পরিবার সঞ্চয়পত্র পাওয়া যাচ্ছে না

প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮       প্রিন্ট সংস্করণ     

ওবায়দুল্লাহ রনি

নাসরিন সুলতানা সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল লোকাল অফিস থেকে ৩৫ লাখ টাকার পরিবার সঞ্চয়পত্র কেনেন ২০১৩ সালের জুলাই মাসে। মেয়াদ পূর্তির পর থেকে তিনি এখন পুনর্বিনিয়োগের চেষ্টা করছেন। শাখা থেকে জানানো হয়, আপাতত বই বা স্ট্ক্রিপ্ট না থাকায় পরে আসতে হবে। তবে সুনির্দিষ্টভাবে তাকে কোনো তারিখ বলা হয়নি। পরে কয়েক দফা যোগাযোগ করেও সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেননি তিনি। এরপর বাধ্য হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকে আসেন। সেখানে মুখোমুখি হন ভিন্ন অভিজ্ঞতার। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাউন্টার থেকে বলা হয়, তিনি চাইলে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকার পরিবার সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন। একজন নারী সদস্য সর্বোচ্চ ৪৫ লাখ টাকার পরিবার সঞ্চয়পত্র কিনতে পারেন।

সঞ্চয়পত্র নিয়ে এই সংকট শুধু রাজধানী ঢাকায় নয়, চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আমাদের এই প্রতিবেদকের কাছে অনেকেই অভিযোগ করেছেন যে, তারা স্থানীয় ব্যাংক বা ডাকঘর অফিসে গিয়ে চাহিদা অনুযায়ী সঞ্চয়পত্র কিনতে পারছেন না। নানা অজুহাতে তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসে গতকাল সরেজমিনে দেখা গেছে, সঞ্চয়পত্র বিক্রির কাউন্টারগুলোর সামনে গ্রাহকের ব্যাপক ভিড় ও হৈচৈ। ভেতরে গিয়ে দেখা গেল, মতিঝিল অফিসের নোটিশ বোর্ডসহ বিভিন্ন জায়গায় বড় অক্ষরে লেখা আছে- 'পরিবার সঞ্চয়পত্রের এক লাখ টাকা মূল্যমানের স্ট্ক্রিপ্ট ছাড়া অন্যান্য মূল্যমানের স্ট্ক্রিপ্ট না থাকায় সাময়িকভাবে বিক্রি বন্ধ থাকবে।' মতিঝিল অফিসের কাউন্টারের সামনে ঘুরতে থাকা সঞ্চয়পত্র ক্রয়ে আগ্রহী ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বললে তারা নিজেদের ক্ষোভের কথা জানান। সবার বক্তব্যের মূল কথা, ব্যাংকে আমানত রেখে এখন ৬ থেকে ৭ শতাংশ সুদ পাচ্ছেন। এর ওপর রয়েছে নানা চার্জ। আবার অনেক ধরনের হয়রানিতেও পড়তে হয়। এ কারণে সঞ্চয়পত্র কিনে রাখতে চান তারা। অনেকের সংসার চলে সঞ্চয়পত্র থেকে পাওয়া মুনাফার টাকায়। বেশ আগে থেকেই বিভিন্ন ব্যাংকে গিয়ে সঞ্চয়পত্র কেনা যাচ্ছে না। এখন বাংলাদেশ ব্যাংকও সে পথে হাঁটছে। তুলনামূলক বেশি মুনাফার কারণে তাদের বেশিরভাগই পরিবার সঞ্চয়পত্র কিনতে এসেছেন।

স্ত্রীর নামে পরিবার সঞ্চয়পত্র কিনতে মিরপুর থেকে আসা জামাল উদ্দিন সমকালকে বলেন, অনেক জ্যাম ঠেলে আসার পর এ অবস্থা দেখে তিনি হতাশ। এ সময় তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সঞ্জীব দাশ নামে আরেক গ্রাহক বলেন, এতদিন বড় অঙ্কের সঞ্চয়পত্র কিনতে চাইলে এক লাখ টাকার অনেকগুলো স্ট্ক্রিপ্ট দেওয়া হতো। তবে আজ (বৃহস্পতিবার) একজনের কাছে এক লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্র বিক্রি করা হচ্ছে না। এ রকম না করে সরকার একবারে নোটিশ দিয়ে বিক্রি বন্ধ করে দিলে আর তাদের হয়রানিতে পড়তে হতো না।

দেশের সবচেয়ে বড় এবং সরকারের ট্রেজারি কার্যক্রম পরিচালনাকারী সোনালী ব্যাংকের লোকাল অফিসে সরেজমিনে গিয়ে আরও ভয়াবহ চিত্র মিলেছে। এই শাখা থেকে বেশ কিছুদিন ধরে সব মূল্যমানের পরিবার সঞ্চয়পত্র বিক্রি বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে। এজন্য বিভিন্ন সময়ে নানা তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে ব্যাংক কর্মকর্তাদের।

অন্য ব্যাংকে গিয়ে সঞ্চয়পত্র কিনতে না পারার অনেক অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানতে চাইলে সোনালী ব্যাংকের লোকাল অফিসের মহাব্যবস্থাপক নিজাম উদ্দীন আহম্মেদ চৌধুরী সমকালকে বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে চাহিদামতো স্ট্ক্রিপ্ট না পাওয়ায় তারা বিক্রি করতে পারছেন না। এক্ষেত্রে বেশি সমস্যা হচ্ছে পুনর্বিনিয়োগের ক্ষেত্রে। তবে কেন এ রকম হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে তিনি কিছু জানেন না। বিক্রির সঙ্গে সংশ্নিষ্ট অন্য এক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, এই শাখার মাধ্যমে আগে প্রতিদিন গড়ে তিন কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হতো। এখন তা নেমে এসেছে দেড় কোটি টাকার নিচে। এ ছাড়া অনেকে জানেন না, সঞ্চয়পত্র সোনালী ব্যাংকের নিজস্ব কোনো প্রোডাক্ট নয়। এটা সরকারের একটি স্কিম।

সংশ্নিষ্টরা জানান, গত কয়েক অর্থবছর ধরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি সঞ্চয়পত্র বিক্রি হচ্ছে। এতে করে সুদ ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়ায় বিক্রি কমানোর লক্ষ্যে স্ট্ক্রিপ্ট সরবরাহ বন্ধ রাখা সরকারের কৌশল হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা নেই। যে কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে গ্রাহকদের রোষানলে পড়তে হচ্ছে।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, সঞ্চয়পত্রে সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ ঠেকেছে দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বিপুল অঙ্কের এ অর্থের বিপরীতে সরকারকে গড়ে ১১ শতাংশের বেশি সুদ গুনতে হচ্ছে। অথচ ব্যাংক থেকে এখন ৪ থেকে ৬ শতাংশ সুদে ঋণ পাচ্ছে সরকার। এ পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলো অনেকদিন ধরে সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমিয়ে গ্রাহকদের নিরুৎসাহিত করার দাবি জানাচ্ছে। যদিও অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচনের আগে সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমাবে না সরকার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিসের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিলসহ বিভিন্ন শাখা এবং বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বিভিন্ন মূল্যমানের সঞ্চয়পত্রের স্ট্ক্রিপ্টের জন্য চাহিদাপত্র দেয়। সে আলোকে বাংলাদেশ ব্যাংক সঞ্চয় ব্যুরোতে চিঠি লেখে। গত কয়েক মাস ধরে বারবার চিঠি এবং তাগাদাপত্র দিয়েও স্ট্ক্রিপ্ট পাচ্ছে না ব্যাংকগুলো। ফলে নানা অপ্রীতিকর পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে তাদের। বুধবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতিঝিল অফিসে দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে বড় অঙ্কের সঞ্চয়পত্র কিনতে না পেরে অনেকে মারমুখী হয়ে ওঠেন। যে কারণে বৃহস্পতিবার নোটিশ টানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, এ রকম সংকটের বিষয়টি নিয়ে সঞ্চয় অধিদপ্তরে দফায়-দফায় যোগাযোগ করেও কোনো সুরাহা হচ্ছে না। আবার আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানোও হচ্ছে না। তবে মৌখিকভাবে একেক সময়ে একেক রকম বক্তব্য দিচ্ছে সঞ্চয় অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। কখনও বলা হচ্ছে, চাহিদামতো স্ট্ক্রিপ্ট ছাপানোর সক্ষমতা না থাকায় এমন হচ্ছে। কখনও লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করায় সরকারের বিক্রি কমানোর চেষ্টার কথা বলা হচ্ছে। কখনও বলা হচ্ছে, সঞ্চয়পত্র ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং অটোমেশনের জন্য আপাতত স্ট্ক্রিপ্ট ছাপানো কমিয়ে দেওয়ায় এ রকম হয়েছে।

এ অভিযোগ অস্বীকার করে জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সামছুন্নাহার বেগম সমকালকে বলেন, যখন যে চাহিদা আসছে সে অনুযায়ী স্ট্ক্রিপ্ট সরবরাহ করা হচ্ছে। স্ট্ক্রিপ্ট সরবরাহ বন্ধ করার বিষয়টি সঠিক নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক, সোনালী ব্যাংকসহ বিভিন্ন জায়গায় সরেজমিনে গিয়ে না পাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'হতে পারে ওদের সাপ্লাই নেই। তবে আমরা দিচ্ছি।' তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান চাহিদাপত্র দেয়, সে আলোকে সঞ্চয় অধিদপ্তর তা সরবরাহ করে। এটা বন্ধের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।'

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলাম সমকালকে বলেন, 'সঞ্চয়পত্র বিক্রি বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব কোনো কাজ নয়। সঞ্চয় ব্যুরো থেকে বাংলাদেশ ব্যাংককে স্ট্ক্রিপ্ট দেওয়া হয়। সে ক্ষেত্রে তারা সরবরাহ না করলে আমরা পাব না। এটা সরকারের কাজ, অতিরিক্ত হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক করে থাকে।'

ম্যানইউয়ের জয়ের দিনে হোঁচট ম্যানসিটির

ম্যানইউয়ের জয়ের দিনে হোঁচট ম্যানসিটির

প্রতিপক্ষের মাঠে যেয়ে ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছে মরিনহোর ...

পেনাল্টিতে জয় জুভদের, লাল কার্ড রোনালদোর

পেনাল্টিতে জয় জুভদের, লাল কার্ড রোনালদোর

স্প্যানিশ ক্লাব ভ্যালেন্সিয়ার মাঠ থেকে ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ...

রোমাকে সহজে হারাল রিয়াল

রোমাকে সহজে হারাল রিয়াল

রিয়াল মাদ্রিদ চ্যাম্পিয়নস লিগের ফেবারিট। রোনালদোকে নিয়ে পরপর তিনটি চ্যাম্পিয়নস ...

রোনালদোর চ্যাম্পিয়নস লিগ শুরু লাল কার্ডে

রোনালদোর চ্যাম্পিয়নস লিগ শুরু লাল কার্ডে

ঘর্মাক্ত মুখ-চোখ-কপাল। তাতে এক ফোন চোখের পানি পড়লে কি সহজে ...

নির্ভার টাইগারদের সামনে আফগান

নির্ভার টাইগারদের সামনে আফগান

হোটেল থেকে মাঠের দূরত্ব ১৩৯.৫ কিলোমিটার! ঢাকা থেকে এই দূরত্বে ...

বাস্তুচ্যুত শব্দে আপত্তি মিয়ানমারের নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ

বাস্তুচ্যুত শব্দে আপত্তি মিয়ানমারের নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ

নিবন্ধন সম্পন্ন করার পর রোহিঙ্গাদের দেওয়া স্মার্টকার্ডের নাগরিক পরিচিতি কলামে ...

রক্ষা পাক জাম্বুরি পার্ক

রক্ষা পাক জাম্বুরি পার্ক

চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো সাড়ে আট একর জায়গায় নির্মাণ করা হয়েছে ...

ক্ষমতার সঙ্গে থাকার দৌড়ে ধর্মভিত্তিক দলও

ক্ষমতার সঙ্গে থাকার দৌড়ে ধর্মভিত্তিক দলও

সংসদে প্রবেশের দৌড়ে নেমেছে ধর্মভিত্তিক দলগুলোও। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির ...