সিটি নির্বাচন

উল্টো চাপে জামায়াত

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০১৮       প্রিন্ট সংস্করণ     

রাজীব আহাম্মদ

বিএনপিকে চাপে ফেলতে গিয়ে উল্টো নিজেরাই চাপে পড়েছে জামায়াতে ইসলামী। বিএনপিকে 'শিক্ষা' দিতে সিলেটে মেয়র পদে প্রার্থী দিয়েছিল জামায়াত। বিএনপির সর্বোচ্চ পর্যায়ের অনুরোধের পরও দলীয় শক্তি প্রমাণের জন্য প্রার্থী প্রত্যাহারের বদলে দলটি নির্বাচনে অংশ নেয়। কিন্তু প্রার্থীর জামানত জব্দ হওয়ায় ভোটের রাজনীতিতে নিবন্ধন হারানো জামায়াতের সাংগঠনিক দুর্বলতা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। পাশাপাশি কমেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে তাদের গুরুত্ব। আগামী সংসদ নির্বাচনে আসন ভাগাভাগির ক্ষেত্রে তাদের অবস্থানও দুর্বল হয়ে পড়েছে।

১৯ বছর ধরে এক জোটে থাকা বিএনপি ও জামায়াতের বিরোধ প্রকাশ্যে চলে আসে সিলেট সিটির নির্বাচনকে ঘিরে। এক পর্যায়ে দল দুটির নেতাদের বাগ্‌যুদ্ধ শুরু হয়। বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যের পাল্টা জবাব দেওয়া হয় জামায়াতের পক্ষ থেকে; যা গত দুই দশকে দেখা যায়নি। প্রধান মিত্র বিএনপির সঙ্গে নির্বাচন-সংক্রান্ত বিরোধে জড়িয়ে অর্জন কতটুকু, তা নিয়ে এখন বিশ্নেষণ চলছে জামায়াতের ভেতর।

জামায়াত নেতারা সমকালের কাছে স্বীকার করেছেন, তাদের ওপর চাপ আরও বাড়ল। আগামী সংসদ নির্বাচনে তাদের চাহিদা অনুযায়ী আসনে ছাড় দিতে আর রাজি হবে না বিএনপি। দলটির নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার সমকালকে বলেছেন, তারা ফল বিশ্নেষণ করছেন।

পরে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হবে। তিনি দাবি করেন, একটি স্থানীয় নির্বাচনের কারণে জোটের রাজনীতিতে কোনো প্রভাব পড়বে না।

গত সোমবার অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মহানগর জামায়াতের আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। তিনি টেবিল ঘড়ি প্রতীকে ১০ হাজার ৯৫৪ ভোট পেয়েছেন। ১৩৪ কেন্দ্রের ১৩২টির ফলে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ৯০ হাজার ভোট। আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদর উদ্দিন কামরান পেয়েছেন ৮৫ হাজারের বেশি ভোট।

নির্বাচনের আগে জামায়াতের দাবি ছিল, সিলেটে তাদের ৫০ হাজার ভোট রয়েছে। গত জুলাইয়ে জামায়াতের নায়েবে আমির মিয়া গোলাম পরওয়ার সমকালের কাছে দাবি করেন, সিলেটে অন্তত ৪০ হাজার ভোট পাবেন তাদের প্রার্থী। কিন্তু দলটি তাদের দাবি করা ভোটের মাত্র এক-চতুর্থাংশ পেয়েছে।

জামায়াত নেতারা অবশ্য ধারণা দিয়েছিলেন, সিলেটে তাদের পরাজয় নিশ্চিত। তবে জিতবে না জেনেও ভোটে অংশ নেওয়ার উদ্দেশ্য বিএনপিকে বার্তা দেওয়া। জামায়াত নেতাদের বদ্ধমূল ধারণা ছিল, তাদের সমর্থন ছাড়া বিএনপি জিততে পারবে না। তাদের লক্ষ্য ছিল, বিএনপিকে আরও বেশি জামায়াতনির্ভর করে তোলা এবং নিজেদের ভোট যাচাই ও কর্মীদের চাঙ্গা করা।

কিন্তু ভোটের ফলে জামায়াতের কোনো উদ্দেশ্যই পূরণ হয়নি। বরং বিএনপির দাবিই সত্য প্রমাণিত হয়েছে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত শুক্রবার বলেছিলেন, জামায়াতের সমর্থন ছাড়াই তারা জিততে সক্ষম। অন্যদিকে বিএনপির মেয়র প্রার্থী বলেছিলেন, সিলেটে জামায়াতের মাত্র ১০ হাজার ভোট আছে। এ ভোট ছাড়াই বিএনপি জিতবে। জামায়াতের সমর্থনের দরকার নেই।

জামায়াতের প্রার্থী এহসানুল মাহবুব জুবায়েরও বলছেন, সিলেটের ফল তাদের কাছে অপ্রত্যাশিত। কারণ, তাদের নিজেদেরই ২৫ হাজার ভোট আছে। নির্বাচনে যেসব 'অসঙ্গতি' ছিল, তা শিগগির তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

জামায়াতের একাধিক নেতা সমকালের কাছে দাবি করেন, সিলেটে সরকার 'ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং' করেছে। অন্যান্য সিটি 'জবরদখল' করে নিলেও সিলেট বিএনপিকে দেওয়া হয়েছে। সারাদিন 'কেন্দ্র দখল' করে নৌকায় সিল মারার পরও দিন শেষে ধানের শীষের জয়ী হওয়া অবিশ্বাস্য ঘটনা। সরকার এ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপিকে বার্তা দিতে চেয়েছে, আওয়ামী লীগের অধীনে তাদের জয়ী হওয়া সম্ভব। জামায়াতকে ছাড়াও বিএনপি জয়ী হতে পারে। জোটে ভাঙন ধরাতেই সরকার সিলেটে বিএনপিকে ছেড়ে দিয়েছে- এমনই দাবি জামায়াত নেতাদের। তবে জামায়াত নেতারা যা-ই বলুন, খালি চোখের সমীকরণ হলো, সিলেট সিটিতে এভাবে জয়ী হওয়ায় বিএনপির জামায়াত-নির্ভরতা ভবিষ্যতে আরও কমবে।

ভোটের এ ফলে হতাশ ও হতবাক জামায়াত নেতাদের কয়েকজন সমকালকে বলেন, যে ভোট তারা পেয়েছেন, তা অপ্রত্যাশিত। সিলেট-১ আসনের সীমানা নিয়েই সিলেট সিটি করপোরেশন। সিলেটের বাসিন্দা ও ছাত্রশিবিরের সাবেক প্রচার সম্পাদক আবু সালেহ ইয়াহিয়া সমকালকে বলেন, ১৯৯১ সালে সিলেট-১ আসনে ১৭ হাজার ভোট পেয়েছিল জামায়াত। ১৯৯৬ সালে পায় ১৮ হাজার ভোট। ২২ বছরে জামায়াতের ভোট অন্তত দ্বিগুণ হওয়ার কথা।

আগামী নির্বাচনে জামায়াতের দাবি, অন্তত ৫০ আসনে ২০ দলীয় জোটগত মনোনয়ন। সিলেটে দলটির ভরাডুবিতে দলটির এ দাবি হোঁচট খেতে চলেছে। কারণ তাদের 'নিজস্ব ভোট ব্যাংকের' দাবি ফাঁকা বুলিতে পরিণত হয়েছে। আগামী নির্বাচনে বিএনপি তাদের বেশি আসনে ছাড় দিতে রাজি হবে না। ২০০১ সালের নির্বাচনে সিলেট-৫ ও ৬ আসন জামায়াতকে ছেড়েছিল বিএনপি। এবার এ দুটি আসনেও ছাড় পাওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

এদিকে জাতীয় নির্বাচনের ভোটের পরিসংখ্যান বলছে, জামায়াতের ভোট কমছে। ১৯৯১ সালে ২২০ আসনে প্রার্থী দিয়ে ১২ দশমিক এক শতাংশ ভোট পায় দলটি। ১৯৯৬ সালে ৩০০ আসনে প্রার্থী দিয়ে ভোট পায় আট শতাংশ। ২০০১ সালে ৩১ আসনে প্রার্থী দিয়ে বিএনপির সঙ্গে জোট করে চার দশমিক তিন শতাংশ ভোট পায় জামায়াত। পরের নির্বাচনে ৩৯ আসনে ভোট পায় চার দশমিক সাত শতাংশ।

২০১৪ সালে উপজেলা নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিয়ে ৩৬টিতে চেয়ারম্যান পদে জয় পায় জামায়াত। ভাইস চেয়ারম্যান পদ জিতে নেয় ১২৬টিতে। সিলেট জেলায় দুটি উপজেলায় চেয়ারম্যান পদে জয়ী হয় দলটি। এ কারণে সিটি নির্বাচনে সিলেটকে বেছে নেয় জামায়াত। সারাদেশের ১১টি সিটি করপোরেশনের বাকিগুলোতে মেয়র পদে সমর্থন দেয় বিএনপিকে।

ভারতের শ্বাস রুদ্ধ করে ’টাই’ আফগানদের

ভারতের শ্বাস রুদ্ধ করে ’টাই’ আফগানদের

ভারত 'বধ' করেই ফেলেছিল আফগানিস্তান। কিন্তু ম্যাচটা শেষ পর্যন্ত টাই ...

পল্টন-সোহরাওয়ার্দী কোনোটাই পাচ্ছে না বিএনপি

পল্টন-সোহরাওয়ার্দী কোনোটাই পাচ্ছে না বিএনপি

আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রথমে রাজধানীতে জনসভা করার ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি। ওইদিন ...

শীর্ষ চার রুশ ব্লগার বাংলাদেশে

শীর্ষ চার রুশ ব্লগার বাংলাদেশে

বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে রাশিয়ার জনগণের সামনে তুলে ধরা এবং দ্বিপক্ষীয় ...

ভূমিহীনের জন্য বরাদ্দ জমিতে বড়লোকের পুকুর

ভূমিহীনের জন্য বরাদ্দ জমিতে বড়লোকের পুকুর

মুক্ত জলাশয়ে মাছ ধরে তা বিক্রি করে সংসার চলতো ভূমিহীন ...

জাতীয় ঐক্যকে চাপে রাখবে আ'লীগ ও ১৪ দলীয় জোট

জাতীয় ঐক্যকে চাপে রাখবে আ'লীগ ও ১৪ দলীয় জোট

শুরুতে স্বাগত জানালেও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া গঠন এবং সরকারবিরোধীদের নিয়ে ...

জিততেই হবে আজ

জিততেই হবে আজ

অতীতের ভুল তারা কখনোই স্বীকার করে না। মানতে চায় না ...

প্রশাসনে নির্বাচনী রদবদল

প্রশাসনে নির্বাচনী রদবদল

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসন সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে ...

বিএনপির সমাবেশের পর ঐক্যের লিয়াজো কমিটি

বিএনপির সমাবেশের পর ঐক্যের লিয়াজো কমিটি

আগামী শনিবার বিএনপির সমাবেশের পর 'বৃহত্তর জাতীয় ঐক্যের' লিয়াজো কমিটি ...