রাজধানী

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন

মেয়র পদে উপনির্বাচনে আইনি জটিলতা

প্রকাশ: ০৫ ডিসেম্বর ২০১৭      

মসিউর রহমান খান

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) শূন্য ঘোষিত মেয়র পদের নির্বাচন নিয়ে আইনি জটিলতায় পড়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই সিটিতে নতুন যুক্ত হওয়া ১৮টি ওয়ার্ডকে নিয়ে এ জটিলতা বলে জানিয়েছেন ইসি কার্যালয়ের কর্মকর্তারা। তাদের মতে, এখন মেয়র পদে নির্বাচন করতে হলে ওই ১৮টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর নির্বাচন করতে হবে। কিন্তু এসব কাউন্সিলরের পদের মেয়াদ কী হবে তা আইনে উল্লেখ নেই।

এ ছাড়া এখন শুধু মেয়র নির্বাচন করতে গেলে ওই ১৮ ওয়ার্ডের ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন কি-না তাও নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এর আগে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেও বিষয়টি সুরাহা করতে পারেনি ইসি। 

গত ১ ডিসেম্বর ডিএনসিসির মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর পর গতকাল সোমবার স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে পদ শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করা হয়। আইন অনুযায়ী এখন মেয়র পদে উপনির্বাচন করতে হবে ৯০ দিনের মধ্যে। ২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ডিএনসিসির ভোট  গ্রহণ হয়েছিল। করপোরেশনের প্রথম বৈঠক হয় ১৬ মে। আইন অনুযায়ী পাঁচ বছরের মেয়াদের বাকি প্রায় আড়াই বছরের জন্য একজন মেয়র সাব্যস্ত করতে উপনির্বাচন হবে।

এর আগে নতুন যুক্ত হওয়া ১৮ ওয়ার্ডের নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ইসিকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম গতকাল সন্ধ্যায় সমকালকে বলেন, মেয়র পদ শূন্য ঘোষণার চিঠি তখন পর্যন্ত কমিশনের হাতে আসেনি। নতুন ওয়ার্ড-সংক্রান্ত জটিলতা আইন বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে নিরসন করতে হবে। ইসির একার পক্ষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব কি-না তা এখন বলা যাচ্ছে না।

ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচন বিষয়ে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ দুই সিটি করপোরেশনেই নবগঠিত ওয়ার্ড নিয়ে আইনি জটিলতা আছে। ২০১৫ সালের একই দিনে দুই সিটির নির্বাচনে উত্তরে ৩৬টি ও দক্ষিণে ৫৭টি ওয়ার্ড ছিল। পরে স্থানীয় সরকার বিভাগ এ দুই সিটি করপোরেশনের আশপাশের আটটি করে মোট ১৬টি ইউনিয়ন ভেঙে সিটি করপোরেশনভুক্ত করে চলতি বছরের ২৬ জুলাই গেজেট প্রকাশ করে। প্রকাশিত গেজেটে দেখা গেছে, সীমানা বাড়ানোর ফলে বাড্ডা, ভাটারা, সাঁতারকুল, বেরাইদ, উত্তরখান, দক্ষিণখান, ফায়দাবাদ, নলভোগ, ডিয়াবাড়ী, কামারপাড়ার বিভিন্ন মৌজা ঢাকা উত্তর সিটিতে এবং শ্যামপুর, কদমতলী, দনিয়া, মাতুয়াইল, সারুলিয়া, গজারিয়া, নন্দীপাড়ার বিভিন্ন মৌজা দক্ষিণ সিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

দুই সিটির নবগঠিত এই ৩৬ ওয়ার্ডে কাউন্সিলররা নির্বাচিত হলে কতদিন দায়িত্ব পালন করবেন তা আইনে উল্লেখ নেই। আবার এই নির্বাচন না করলে বিদ্যমান আইনে সিটি করপোরেশন গঠনই অবৈধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, এই ৩৬ ওয়ার্ডের যেহেতু গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে তাই এখন নির্বাচন না করে উপায় নেই। স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনের ৫ ধারায় বলা হয়েছে, মেয়র পদসহ করপোরেশনের শতকরা ৭৫ ভাগ ওয়ার্ডের কাউন্সলর পদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে এবং নির্বাচিত কাউন্সিলরদের নামে গেজেট প্রকাশ হলে কেবল করপোরেশন যথাযথভাবে গঠিত হয়েছে বলে গণ্য হবে। মেয়র পদাধিকার বলে একজন কাউন্সিলর হিসেবে গণ্য হবেন।

সে হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটিতে সাধারণ ওয়ার্ড রয়েছে ৩৬টি এবং প্রতি তিন ওয়ার্ডের একজন নারী কাউন্সিলর হিসেবে সংরক্ষিত ওয়ার্ড ১২টি। এই ৪৮টি ওয়ার্ডের সঙ্গে নতুন যুক্ত হচ্ছে ১৮টি সাধারণ ও ৬টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড। নতুন ও পুরনো মিলে ৭২টি ওয়ার্ডের ৭৫ ভাগ পূরণ করতে হলে নূ্যনতম ৫৪টি ওয়ার্ডের নির্বাচিত প্রতিনিধি থাকা দরকার। বর্তমানে উত্তর সিটিতে ৪৮ জন কাউন্সিলর রয়েছেন।

ইসি সচিবালয় সূত্র জানিয়েছে, গত আগস্টে ঢাকার দুই সিটির নবগঠিত ৩৬ ওয়ার্ডের নির্বাচনের আয়োজন করতে ইসিকে অনুরোধ জানিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ফলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৮টি ওয়ার্ডে সাধারণ নির্বাচন এবং দুই সিটিতে ছয়টি করে ১২টি সংরক্ষিত ওয়ার্ডে নারী কাউন্সিলর নির্বাচনের আয়োজন করতে হবে ইসিকে। কিন্তু এসব কাউন্সিলর মেয়াদের বাকি সময়ের জন্য নাকি পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন, তা উল্লেখ নেই।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ ড. তোফায়েল আহমেদ সমকালের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, নীতিনির্ধারকদের ভুলের কারণে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তারা সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় দীর্ঘমেয়াদি ফল কী হবে তা ভাবেন না। এখন কেউ যদি আদালতে রিট করে বসে তখন আদালত কী ধরনের সিদ্ধান্ত নেন- সেটা এখন বলা সম্ভব নয়। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচনটা হয়ে যাওয়াই ভালো। সরকার সম্প্রসারিত সিটি এলাকার উন্নয়নে বাজেট বরাদ্দ করেছে। এসব স্থানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি না থাকলে এই বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার থেকে মানুষ বঞ্চিত হবে।

ইসি কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ গতকাল সমকালকে বলেন, নবনিযুক্ত ১৮ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচন হবে কি-না এবং মেয়র পদের উপনির্বাচনে এসব এলাকার ভোটাররা ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন কি-না তা নিয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বসতে হবে। ইসির একার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।

বিষয় : ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন

পরবর্তী খবর পড়ুন : পুনর্গঠিত ঋণ নতুন সুবিধা পাবে না

জম্মু ও কাশ্মীরে রাজ্যপালের শাসন জারি

জম্মু ও কাশ্মীরে রাজ্যপালের শাসন জারি

ভারতে বিজেপি তাদের জোটশরিক মেহবুবা মুফতির পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির (পিডিপি) ...

সাংবাদিকদের সত্যতা যাচাইয়ের প্রশিক্ষণ দেবে গুগল

সাংবাদিকদের সত্যতা যাচাইয়ের প্রশিক্ষণ দেবে গুগল

সাংবাদিকদের হাত দিয়ে যাতে কোনও ভুল খবর বেরিয়ে না যায় ...

৩ সিটি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিক্রি করছে বিএনপি

৩ সিটি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিক্রি করছে বিএনপি

রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় ...

তিন বন্ধুকে নিয়ে আবারও আসছে 'থ্রি ইডিয়টস'!

তিন বন্ধুকে নিয়ে আবারও আসছে 'থ্রি ইডিয়টস'!

বলিউড পরিচালক রাজকুমার হিরানি পরিচালিত 'থ্রি ইডিয়টস' ২০০৯ সালে বক্স ...

বাসস্ট্যান্ডে ঢলে পড়লেন ওসি, হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু

বাসস্ট্যান্ডে ঢলে পড়লেন ওসি, হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু

সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিয়াজুল ইসলাম স্ট্রোকে আক্রান্ত ...

অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের সম্ভাবনা বেশি: কাদের

অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের সম্ভাবনা বেশি: কাদের

আগামী অক্টোবর মাসে নির্বাচকালীন সরকার গঠন করা হতে পারে জানিয়ে ...

খালেদা জিয়াকে আইনের চেয়ে বেশি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে: আইনমন্ত্রী

খালেদা জিয়াকে আইনের চেয়ে বেশি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে: আইনমন্ত্রী

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে আইনে ...

বলিউডের সবচেয়ে খারাপ অভিনেতা সালমান খান!

বলিউডের সবচেয়ে খারাপ অভিনেতা সালমান খান!

বলিউড সুপারস্টার সালমান খান অভিনীত 'রেস ৩',' টাইগার জিন্দা হ্যায়', ...