রাজধানী

বইমেলায় আগুনেও নব্য জেএমবি

দুই বছর পর মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

প্রকাশ: ১৩ মে ২০১৮     আপডেট: ১৩ মে ২০১৮       প্রিন্ট সংস্করণ     

সাহাদাত হোসেন পরশ

২০১৬ সালে অমর একুশে বইমেলায় আগুন দেওয়ার ঘটনায় দুর্ধর্ষ জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল রাজধানীর আসাদগেট এলাকা থেকে নিষিদ্ধ সংগঠনটির তিন সদস্য কামরুল ইসলাম, আলামিন ও তুষারকে গ্রেফতার করে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট (সিটিটিসি)।

তাদের মধ্যে তুষার জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, কারা কীভাবে বইমেলায় আগুন দেওয়ার ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিল। সে ছাড়াও ফাইজুল্লাহ ফাহিম ও আবিদ নামে আরও দু'জন আগুন দেওয়ার ঘটনায় সরাসরি জড়িত বলে তথ্য মিলেছে। আবিদ রাজধানীর রামপুরার বাসা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর এখনও তার সন্ধান মেলেনি।

এ ছাড়া ২০১৬ সালের জুনে মাদারীপুরে সরকারি নাজিম উদ্দিন কলেজের গণিতের প্রভাষক রিপন চক্রবর্তীর ওপর হামলার পর জনতা ফাহিমকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে দিয়েছিল। এরপর সে 'বন্দুকযুদ্ধে' মারা যায়। রাজধানীর উত্তরার একটি কলেজে এইচএসসিতে পড়ত ফাহিম। তুষারের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। প্রায় দুই বছর পর তুষারের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বইমেলায় আগুন দেওয়ার ঘটনার রহস্য উন্মোচিত হচ্ছে। তদন্ত-সংশ্নিষ্ট উচ্চপদস্থ একজন কর্মকর্তা সমকালকে গতকাল এসব তথ্য জানিয়েছেন। এদিকে গ্রেফতার তিন জঙ্গির মধ্যে আলামিন ও কামরুল আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছে। 

২০১৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি একুশের বইমেলায় শিশু  কর্নারের পাশের একটি স্টল পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে ৪৯২ নম্বর স্টলে ওই নাশকতা চালানোর পরিকল্পনা করা হয়। ঘটনার পরপরই আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন স্টলের কর্মীরা। এরপর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। ওই সময় বইমেলার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্নেষণ করে দেখা যায়, দুই তরুণ আগুন দেওয়ার চেষ্টা করছে। তাদের একজনের মুখে দাড়ি ছিল। তবে দীর্ঘদিন পার হলেও এ ঘটনায় কারা জড়িত তা বের করা সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ তুষারসহ নব্য জেএমবির তিন সদস্যকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে প্রায় অন্তরালে চলে যাওয়া এ ঘটনার তদন্ত আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে। 

বইমেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ সমকালকে বলেন, বইমেলায় আগুন দেওয়ার চেষ্টার ঘটনা পুলিশ তদন্ত শুরু করছিল। তবে এ ঘটনায় বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে কোনো মামলা করা হয়নি। 

তদন্ত-সংশ্নিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, আগুনের ঘটনায় করা জিডির সূত্র ধরে এখন তদন্ত এগিয়ে যাবে। জিডি এখন মামলায় পরিণত হতে পারে। এ মামলায় তুষার আসামি হবে। 


পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দির সূত্রে জানা যায়, নব্য জেএমবি তিন সদস্য হিজরত করে তাদের বাসা ছাড়ে। তাদের মধ্যে আলামিন বর্তমানে সংগঠনটির প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিল। সে দিনাজপুর টেক্সটাইল কলেজের ছাত্র। অনলাইনে উগ্রপন্থিদের প্রশিক্ষণ দিয়ে অনলাইনেই পরীক্ষা নিত আলামিন। এরপর পরীক্ষায় পাসের পর হিজরত করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত দিত আলামিন।

তার সাংগঠনিক নাম ছিল 'জাহিদ-৯০'। আবু আবদুল্লাহ নামে এক জঙ্গির সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র ধরে জেএমবিতে যোগ দেয় আলামিন। ২০১৭ সালে জেএমবির আরেক কট্টর নেতা আবু নাঈমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। আবু নাঈম তাকে টেলিগ্রাম আইডি খুলে দেয়। ওই গ্রুপের সদস্য ছিল ৪৯ জন। কিছুদিন পর হঠাৎ তাদের আইডি বন্ধ হয়ে যায়। এরপর নাঈম তাকে জিহাদ-৯০ খুলে দেয়। 

জিজ্ঞাসাবাদে কামরুল জানায়, জঙ্গি সংগঠনে তার সাংগঠনিক নাম 'হারিকেন', 'রোবট' ও 'তানজিম'। তার গ্রামের বাড়ি নাটোরে। ২০১৫ সালে এসএসসি পরীক্ষার পর নাটোরের খোলাবাড়িয়ায় তার সঙ্গে মিলন নামে একজনের পরিচয় হয়। মিলনের মাধ্যমে তাহের নামে আরেকজনের সঙ্গে তার পরিচয় ঘটে। পরে তাহেরের সূত্র ধরে আবু তালহা, মুসা ও সোহেল মাহফুজের সঙ্গে তার দেখা হয়। তাদের হাত ধরেই নব্য জেএমবিতে যোগ দেয় কামরুল। মুসা তাকে মোবাইলে 'সিকিউর অ্যাপস' ইন্সটল করে দেয়।

এরপর জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে 'হারিকেন' নামে আইডি খুলে দেওয়া হয়। মুসার নির্দেশে পরবর্তী সময়ে টঙ্গীতে আবু তালহার সঙ্গে ভাড়া বাসায় ওঠে কামরুল। সেখানে সে রাজমিস্ত্রির কাজ শুরু করে। ২০১৭ সালের নভেম্বরে টঙ্গী ছেড়ে নওগাঁর আত্রাইয়ে আবদুল্লাহ কবিরাজের বাসায় গিয়ে ওঠে কামরুল। ওই বছরের এপ্রিলে সোহেল মাহফুজ তাকে টেলিগ্রাম আইডির সঙ্গে যুক্ত করে। এরপর দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে থেকে রাজমিস্ত্রির কাজ শুরু করে কামরুল। সেখানে জেএমবি সদস্য রবির মাধ্যমে বিএম মাস্টারের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।

চলতি বছরের ২৩ এপ্রিল তাকে ঢাকায় আসতে বলে তুষার। এরপর জেনেটিক প্লাজার সামনে থেকে তুষার, কামরুল ও সে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। তুষার জানায়, ২০১৬ সালে বইমেলায় নাশকতার পরিকল্পনা করে নব্য জেএমবি। সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বইমেলায় আগুন লাগাতে তাদের পাঠানো হয়েছিল। তবে তদন্ত-সংশ্নিষ্ট একটি সূত্র জানায়, আগুন দেওয়ার ঘটনায় তুষার, ফাহিম ও আবিদ ছাড়াও আরও একজন জড়িত থাকতে পারে। জিজ্ঞাসাবাদে হয়ত তার নাম গোপন করেছে তুষার। 

আরও পড়ুন

রায়ের তারিখ ঘোষণার আবেদন দুদকের

রায়ের তারিখ ঘোষণার আবেদন দুদকের

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় আদালতে রায়ের তারিখ ঘোষণার জন্য ...

কুকুর কামড়ালে যা করণীয়

কুকুর কামড়ালে যা করণীয়

কুকুরের কামড় অনেক  যন্ত্রণাদায়ক এবং মারাত্নক। এটি থেকে জলাতঙ্ক রোগ ...

ম্যাচের ভাগ্য টসের ওপর?

ম্যাচের ভাগ্য টসের ওপর?

পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচটি অলিখিত সেমিফাইনালে রূপ নিয়েছে। ফাইনালে যাওয়ার ...

মিস পাকিস্তানকে নিয়ে ইমন

মিস পাকিস্তানকে নিয়ে ইমন

প্রয়াত বরেণ্য শিল্পী লাকী আখন্দ। অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে থাকা অবস্থায় ...

সুনামগঞ্জে ইয়াকুব হত্যায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

সুনামগঞ্জে ইয়াকুব হত্যায় একজনের মৃত্যুদণ্ড

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মাইজবাড়ি এলাকার মোবাইল ফোন মেকানিক ইয়াকুব আলী ...

ওজন কমায় মিষ্টি কুমড়ার জুস

ওজন কমায় মিষ্টি কুমড়ার জুস

বিভিন্ন পুষ্টি গুণে সমৃদ্ধ মিষ্টি কুমড়া খেতেও সুস্বাদু।।এর বীজও স্বাস্থ্যের ...

৭.৫% প্রবৃদ্ধি হবে, এডিবির পূর্বাভাস

৭.৫% প্রবৃদ্ধি হবে, এডিবির পূর্বাভাস

চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) ৭ দশমিক ৫ ...

বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল মা-মেয়ের

বগুড়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল মা-মেয়ের

বগুড়ায় দুটি ট্রাকের সংঘর্ষে মা ও মেয়ে নিহত হয়েছেন। এ ...