লড়াইয়ের বাইরেও জীবন আছে: শর্মিলা

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০১৮      

অনলাইন ডেস্ক

প্রত্যেকের জীবনে এক-একটা কাজের এক-একটা সময় আসে। এখন তার গুছিয়ে সংসার করার সময়, বৃহত্তর সমাজের সঙ্গে মিলেমিশে চলার সময়। শুধু এক জন ‘আন্দোলনকারী’র পরিচয় নিয়ে জীবন কাটাতে চান না তিনি। যখন দরকার ছিল, তখন আন্দোলনেই মন দিয়েছিলেন। তবে এখন শান্তি চান। তা সহনশীলতার মাধ্যমে আসবে বলেই বিশ্বাস। 

'নিজের রাজ্যে আমাকে লড়াইয়ের প্রতীক বানিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু আমার পরিচয় তো শুধু তা নয়। আমিও এক জন সাধারণ নারী!' সম্প্রতি ভারতের একটি সংবাদ মাধ্যমে এসব কথা বলেন ইরম শর্মিলা চানু। খবর আনন্দবাজার পত্রিকার। এক আলোচনা সভায় যোগ দিতে ব্রিটিশ স্বামী ডেসমন্ড কুচিনোর সঙ্গে প্রথমবারের মতো কলকতায় এসেছেন শর্মিলা।

সম্প্রতি নিজ রাজ্য ছেড়ে তামিলনাড়ুতে গিয়ে সংসার পেতেছেন তিনি। এবার তার ইচ্ছা, বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখবেন। আর ডেসমন্ড জানালেন, সংসার করতে বেশ লাগছে তাদের। শর্মিলার পাসপোর্ট হাতে পেলে ইংল্যান্ড থেকেও ঘুরে আসতে চান তারা।

তবে কি শর্মিলা নিজে ও তার কাজের ধারা বদলে গেছে? মণিপুরের ভাল-মন্দ ভেবে আর পথে নামবেন না তিনি? মণিপুরের কথা উঠতেই শর্মিলা আরও শান্ত হয়ে গেলেন যেন। চোখের কোণটা চিকচিক করছিল। এ সময় শর্মিলার হয়ে উত্তর দিতে শুরু করেন ডেসমন্ড। বলেন, শর্মিলা আন্দোলনকারী হয়ে জন্মাননি। তাই তার বদলানোর কোনো প্রশ্নই উঠছে না। এ দেশে কেউ কারও কথা ভাবেই না। শর্মিলার কথাও কেউ ভাবেনি।  তাই শুধু মণিপুর নয়, ও এখন থেকে সব সাধারণ নাগরিকের জন্য কাজ করবে ও।

আফস্পা (আর্মড ফোর্সেস স্পেশ্যাল পাওয়ার অ্যাক্ট) প্রত্যাহারের দাবিতে লড়াই কি থেমে গেল তবে- এ প্রশ্নে শর্মিলার জানান, তেমনও নয়। তবে সব কাজেই এবার থেকে মধ্যমপন্থী হতে চান তিনি। তাই রাজনীতি আর নয়। তিনি বলেন, দেখতে চেয়েছিলাম আমাকে কতোটা ভালবাসে মানুষ। না হলে ভোটেও দাঁড়াতাম না। 

নিজেকে মানবাধিকারের কর্মী বলেই মনে করেন শর্মিলা। তবে তার অভিমান,  যাদের জন্য লড়েছেন, তারাই ভালবাসেননি তাঁকে। বরং কারও কারও হাতে ব্যবহৃত হয়েছেন তিনি। তাই তিনি এখন আর মণিপুরে আবদ্ধ রাখতে চান না নিজেকে। বিভিন্ন আঞ্চলিক সমস্যা নিয়ে কথা বলবেন এখন থেকে। দরকার হলে স্থানীয় নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করবেন। যেমন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও এক সময়ে সহমর্মিতা প্রকাশ করেছিলেন শর্মিলার আন্দোলনের প্রতি। প্রয়োজনে তার কাছে যাবেন শর্মিলা, যোগ করেন ডেসমন্ড।  কলকাতার আসার পর যদিও তাদের সঙ্গে কথা হয়নি মমতার। তা ছাড়া রাজনৈতিক নেত্রী হিসেবে মমতার সঙ্গে কথা বলতে চান না শর্মিলা। তিনি বলেন, সমাজের জন্য কাজ করতে গেলে পুরুষতন্ত্রের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে। সেই কাজে সাহসী নারীদের প্রয়োজন তার। এ কাজে মমতাকেও পাশে চান তিনি।

স্ত্রীর পক্ষ নিয়ে ডেসমন্ড বলেন, ভারতের অন্যসব রাজ্যের থেকে আলাদা নয় মণিপুর। সেখানেও চলে পরিবারতন্ত্র। লোকে বলে, উত্তরপূর্ব ভারতের কিছু রাজ্যে নাকি নারীদের প্রাধান্য দেওয়া হয়। এ কথা ঠিক নয়। এক ভাইয়ের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হওয়ার পরে মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারেননি শর্মিলা। আসলে সর্বত্র ছেলেরা গুরুত্বপূর্ণ। সেইটাই প্রমাণ হয়েছে বারবার।

শর্মিলা যে মণিপুরকে ঘিরে লড়াইয়ে নেমেছিলেন, সে রাজ্যে আর ফিরবেন কিনা জানতে চাইলে ডেসমন্ড বলেন, এখনই নয়। তবে সেই দিনটাও আসবে। ওর নিরাপত্তার কথা আমাকে ভাবতেই হবে। আর শর্মিলা বলেন, বিয়ে করে নিজেকে কিছুটা হলেও সুরক্ষিত লাগে এখন।

আরও পড়ুন

সবই কি 'চাষের মাছ'

সবই কি 'চাষের মাছ'

রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশের অস্থায়ী সান্ধ্য কাঁচাবাজারে এক মাছের ...

সম্পর্কে ঈর্ষা

সম্পর্কে ঈর্ষা

সম্পর্কে ঈর্ষা থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। বিশেষ করে সঙ্গীর জন্য যদি ...

বিএনপির কোনো নীতি আদর্শ নেই: তোফায়েল

বিএনপির কোনো নীতি আদর্শ নেই: তোফায়েল

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, 'বিএনপির কোনো নীতি আদর্শ নেই। তারা ...

যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হবে 'বালিঘর'

যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত হবে 'বালিঘর'

আরও একটি যৌথ প্রযোজনা চলচ্চিত্রের ঘোষণা এলো। কলকাতার বর্তমান সময়ের ...

নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আ'লীগের ভরাডুবি হবে: ফখরুল

নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আ'লীগের ভরাডুবি হবে: ফখরুল

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আগামী নির্বাচন হলে এবং সব মানুষ ভোট দিতে ...

কুমারখালীতে ১৪৪ ধারা

কুমারখালীতে ১৪৪ ধারা

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে উপজেলা জাসদ ও ছাত্রলীগ একই স্থানে সভা ডাকায় ...

৮৮ বছর ধরে মাটি খাওয়া যার অভ্যাস

৮৮ বছর ধরে মাটি খাওয়া যার অভ্যাস

প্রতিদিন ভাত-রুটি না হলেও চলে কিন্তু মাটি না খেয়ে  একদিনও ...

পদ্মা সেতুর দ্বিতীয় স্প্যান বসতে পারে মঙ্গলবার

পদ্মা সেতুর দ্বিতীয় স্প্যান বসতে পারে মঙ্গলবার

চলতি সপ্তাহেই পদ্মা সেতুর দ্বিতীয় স্প্যান বসানোর অপেক্ষায় রয়েছে সেতু ...