জয়নব ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে উত্তাল কাসুর

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০১৮      

অনলাইন ডেস্ক

ধর্ষণ ও হত্যার শিকার জয়নব। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের কাসুরে জয়নব নামে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে স্থানীয় জনতা। বুধবার বিক্ষোভকারীরা কাসুর শহরে পুলিশ প্রধান কার্যালয়ে হামলা চালানোর চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়। এতে দু'জন নিহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে দ্বিতীয় দিনের মতো বিক্ষোভ হয়েছে। শুক্রবারও অব্যাহত আছে বিক্ষোভ।


এর আগে এ ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার নিজের সাত বছরের শিশুকন্যাকে কোলে নিয়ে টেলিভিশনে খবর পড়েন পাকিস্তানের সামনা টিভির উপস্থাপিকা কিরণ নাজ। খবরের শুরুতেই তিনি বলেন, আজ আমি শুধু আপনাদের সংবাদ সঞ্চালক নই, এখানে আজ আমি একজন মা হিসেবে উপস্থিত হয়েছি। সে কারণেই আমার কোলে রয়েছে আমার ছোট্ট মেয়ে। এটি শিশু ধর্ষণের বিরুদ্ধে আমার প্রতিবাদ। 

গত সোমবার কোরআন শিখতে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হয় শিশু জয়নাব। নিখোঁজের এক দিন পর মঙ্গলবার বাড়ি থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে একটি আবর্জনার স্তূপ থেকে উদ্ধার করা হয় তার লাশ। শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনার পর বিক্ষোভে ফেটে পড়ে পাঞ্জাবের মানুষ। তাদের অভিযোগ, শহরটিতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা বেড়ে গেলেও প্রশাসন তা দমনে ব্যর্থ হচ্ছে। এমনকি জয়নাব হত্যার ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন গড়িমসি করেছে। 

জয়নাবের পরিবারের দাবি, তাদের সন্তান নিখোঁজের পরপরই পুলিশকে জানানো হয়। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ। সিসিটিভি ফুটেজ থাকার পরও পুলিশ দোষী ব্যক্তিকে ধরতে পারছে না। 

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, এক ব্যক্তি জয়নাবকে হাত ধরে নিয়ে যাচ্ছে। তবে ওই ব্যক্তির চেহারা বোঝা যাচ্ছে না। ফুটেজ দেখে পুলিশ ওই ব্যক্তির প্রতিকৃতি এঁকেছে।

রাজ্য পুলিশ বলছে, কাসুরে গত দুই বছরে এ রকম ১২টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এদের মধ্যে পাঁচজনের হত্যার ঘটনায় এক ব্যক্তিই সন্দেহ করা হচ্ছে। এসব হত্যায় জড়িত সন্দেহে এ পর্যন্ত ৯০ জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও জয়নাব হত্যার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ অব্যাহত আছে। 'হ্যাশট্যাগ জাস্টিস ফর জয়নাব' লিখে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন চলচ্চিত্র ও ক্রিকেট তারকারা। এ ঘটনায় দোষীদের চিহ্নিত করে শাস্তি নিশ্চিতে পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।

পাকিস্তান সরকারের উদ্দেশে এক টুইটে অভিনেত্রী মাহিরা খান লিখেছেন, খুনিকে খুঁজে বের করতে যা যা করা দরকার তাই করুন। আল্লাহর দোহাই লাগে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করুন। এমন উদাহরণ তৈরি করুন যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের কাজ করার সাহস কেউ না পায়।

টুইটারে 'জাস্টিস ফর জয়নাব' হ্যাশট্যাগ দিয়ে মোহাম্মদ আমির লেখেন, আমার হৃদয় ভেঙে গেছে। নিঃসঙ্গ ও ঘৃণ্য মনে হচ্ছে। এটা ভেবে অবাক হচ্ছি যে, আমরা কোন সমাজে বাস করছি। শিশুটির মা-বাবার প্রতি সমবেদনা জানানোর ভাষা নেই আমার।

আরও পড়ুন

এক মাসের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

এক মাসের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে মো. আবদুল হামিদের ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ হচ্ছে ...

পরিবেশের সর্বনাশ

পরিবেশের সর্বনাশ

'ত্রিশ বছর আগেও চার-পাঁচটি জেলেপল্লী ছিল সাভারের সাধাপুর থেকে ধামরাই ...

একই সুতোয় দুই বাংলা

একই সুতোয় দুই বাংলা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চল আর বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গ- এ দুই এলাকায় যেসব ...

আওয়ামী লীগে একক প্রার্থী বিএনপিতে অস্থিরতা

আওয়ামী লীগে একক প্রার্থী বিএনপিতে অস্থিরতা

একক প্রার্থী নিশ্চিত থাকায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ...

মেয়ে হয়ে জন্মানোই ছিল অপরাধ!

মেয়ে হয়ে জন্মানোই ছিল অপরাধ!

প্রথম সন্তান মেয়ে হওয়ায় বাবার চাওয়া ছিল পরেরটি ছেলে হোক। ...

ভালো হওয়ার সুযোগ পাবে 'বিপথগামীরা'

ভালো হওয়ার সুযোগ পাবে 'বিপথগামীরা'

জঙ্গিবাদে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ থেকে এক তরুণকে ...

রিয়ালের স্বস্তির জয়

রিয়ালের স্বস্তির জয়

সবশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে সেভিয়াকে বিধ্বস্ত করে লা লীগায় জয়ের ...

পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভের মুখে ওবায়দুল কাদের

পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভের মুখে ওবায়দুল কাদের

গঠন প্রক্রিয়ায় থাকা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক পদ নিয়ে ...