মন্তব্য

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার

 প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০১৮      

 অনলাইন ডেস্ক

গত ৩ এপ্রিল রাজধানীতে দুই বাসের চাপায় হাত হারিয়েছেন তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী রাজীব হোসেন। এই ঘটনার দু'দিন পর, ৫ এপ্রিল সন্তানকে স্কুল থেকে আনতে গিয়ে দুই বাসের মাঝখানে পড়ে লালাবাগের আয়েশা খাতুন ও তার মেয়েকে বহনকারী একটি রিকশা।  রিকশাটি বেশ কিছুদূর টেনে নিয়ে যায় বাস দুটি। এতে মেরুদণ্ডের হাড় ভেঙে যায় যাত্রী আয়েশার। 

হাত হারানো রাজীব ও আহত আয়েশা এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। যাত্রীদের অভিযোগ, চালকদের প্রতিযোগিতার কারণে রাজধানীতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। বাসচালকরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। কিছুতেই তাদেরকে থামনো যাচ্ছে না। সড়ক দুর্ঘটনা রোধ এবং চালকদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমকাল অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন অভিনেতা ও 'নিরাপদ সড়ক চাই'-এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন

রাজীবের হাত হারানোর যে ঘটনা এটা আসলে সহ্য করা যায় না। খুবই অমানবিক একটি ঘটনা। আবার দুই বাসের মাঝখানে পড়ে যে মা গুরুতর আহত হয়েছেন সেটাও বেশ কষ্টদায়ক। এসব ঘটনা অবশ্যই আমাদের পীড়া দেয়। 

আসলে সড়ক ব্যবহারের যে বিধি রয়েছে তা অনেকে মানছেন না। গাড়িতে উঠার পর হাত বা শরীরের কোনো অংশ বাইরে রাখা ঠিক নয়। গাড়িতে ঝুলে যাওয়াও ঠিক নয়। রিকশা রাস্তার মাঝখান দিয়ে যাবে না। তারপরও এসব ঘটনা হচ্ছে। এ কারণেও দুর্ঘটনা বাড়ছে। 

বাংলাদেশ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) তথ্য অনুযায়ী সারাদেশে নিবন্ধিত গাড়ি ৩৩ লাখ। অথচ নিবন্ধিত চালক আছেন মাত্র ১৯ লাখ। যদিও ওইসব গাড়ি চালাতে ৪৫ থেকে ৫০ লাখ চালক থাকা উচিত। একজন চালক টানা গাড়ি চালাতে পারেন না। তাই ট্রাকের ক্ষেত্রে না হলেও বাসের বদলি চালক থাকা উচিত। কিন্তু আমাদের তা নেই। আবার অনেকে ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়াই গাড়ি চালাচ্ছেন। এসব করণেই দুর্ঘটনা ঘটছে। 

মহাসড়ক এবং শহরের ভেতর বাস চলাচলের পৃথক নীতিমালা রয়েছে। ওই নীতিমালাও মানা হচ্ছে না। যেমন, রাজধানীর বাসগুলো চলে চুক্তি ভিত্তিতে। বেশিরভাগই ভাড়া নেয়া হয়। আগে শুধু রিকশা চলত দিন চুক্তিতে। এরপরে সিএনজি চুক্তিতে চলা শুরু করল। এখন বাস চলছে চুক্তিতে। একজন সিএনজি চালককে দিনে ৫০০ কিংবা ৮০০ টাকা দিতে হয় মালিককে। কিন্তু বাসের ক্ষেত্রে টাকার অংকটা তা থাকছে না। তেল খরচ, চালক ও তার সহকারীর বেতন বাদ দিয়ে মালিককে একটা নির্দিষ্ট অংকের টাকা দিতে হচ্ছে প্রতিদিন। যেহেতু টাকা রোজগারের চুক্তি থাকছে সে কারণে বাসগুলোর মধ্যে তাড়াতাড়ি যাতায়াতের প্রতিযোগিতা তৈরি হচ্ছে। তবে এটাই যে চালকদের প্রতিযোগিতা করার একমাত্র কারণ তা নয়। 

পরিবহন ব্যবসায় জড়িতরাও চালকদের নানাভাবে সাহস জোগাচ্ছেন। চালকরা সমস্যায় পড়লে পরিবহন খাতের সংগঠনগুলো ধর্মঘটের হুমকি দিচ্ছে, করছেও। তাই আমরা দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছি, সড়কের ওপর চাপ কমিয়ে রেলের দিকে নজর দিতে হবে। রেল যোগাযোগ আরও উন্নত করা গেলে সড়কের ওপর চাপটা অনেক কমে আসত। কিন্তু না বাড়ছে ট্রেন, না বাড়ছে রেলপথ। 

এমন পরিস্থিতিতে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সম্মিলিত প্রচেষ্টা দরকার। পরিবহন খাতে সরকারের আরও নিয়ন্ত্রণ দরকার। অব্যবস্থাপনা বন্ধ করা না গেলে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা যাবে না। 



তফসিল পেছানোর দাবি ইসির মানা উচিত: বদিউল আলম

 অনলাইন ডেস্ক

নির্বাচন কমিশন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক সপ্তাহ পেছানোর ঘোষণা ...

১৩ নভেম্বর ২০১৮

আইন করে ফেলে রাখলে সূচকে অগ্রগতি হবে না: ড. জাহিদ হোসেন

 অনলাইন ডেস্ক

কোনো দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের নিয়ম-কানুন ও তার বাস্তবায়ন কতটুকু সহজ বা ...

০৫ নভেম্বর ২০১৮

চিঠি দেব না, ডাকলে সংলাপে যাব: সেলিম

 অনলাইন ডেস্ক

একাদশ সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু করতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় ...

৩১ অক্টোবর ২০১৮

'এমন অযৌক্তিক ধর্মঘটের ওপর সরকারের কী কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই'

 অনলাইন ডেস্ক

সম্প্রতি পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনসহ আট দফা দাবিতে ...

২৯ অক্টোবর ২০১৮