চতুরঙ্গ

বঙ্গবন্ধুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে

 প্রকাশ : ১৫ আগস্ট ২০১৮      

 অজয় দাশগুপ্ত

১৫ আগস্ট, ১৯৭৬। আমরা দৃঢ়সংকল্প ছিলাম— বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে যত বেশি সম্ভব জনসম্পৃক্ত ও প্রকাশ্য কর্মসূচি পালন করতে হবে। তখন বিচারপতি আবুসাদাত মোহাম্মদ সায়েম রাষ্ট্রপতি ও প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক। কিন্তু দেশ পরিচালনা করছেন প্রকৃতপক্ষে সেনাবাহিনী প্রধান জিয়াউর রহমান। আওয়ামী লীগ, মোজাফফর আহমদের ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি ও মণি সিংহের কমিউনিস্ট পার্টির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অধিকার নেই। তাদের কথা সংবাদপত্রে লেখা যাবে না। বেতার-টিভি জিয়াউর রহমানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। দৈনিক বাংলা ও বাংলাদেশ টাইমস সামরিক জান্তার জয়গানে মুখর। বঙ্গবন্ধু এবং তার দল আওয়ামী লীগের কুৎসায় উচ্চকণ্ঠ। ইত্তেফাকেরও সেই একই সুর। দেশজুড়ে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। শত শত রাজনৈতিক নেতা কারাগারে। এমন সময়েই এলো ১৯৭৬ সালের ১৫ আগস্ট। ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি— ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে সারাদিন ধরে ফুল দেব; দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে আয়োজন হবে মিলাদ মাহফিলের। মিলাদে যোগ দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ছাত্রাবাসের প্রতিটি কক্ষে গিয়ে শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের ইমাম সাহেবকে অনুরোধ করা হয় মোনাজাত পরিচালনার জন্য। কিন্তু তিনি বলেন, তাকে সামরিক বাহিনীর লোকজন ভয় দেখাচ্ছে। জিয়ার সমর্থকরাও ভয় দেখাচ্ছে। কিন্তু আমাদের কর্মীরা তাকে সময়মতো মসজিদে নিয়ে আসতে সফল হয়। ১৯৭৫ সালের ৭ জুন গঠিত জাতীয় ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যদের মধ্যে নূহ-উল-আলম লেনিন, মাহবুবজামান, কাজী আকরাম হোসেন, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, চন্দন চৌধুরী ও আমি তখন ঢাকায় সক্রিয়। আমাদের সঙ্গে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক দল নিবেদিতপ্রাণ কর্মী, যারা সেই কঠিন সময়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মশাল জ্বালিয়ে রাখতে সব ধরনের ঝুঁকি নিয়েছিলেন। আমরা সে সময়ে 'ইস্পাত' নামে একটি পত্রিকা বের করি, যাতে জিয়াউর রহমানের সামরিক জান্তা ও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের মুখোশ খুলে দিতে বিভিন্ন লেখা ছাপা হতো।

বঙ্গবন্ধুর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ এলাকায় প্রচুর সংখ্যক পুলিশ-বিডিআর মোতায়েন ছিল। কিন্তু মিলাদ অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। বাধার মুখে পড়তে হয় ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর সড়কের ৬৭৭ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে ফুল দিতে গিয়ে। সকালে নিনু নাজমুন আরা ও নাজনীন সুলতানা সেখানে ফুল দিতে গেলে পুলিশ কিছু বলেনি। কিন্তু মুহূর্তেই চিত্র পাল্টে যায়। ফুল দিতে বাধা দেওয়া হতে থাকে। এক পর্যায়ে ৩২ নম্বর সড়কটিই বন্ধ করে দেওয়া হয়। আমাদের কর্মী-সমর্থকরা তখন বঙ্গবন্ধুর জন্য নিয়ে আসা ফুল ভাসিয়ে দিতে থাকে ধানমণ্ডি লেকের পানিতে।

সেদিনের সেই দুঃসাহসী কর্মকাণ্ডের ছবি কোনো পত্রিকায় ছাপা হয়নি। এমনকি ১৫ আগস্টের কোনো পত্রিকায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন তো দূরের কথা, তার নামটি পর্যন্ত উল্লেখ করতে দেওয়া হয়নি। বিচারপতি সায়েম ও মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান তার আগেই নির্দেশ জারি করেছিলেন— বঙ্গবন্ধুর নাম প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ; কোনোভাবেই উচ্চারণ করা যাবে না। তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা যাবে না। এটা হবে চরম রাষ্ট্রদ্রোহ। 'বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা' সামরিক বাহিনীপ্রধান জিয়াউর রহমান যে তখন ক্ষমতায়!

লেখক: উপ-সম্পাদক, সমকাল


  • নাম আছে, ভাই?

    নাম আছে, ভাই?

  • বটতলা থেকে ৩২ নম্বরে

    বটতলা থেকে ৩২ নম্বরে

  • বিএনপি নেতাদের প্রথম গণভবন দর্শন

    বিএনপি নেতাদের প্রথম গণভবন দর্শন

  • প্রিয় সারওয়ার ভাই, এই ঘুম আপনার পাওনা!

    প্রিয় সারওয়ার ভাই, এই ঘুম আপনার পাওনা!


নাম আছে, ভাই?

 অজয় দাশগুপ্ত

কোরবানীর কয়েকদিন আগে ঢাকা শহরে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত শব্দ থাকে ...

৫ ঘণ্টা আগে

শিশুরা বেড়ে উঠুক সৃজনশীল মনোভাব নিয়ে

 আশিক মুস্তাফা

অনলাইনে শিশু পরিস্থিতি খুঁজতে গেলেই চোখে পড়ে-শিশুশ্রম, বাল্য বিবাহ, অপুষ্টি, ...

২০ নভেম্বর ২০১৮

ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে আসাম

 তপোধীর ভট্টাচার্য

আজ থেকে ঠিক চার মাস আগে লিখেছিলাম- শরশয্যায় রয়েছে আসামের ...

০৬ নভেম্বর ২০১৮

বটতলা থেকে ৩২ নম্বরে

 অজয় দাশগুপ্ত

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭৫ ...

০৪ নভেম্বর ২০১৮