এটাই বিজেপির শেষের শুরু, মন্তব্য ক্ষুব্ধ মমতার

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০১৮      

অনলাইন ডেস্ক

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়— ফাইল ছবি

তৃণমূল কংগ্রেসের সাত জনপ্রতিনিধি ও এক মন্ত্রীকে শিলচর বিমানবন্দরে আটকে রেখে আসামে ঢুকতে না দেওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আসাম ও কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন বিজেপির তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, 'দেশে সুপার ইমার্জেন্সি চলছে। আমার মনে হয়, এটাই বিজেপির শেষের শুরু।'

তিনি অভিযোগ করেন, শিলচরে বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল মন্ত্রী, সাংসদ ও বিধায়কদের সঙ্গে যা করা হল, তা অাসামের বিজেপি সরকারের রাজনৈতিক চক্রান্ত।

প্রশ্ন তুলে মমতা বলেন, 'যদি ওখানে সব কিছু ঠিকই থাকে, শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি থাকে, তা হলে অাসাম সরকার কেন আমাদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে এমন বর্বর ব্যবহার করল? প্রতিনিধিদলে থাকা মহিলাদেরও গায়ে হাত তোলা হল কেন? অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা।'

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'অাসামের মানুষ এখন আতঙ্কিত। অাসামের নাগরিকপঞ্জিতে নাম বাদ যাওয়া মানুষের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলেন আমাদের প্রতিনিধিরা। কোনও সভা ছিল না। নাগরিক কনভেনশনে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। অাসামের অসহায় মানুষ যাতে কোনও রকম কথা বলতে না পারেন, আসল তথ্য যাতে ধামাচাপা দেওয়া যায়, সেজন্য চক্রান্ত করছে বিজেপি।'

কোন আইনে পশ্চিমবঙ্গের সাংসদ, বিধায়কদের শিলচর বিমানবন্দরে আটকানো হল, সেটাই ওরা বলতে পারছে না— এমন অভিযোগ করে বিজেপির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, 'আমাকে আইন শেখাতে আসবেন না। আইন আমরাও জানি। বিজেপি রাজনৈতিক ভাবে হতাশ, নার্ভাস। তাই তারা পেশিশক্তি প্রদর্শন করছে। কিন্তু দেশ পেশিশক্তির জন্য নয়। দেশ গণতন্ত্রের জন্য।'

এদিকে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষ অাসাম পুলিশের ভূমিকা সমর্থন করে দাবি করেছেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। কিন্তু ওখানকার মানুষ তার প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দেখা করতে চায় না। ওখানে ১৪৪ ধারা চলছে। সেই জন্যই পুলিশ ওদের আটকেছে। এর মধ্যে আমি তো কোনও অন্যায় দেখছি না।'

মমতার সরকার ধুলাগড়, বসিরহাট এবং আসানসোলে বিজেপির প্রতিনিধিদলকে ঢুকতে দেয়নি— এই অভিযোগ খারিজ করে মমতা বলেন, 'আসানসোলে ১৪৪ ধারা জারি ছিল। তা সত্ত্বেও সেখানে দিল্লি থেকে বিজেপির প্রতিনিধিদল যেতে চাওয়ায় আমরা সৌজন্য দেখিয়েছিলাম। ওদের আটকাইনি তখন। এটাই আমাদের সঙ্গে ওদের ফারাক।'

এদিকে শিলচরে বৃহস্পতিবার তৃণমূল জনপ্রতিনিধিদের যেভাবে আটকানো হয়েছে, তা সমর্থন করেনি কংগ্রেস ও সিপিএমও। তবে তারা একই সঙ্গে খোঁচা দিয়েছে তৃণমূলকেও। বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, 'মানুষের যে কোনও জায়গায় যাওয়ার অধিকার আছে। সেই অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। পশ্চিমবঙ্গে গণতান্ত্রিক অধিকার বিঘ্নিত হলে যেমন আপত্তি করি, অাসামের ক্ষেত্রেও তেমনই বিরোধিতা করছি।'

প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী বলেন, 'জনপ্রতিনিধিদের যে কোনও জায়গায় যাওয়ার অধিকার আছে। তাদের আটকানো যায় না। গোটা বিষয়টা নিয়ে ক্ষুদ্র রাজনীতি হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গেও তৃণমূল সরকার বিভিন্ন দলের জনপ্রতিনিধিদের বাধা দেয়। অাসামেও বিজেপি একই কাজ করছে।'

ভারতের আসাম রাজ্যে নতুন প্রকাশিত নাগরিকপঞ্জিতে (এনআরসি) ৪০ লাখ বাসিন্দার নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদ জানাতে বৃহস্পতিবার আসামের শিলচরে যায় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধিদল। পরিকল্পনা ছিল নাগরিকপঞ্জি নিয়ে নিজেদের অবস্থান জানাতে প্রথমে শিলচর ও পরে গুয়াহাটি যাবে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। কিন্তু বৃহস্পতিবার শিলচর বিমানবন্দরেই তাদের আটকে দেয় রাজ্য প্রশাসন। সেখান থেকেই শুক্রবার সকালে কলকাতায় ফেরে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল।

এদিকে তৃণমূলের প্রতিনিধিদলকে শিলচর বিমানবন্দরে আটকে রাখার ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেওয়ার পর এ নিয়ে শুক্রবার মুখ খোলেন অাসাম সরকারের সেকেন্ড ইন কমান্ড হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তিনি বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আমার অনুরোধ, তিনি আমাদের সঙ্গে সহযোগিতা করুন। এখানে এসে অাসামের পরিস্থিতি খারাপ করবেন না।'

অাসামের অর্থ, স্বাস্থ্যসহ একাধিক দপ্তরের দায়িত্বে থাকা এই মন্ত্রী বলেন, 'নাগরিকপঞ্জির চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশিত হওয়ার পর দেখা গেল ৪০ লাখ মানুষের নাম নেই। মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তো সে বিষয় নিয়ে কোনও ধারণাই নেই। এ রকম স্পর্শকাতর একটা সময়ে রাজ্যের পক্ষে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখা কতটা কঠিন, তা তার তো বোঝা উচিত। তিনি নিজেও তো একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।'

হিমন্তের কথায়, 'আমি সেই কারণেই সহযোগিতা চাইছি তার কাছে। তাকে আমি বলতে চাই, এই কঠিন পরিস্থিতিতে একটা স্ফুলিঙ্গ থেকেই দাবানল ছড়িয়ে পড়তে পারে। এটা বয়ানবাজি আর শোরগোল করার সময় নয়।'

তৃণমূলের প্রতিনিধি দলকে শিলচরে ঢুকতে না দেওয়া প্রসঙ্গে হিমন্ত বলেন, 'আমাদের জেলাশাসক প্রত্যেক সাংসদকে ফোন করে বলেছিলেন, আরও ক’দিন পরে ওখানে যেতে। তত দিনে মানুষের প্রাথমিক সংশয় কেটে যেত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা থাকত না।' কিন্তু সেই অনুরোধে তারা কান দিলেন না। উল্টো তাদের দলনেত্রী গোটা বিষয়টিকে সাম্প্রদায়িক মোড়ক দিয়ে রাজনীতি করছেন। তাই আমি বার বার তার সহযোগিতা চাইছি।'

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে এই বিজেপি নেতা বলেন, তিনি যে অভিযোগ করছেন বাঙালিদের নাম তালিকাভুক্ত হয়নি, সেটা ঠিক নয়। অনেক অহমীয়া মানুষেরও নাম নেই। সেই কারণেই আবার 'ক্লেম এবং অবজেকশন' দেওয়ার সুযোগ থাকছে। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

আরও পড়ুন

হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার পেলেন রিজিয়া রহমান

হুমায়ূন আহমেদ সাহিত্য পুরস্কার পেলেন রিজিয়া রহমান

'হুমায়ূন আহমেদ নেই, হুমায়ূন আহমেদ আছেন। যারা তার সাহচর্য পেয়েছিলেন, ...

আসন হারানোর শঙ্কায় জাপা

আসন হারানোর শঙ্কায় জাপা

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের প্রধান শরিক আওয়ামী লীগের কাছে ...

জামায়াতও ৩৫ আসনের কমে মানতে নারাজ

জামায়াতও ৩৫ আসনের কমে মানতে নারাজ

নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় দলীয় পরিচয়ে ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই ...

হুমায়ূন জয়ন্তী আজ

হুমায়ূন জয়ন্তী আজ

'আমরা জানি একদিন আমরা মরে যাব, এই জন্যেই পৃথিবীটাকে এত ...

কূটনীতিকদের অসন্তোষের কথা জানাল বিএনপি

কূটনীতিকদের অসন্তোষের কথা জানাল বিএনপি

একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশে কর্মরত কূটনীতিকদের কাছে নিজেদের অসন্তোষের ...

দেশের মানুষ এখন পরির্তন চায়: এরশাদ

দেশের মানুষ এখন পরির্তন চায়: এরশাদ

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, দেশের মানুষ এখন ...

তফসিলের পরই নির্বাচনকালীন সরকার শুরু হয়ে গেছে: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

তফসিলের পরই নির্বাচনকালীন সরকার শুরু হয়ে গেছে: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে কোনো ঘোষণা ...

ইভিএম থেকে পেছানোর সুযোগ নেই: সিইসি

ইভিএম থেকে পেছানোর সুযোগ নেই: সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে. এম. নুরুল হুদা বলেছেন, একাদশ ...