সিটি নির্বাচন

সিলেটের অনৈক্য গড়াতে পারে সংসদের ভোটে

'ত্যাগের' প্রতিদান চায় জামায়াত, নীরব বিএনপি

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০১৮     আপডেট: ১১ জুলাই ২০১৮       প্রিন্ট সংস্করণ     

রাজীব আহাম্মদ ও কামরুল হাসান

ভোটের বছরে এসে ১৯ বছরের পুরনো মিত্র বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর অতীতের চাপা বিরোধ প্রকাশ্য দ্বন্দ্বের রূপ পেয়েছে। এর ফলে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এ দুটি দলের মধ্যে সমঝোতার সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে গেছে এবং মেয়র পদে দু'দলই প্রার্থী দিয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের মাস পাঁচেক আগে প্রকাশ্যে চলে আসা এই দ্বন্দ্ব সংসদের ভোট পর্যন্ত গড়াতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। দুই দল যদিও বলছে, জোট অটুট থাকবে; কিন্তু জামায়াত 'ত্যাগের প্রতিদান' দাবি করায় এবং এ ব্যাপারে বিএনপি নীরব থাকায় শেষ পর্যন্ত কী হবে, তা অনিশ্চিত।

আগামী ৩০ জুলাই রাজশাহী, বরিশাল ও সিলেট সিটির ভোট অনুষ্ঠিত হবে। রাজশাহী ও বরিশালে বিএনপির সমর্থনে মেয়র প্রার্থী দেয়নি আদালতের রায়ে নিবন্ধন হারানো জামায়াত। তবে যুদ্ধাপরাধের বিচারে কোণঠাসা জামায়াতের সিলেট মহানগর আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়ের মেয়র প্রার্থী হয়েছেন। সিলেটে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। বিএনপি বলছে, তিনি ২০ দলীয় জোটেরও প্রার্থী। তবে জামায়াত আরিফকে জোটের প্রার্থী হিসেবে মেনে নিতে রাজি হয়নি।

জাতীয় নির্বাচনের আগে জামায়াতের এমন বেঁকে বসার ক্ষেত্রে সরকারের হাত দেখছে বিএনপি। দলটির একটি অংশের ধারণা, সরকারের ইন্ধনেই জামায়াত সিলেটে প্রার্থী দিয়েছে। অবশ্য বিএনপি নেতারা এ ইস্যুতে মুখই খুলছেন না। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দাবি করেছেন, সিলেটে জামায়াত প্রার্থী দিলেও তা নিয়ে জোটে টানাপড়েন নেই।

শুধু জোটে নয়, সিলেটে দলের ভেতরও দ্বন্দ্ব রয়েছে বিএনপিতে। সিলেটে মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিমও মেয়র প্রার্থী হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার তাকে দল থেকে বহিস্কার করেছে বিএনপি। তার পক্ষে ভোটের প্রচারে না নামতে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে জামায়াতের অবস্থান সম্পর্কে প্রকাশ্যে

কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি বিএনপি। যদিও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় জামায়াতের বিদ্রোহের কারণ অনুসন্ধানসহ কঠোরভাবে পরিস্থিতি মোকাবেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকারের ইন্ধন আছে কি-না তাও দেখছে বিএনপি। শীর্ষ পর্যায় থেকে যোগাযোগ ও অনুরোধের পরও জামায়াত প্রার্থিতা প্রত্যাহার না করায় বিএনপি অবাকই হয়ে গেছে।

গত সোমবার রাতে বিএনপির বৈঠকে উপস্থিত একজন নেতা বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করতে পারছেন না। কিন্তু জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান সিলেটে গিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালিয়েছেন। সিলেটে জামায়াতের ভোটব্যাংকও তেমন শক্তিশালী নয়। তার পরও জামায়াত কেন প্রার্থী হয়েছে, তার কারণ অনুসন্ধান করবে বিএনপি। জামায়াতের ওপর নাখোশ হলেও এ বিষয়ে নীরব থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। কারণ প্রকাশ্যে মুখ খুলে জোটে জামায়াতের 'গুরুত্ব' বাড়াতে চাইছেন না জ্যেষ্ঠ নেতারা। বিএনপির নেতারা সমকালকে বলেছেন, জামায়াতের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কারণ ভোটের বছর জামায়াতকে বিয়োগ করাও ঠিক হবে না।

সিলেটে বিদ্রোহী হলেও জোট ছাড়ার ইঙ্গিত নেই জামায়াতের পক্ষ থেকেও। নিজে থেকে জোট ছাড়বে না- এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। সরকারের সঙ্গে আঁতাতের অভিযোগও উড়িয়ে দিয়েছেন দলটির নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে সখ্যের প্রশ্নই আসে না। একটি বড় দল হিসেবে জামায়াতের সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। জামায়াত তাই নেতাকর্মীদের চাওয়াকে সম্মান করে প্রার্থী দিয়েছে। তার মতে, সিটি নির্বাচন স্থানীয় নির্বাচন। ২০ দলীয় জোট গঠিত হয়েছিল জাতীয় নির্বাচনের জন্য। উপজেলা ও পৌর নির্বাচনেও বিএনপি এবং জামায়াত যে যার মতো প্রার্থী দিয়েছে। তাতে জোট ভাঙেনি। সিটি নির্বাচনে প্রার্থী দেওয়ার কারণেও জোট ভাঙবে না।

জামায়াত সূত্রগুলো সমকালকে নিশ্চিত করছে, সিলেটে তাদের পরাজয় নিশ্চিত। তার পরও মেয়র প্রার্থী করা হয়েছে বিএনপিকে চাপে রাখতে ও দলকে চাঙ্গা করতে। ছাত্রশিবিরের সাবেক একজন প্রচার সম্পাদক সমকালকে জানিয়েছেন, উপজেলার পর বড় কোনো নির্বাচনেই অংশ নেয়নি জামায়াত। নেতাকর্মীদের জাতীয় নির্বাচনের জন্য চাঙ্গা করতেই দলটি থেকে সিলেটে প্রার্থী দেওয়া হয়েছে। ভোটের মাঠে জামায়াতের কী অবস্থা, তাও যাচাই করা হবে সিলেটের নির্বাচনের মাধ্যমে। এককভাবে নির্বাচন করলেও কেমন ফল হবে, তা দেখবেন দলের নীতিনির্ধারকরা।

জামায়াতের আরেকটি সূত্র বলছে, বিএনপি তাদের 'ত্যাগের' মূল্যায়ন করছে না। জামায়াত নেতারা মনে করেন, বিএনপির জোটে থাকার কারণে গত ১০ বছর ধরে তারা সরকারের চাপে রয়েছে। যুদ্ধাপরাধের মামলায় দলের শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি হয়েছে। আদালতের রায়ে নিবন্ধন হারাতে হয়েছে। চার শতাধিক নেতাকর্মী রাজনৈতিক সংঘাত, পুলিশের গুলি ও 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছে হাজার হাজার নেতাকর্মী। কারাগারে গেছেন লক্ষাধিক নেতাকর্মী। বিএনপির সঙ্গে জোটে না থাকলে সরকার তাদের এতটা চাপে রাখত না বলে মনে করেন জামায়াত নেতারা।

জামায়াত নেতারা বলছেন, ২০১৩ ও ২০১৫ সালে জোটের কর্মসূচিতে জামায়াতের অংশগ্রহণ ছিল 'সর্বাত্মক'। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির শিকারও হয়েছে জামায়াত। কিন্তু বিএনপি তা মূল্যায়ন করেনি। উপজেলা ও পৌর নির্বাচনে জামায়াতকে কোথাও ছাড় দেয়নি। সিলেটে বিদ্রোহী হয়ে জামায়াত বার্তা দিতে চায়, প্রত্যাশিত সংখ্যক আসন না পেলে জাতীয় নির্বাচনেও বেঁকে বসবে তারা।

২০০১ সালের নির্বাচনে জামায়াতকে ৩০টি আসনে ছাড় দেয় বিএনপি। একটি আসনে দু'দলেরই প্রার্থী ছিল। ২০০৮ সালের নির্বাচনে জামায়াতকে ৩৫ আসনে ছাড় দেওয়া হয়। কিন্তু জামায়াতের দাবি ছিল আরও বেশি। ওই নির্বাচনে চারটি আসনে বিএনপির প্রার্থী থাকার পরও জামায়াত প্রার্থী দেয়। আগামী নির্বাচনে জামায়াতের চাওয়া কমপক্ষে ৫০ আসন। চাহিদা পূরণ না হলে বিদ্রোহীও হতে পারে জামায়াত- সিলেট সিটি নির্বাচনের মাধ্যমে এই বার্তা দিতে চাইছে দলটির নেতাকর্মীরা।

Best Electronics
বিএনপি-জামায়াত 'পাতানো খেলা'

বিএনপি-জামায়াত 'পাতানো খেলা'

সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থিতার সিদ্ধান্তে এখনও ...

সর্বত্রই নৌকা, ধানের শীষের দেখা নেই

সর্বত্রই নৌকা, ধানের শীষের দেখা নেই

ভোরে ট্রেন থেকে নেমে রাজশাহীর পরিপাটি স্টেশন চত্বরে পা রেখেই ...

কাউন্সিলর পদেও 'দলীয় প্রতীক'

কাউন্সিলর পদেও 'দলীয় প্রতীক'

বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনের মাঠে ক্রমে বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। সময় ...

বিশ্বকাপের সেরা পাঁচ গোল

বিশ্বকাপের সেরা পাঁচ গোল

গোলের খেলা ফুটবল। গোল না হলে কেমন যেন পানসে মনে ...

ক্রোয়েশিয়ার কান্না বৃষ্টি হয়ে নামল

ক্রোয়েশিয়ার কান্না বৃষ্টি হয়ে নামল

‘আমরা কাঁদছি কোথায়। এ তো কেবল বৃষ্টির ঝটকা।’ ম্যাচ শেষে ...

বিশ্বকাপের সেরা উদীয়মান এমবাপ্পে

বিশ্বকাপের সেরা উদীয়মান এমবাপ্পে

এমবাপ্পেকে উদীয়মান তারকা বলা হয়তো ঠিক হবে না। বিশ্বকাপের আগেই ...

বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলার মডরিচ

বিশ্বকাপের সেরা ফুটবলার মডরিচ

ক্রোয়েশিয়াকে বিশ্বকাপ ফাইনালে তোলার বড় অবদার লুকা মডরিচের। ফাইনালেও ক্রোয়েশিয়া ...

হ্যারি কেনের গোল্ডেন বুট

হ্যারি কেনের গোল্ডেন বুট

ফাইনালে খেলার কথা ছিল তার। তবে ক্রোয়েশিয়া বাধা পেরুতে পারেননি ...