মন্তব্য

'উ. কোরিয়ার সঙ্গে সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজনেই'

 প্রকাশ : ১৩ জুন ২০১৮ | আপডেট : ১৫ জুন ২০১৮      

 অনলাইন ডেস্ক

ড. ইমতিয়াজ আহমেদ

সিঙ্গাপুরের সেন্তোসা দ্বীপে পাঁচ তারকা হোটেল ক্যাপেলায় মঙ্গলবার এক ঐতিহাসিক বৈঠক করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। সামরিক হামলার হুমকি-ধমকির অবসান ঘটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার সমঝোতায় এলেন দুই নেতা। বৈঠকে ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কোরীয় উপদ্বীপে 'যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা' বন্ধ করবেন। অন্যদিকে কিম প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের। এমন প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি একটি চুক্তিপত্রেও সই করেন তারা। বহুল আলোচিত এই বৈঠকের কূটনৈতিক দিক বিশ্লেষণ করে সমকাল অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ।

সব মিলিয়ে চারটি বিষয় এখানে তুলে ধরা যেতে পারে। প্রথম বিষয় হলো, ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষমতায় আসার পর মোটামুটি হিসাব নিকাশ শুরু করেছেন কোথায় খরচ কমানো যায়। সেই সঙ্গে কীভাবে সেই খরচ কমানোর মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আরও প্রাধান্য দেওয়া যায় সেটাও তিনি ভেবেছেন। ট্রাম্প হিসাব করেছেন, জাতীয় স্বার্থে কোন জায়গায় সামরিক বাহিনী কতখানি প্রসারিত হওয়া দরকার। সে অনুযায়ী, দুই জায়গা থেকে ট্রাম্প তা গুটিয়ে নিতে যাচ্ছেন। ইউরোপ থেকে তিনি সামরিক বাহিনী গুটিয়ে নিতে চাইছেন। ইউরোপকে তিনি বলেছেন, 'তোমাদের নিরাপত্তায় আমি এত খরচ করবো কেন? এটা আমার একার দায়িত্ব না।' এভাবে ইউরোপকে তিনি একটা চাপ দিচ্ছেন। একইভাবে ট্রাম্প দেখছেন, এশিয়াতে বিশেষ করে দুই কোরিয়ার ক্ষেত্রে আমেরিকা যে ব্যয় করছে তাতে তাদের স্বার্থ রক্ষা হচ্ছে না। এর পেছনে ট্রাম্প দুটি কারণ দেখছেন।  একটা হলো, দুই কোরিয়ার মধ্যে একটা বড় ধরনের সমঝোতা তৈরি হয়েছে। তাদের মধ্যে কথাবার্তা হচ্ছে, আদান-প্রদান হচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভাবছেন, দুই কোরিয়ার মধ্যে যদি বৈরিতা নাই-ই থাকে, তাহলে কেন ওখানে কেন যুক্তরাষ্ট্র অর্থ খরচ করবে? 

দ্বিতীয়ত, ট্রাম্প দেখছেন— চীন একটি বড় শক্তি। দেশটি যেভাবে ক্ষমতাশালী হয়ে উঠেছে তাতে অস্ত্র প্রতিযোগিতা করে সেই ৫০-৬০ দশকের ভাবনা নিয়ে কোরীয় উপদ্বীপে বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ার কারণে সেখানে মার্কিন সামরিক বাহিনী রেখে চীনের দিকে প্রতিরক্ষা দেয়াল রাখার কোনো মূল্য নেই। তাছাড়া চীনের এখন যে অর্থনৈতিক কাঠামো তাতে সেখানে পাল্লা দিয়ে প্রতিরক্ষা বাহিনী রেখে খুব একটা সুবিধা করা যাবে না। এর প্রয়োজনীয়তা কতখানি আছে সেটাও ভাবছেন ট্রাম্প। চীনকে চারিদিকে আটকে রেখে কমিউনিজমকে থামানোর যে বিষয়টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ছিল সেই ভাবনাটা এখন আর নেই। কারণ চীন এখন বিশ্বজুড়ে ব্যবসা বাণিজ্য করছে। চীনের এক ধরনের উত্থান হয়েছে। আরেকটি বিষয় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেবেছেন, তা হলো— আমেরিকার অর্থনীতিকে যদি সজাগ করতে হয় তাহলে সামরিক অর্থনীতির চেয়ে বেসামরিক অর্থনীতিতে জোর দিতে হবে। রাশিয়ার মধ্যেও ইদানিং এটা দেখা যাচ্ছে। 

ট্রাম্প ভাবছেন— সামরিক কাঠামোয় ভর করে কিছুটা হয়তো লাভ থাকতে পারে; কিন্তু বিশ্বায়নের যুগে বরং বেশি লাভ করা যায় বেসামরিক মার্কেট তৈরি করে উৎপাদন বাড়িয়ে। 

তৃতীয় বিষয় হলো, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সবসময় খবরে থাকতে চান, সেটা পজেটিভ-নেগিটিভ যাই হোক না কেন। অনেকেই ভাবলেন, তিনি জি-সেভেনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন, দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পরে যে কাঠামো তৈরি হয়েছে সেটা ভেঙে ফেলতে চাচ্ছেন, সেটা শান্তির দিকে নেই ইত্যাদি। ট্রাম্প ভাবলেন, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে এই আলোচনায় যে নাটক তৈরি হবে তাতে আবারও তিনি খবরে থাকতে পারবেন এবং তাই হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নিয়ে আবার আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। 

চতুর্থ বিষয়টা হলো, আমেরিকায় ট্রাম্পের যে সমর্থক দল রয়েছে তারা এতে বেশ খুশি। যেহেতু মধ্যবর্তী নির্বাচন এসে যাচ্ছে এবং অনেকেই মনে করছেন এই নির্বাচনে ট্রাম্প সুবিধা করতে পারবেন না, সেক্ষেত্রে কিম জং উনের সঙ্গে ট্রাম্পের এই সমঝোতা ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।  ট্রাম্পের প্রধান উদ্দেশ্য হলো নির্বাচনে জেতা। তাছাড়া, কোরিয়া ইস্যু ট্রাম্পের নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল। তিনি কথা দিয়েছিলেন এ বিষয়ে বড় পদক্ষেপ নিবেন। ট্রাম্প সেটা করে দেখালেন। তাই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চুক্তিতে তার সমর্থকরা মহাখুশি এবং তারা মনে করছেন, ট্রাম্পই আবার নির্বাচনে উঠে আসবেন।

এই চারটি বিষয় যদি আমরা খেয়াল করি তা হলে দেখবো, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি ট্রাম্পের জন্য খুবই প্রয়োজনীয় ছিল এবং তিনি সেটা করলেন।



তফসিল পেছানোর দাবি ইসির মানা উচিত: বদিউল আলম

 অনলাইন ডেস্ক

নির্বাচন কমিশন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এক সপ্তাহ পেছানোর ঘোষণা ...

১৩ নভেম্বর ২০১৮

আইন করে ফেলে রাখলে সূচকে অগ্রগতি হবে না: ড. জাহিদ হোসেন

 অনলাইন ডেস্ক

কোনো দেশে ব্যবসা-বাণিজ্যের নিয়ম-কানুন ও তার বাস্তবায়ন কতটুকু সহজ বা ...

০৫ নভেম্বর ২০১৮

চিঠি দেব না, ডাকলে সংলাপে যাব: সেলিম

 অনলাইন ডেস্ক

একাদশ সংসদ নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু করতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় ...

৩১ অক্টোবর ২০১৮

'এমন অযৌক্তিক ধর্মঘটের ওপর সরকারের কী কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই'

 অনলাইন ডেস্ক

সম্প্রতি পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইন সংশোধনসহ আট দফা দাবিতে ...

২৯ অক্টোবর ২০১৮