সিটি নির্বাচন

আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ বিএনপিতে বিভেদ

দলই শক্তি কামরানের চ্যালেঞ্জে আরিফ

সিলেট

প্রকাশ: ০৯ জুলাই ২০১৮       প্রিন্ট সংস্করণ     

চয়ন চৌধুরী, সিলেট

পাঁচ বছর আগে বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের পরাজয়ের নেপথ্যে দলীয় বিভেদকে দায়ী করা হয়। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠেয় সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে এবার দলই কামরানের বড় শক্তি। নৌকা প্রতীকে মেয়র পদ পুনরুদ্ধারে তাই আত্মবিশ্বাসী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ও সিলেট মহানগর সভাপতি কামরান। জোটের শরিক দলের পক্ষ থেকেও সাবেক এই মেয়রকে সর্বাত্মক সমর্থনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এদিকে, কঠিন চ্যালেঞ্জে আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আরিফুল হক চৌধুরী। তার দলীয় মনোনয়নের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে প্রার্থী হয়েছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম। পাশাপাশি জোটের শরিক জামায়াতের মহানগর আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকছেন। ২০১৩ সালের ১৫ জুনের সর্বশেষ নির্বাচনে ইসলামী দলগুলোর ভোট ফলাফলে বড় ভূমিকা রেখেছিল। এবার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী ডা. মোয়াজ্জেম হোসেন খান এসব ভোটে ভাগ বসানোর আশায় আছেন। 


তৎকালীন সিলেট পৌরসভার চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে সিটি করপোরেশনের প্রথম দুইবার মেয়র ছিলেন কামরান। দীর্ঘ এই সময়ে আওয়ামী লীগের ভেতর থেকে কখনোই চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়নি তাকে। গত নির্বাচনে পরাজয়ের পথ ধরে এবারে দলীয় মনোনয়ন পেতে কামরানকে অনেকটা বেগ পেতে হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ। শেষ পর্যন্ত আসাদ দলের মনোনয়নবঞ্চিত হলেও প্রকাশ্যে কামরানের পক্ষে মাঠে নেমেছেন, যা কামরান শিবিরে স্বস্তি এনে দেয়। এমনকি কামরানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্বে রয়েছেন আসাদ উদ্দিন আহমদ। তিনি প্রকাশ্যে নৌকা প্রতীককে বিজয়ী করতে মাঠে রয়েছেন। গতবারের দলীয় বিভেদের ফলে এবার আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রাখা হয়নি। পাশাপাশি দলীয় প্রতীকে নির্বাচনের জন্য অভ্যন্তরীণ বিরোধ তেমন প্রভাব ফেলবে না বলেও মনে করেন সংশ্নিষ্টরা।


অবশ্য গত নির্বাচনে দলীয় বিভেদের কথা উড়িয়ে দিয়ে কামরানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান চৌধুরী সমকালকে বলেন, আওয়ামী লীগ বড় দল। এখানে প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, কিন্তু বিভেদ নেই। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলীয় মেয়র প্রার্থী হিসেবে কামরানকে চূড়ান্ত করার পর সবাই ঐক্যবদ্ধ। আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা সম্মিলিতভাবে কাজ করছেন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সিলেটসহ সারাদেশে যে উন্নয়ন হয়েছে, তাতে নৌকার বিজয় কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না। উন্নয়নের স্বার্থে সবাই নৌকা প্রতীকে ভোট দেবেন। বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাদের ঘর ঠিক নেই; প্রার্থিতা নিয়ে বিভেদ আছে। যাদের ঘর ঠিক নেই, তারা কীভাবে বিজয়ী হবে? 


মেয়র পদে মনোনয়ন নিয়ে শুরু থেকেই আরিফকে চাপে রাখেন বদরুজ্জামান সেলিমসহ বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। ফলে রাজশাহী ও বরিশাল সিটিতে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সঙ্গে একই দিনে সাক্ষাৎকার নেওয়া হলেও সিলেটে বিএনপি মেয়র প্রার্থীর নাম পরে ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া অন্য দুটি সিটিতে জোটের বড় দল বিএনপিকে সমর্থন দিলেও সিলেটে মেয়র পদে আলাদাভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অটল থাকে জামায়াত। পাশাপাশি সম্প্রতি খুলনা ও গাজীপুর নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ করে আসা বিএনপি সিলেটের নির্বাচন নিয়েও শঙ্কিত। এমনকি বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ও জামায়াতের প্রার্থিতার নেপথ্যে সরকারের হাত রয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন একাধিক বিএনপি নেতা। 


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মহানগর বিএনপির এক নেতা সমকালকে বলেন, বদরুজ্জামান সেলিম ও এহসানুল মাহবুব নির্বাচনে থাকলে আওয়ামী লীগের লাভ। এ জন্যই সরকারের তরফে চাপ দিয়ে এ দু'জনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাখা হয়েছে। জেলার আরেক নেতা বলেন, জামায়াতের প্রার্থী শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলে একদিকে লাভ। তারা তাদের নিজেদের সামর্থ্য বুঝতে পারবে। আমরাও বুঝতে পারব, তাদের আসলে কতটুকু গুরুত্ব দেওয়া উচিত।


আরিফের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ক্ষুদ্র-ঋণ বিষয়ক সম্পাদক আবদুর রাজ্জাক সমকালকে বলেন, হযরত শাহজালালের (রহ.) পুণ্য ভূমি সিলেটে সরকার নির্বাচনে কোনো অনিয়মের আশ্রয় নেবে না বলে আশা করি। আর যদি ৮০ বা নূ্যনতম ৫০ ভাগ নির্বাচনও সুষ্ঠু হয়, তাহলে বিএনপি প্রার্থীর বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। এক্ষেত্রে তিনি যুক্তি দেখিয়ে বলেন, এবারে ধানের শীষ ও নৌকা প্রতীকের নির্বাচন হবে। আর ব্যক্তি হিসেবে আরিফুল হক চৌধুরীর জনপ্রিয়তা রয়েছে। পাঁচ বছরের মধ্যে আড়াই বছরে (বাকি আড়াই বছর কারাগারে ছিলেন) আরিফ নগরীর যে উন্নয়ন করেছেন, তা অতীতে কেউ করতে পারেননি। ব্যক্তিগত ও দলীয় শক্তির সমন্বয়ে তাই বিএনপি প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত। এমনকি দল ও জোটে মেয়র পদ নিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী থাকার পরও নির্বাচনে বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী তিনি। বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী বদরুজ্জামান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সে দলের নিবেদিতপ্রাণ একজন কর্মী। দলের জন্য অনেক শ্রম দিয়েছে। কিন্তু এখন সে যে পথে পা বাড়িয়েছে, সেখান থেকে ফেরার আর উপায় নেই। আর জামায়াত প্রসঙ্গে তার মত- এটা কেন্দ্রের বিষয়। তবে সিলেট থেকে জামায়াত যে রাস্তা ধরেছে; তা হয়তো আগামী দিনের গতিপথ বাতলে দেবে।

আরও পড়ুন

Best Electronics
বিএনপি-জামায়াত 'পাতানো খেলা'

বিএনপি-জামায়াত 'পাতানো খেলা'

সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থিতার সিদ্ধান্তে এখনও ...

সর্বত্রই নৌকা, ধানের শীষের দেখা নেই

সর্বত্রই নৌকা, ধানের শীষের দেখা নেই

ভোরে ট্রেন থেকে নেমে রাজশাহীর পরিপাটি স্টেশন চত্বরে পা রেখেই ...

কাউন্সিলর পদেও 'দলীয় প্রতীক'

কাউন্সিলর পদেও 'দলীয় প্রতীক'

বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনের মাঠে ক্রমে বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। সময় ...

বিশ্বকাপের সেরা পাঁচ গোল

বিশ্বকাপের সেরা পাঁচ গোল

গোলের খেলা ফুটবল। গোল না হলে কেমন যেন পানসে মনে ...

ক্রোয়েশিয়ার কান্না বৃষ্টি হয়ে নামল

ক্রোয়েশিয়ার কান্না বৃষ্টি হয়ে নামল

‘আমরা কাঁদছি কোথায়। এ তো কেবল বৃষ্টির ঝটকা।’ ম্যাচ শেষে ...

বিশ্বকাপের সেরা উদীয়মান এমবাপ্পে

বিশ্বকাপের সেরা উদীয়মান এমবাপ্পে

এমবাপ্পেকে উদীয়মান তারকা বলা হয়তো ঠিক হবে না। বিশ্বকাপের আগেই ...

বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলার মডরিচ

বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলার মডরিচ

ক্রোয়েশিয়াকে বিশ্বকাপ ফাইনালে তোলার বড় অবদার লুকা মডরিচের। ফাইনালেও ক্রোয়েশিয়া ...

হ্যারি কেনের গোল্ডেন বুট

হ্যারি কেনের গোল্ডেন বুট

ফাইনালে খেলার কথা ছিল তার। তবে ক্রোয়েশিয়া বাধা পেরুতে পারেননি ...