সিটি নির্বাচন

আরিফের উন্নয়নে নিষ্প্রভ কামরান

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০১৮     আপডেট: ০১ আগস্ট ২০১৮       প্রিন্ট সংস্করণ     

শাহেদ চৌধুরী ও চয়ন চৌধুরী, সিলেট থেকে

ভোটযুদ্ধের মধ্যে টানটান উত্তেজনা, সংঘর্ষ, গুলি- সবই ছিল; অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের তীরে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টাও হয়েছে। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে ফল ঘোষণার মুহূর্ত। অনেক নাটকীয়তার পর গভীর রাতে ফল ঘোষণার পরও মেয়র পদে চূড়ান্ত বিজয়ীর নাম ঘোষণা হয়নি। সিলেট সিটি নির্বাচনে দুটি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ স্থগিত হওয়ায় আটকে গেছে ফল। তবে ভোটের ব্যবধানে স্পষ্ট এগিয়ে আছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। টানা দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র হতে তার আর চাই বড়জোর ৮২ ভোট; তাও যদি সব ভোটার ভোটকেন্দ্রে যান। এই দুটি কেন্দ্রে রয়েছে চার হাজার ৭৮৭ ভোটার।

সিলেট সিটি নির্বাচনের শুরু থেকেই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের পাশাপাশি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে অনেক টানাপড়েন ছিল। ২০১৩ সালের সর্বশেষ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের পরাজয়ের নেপথ্যে দলীয় কোন্দল ছিল বলে মনে করেন অনেকে। এবারের নির্বাচনেও দলের একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী থাকায় দ্বন্দ্ব-বিভেদের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে প্রচারের শুরুতে আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও দলীয় নৌকা প্রতীকের পক্ষে শেষ পর্যন্ত ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নেমেছিলেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

অন্যদিকে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীকে দলের অভ্যন্তরীণ ও জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়েছে। সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সেলিম দলের মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে মেয়র পদে প্রার্থী হলেও শেষ পর্যন্ত সরে দাঁড়ান। তবে সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির এহসানুল মাহবুব জুবায়ের শেষ পর্যন্ত টিকে ছিলেন ভোটযুদ্ধে। এতে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর জন্য ভোটের হিসাব কঠিন হলেও ব্যক্তি ইমেজে তিনি তা কাটিয়ে উঠেছেন।

স্থানীয় বিশ্নেষকরা মনে করছেন, 'উন্নয়নের' মাপকাঠিতে সাবেক মেয়র কামরানকে টেক্কা দিয়েছেন আরিফুল হক চৌধুরী। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার ও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সহযোগিতার কথা স্বীকার করে প্রচারে কামরানকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছেন আরিফুল হক চৌধুরী। তার এই কৌশল সাধারণ ভোটারদের মধ্যে দাগ কাটতে সক্ষম হয়েছে।

তবে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ চেষ্টায় এবার কোনো কমতি ছিল না বলে মনে করেন দলের মহানগর সাধারণ সম্পাদক ও মেয়র প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আসাদ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সিলেট নগরীতে সব সময় নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা বিজয়ী হন। অতীতের জাতীয় নির্বাচনে তার প্রমাণ মিলেছে। এবারের নির্বাচনে দুর্ভাগ্যবশত মেয়র পদে পিছিয়ে থাকলেও কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা ভালো করেছেন। এতেই বোঝা যায়, সিলেটবাসী আওয়ামী লীগকে পছন্দ করে।

সিলেটবাসীর কাছে আন্তরিক আচরণে নিজের একটি ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছিলেন কামরান। তবে এবারের নির্বাচনে তার এই ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সিলেটের সভাপতি ফারুক মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, ব্যক্তি ইমেজ ভোটের ফলে প্রভাব ফেলেছে। কামরান ভালো মানুষ। কিন্তু ১৭-১৮ বছর তিনি মেয়র ও পৌর চেয়ারম্যান হিসেবে কী উন্নয়ন করেছেন; প্রচারের সময় তা তুলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন। অন্যদিকে আরিফুল হক চৌধুরী দুই বছরে দৃশ্যমান উন্নয়নে এগিয়ে গেছেন।

নির্বাচনে নিজের কেন্দ্র সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়েও হেরেছেন কামরান। এই কেন্দ্রে তিনি পেয়েছেন ৬৪৬ ভোট। বিপরীতে আরিফুল হক চৌধুরী পেয়েছেন ৭৭৬ ভোট।

১৭ কেন্দ্রে পুনরায় ভোট চান কামরান :কামরান ১৭টি কেন্দ্রে অনিয়ম ও জাল ভোটের অভিযোগ তুলে পুনরায় ভোট চেয়েছেন। এসব কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন না দিলে আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার ছিনিয়ে আনার ঘোষণা দেন সাবেক এই মেয়র। গতকাল মঙ্গলবার সকালে নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, নির্বাচনের ফল এখনও পুরোপুরি ঘোষণা করা হয়নি। নগরীর যে ক'টি কেন্দ্র নিয়ে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে, রিটার্নিং অফিসারকে বলেছি যে, এসব কেন্দ্রে ফের নির্বাচন চাই।

এদিকে, গোলযোগের অভিযোগে স্থগিত দুটি কেন্দ্রে আগামী ১০ দিনের মধ্যে পুনর্নির্বাচন হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. রফিকুল ইসলাম। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান আরিফ :নির্বাচনে সবাইকে ফল মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল। পাশাপাশি একটি সুন্দর নগরী গড়ে তোলার জন্য সিলেটবাসীর সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারত শেষে সিলেটের সম্প্রীতির ঐতিহ্যের কথা উল্লেখ করে আরিফুল বলেন, সিলেটি হিসেবে আমরা গৌরবান্বিত। কে আওয়ামী লীগ, কে জাতীয় পার্টি কিংবা জামায়াত- আমাদের কাছে সে প্রশ্ন নেই। আমরা মিলেমিশে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে সিলেটকে এগিয়ে নিতে চাই।

নির্বাচনের ফলে মেয়র পদে এগিয়ে থাকা আরিফ একে গণতন্ত্রের বিজয় উল্লেখ করে বলেছেন, নগরীতে কোনো বিজয় মিছিল হবে না। কেননা এই বিজয় নগরবাসীর, এই বিজয় গণতন্ত্রের। জনগণ রায় দিয়েছেন। তিনি বলেন, নগরবাসীকে যে ওয়াদা দিয়েছি, সেই ওয়াদা যেন রাখতে পারি। সোমবার ভোট গ্রহণের পরপর নির্বাচন প্রত্যাখ্যানের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে আরিফুল বলেন, নির্বাচন বা নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করিনি। যেসব কেন্দ্রে হামলা হয়েছে, আমি সেই কেন্দ্রগুলোর নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করেছি।

একক নয়, যৌথ নেতৃত্ব

একক নয়, যৌথ নেতৃত্ব

অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে চলতি মাসেই আত্মপ্রকাশ ...

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনে যেতে চায় বিএনএ

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচনে যেতে চায় বিএনএ

বিএনপির সাবেক মন্ত্রী ও তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার ...

কালাইয়ে বেড়েছে কিডনি বিক্রি

কালাইয়ে বেড়েছে কিডনি বিক্রি

জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় অভাবী মানুষের কিডনি বেচাকেনা আবারও বেড়েছে। অভাবের ...

চট্টগ্রামে মহড়া, অস্ত্রধারী ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

চট্টগ্রামে মহড়া, অস্ত্রধারী ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার

চট্টগ্রাম কলেজে ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গত বুধবার দু'পক্ষের ...

জেএমবিকে অর্থ জোগাচ্ছে জঙ্গি শায়খের পরিবার

জেএমবিকে অর্থ জোগাচ্ছে জঙ্গি শায়খের পরিবার

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামা'আতুল মুজাহিদীন অব বাংলাদেশকে (জেএমবি) চাঙ্গা ...

রাত ১১টার পর ফেসবুক বন্ধ করে দেয়া উচিত: রওশন

রাত ১১টার পর ফেসবুক বন্ধ করে দেয়া উচিত: রওশন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক রাত ১১টার পর বন্ধ করে দেয়া ...

আফগানদের কাছে বড় হার বাংলাদেশের

আফগানদের কাছে বড় হার বাংলাদেশের

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটা বাংলাদেশ প্রস্তুতি হিসেবে নিচ্ছে। এমন একটা কথা ...

বিশ্বে প্রতি ৫ সেকেন্ডে ১ শিশুর মৃত্যু: জাতিসংঘ

বিশ্বে প্রতি ৫ সেকেন্ডে ১ শিশুর মৃত্যু: জাতিসংঘ

ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), জাতিসংঘের জনসংখ্যা বিভাগ ও বিশ্ব ...