্রমিক কমছে

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০১৮      

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

পোশাক খাতে নারী শ্রমিকের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমছে। একসময় নারী শ্রমিক ছিল ৮০ শতাংশ। বর্তমান এ হার ৫৩ শতাংশ। মজুরির ক্ষেত্রেও নারী-পুরুষ বৈষম্য রয়েছে। 

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত পোশাক খাত নিয়ে দিনব্যাপী এক সেমিনারে উপস্থাপিত প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। 

বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানের খাজানা গার্ডেন রেস্তোরাঁয় এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। 'রানা প্লাজা ধস-পরবর্তী পোশাক খাতের রূপান্তর' শীর্ষক এই সেমিনারে সিপিডির তিনটি পৃথক গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরা হয়। এসব গবেষণায় পোশাক খাতের করপোরেট ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তির ব্যবহার, মালিকানা ও শোভন কাজ সংক্রান্ত মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন তথ্য তুলে আনা হয়। 

সকালের উদ্বোধনী অধিবেশনে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এবং সিপিডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, তৈরি পোশাকের সবচেয়ে মৌলিক সমস্যা এখন ন্যায্য দর না পাওয়া। কারণ এ খাতের বৈশ্বিক সরবরাহ কাঠামো চলছে অন্যায্যের ভিত্তিতে। একটি পোশাকের মোট মূল্যের ৮০ শতাংশই ভোগ করে বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো। 

তিনি বলেন, পোশাকবাণিজ্যের বিদ্যমান বৈশ্বিক মডেলেই সমস্যা রয়েছে। পাঁচ ডলারে বাংলাদেশ থেকে পণ্য সংগ্রহ করে ৩৫ ডলারে বিশ্ববাজারে বিক্রি করছেন তারা। অথচ শ্রমিকের মজুরি এবং সামাজিক কমপ্লায়েন্সসহ সব বিষয়ে চাপ দেওয়া হচ্ছে এই পাঁচ ডলারের ওপর। এই অন্যায়ের বিষয়টি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ফোরামে তুলে ধরার তাগিদ দিয়েছেন তিনি। 

পোশাক খাতের সংস্কারবিষয়ক দুই ক্রেতাজোট অ্যাকর্ড এবং অ্যালায়েন্স প্রসঙ্গে অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, বিদেশি এজেন্সি এ দেশের কোনো শিল্পের সংস্কার কার্যক্রম তদারক করবে- এটা সম্মানের নয়। জাতীয় উদ্যোগেই এই বিষয়ক একটি তদারকি প্রতিষ্ঠান থাকা দরকার। 

তবে সরকার গঠিত রেমিডিয়েশন কোঅর্ডিনেশন সেলের ( আরসিসি) প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, অ্যাকর্ড এবং অ্যালায়েন্স থেকে দায়িত্ব বুঝে নিতে একটা কর্মকৌশল থাকা প্রয়োজন। এখনও সেটা তৈরি করা সম্ভব হয়নি। 

অধ্যাপক রেহমান সোবহানের বক্তব্যের আগে এফবিসিসিআইর সভাপতি সফিউল ইসলাম মহিউদ্দিনও ন্যায্য দর নিয়ে খুচরা ক্রেতা এবং ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠানগুলোর অন্যায্য বাণিজ্য নিয়ে কথা বলেন। 

তিনি বলেন, কারখানার সংস্কারে উদ্যোক্তারা কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেছেন। অথচ এক টাকাও দর বাড়াননি ক্রেতারা। বরং দর কমানোর জন্য চাপ দিচ্ছেন তারা। 

ন্যায্য দরের প্রসঙ্গে সেমিনারে বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার বৈঠক এবং ইউরোপের সঙ্গে পোশাক খাতের উন্নয়নবিষয়ক চুক্তি কমপ্যাক্টের বৈঠকে ন্যায্য দরের বিষয়টি তুলে ধরেছে বাংলাদেশ। তারপরও দুঃখজনকভাবে ন্যায্য দর দিতে ক্রেতাদের মধ্যে কোনো আগ্রহ তৈরি হয়নি।

এই অধিবেশনের বিশেষ অতিথি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে এ খাতের রফতানি আয় ৫০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এখনও কার্যকর কোনো কর্মকৌশল গ্রহণ করা হয়নি। এ বিষয়ে একটি রোডম্যাপ তৈরির তাগিদ দেন তিনি। 

প্রযুক্তি অভিমুখী নীতি কৌশল নিতে হবে :সেমিনারের দ্বিতীয় অধিবেশন ছিল প্রযুক্তি এবং ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত। 

এ অধিবেশনে সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, পোশাক খাতের উন্নয়নে যে ধরনের রূপান্তর আশা করা হচ্ছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নীতি কৌশল নিতে হবে। যে ধরনের নীতি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। পুনর্বিবেচনা করতে হবে প্রণোদনার বিষয়টি। 

তিনি বলেন, ব্যাস্টিক এবং সামষ্টিক অগ্রগতির মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। কোন উন্নয়ন কৌশল কার জন্য কতটা প্রযোজ্য, সেই কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। 

আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পোশাক খাতের উন্নয়নে প্রযুক্তি অভিমুখী নীতি কৌশল গ্রহণ করা এখন অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, নীতি সহায়তার ক্ষেত্রে রেন্ট সিকিংয়ের (অসাধু সুবিধা আদায়ের মানসিকতা) বিদ্যমান বাস্তবতা দূর করতে হবে। 

এই অধিবেশনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফরহাত আনোয়ার, শ্রমিক নেতা তৌহিদুর রহমান প্রমুখ। 

কমছে নারী শ্রমিক: সিপিডির গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, পোশাক খাতে নারী শ্রমিকের সংখ্যা কমছে। একসময়ের ৮০ শতাংশ থেকে বর্তমান এ হার ৫৩ শতাংশ। মজুরির ক্ষেত্রেও নারী-পুরুষ বৈষম্য রয়েছে। পুরুষ শ্রমিকদের তুলনায় নারী শ্রমিকরা কম মজুরি পাচ্ছেন। 

গবেষণা মতে, একজন নারী শ্রমিক গড়ে সাত বছরের বেশি কাজ করতে পারেন না। তবে কারখানায় যৌন হয়রানির হার উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। যৌন হয়রানির পাঁচ শতাংশ তথ্য পাওয়া গেছে সিপিডির গবেষণায়। দুই বছরের বেশি সময় ধরে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন কারখানার ওপর এই জরিপ চালানো হয়। এতে নেতৃত্ব দেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. গোলাম মোয়াজ্জেম। 

দিনের বিভিন্ন অধিবেশনে আলোচনায় অংশ নেন সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, অর্থনীতিবিদ রওনক জাহান ও বিকেএমইএর প্রথম সহসভাপতি মনসুর আহমেদ। বিভিন্ন ক্রেতা এবং ব্র্যান্ড প্রতিনিধিরা এসব অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

তবুও জামায়াত ছাড়বে না বিএনপি

তবুও জামায়াত ছাড়বে না বিএনপি

জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতাদের দাবিতে জামায়াতকে ত্যাগ করবে না বিএনপি। ...

সাত বিভাগীয় শহরে হবে সাইবার ট্রাইব্যুনাল

সাত বিভাগীয় শহরে হবে সাইবার ট্রাইব্যুনাল

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের অধীনে সংঘটিত অপরাধের বিচার দ্রুত ...

১৯৩ দেশই ভ্রমণ করবেন নাজমুন

১৯৩ দেশই ভ্রমণ করবেন নাজমুন

লাল-সবুজের পতাকা হাতে পৃথিবীর পথে এখনও হেঁটে চলেছেন নারী পরিব্রাজক ...

বঞ্চনার শেষ নেই শিক্ষা ক্যাডারে

বঞ্চনার শেষ নেই শিক্ষা ক্যাডারে

মানিকগঞ্জের সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান ১৪তম বিসিএসের কর্মকর্তা। ...

বেদেপল্লীর বাতাসে এখনও পোড়া গন্ধ

বেদেপল্লীর বাতাসে এখনও পোড়া গন্ধ

পিচঢালা পথের যেখানে শেষ, সেখান থেকেই শুরু বেদেপল্লীতে প্রবেশের রাস্তা। ...

শেষবেলায় আ'লীগের চমক ড. ফরাসউদ্দিন?

শেষবেলায় আ'লীগের চমক ড. ফরাসউদ্দিন?

নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী আর মাত্র তিন মাস পর একাদশ ...

জঙ্গিদের বোমা নিষ্ক্রিয় করবে 'যন্ত্রমানব'

জঙ্গিদের বোমা নিষ্ক্রিয় করবে 'যন্ত্রমানব'

হঠাৎ খবর এলো, জঙ্গিরা উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বোমা নিয়ে আস্তানায় অবস্থান ...

শেখর-রোহিতের সেঞ্চুরিতে উড়ে গেল পাকিস্তান

শেখর-রোহিতের সেঞ্চুরিতে উড়ে গেল পাকিস্তান

দুবাইয়ের খবর অনুযায়ী, ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের টিকিট বিক্রি হয়নি ভালো। আয়ের ...