বিবিধ

পাহাড়ি-বাঙালি সংঘাত বাড়ছে

প্রকাশ: ০২ ডিসেম্বর ২০১৪     আপডেট: ০২ ডিসেম্বর ২০১৪      

রাজীব নূর


এক জীবনে অনেকবার উদ্বাস্তু হওয়ার গল্প শোনালেন অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক প্রভাকর চাকমা। এখন তার বয়স নব্বইয়েরও বেশি। বাস করছেন খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার লতিবানের পূর্ব নালকাটা গ্রামে। এখানে গত সোমবার সমকালের সঙ্গে তার কথা হয়। প্রভাকর প্রথমবার উদ্বাস্তু হন ১৯৬০ সালের দিকে। কাপ্তাই বাঁধের কারণে রাঙামাটির ৭২ নম্বর বুড়িঘাট মৌজার কাবুক্যা গ্রাম থেকে উদ্বাস্তু হয়ে পূর্ব নালকাটা গ্রামে স্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করেন তিনি। পরে আবারও উদ্বাস্তু হলেন ১৯৮৬ সালে। 


 


পার্বত্য রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে নিজ বাড়ি ছেড়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেন। প্রভাকর যখন শরণার্থী শিবিরে তখনই পূর্ব নালকাটা গ্রামে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ক্যাম্প স্থাপন করে। ১৯৯৮ সালের দিকে সরকার এবং পাহাড়ি শরণার্থী কল্যাণ কমিটি যৌথ স্বাক্ষরে ২০ দফা প্যাকেজ চুক্তির মাধ্যমে তিনি স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করলেও ফিরে পাননি নিজের ভিটেবাড়ি। বর্তমানে তিনি পূর্ব নালকাটা গ্রামে তার ধানিজমির পাশে বসতি স্থাপন করে পরিবার-পরিজন নিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।


 


পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যার মূলে রয়েছে ভূমি। প্রভাকরের মতো এমন বারবার উদ্বাস্তু হওয়া মানুষের সংখ্যা অনেক। ভূমি সমস্যার সমাধানে শান্তিচুক্তির আলোকে প্রায় এক যুগ আগে গঠিত হয়েছিল ভূমি কমিশন। কথা ছিল, একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বাধীন এ কমিশন পাহাড়ে ভূমির বিরোধ নিষ্পত্তি করবে। এ ক্ষেত্রে কমিশনের রায়ই হবে চূড়ান্ত। এর বিরুদ্ধে আদালতে কোনো আপিল চলবে না। কিন্তু খোঁজ-খবর নিয়ে জানা গেছে, গঠনের পর থেকে পার্বত্য ভূমি কমিশন এ পর্যন্ত একটি ভূমির বিরোধও নিষ্পত্তি করেনি। খাগড়াছড়িতে কমিশনের অফিস থাকলেও অন্য দুই পার্বত্য জেলা রাঙামাটি ও বান্দরবানে অফিস নেই। নেই পর্যাপ্ত লোকবল, তহবিল। যথাযথ আইনের অভাবে কমিশনটি একেবারেই ঠুঁটো জগন্নাথে পরিণত হয়েছে। এই ভূমি বিরোধের ফলে পাহাড়ি-বাঙালি সংঘাত বাড়ছে। অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে পার্বত্য অঞ্চল।


 


কমিশনকে আইনি ক্ষমতা দেওয়া নিয়ে গত চুক্তি স্বাক্ষরকারী আওয়ামী লীগ, পরবর্তীকালে ক্ষমতাসীন বিএনপি-জামায়াত, সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং আবারও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দফায় দফায় হয়েছে বৈঠক, আলোচনা এবং পত্রবিনিময়। শেষ পর্যন্ত সব উদ্যোগই হয়েছে নিষ্ফল। এ সুযোগে অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে পাহাড়ে বেড়েছে ভূমি বিরোধ। এ নিয়ে সেখানে একের পর এক সহিংসতাও হচ্ছে। ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি পাহাড়ি-বাঙালির।


 


এমনই বাস্তবতায় আজ মঙ্গলবার পালিত হচ্ছে পার্বত্য শান্তিচুক্তির ১৭তম দিবস। পাহাড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে জনসংহতি সমিতি চুক্তি স্বাক্ষর করে। জনসংহতি সমিতির পক্ষ থেকে বরাবরই বলা হচ্ছে, সরকারগুলোর সীমাহীন উদাসীনতায় ভূমি কমিশনসহ চুক্তির মূল বিষয়গুলোই বাস্তবায়ন হচ্ছে না। আর সরকার পক্ষ বলছে, শান্তিচুক্তির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াধীন। চুক্তির অনেক শর্তই পূরণ করা হয়েছে। বাকিগুলোও পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।


 


পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং সমকালকে বলেন, চুক্তি বাস্তবায়নে তার সরকার পুরোপুরি আন্তরিক। শান্তিচুক্তির অধিকাংশ শর্তই পূরণ হয়েছে। বাকিগুলো বর্তমান সরকারের মেয়াদকালেই বাস্তবায়ন করা হবে।


 


অন্যদিকে, আঞ্চলিক পরিষদ চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা) সমকালকে বলেন, 'শান্তিচুক্তির মৌলিক বিষয়গুলো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াকে সরকার অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। সরকারের আলামত দেখে স্পষ্ট বলা যায়, চুক্তি বাস্তবায়নে তারা আর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করবে না। চুক্তি বাস্তবায়ন প্রশ্নে বড়জোর তারা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতে পারে। তাই চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়নে আমরা আগামী ১ মে থেকে পাহাড়ে অসহযোগ আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়েছি। পাশাপাশি চুক্তিবিরোধী তথা জুম্ম (পাহাড়ি) স্বার্থবিরোধী যে কোনো কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ করা হবে।'


 


চুক্তির অন্যতম মৌলিক শর্ত ভূমি কমিশন নিয়ে ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত বিস্তর বৈঠক হয়েছে বলে উল্লেখ করেন সন্তু লারমা। তিনি জানান, একটি যথাযথ আইনের অভাবে কমিশন গঠনের প্রায় একযুগ পরও তা কাজই শুরু করতে পারেনি। আর কার্যকরী কমিশন আইন তৈরি করতেই পেরিয়ে গেছে ১৩ বছর। এখনও এটি সংশোধিত আকারে পাস হয়নি। সবশেষ প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভীর সভাপতিত্বে তার কার্যালয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। সংশোধিত ভূমি কমিশন বিল, ২০১৩ নিয়ে ওই বৈঠকে পাঁচটি মতবিরোধের মধ্যে একটি বাদে সবক'টি নিষ্পত্তি হয়েছে।


 


শান্তিচুক্তি বিশ্লেষণ এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে খোঁজ-খবর নিয়ে জানা যায়, চুক্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রামকে 'উপজাতি' অধ্যুষিত অঞ্চল হিসেবে স্বীকার করে নেওয়া হলেও এ পর্যন্ত পার্বত্যাঞ্চলের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য ও স্বকীয়তা বজায় রাখতে কোনো সরকারই গ্রহণ করেনি কার্যকর পদক্ষেপ। ফলে প্রতিনিয়তই পাহাড়ি-বাঙালি জনসংখ্যার ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে পাহাড়ি-বাঙালি সংঘাতও বাড়ছে।


 


মানবাধিকার সংস্থা কাপেং ফাউন্ডেশনের হিসাবে, শান্তিচুক্তির পর পাহাড়ে অন্তত ১৩টি রক্তক্ষয়ী সংঘাত হয়েছে। এসব সংঘাতে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নির্মম হিংসার বলি হয়েছেন পাহাড়ি গ্রামবাসী। হিংসার অনলে পুড়েছে খাগড়াছড়ি, বাঘাইহাট, মাটিরাঙা, গুইমারা, তাইনদংসহ অসংখ্য পাহাড়ি জনপদ।


 


প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন সত্রং চাকমা ও এস চাঙমা সত্যজিৎ

হ্যাটট্রিকে চ্যাম্পিয়নস লিগ শুরু মেসির

হ্যাটট্রিকে চ্যাম্পিয়নস লিগ শুরু মেসির

চ্যাম্পিয়নস লিগে গত মৌসুমেও দারুণ খেলেছেন মেসি। কিন্তু রোমার কাছে ...

হতাশা ঝেড়ে সামনে চোখ তামিমের

হতাশা ঝেড়ে সামনে চোখ তামিমের

সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে দেশে ফিরেছেন তামিম। সঙ্গী হতাশা আর ...

রোহিঙ্গাদের চাপে ঝুঁকিতে উখিয়া ও টেকনাফ

রোহিঙ্গাদের চাপে ঝুঁকিতে উখিয়া ও টেকনাফ

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা প্রায় দশ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার ...

খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি আইনজীবীরা

খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি আইনজীবীরা

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি তার ...

প্রতারক চক্র থেকে সাবধান হওয়ার পরামর্শ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের

প্রতারক চক্র থেকে সাবধান হওয়ার পরামর্শ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত করা, স্বীকৃতি, বিষয় খোলা, নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ...

'সংসদ না ভেঙে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না'

'সংসদ না ভেঙে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না'

গণফোরাম সভাপতি ও যুক্তফ্রন্ট নেতা ড. কামাল হোসেন সরকারের সমালোচনা ...

হংকংকে ২৮৬ রানের লক্ষ্য দিল ভারত

হংকংকে ২৮৬ রানের লক্ষ্য দিল ভারত

এশিয়া কাপে গ্রুপ ‘এ’র দ্বিতীয় ম্যাচে হংকংয়ের সামনে বেশ বড় ...

জন্মদিনের শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন হাসিনা-মোদি

জন্মদিনের শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন হাসিনা-মোদি

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পরস্পরকে ...