মন্তব্য

বাঁ থেকে— মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, মামুনুর রশীদ, শাহরিয়ার কবির

'এমন স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে গর্বের'

 তাসলিমা তামান্না |  প্রকাশ : ০১ নভেম্বর ২০১৭ | আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০১৭      

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো। এ বিষয়ে সমকাল অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, নাট্যকার ও অভিনেতা মামুনুর রশীদ এবং একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির। তাদের মতে, এমন স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে গর্বের।

মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, 
সভাপতি, কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)

এটি  একটি অসাধারণ বক্তৃতা ছিল। তবে এটা শুধুমাত্র বক্তৃতার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। অনেক ঐতিহাসিক ঘটনাবলী নিয়েই ৭ মার্চের বক্তৃতা আবর্তিত হয়েছে। ঐতিহাসিক এই বক্তৃতা বঙ্গবন্ধুর মুখ দিয়ে উচ্চারিত হলেও এটি ছিল দেশের সমস্ত জনগণের আন্দোলনের ফসল। এই অসাধারণ বক্তৃতার জন্য বঙ্গবন্ধু অবশ্যই কৃতিত্বের দাবিদার। এজন্য বঙ্গবন্ধুকে অভিনন্দন জানাই। সেই সংঙ্গে দেশের সব জনগণকে অভিনন্দন। তবে এখন বঙ্গবন্ধুর দল মানে আওয়ামী লীগ, দেশকে বিপরীত ধারায় প্রভাবিত করছে। মুক্তিযুদ্ধের ধারায় দেশকে ফিরিয়ে আনার জন্য নতুন রাজনৈতিক শক্তির সৃজন করতে হবে। এই কাজ আওয়ামী লীগকে দিয়ে হবে না। সমাজতন্ত্র কায়েম করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চারনীতির ধারায় দেশ চালাতে হবে। তাহলেই ৭ মার্চের ঐতিহাসিক বক্তৃতার প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো হবে।

মামুনুর রশীদ,
নাট্যকার ও অভিনেতা 

ইউনেস্কো ৭ মার্চের ভাষণকে ঐতিহাসিক দলিল হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে জেনে খুশি হয়েছি। এটা যথার্থ হয়েছে। আরো আগেই এই স্বীকৃতি পাওয়া উচিত ছিল। সৌভাগ্যক্রমে আমি ৭ মার্চের সেই ঐতিহাসিক ভাষণের দিন রেসকোর্স ময়দানে উপস্থিত ছিলাম। ভাষণের প্রতিটা মুহূর্ত তাই উপভোগ করেছিলাম। ব্ক্তৃতা শুরু হওয়ার আগে আমাদের মধ্যে অনেক দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাজ করছিল। না জানি কী বলবেন ব্ঙ্গবন্ধু। কিন্তু বক্তৃতা শুরু হওয়ার পর পর তা কেটে  যায়। আমরা বুঝলাম একটা যুদ্ধ শুরু হতে যাচ্ছে। এটা ছিল তার প্রস্তুতি। একাত্তরে জন্ম নেওয়া এখনকার পরিণত বয়সীরাও বুঝতে পারবেন না সেই ভাষণে কী তীব্র উত্তেজনা ছিল।

শাহরিয়ার কবির,
 সভাপতি, একাত্তরের ঘাতক নির্মূল কমিটি

ঐতিহাসিক এই ভাষণকে আরো আগেই অনেক আন্তর্জাতিক সংগঠন স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে ইউনেস্কোর এই স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে তরুণ প্রজন্মকে আলোড়িত করবে। এছাড়া যারা ঐতিহাসিক দলিল নিয়ে গবেষণা করেন তাদেরকে নতুনভাবে আমাদের মুদ্ধিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে আগ্রহী করে তুলবে। আমি মনে করি, পৃথিবীর সেরা পাঁচটি ভাষণের একটি হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ। বাকিগুলো হলো— আব্রাহাম লিংকনের গেটিসবার্গের ভাষণ, লেলিনের রুশ বিপ্লব উত্তর ভাষণ, মাহাত্মা গান্ধীর ভারত ছাড় আন্দোলনের সূচনাকালীন ভাষণ, মার্টিন লুথার কিংয়ের 'আই হ্যাভ এ ড্রিম' শীর্ষক ভাষণ। ৭ মার্চের ভাষণ শুধু ভাষণ নয়। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসের গতি পরিবর্তন করেছে। জাতির স্বপ্ন, আকাঙ্খা প্রতিফলন করেছে, যা বিশ্বে অনন্য এক উদাহরণ। এই ঐতিহাসিক ভাষণ শুধু ইতিহাসই সৃষ্টি করেনি, মানচিত্রও সৃষ্টি করেছে। দেরিতে হলেও ইউনেস্কোর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থা যে এটাকে স্বীকৃতি দিল, এটা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের একটা বিষয়। এ গর্বকে ধারণ করে নতুন প্রজন্ম এগিয়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।



আরও পড়ুন

স্টল ব্যবস্থাপনায় বাংলা একাডেমির পরিকল্পনা দরকার

 অনলাইন ডেস্ক

চলছে অমর একুশে গ্রন্থমেলা। বাংলা একাডেমি আয়োজিত এই মেলার রয়েছে ...

১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

'গণজাগরণ মঞ্চ' গণমানুষের আন্দোলনের একটা রূপ

 অনলাইন ডেস্ক

১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে গড়ে উঠা আন্দোলন 'গণজাগরণ ...

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

মধ্যরাতে শব্দদূষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে

 অনলাইন ডেস্ক

গভীর রাত পর্যন্ত আবাসিক এলাকায় উচ্চশব্দে গান-বাজনা রাজধানীর বাসিন্দাদের জন্য ...

২৩ জানুয়ারি ২০১৮

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঝুঁকি নিলে ডাকসু নির্বাচন সম্ভব

 অনলাইন ডেস্ক

১৯৯০ সালের ৬ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ...

১৯ জানুয়ারি ২০১৮