সিটি নির্বাচন

খুলনা ও গাজীপুর সিটি নির্বাচন

নিজের টাকায় নির্বাচন করবেন খালেক, মঞ্জুর ভরসা অন্যরা

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০১৮     আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০১৮       প্রিন্ট সংস্করণ     

মামুন রেজা, খুলনা

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে নিজের সম্মানী ও ব্যবসার টাকায় নির্বাচন করবেন আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক। বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু নিজের আয়ের পাশাপাশি টাকা নেবেন স্ত্রী, শ্যালক ও দলের নেতাদের কাছ থেকে। নিজের আয়ের পাশাপাশি জাতীয় পার্টির প্রার্থী এস এম শফিকুর রহমান মুশফিক ভাইদের কাছ থেকে এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. মুজাম্মিল হক ছেলেদের কাছ থেকে টাকা নেবেন। আর সিপিবির প্রার্থী মিজানুর রহমান বাবু নিজের আয়ের পাশাপাশি টাকা নেবেন ভাই ও দলের কাছ থেকে। 


মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের উৎস ও ব্যয় বিবরণী (ঢ-ফরম) থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। প্রার্থীরা নিজেরাই মনোনয়নপত্রের সঙ্গে এসব তথ্য প্রদান করেছেন। 


এ ব্যাপারে খুলনা  সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ইউনুচ আলী সমকালকে বলেন, খুলনায় একজন  মেয়র প্রার্থী ১৫ লাখ টাকা ও ব্যক্তিগত ৭৫ হাজার টাকার বেশি ব্যয় করতে  পারবেন না। নির্বাচনের পর প্রার্থীদের ব্যয়ের রিটার্ন জমা দিতে হবে। তখন এগুলো যাচাই-বাছাই করে দেখা হবে।


সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আবদুল খালেক ব্যয় করবেন মোট ১৫ লাখ টাকা। নিজের সম্মানী ও ব্যবসা থেকে উপার্জিত অর্থ ব্যয় করবেন তিনি।


নির্বাচনী ব্যয় হিসেবে তিনি দেখিয়েছেন এক লাখ পোস্টার ছাপতে সাড়ে চার লাখ টাকা, পাঁচ থানায় পাঁচটি নির্বাচনী অফিসে ব্যয় এক লাখ ৬৪ হাজার, কেন্দ্রীয় নির্বাচনী অফিসে ব্যয় এক লাখ, প্রার্থী ও তার কর্মীদের যাতায়াত ব্যয় ৫০ হাজার ও ঘরোয়া বৈঠক খাতে ২০ হাজার টাকা। দেড় লাখ লিফলেট ছাপতে এক লাখ ২০ হাজার টাকা, এ ছাড়া তিনি হ্যান্ডবিল, ব্যানার, ডিজিটাল ব্যানার, পথসভায় মাইক ও হ্যান্ডমাইক ব্যবহার, মাইকিং, পোর্ট্রেট মুদ্রণ, প্রতীক তৈরি, নির্বাচনী আপ্যায়ন, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারসহ বিভিন্ন খাতে এ টাকা ব্যয় করবেন।


বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু নির্বাচনী ব্যয়ের উৎস হিসেবে দেখিয়েছেন নিজের বাড়ি ভাড়া থেকে দুই লাখ টাকা, আইনজীবী স্ত্রী সৈয়দা সাবিহার কাছ থেকে দুই লাখ, ব্যবসায়ী শ্যালক সৈয়দ গোফরানুজ্জামানের কাছ থেকে তিন লাখ, মুজগুন্নি পুলিশ লাইন এলাকার খন্দকার শহীদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ধার হিসেবে পাঁচ লাখ ও খুলনা সদর থানা বিএনপির সভাপতি আবদুল জলিল খান কালামের অনুদান তিন লাখ টাকা।


নির্বাচনী ব্যয় হিসেবে দেখিয়েছেন ৬০ হাজার পোস্টার ছাপতে ৯০ হাজার টাকা, সাতটি নির্বাচনী ক্যাম্প খাতে ৭৭ হাজার, কেন্দ্রীয় নির্বাচনী অফিস খাতে ৩০ হাজার, প্রার্থী ও তার কর্মীদের যাতায়াত খাতে ৬০ হাজার ও ঘরোয়া বৈঠক খাতে ৬৬ হাজার টাকা। এ ছাড়া লিফলেট ছাপা, হ্যান্ডবিল, ব্যানার ও ডিজিটাল ব্যানার তৈরি, মাইক ও হ্যান্ডমাইক, পোর্ট্রেট তৈরি, নির্বাচনী প্রতীক, আপ্যায়ন, টেলিভিশন, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রচারসহ বিভিন্ন খাতে বাজেট বরাদ্দ রেখেছেন।


জাতীয় পার্টির মেয়র প্রার্থী এস এম শফিকুর রহমান মুশফিক নির্বাচনী ব্যয়ের উৎস হিসেবে দেখিয়েছেন তার কৃষিজাত পণ্য বিক্রি থেকে পাঁচ লাখ টাকা, জমিজমার ব্যবসা করা ভাই ওয়াসিকুর রহমানের কাছ থেকে ধার দুই লাখ, জমিজমার ব্যবসা করা আরেক ভাই মফিজুর রহমানের কাছ থেকে অনুদান এক লাখ, নগরীর মুন্সীপাড়া এলাকার কাজী হাসানুর রশীদ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ধার দুই লাখ ও ফারাজীপাড়া রোডের আনিসুর রহমান মিলটন নামের এক ব্যক্তির অনুদান এক লাখ টাকা।


তিনিও নির্বাচনী ব্যয় হিসেবে পোস্টার ছাপা, নির্বাচনী ক্যাম্প, ঘরোয়া বৈঠক, লিফলেট, মাইকিংয়ে প্রচার, নির্বাচনী প্রতীক, আপ্যায়নসহ নানা খাতের কথা উল্লেখ করেছেন।


সিপিবির মেয়র প্রার্থী মিজানুর রহমান বাবু নির্বাচনী ব্যয়ের উৎস হিসেবে দেখিয়েছেন নিজস্ব ব্যবসা থেকে এক লাখ টাকা, তার চাকরিজীবী ভাই মসিউর রহমানের কাছ থেকে এক লাখ ও সিপিবি খুলনা জেলা কমিটির অনুদান ১০ হাজার টাকা।


তিনি নির্বাচনী ব্যয় দেখিয়েছেন ২০ হাজার পোস্টার ছাপতে ৪০ হাজার টাকা, ১০টি নির্বাচনী ক্যাম্পে ব্যয় ২০ হাজার, প্রার্থীর কেন্দ্রীয় ক্যাম্পে ব্যয় ২০ হাজার, ঘরোয়া বৈঠক খাতে ৫০ হাজার ও এক লাখ লিফলেট ছাপতে ৩০ হাজার টাকা। ব্যানার, পথসভা ও মাইকিং খাতে তার কোনো ব্যয় নেই।


ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী মো. মুজাম্মিল হক নির্বাচনী ব্যয়ের উৎস হিসেবে দেখিয়েছেন নিজের ব্যবসা থেকে এক লাখ টাকা, ছেলে তানভীরের কাছ থেকে ধার ৫০ হাজার, আরেক ছেলে মঞ্জুরুলের কাছ থেকে অনুদান ৫০ হাজার, সোনাডাঙ্গা এলাকার মুফতি আমানুল্লাহ ও আমজাদ হোসেন নামের দুই ব্যক্তির কাছ থেকে ধার ৫০ হাজার, গোয়ালখালী এলাকার আবদুল আউয়াল নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে অনুদান এক লাখ ও ডা. মোখতার হুসাইন নামের আরেক ব্যক্তির কাছ থেকে দান এক লাখ টাকা।


নির্বাচনী ব্যয় হিসেবে তিনি পোস্টার ছাপা, নির্বাচনী ক্যাম্প, ঘরোয়া বৈঠক, লিফলেট, ডিজিটাল ব্যানারসহ বিভিন্ন খাতের কথা উল্লেখ করেছেন। 

আরও পড়ুন

কোটি টাকায় কেনা দীর্ঘশ্বাস

কোটি টাকায় কেনা দীর্ঘশ্বাস

ধানমণ্ডিতে সুপরিসর একটি ফ্ল্যাট কেনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন ব্যবসায়ী আহাদুল ইসলাম। ...

বিএনপির জনসভায় আমন্ত্রণ পাচ্ছে না জামায়াত

বিএনপির জনসভায় আমন্ত্রণ পাচ্ছে না জামায়াত

বিএনপির বৃহস্পতিবারের সম্ভাব্য জনসভায় ২০ দলের শরিক জামায়াতে ইসলামীকে কৌশলগত ...

প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটের ক্রুর মাদক সেবন

প্রধানমন্ত্রীর ফ্লাইটের ক্রুর মাদক সেবন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফ্লাইটের এক কেবিন ক্রুর মাদক সেবন ও ...

দুদককে পঙ্গু করতে চায় একটি মহল

দুদককে পঙ্গু করতে চায় একটি মহল

দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) একটি অথর্ব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে অপতৎপরতা ...

নিবর্তনমূলক ধারা বাতিল দাবি সাংবাদিক নেতাদের

নিবর্তনমূলক ধারা বাতিল দাবি সাংবাদিক নেতাদের

স্বাধীন সাংবাদিকতায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে- এমন সব ধারা-উপধারা বহাল ...

ইয়াবা কারবারিরা তবু বেপরোয়া

ইয়াবা কারবারিরা তবু বেপরোয়া

মিয়ানমার থেকে নানা কৌশলে ভিন্ন ভিন্ন রুট ব্যবহার করে সারা ...

বিপিএলের কারণে রশিদকে চেনা ইমরুলের

বিপিএলের কারণে রশিদকে চেনা ইমরুলের

হুট করেই ইমরুল কায়েস এশিয়া কাপের দলে ডাক পান। এরপর ...

মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে ব্যাংক ঋণ!

মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে ব্যাংক ঋণ!

বরিশালে মৃত ব্যক্তিকে জীবিত দেখিয়ে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়ার অভিযোগ ...