ডাকসু নির্বাচন কতদূর

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮     আপডেট: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮       প্রিন্ট সংস্করণ     

ইমাদ উদ্দিন মারুফ

২৮ বছর ধরে নির্বাচন হয় না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু)। নির্বাচিত প্রতিনিধি না থাকায় বঞ্চিত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া দীর্ঘদিন ডাকসুসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন না হওয়ায় আগামী প্রজন্ম নেতৃত্বশূন্যতায় পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকেই। বিশিষ্টজন বলছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য ডাকসুসহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অতি জরুরি হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ডাকসু নির্বাচনের আশ্বাস দিলেও দেখা যায়নি কোনো কার্যকর পদক্ষেপ। চলতি বছরের শুরুতে উচ্চ আদালত ছয় মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন দেওয়ার নির্দেশ দিলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সময় বাড়িয়ে একে আগামী বছরের মার্চে নিয়ে যায়। এতে গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে ক্যাম্পাসে সক্রিয় বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। সবারই সন্দেহ ও শঙ্কা, ডাকসু কি আদৌ আলোর মুখ দেখবে?

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করা হয়। একসময় ক্যাম্পাসে সব ছাত্র সংগঠনের সমান রাজনীতির সুযোগ থাকলেও সময়ের পরিক্রমায় ক্যাম্পাস দখলে নেয় ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠন। সে ধারাবাহিকতায় বর্তমানে ছাত্রদলের সহাবস্থান নেই। বাম সংগঠনগুলো সক্রিয় হলেও সংখ্যায় কম। তাই সবাইকে একত্র করে নির্বাচন আয়োজন করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আন্তরিকতার অভাব, ভিন্নমতের অনুপস্থিতি, সরকারের ওপর নির্ভরশীলতা, সরকারের সদিচ্ছার অভাবসহ বিভিন্ন কারণে ডাকসু নির্বাচন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সর্বশেষ ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯০ সালের ৬ জুন।

শিক্ষার্থী ও নেতৃত্বের স্বার্থে ডাকসু :বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ ১৯৭৩ অনুযায়ী সিনেটের ১০৪ সদস্যের মধ্যে ডাকসু থেকে ৫ জন ছাত্র প্রতিনিধি থাকবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে ছাত্র স্বার্থ সংরক্ষণে ভূমিকা পালন করেন এই প্রতিনিধিরা। ডাকসু নির্বাচন নেই বলে এই নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিও নেই। ফলে শিক্ষার্থীদের অনেক দাবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অজানাই থেকে যাচ্ছে। আবার অনেক দাবি বাস্তবায়ন, গুরুত্ব বা অগ্রাধিকার পাচ্ছে না। তারা ছাত্র সংগঠনগুলোর কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করলেও তাদের দাবির ব্যাপারে ছাত্র সংগঠনগুলো সরব নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টারদা সূর্য সেন হলের শিক্ষার্থী টিপু সুলতান বলেন, কর্তৃপক্ষের আন্তরিকতার অভাবই ডাকসু না হওয়ার প্রধান কারণ। অনেক রাজনৈতিক কারণও থাকতে পারে। ডাকসু না থাকায় সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার ক্ষেত্রে আমাদের কোনো অংশগ্রহণ নেই।

সংশ্নিষ্টরা বলছেন, ছাত্রসমাজ ও শিক্ষাঙ্গনের প্রশাসনের মধ্যে সেতুবন্ধ হিসেবে কাজ করে ছাত্র সংসদ। এ নির্বাচনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। এ নির্বাচনের মাধ্যমে সমাজে নেতৃত্ব গড়ে ওঠে। ডাকসুসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী নেতারাই মূলত সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেন।

বিজয় একাত্তর হলের ছাত্র মাজহারুল ইসলাম রবিন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক থেকে শুরু করে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের নির্বাচন হয় নিয়মিত। কিন্তু যাদের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়, সেই ছাত্রদেরই ছাত্র সংসদ নির্বাচন হচ্ছে না ২৮ বছর ধরে। এর ফলে ছাত্ররা তাদের দাবি-দাওয়া পেশ করার কোনো প্ল্যাটফর্ম পাচ্ছেন না। এতে করে তারা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

আইনি বাধ্যবাধকতা ও শঙ্কা :ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। গত বছরের মার্চে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫০তম সমাবর্তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছিলেন, ডাকসু নির্বাচন অবশ্যই হতে হবে। রাষ্ট্রপতির এমন বক্তব্যের পর থেকেই মূলত জোরদার হয় ডাকসু নির্বাচনের দাবি। এরই ধারাবাহিকতায় ডিসেম্বরে এ দাবিতে আমরণ অনশনে বসেন ওয়ালিদ আশরাফ নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের সান্ধ্যকালীন কোর্সের এক ছাত্র। সর্বশেষ গত এপ্রিলে উচ্চ আদালতের রায়ের পর নির্বাচন অনুষ্ঠানে অনেকটা আইনি বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়েছে। উচ্চ আদালত ছয় মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠানের নির্দেশ দিয়েছেন। এতে বিশ্ববিদ্যলয়ে সক্রিয় ছাত্র সংগঠনগুলো নড়েচড়ে বসে। উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তবে উচ্চ আদালত ছয় মাসের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন দেওয়ার ঘোষণা দেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সময় বাড়িয়ে তা আগামী বছরের মার্চে নিয়ে যায়।

ছাত্র সংগঠনের বক্তব্য :ছাত্র ফেডারেশনের ঢাবি সংসদের সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির বলেন, ক্যাম্পাসে নির্বাচনের পরিবেশ সবার আগে সৃষ্টি করতে হবে। সবার সহাবস্থান, ভিন্নমতের উপস্থিতি প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে। ডাকসু নির্বাচন যত দ্রুত হয় ততই ভালো। যেহেতু সামনে জাতীয় নির্বাচন, তাই প্রশাসন ঝুঁকি নিতে চাইবে না। তারা যদি সঠিক উদ্যোগ নেয়, তাহলে ঠিক সময়ে ডাকসু নির্বাচন হওয়ার কথা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসাইন বলেন, ক্যাম্পাসে এমনও অনেক ছাত্র সংগঠন আছে যেগুলোর নেতৃত্বে অছাত্ররা রয়েছে। তারা থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের পাশাপাশি থেকে গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করা সম্ভব নয়। তাই বর্তমান ছাত্রদের হাতে সংগঠনের নেতৃত্ব তুলে দিতে হবে। তিনি বলেন, অছাত্র ও মৌলবাদী সংগঠনগুলো যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ধরনের কাজ না করতে পারে সেজন্য প্রশাসনকে উদ্যোগী হতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি এ কাজটি করতে পারে তাহলে ডাকসুর অচলাবস্থা ভাঙা সম্ভব হবে।

ছাত্রদলের সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার বলেন, স্বাধীনতার পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে যত আন্দোলন হয়েছে, সবকিছুর মূল কেন্দ্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাই নেতৃত্বে ছিল। সরকার অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছাত্রদের আন্দোলনকে তথা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের নেতৃত্বশূন্য করার জন্যই ডাকসু নির্বাচন বন্ধ রেখেছে।

শিক্ষকদের বক্তব্য :বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগামী বছরের মার্চের মধ্যে ডাকসু নির্বাচন দেওয়ার কথা বলেছে। তার মানে, এটা জাতীয় নির্বাচনের পর। তাই এ বিষয়টি নির্বাচনের মাধ্যমে আসা সরকারের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভর করবে। কেননা ১৯৯০-এর পর ডাকসু নির্বাচন সরকারের সদিচ্ছার অভাবেই হয়নি। তিনি বলেন, ডাকসু নির্বাচনকে বার্ষিক হিসেবে দেখা উচিত। এটা নিয়ে সরকারের ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ডাকসু নির্বাচন হলে শাসক দলের ছাত্র সংগঠনের কোনো বিপরীত শক্তি নেতৃত্বে আসতে পারে বলে নির্বাচন দেওয়া হয় না। কেননা তখন 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' থাকার কারণে নির্বাচিত নেতৃত্ব হলে উঠতে চাইবে। এ কারণে তারা নির্বাচন দিতে ভয় পায়। তাই নির্বাচন সঠিক সময়ে হবে কি-না, তা নিয়ে সংশয় থাকছেই।

প্রশাসনের বক্তব্য :ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ডাকসু নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষরা কাজ করছেন।

এ বিষয়ে মাস্টারদা সূর্য সেন হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেন, প্রতিটি হলে নির্ভেজাল ভোটার তালিকা সম্পাদনের কাজ চলছে। গত প্রভোস্ট কমিটিতে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আশা করি এই সময়ের মধ্যেই হবে। সবাই যাতে এতে অংশগ্রহণ করতে পারে, সেজন্য সব ছাত্র সংগঠনগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা হবে। একটা সহনীয় ক্ষেত্র সৃষ্টিতে কাজ করবে প্রশাসন।

মিরসরাইয়ে পটকা মাছ খেয়ে ২ জনের মৃত্যু

মিরসরাইয়ে পটকা মাছ খেয়ে ২ জনের মৃত্যু

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে বিষাক্ত পটকা মাছ খেয়ে দাদি ও নাতনির মৃত্যু ...

তোশাখানা জাদুঘর উদ্বোধন

তোশাখানা জাদুঘর উদ্বোধন

রাষ্ট্রীয় পদাধিকারীদের পাওয়া দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উপহারসামগ্রী সংরক্ষণে তোশাখানার জন্য নিজস্ব ...

বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত

বিশ্ব ইজতেমা স্থগিত

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং তাবলিগ জামাতের দুই পক্ষের মধ্যে ...

শেকড়ের গান গেয়ে মাতালেন আব্দুল হাই দেওয়ান

শেকড়ের গান গেয়ে মাতালেন আব্দুল হাই দেওয়ান

রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামের অনুষ্টিত ‘ঢাকা ইন্টারন্যাশনাল ফোকফেস্ট-২০১৮' র প্রথম দিনে ...

নয়াপল্টনের আকাশে ড্রোন

নয়াপল্টনের আকাশে ড্রোন

রাজধানীর নয়াপল্টন এলাকায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষের পর দিন ...

নয়াপল্টনে সহিংসতার ৩ মামলা ডিবিতে, রিমান্ডে ৩৮

নয়াপল্টনে সহিংসতার ৩ মামলা ডিবিতে, রিমান্ডে ৩৮

নয়াপল্টনে সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা তিনটি মামলা বৃহস্পতিবার তদন্তের জন্য ...

বর-বধূ সাজে রণবীর-দীপিকা

বর-বধূ সাজে রণবীর-দীপিকা

বলিউডের আলোচিত জুটি রণবীর-দীপিকার বিয়ের ছবি দেখার জন্য মুখিয়ে ছিলেন ভক্তরা। অবশেষে ...

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন স্থগিত

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন স্থগিত

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন স্থগিত করা হয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা স্বদেশে ...