রাজধানী

মহাসমাবেশ স্থগিত করায় নেতাদের ধাওয়া দিলেন শিক্ষকরা

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০১৮      

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ফটো

জাতীয়করণসহ ১১ দফা দাবিতে ডাকা বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বুধবারের মহাসমাবেশ নির্ধারিত স্থান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে করতে দেয়নি পুলিশ। অনুমতি না থাকার কারণে পুলিশ শিক্ষকদের শহীদ মিনারে দাঁড়াতেই দেয়নি। পরে শিক্ষকরা জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান নেন ও 'শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটি'র ব্যানারে সেখানে সমাবেশ করেন। সেখানে মহাসমাবেশ স্থগিত ঘোষণা করেন বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি আবু বকর সিদ্দিক। তবে ১১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অবিরাম ধর্মঘট চালিয়ে যাবেন তারা।

এদিকে, মহাসমাবেশ ডেকেও তা করতে না পারায় এবং আগে থেকে পুলিশের অনুমতি না নেওয়ায় কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর ক্ষুব্ধ হন ঢাকায় আসা জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষকরা। বুধবারের সমাবেশ থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো নতুন কর্মসূচি ঘোষণা না করায় নেতাদের ওপর দুই দফা পানির বোতল ছুঁড়ে মারেন তারা। 'কঠোর কর্মসূচি' চেয়ে স্লোগান দিতে থাকা শিক্ষকদের চাপে একপর্যায়ে কেন্দ্রীয় নেতারা সরকারকে সাত দিন সময় বেঁধে দিয়ে চলমান ধর্মঘট অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিলেও তারা শান্ত হননি। 

একপর্যায়ে নেতাদের ধাওয়া দেন শিক্ষকরা। কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশ স্থল ত্যাগ করলে শিক্ষকরা জাতীয়করণের এক দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন। পরে পুলিশ এসে শিক্ষকদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। শিক্ষকরা হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরে যান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গত ১০ মার্চ ১০ শিক্ষক নেতার সঙ্গে আলোচনা করেন শিক্ষামন্ত্রী। মহাসমাবেশ স্থগিত করে আলাপ-আলোচনায় বসার জন্য তিনি শিক্ষক নেতাদের অনুরোধ করেন। তবে নেতারা মন্ত্রীর অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। তারা মহাসমাবেশ করার জন্য গতকাল ঢাকায় শিক্ষকদের জড়ো করেন। অনুমতি না থাকায় পুলিশ শিক্ষকদের মহাসমাবেশ করতে দেয়নি।

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মহাসমাবেশ করতে না পেরে সকাল থেকে সারাদেশের বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারী জাতীয়করণসহ ১১ দফা দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের রাস্তায় জড়ো হন। একপর্যায়ে পল্টন মোড় থেকে কদম ফোয়ারা পর্যন্ত শিক্ষকরা অবস্থান করেন। এতে প্রেস ক্লাবের সামনের পুরো সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কয়েক হাজার শিক্ষক-কর্মচারীকে রাস্তার ওপর বসে ও দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। কেউ কেউ ব্যানার নিয়ে মিছিল করেন।

সমাবেশে বক্তব্য দেন কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হক, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি বিলকিস জামান, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও সংগ্রাম কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মহসিন রেজা, বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির (বাকবিশিস) যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যক্ষ ফয়েজ হোসেন, শিক্ষক নেতা নূর মোহাম্মদ তালুকদার, শিক্ষক নেতা জুলফিকার আলী চৌধুরী, আজিজুল ইসলাম, অধ্যক্ষ এম এ আউয়াল সিদ্দিকী প্রমুখ।

সমাবেশে শিক্ষক-কর্মচারী সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়কারী অধ্যক্ষ আসাদুল হক বলেন, 'শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ নয় বছর শিক্ষামন্ত্রী থাকলেও একবারের জন্যও আমাদের সঙ্গে বসেননি। গত ১০ মার্চ তিনি মহাসমাবেশ স্থগিত করার অনুরোধ জানান। মন্ত্রী বলেন, আপনারা মহাসমাবেশ করছেন, আমি জানতাম না। আজই শুনলাম।

শিক্ষামন্ত্রীর কঠোর সমালোচনা করে সমাবেশে এই শিক্ষক নেতা বলেন, যে মন্ত্রী শিক্ষকদের খবর রাখেন না, সেই মন্ত্রী আমাদের দরকার নেই। এক দফা দাবিতে ধর্মঘট চলবে।

বক্তব্য শেষে আসাদুল হক এক ঘণ্টার জন্য সমাবেশ স্থগিত ঘোষণা করেন। নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণার করার কথা জানান। সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ শিক্ষকরা 'দালাল', 'দালাল' বলে চিৎকার শুরু করেন। তারা জাতীয়করণের এক দফা দাবি ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সড়কে অবস্থান কর্মসূচি ঘোষণার দাবি জানান। একপর্যায়ে উত্তেজিত শিক্ষকরা হাতে থাকা পানির বোতলগুলো ছুঁড়ে মারতে থাকেন নেতাদের দিকে। শিক্ষক নেতারা এ সময় দ্রুত প্রেস ক্লাবের ভেতরে আশ্রয় নেন।

প্রায় ঘণ্টা খানেক পর কেন্দ্রীয় নেতারা সমাবেশস্থলে ফিরে আসেন। সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ও বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির সভাপতি মুহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে শিক্ষক নেতাদের কথা হয়েছে। তিনি শিক্ষক নেতাদের আশ্বাস দিয়েছেন, জাতীয়করণের দাবি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন। এ সময় পর্যন্ত তাকে আমরা সময় দিয়েছি। তবে আমাদের ধর্মঘট কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

তার এই ঘোষণা হাজার হাজার শিক্ষক প্রত্যাখ্যান করেন। একপর্যায়ে সাধারণ শিক্ষকরা নেতাদের ধাওয়া করেন। দুপুর সোয়া ১টার দিকে পুলিশ এসে শিক্ষকদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়। ফের সড়কে যান চলাচল শুরু হয়।

বিষয় : মহাসমাবেশ বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী

পরবর্তী খবর পড়ুন : ম্যারাডোনার সাক্ষাৎ পেল বাংলাদেশ!

প্রত্যাশা নয়, ভালোর আশায় দ. কোরিয়া

প্রত্যাশা নয়, ভালোর আশায় দ. কোরিয়া

মহাদেশীয় কোটার কারণে বিশ্বকাপে এশিয়ার দল থাকে বটে। কিন্তু শিরোপার ...

'জায়ান্ট-কিলার' সুইডেনের সামনে দ. কোরিয়া

'জায়ান্ট-কিলার' সুইডেনের সামনে দ. কোরিয়া

রাশিয়া বিশ্বকাপে সব থেকেও 'কি যেন নেই নেই' ভাব, তার ...

ইব্রাহিমের ছবি মনে করিয়ে দেয় তরুণ সাইফফে

ইব্রাহিমের ছবি মনে করিয়ে দেয় তরুণ সাইফফে

বলিউড অভিনেতা সাইফ আলী খান ও কারিনা কাপুরের ছেলে তৈমুর ...

তাদের কাছে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নয়, ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ: কাদের

তাদের কাছে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নয়, ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ: কাদের

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়টি নিয়ে তার দলের নেতারা ...

মাগুরায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মেয়ে নিহত

মাগুরায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মেয়ে নিহত

মাগুরা-যশোর সড়কের মাগুরার শালিখা উপজেলার কৃষ্ণপুর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মেয়ে ...

ছুটি শেষেও সচিবালয়ে ঈদের আমেজ

ছুটি শেষেও সচিবালয়ে ঈদের আমেজ

তিন দিন সরকারি ছুটির পর আজ সোমবার খুলেছে সব সরকারি ...

ব্রাজিলের অভিযোগ উড়িয়ে দিল সুইজারল্যান্ড

ব্রাজিলের অভিযোগ উড়িয়ে দিল সুইজারল্যান্ড

শিরোপায় চোখ ব্রাজিলের। তবে শুরুটা সেভাবে হলো না। সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে ...

নাইজেরিয়ায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ৩১

নাইজেরিয়ায় আত্মঘাতী বোমা হামলায় নিহত ৩১

নাইজেরিয়ার উত্তরপূর্বাঞ্চলে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছে।স্থানীয় ...