'চলো আমরা সিরিয়ায় গিয়ে আসাদকে মেরে ফেলি'

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮     আপডেট: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

অনলাইন ডেস্ক

সাংবাদিক বব উডওয়ার্ড (বাঁয়ে) ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প— বিবিসি বাংলা

সিরিয়ায় রাসায়নিক আক্রমণের ঘটনার পর সেদেশে হামলা চালিয়ে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে হত্যা করার কথা বলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

বিখ্যাত মার্কিন অনুসন্ধানী সাংবাদিক বব উডওয়ার্ডের নতুন বইয়ে উঠে এসেছে এমন তথ্য। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসনের ভেতরের আরও অনেক বিস্ফোরক তথ্যও উঠে এসেছে বইটিতে, যে বই নিয়ে এখন চলছে ব্যাপক হইচই।

বব উডওয়ার্ড হচ্ছেন সেই সাংবাদিক যিনি ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারি ফাঁস করে ১৯৭০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের পতন ডেকে এনেছিলেন। ওয়াশিংটনে ক্ষমতার কেন্দ্রে এমন সব লোকদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা যে, কোথায় কি ঘটছে তার কিছুই তার অজানা থাকে না।

'ফিয়ার: ট্রাম্প ইন দ্য হোয়াইট হাউস' নামের বইটির জন্য তিনি এমন সব লোকদের কাছ থেকে তথ্য পেয়েছেন যারা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে প্রতিনিয়ত কথা বলেছেন, এবং বর্ণিত বৈঠকগুলোতে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।

'চলো আমরা সিরিয়ায় গিয়ে আসাদকে মেরে ফেলি'

২০১৭ সালের এপ্রিলে সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের ঘটনা ঘটলো। ধরা হলো, সিরিয়ান সরকারি বাহিনীই এ কাজ করেছে।

ট্রাম্প প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিসকে বললেন, প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদকে হত্যা করার কথা।

তিনি নাকি বলেছিলেন, তাদের কিছু একটা করা দরকার। 'চলো আমরা সিরিয়ায় যাই, আসাদকে (গালি) মেরে ফেলি, ওদের সবাইকে (গালি) মেরে ফেলি।'

ম্যাটিস প্রথম তা মেনে নিলেও পরে বলেছিলেন, তিনি এমন কিছু করবেন না।

'আপনি হাজিরা দেবেন না, দিলে আপনাকে জেলে যেতে হবে'

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারাভিযানের সময় রাশিয়ার সাথে যোগাযোগের অভিযোগের যে তদন্ত করছে রবার্ট মুলারের বিশেষ কৌঁসুলিরা - তার সামনে হাজিরা দিতে হলে প্রেসিডেন্ট তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জবাব ঠিকমত দিতে পারবেন কিনা - তা দেখতে একটা 'মহড়ার' আয়োজন করেছিলেন তার আইনজীবী জন ডাউড।

সেই মহড়ায় দেখা গেল - চোখা চোখা প্রশ্নের জবাব দিতে দিতে ট্রাম্প হয়রান হয়ে পড়ছেন, এক পর্যায়ে ক্রুদ্ধভাবে এই তদন্তকে ভুয়া বলে বর্ণনা করছেন।

জন ডাউড তখন বলেন, 'আপনি সাক্ষ্য দিতে যাবেন না। এটা করলে আপনাকে কমলা রঙের জাম্পস্যুট পরতে হবে (অর্থাৎ জেলে যেতে হবে)।'

ডাউড তখন মুলারের সাথে দেখা করে বললেন তিনি প্রেসিডেন্টের সাথে তদন্তকারীদের সাক্ষাতকারের বিরোধী। কারণ তিনি চান না যে প্রেসিডেন্টকে 'একটা নির্বোধের মত' দেখাক, এবং বিশ্বের সামনে গোটা জাতিকে লজ্জা পেতে হয়।

কিন্তু পরে ডাউড যখন জানলেন যে প্রেসিডেন্ট সাক্ষ্য দেবেন বলে মন স্থির করেছেন, তার পরদিনই তিনি পদত্যাগ করলেন।

প্রেসিডেন্টের ডেস্ক থেকে কাগজ চুরি করেছিলেন তার উপদেষ্টারা

উডওয়ার্ড বলছেন, ট্রাম্পের বিপজ্জনক প্রবণতার ধারণা পাওয়া যায় এ ঘটনায়।

তিনি একটি দলিলে স্বাক্ষর করতে চেয়েছিলেন যার মাধ্যমে উত্তর আমেরিকান ফ্রি ট্রেড চুক্তি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সাথে বাণিজ্য চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেয়া হবে। তিনি যাতে এতে স্বাক্ষর করতে না পারেন - সে জন্য তার প্রধান অর্থনৈতিক উপদেষ্টা গ্যারি কোহন এবং হোয়াইট হাউসের স্টাফ সেক্রেটারি রব পোর্টার দলিলগুলো সরিয়ে নিয়ে লুকিয়ে ফেলেন ট্রাম্পের ডেস্ক থেকে।

উডওয়ার্ড ঘটনাটিকে বর্ণনা করেছেন 'একটি প্রশাসনিক ক্যু দেতা-র চাইতে কম কিছু নয়' হিসেবে।

বদমেজাজী প্রেসিডেন্ট

উডওয়ার্ড লিখেছেন, বদমেজাজী ট্রাম্প সব সময়ই হোয়া্ইট হাউসে তার কর্মকর্তাদের বকাঝকা করেন।

তার অর্থনৈতিক উপদেষ্টা কোহনের মতে ট্রাম্প একজন 'পেশাদার মিথ্যেবাদী'।

বাণিজ্যমন্ত্রী উইলবার রসকে ট্রাম্প একবার বলেছিলেন, তিনি তাকে বিশ্বাস করেন না। 'আমি চাই না আপনি আর কোনো আলোচনায় থাকুন। আপনার দিন শেষ হয়ে গেছে।'

তার প্রথম চিফ অব স্টাফ রেইন্স প্রাইবাসকে 'ইঁদুরের' সঙ্গে তুলনা করে ট্রাম্প বলেছিলেন, 'ও শুধু তিড়িংবিড়িং করে ছোটাছুটি করে।'

অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশন্সকে প্রকাশ্যেই অপমান করেছিলেন ট্রাম্প। আর আড়ালে বলেছিলেন, 'এই লোকটা একটা মানসিক প্রতিবন্ধী, দক্ষিণ থেকে আসা একটা একটা নির্বোধ। মফস্বলের আইনজীবী হওয়ার যোগ্যতাও তার নেই।'

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সম্পর্কে অন্যরা যা বলতেন

ট্রাম্প নিজে অন্যদের নিয়ে যেরকম কটু কথা বলেন, তার স্টাফরাও পাল্টা বলতে ছাড়েননি। উডওয়ার্ডের বইতে সেরকম কিছু তথ্যও আছে।

তার চিফ অব স্টাফ কেলি একবার ট্রাম্প সম্পর্কে বলেন, 'তিনি একটি নির্বোধ (ইডিয়ট) এবং তাকে কোন কিছু বোঝানোর চেষ্টা করা বৃথা।'

প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস বলেছিলেন, পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে ট্রাম্পের জ্ঞানবুদ্ধি ক্লাস ফাইভ-সিক্সে পড়া একটা ছেলের মত।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেডরুমকে 'শয়তানের কারখানা' বলে বর্ণনা করেছেন কেলির পূর্বসুরী রেইন্স প্রাইবাস। এখান থেকেই নিয়মিত টুইটার বার্তা ছাড়েন প্রেসিডেন্ট।

উডওয়ার্ড আরো লিখেছেন, ট্রাম্প নিজে মনে করেন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তার চেয়ে চমৎকার কাজ আর কেউ করতে পারেননি।

তার সঙ্গে ট্রাম্পের টেলিফোন কথোপকথনের একটি রেকর্ডিং প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন পোস্ট। তাতে প্রেসিডেন্ট বলছেন, উডওয়ার্ডের বইয়ের কথা তাকে বলা হয়নি, তার সাক্ষাৎকারও কখনো চাওয়া হয়নি।

কিন্তু উডওয়ার্ড বলছেন, এ কথা একেবারেই ঠিক নয়। সূত্র: বিবিসি বাংলা

আরও পড়ুন

গণমাধ্যমে শিশু আসামির পরিচয় প্রচার বন্ধে রিট

গণমাধ্যমে শিশু আসামির পরিচয় প্রচার বন্ধে রিট

শিশু আদালতে বিচারাধীন মামলায় শিশু আসামির নাম-ঠিকানা, ছবিসহ তার পরিচয় ...

আমজাদ হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

আমজাদ হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

ব্রেট স্ট্রেকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের ...

শুটিংয়ে আহত সালমান

শুটিংয়ে আহত সালমান

পরিচালক আলি আব্বাস জাফরের আসন্ন সিনেমা 'ভারত' নিয়ে ব্যস্ত সময় ...

মাউশির মহাপরিচালক সৈয়দ গোলাম ফারুক

মাউশির মহাপরিচালক সৈয়দ গোলাম ফারুক

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন  ...

দীপিকা-রণবীরের বাড়ির দাম কত?

দীপিকা-রণবীরের বাড়ির দাম কত?

ইতালির লেক কোমোতে গত ১৪ ও ১৫ নভেম্বরে রাজকীয় বিয়ের ...

থাইরয়েডের সমস্যার নানা উপসর্গ

থাইরয়েডের সমস্যার নানা উপসর্গ

থাইরয়েড গ্রন্থির কাজ হলো শরীরের কিছু অত্যাবশ্যকীয় হরমোন (থাইরয়েড হরমোন) ...

এখনও গ্রেফতার বন্ধ হয়নি: ফখরুল

এখনও গ্রেফতার বন্ধ হয়নি: ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী বলার পরও ...

ড. কামালের কাছে মনোনয়ন ফরম জমা দিলেন রেজা কিবরিয়া

ড. কামালের কাছে মনোনয়ন ফরম জমা দিলেন রেজা কিবরিয়া

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরীক দল গণফোরামের হয়ে আসন্ন একাদশ জাতীয় ...