অন্যের সন্তান জেনেও মাতৃস্নেহে বড় করছেন তারা

প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০১৮      

অনলাইন ডেস্ক

ছবি আনন্দবাজার পত্রিকা

 হাসপাতাল থেকে নবজাতক সন্তানকে নিয়ে বাড়ি ফেরার সপ্তাহখানেক পর থেকেই মা সালেমা সন্দেহ হয়, পেটের সন্তানই হাতে দিয়েছে তো হাসপাতাল? বয়স বাড়তেই বাচ্চার মুখাবয়বে ফুটে উঠতে থাকে উপজাতীয় ছাপ। একই দিনে হাসপাতালে ভর্তি বড়ো উপজাতির নারী শেফালি বড়ো ও তার স্বামী অনিল বড়োর মুখাবয়ব উপজাতি ধাঁচের হলেও শিশুকে দেখতে অন্য রকম হওয়ায় তাঁদের মনেও সন্দেহ দানা বেঁধেছিল। শেষ পর্যন্ত ডিএনএ পরীক্ষা। তাতেই জানা গেল, সালেমার সন্তানকে মানুষ করছেন শেফালি আর শেফালির সন্তানকে মাতৃদুগ্ধ, মাতৃস্নেহে বড় করেছেন সালেমা।

ঘটনাটি ভারতের আসামের দরং জেলায়। 

ইতিমধ্যে দু’বছর সাত মাস বয়স হয়েছে দুই সন্তানের। সন্দেহ সত্যি হওয়ার পরে সন্তানস্নেহে বড় করা কোলের সন্তানকে প্রকৃত মায়ের হাতে তুলে দিতেও মন মানছে না সালেমা ও শেফালির। 

প্রথমে দুই পরিবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, আদালত যা বলবে সেটাই হবে। কিন্তু এখন আলোচনার পরে দুই মা জানিয়েছেন, হঠাৎ করে পরিবেশ বদল হলে শিশুদের মনে প্রভাব পড়বে। তাই সালেমার সন্তান শেফালির কোলে, শেফালির ছেলে সালেমার ঘরেই বড় হবে। 

কী ঘটেছিল?

দরং জেলার শ্যামপুর বদলিচরের বাসিন্দা সাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, ২০১৫ সালের ১১ মার্চ তার স্ত্রী সালেমা ও মেনাপাড়া বেজরপাড়ার বাসিন্দা অনিল বড়োর স্ত্রী শেফালিদেবীকে একই সঙ্গে প্রসূতিকক্ষে নেওয়া হয়। এক সপ্তাহ পরে স্ত্রী-নবজাতককে নিয়ে যে যার বাড়ি ফিরে যান। একদিন বাড়ি ফিরে সাহাবুদ্দিন দেখেন স্ত্রী কাঁদছেন। সন্দেহ, বাচ্চা বদলাবদলি হয়েছে। পরিবারের কাউকে এ কথা বলতে বারণ করেন সাহাবুদ্দিন। কিন্তু স্ত্রীর সন্দেহ দূর হয়নি। সাহাবুদ্দিন বোঝান, শিশুকে নিয়ে এমন সন্দেহ করলে আল্লাহ পাপ দেবেন। বাচ্চার দু’বছর বয়স হলে দেখা যায় তার চেহারায় মঙ্গোলীয় ধাঁচ স্পষ্ট। আড়াই বছর বয়স হলে তারা পুলিশের দ্বারস্থ হন। পুলিশ খোঁজখবর নিয়ে অনিল বড়োর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। বাবা-মা ও শিশুদের ডিএনএর নমুনা হায়দরাবাদে পাঠানো হয়। দেখা যায় সন্দেহই সত্যি। 

শেফালিদেবী বলেন, 'নার্সরা আমার হাতে যে বাচ্চা দিয়েছে তাকেই নিয়েছি। টিপছাপ দিয়ে ফর্ম পূরণ করিয়ে নিয়েছিল ওরা।'

এ নিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তার কাছেও অভিযোগ দায়ের করেছে দুই পরিবার। পুলিশও ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০বি ও ৪২০ ধারায় মামলা রুজু করেছে। 

জেলা প্রশাসক অশোককুমার বর্মণ জানিয়েছেন, এ নিয়ে আদালতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। যদি আদালত প্রকৃত মায়ের কাছে শিশু দু’টিকে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেয়, এবং মায়েরা সন্তানদের ছাড়তে রাজি না হন, তখন দত্তক নেওয়ার আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। 

সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

আরও পড়ুন

জালিয়াতি করে দখল-বিক্রি কমরেড ফরহাদের বাড়ি

জালিয়াতি করে দখল-বিক্রি কমরেড ফরহাদের বাড়ি

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ফরহাদের বাড়ি জালিয়াতির ...

আওয়ামী লীগে তৎপর অর্ধশত তরুণ আইনজীবী

আওয়ামী লীগে তৎপর অর্ধশত তরুণ আইনজীবী

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগ ...

সেই বিপাশার বিয়ে শুক্রবার

সেই বিপাশার বিয়ে শুক্রবার

তখন কতই বা বয়স ছিল তার— ৮ কিংবা ৯ বছর। উদ্ভ্রান্তের ...

 বিদায় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি!

বিদায় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি!

এ যেন বিশ্বকাপের মেলা! ২০১৯ ও ২০২০ সালের পর ২০২১ ...

পিরোজপুরে স্ত্রী ও শ্বশুরকে কুপিয়ে হত্যা

পিরোজপুরে স্ত্রী ও শ্বশুরকে কুপিয়ে হত্যা

পিরোজপুরে ইন্দুরকানি উপজেলার পাড়েরহাটে স্ত্রী ও শ্বশুরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে আপন ...

রোহিঙ্গা শিবিরে দোকান নিয়ে সংঘর্ষে নারী নিহত

রোহিঙ্গা শিবিরে দোকান নিয়ে সংঘর্ষে নারী নিহত

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবিরে দোকান নির্মাণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে ...

মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়াবে ইইউ

মিয়ানমারের ওপর নিষেধাজ্ঞা বাড়াবে ইইউ

রোহিঙ্গা নির্যাতনের জেরে মিয়ানমারের ওপর আরোপিত অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা আরও এক ...

নারীরা এখন আর পিছিয়ে নেই: স্পিকার

নারীরা এখন আর পিছিয়ে নেই: স্পিকার

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি বলেছেন, নারীরা এখন আর ...