সাক্ষাৎকার

বিশেষ সাক্ষাৎকার :খালেকুজ্জামান

নির্বাচন নিয়ে সংশয় শঙ্কা দুটিই রয়েছে

 প্রকাশ : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

 সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অমরেশ রায়

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেছেন, আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে তাদের মধ্যে সংশয় এবং শঙ্কা দুটোই রয়েছে। এই নির্বাচন প্রশ্নে ক্ষমতাসীন দল আপস কিংবা জনমতের চাপে নতিস্বীকার না করলে আর বিরোধী পক্ষ চাপ সৃষ্টি করে সাজানো ব্যবস্থা বদল করতে না পারলে এবং সরকারি দলের আয়োজনে নিবেদিত হতে না চাইলে পরিস্থিতি সংঘাতময় হয়ে উঠতে পারে।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আগামী জাতীয় নির্বাচন বিষয়ে সমকালকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে খালেকুজ্জামান এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অমরেশ রায়।

খালেকুজ্জামান বলেন, শাসক দল বলছে নির্বাচন হবেই। তবে এ কথার অন্তরালে ভিন্ন কথা রয়েছে। সেটি হচ্ছে, শাসক দলের ক্ষমতায় থাকা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয় সব আয়োজন সম্পন্ন করেই এবং যেসব ব্যবস্থা সাজানো আছে তা অক্ষত রেখেই তারা নির্বাচন করবে। অন্যদিকে প্রধান বিরোধী পক্ষসহ সব বিরোধী পক্ষও এই পাতানো ব্যবস্থা ও আয়োজনগুলোর পরিবর্তন ও সংযোজন-বিয়োজন করেই নির্বাচনে যেতে চায়।

এ অবস্থায় নির্বাচন হলে সেই নির্বাচন আসলে কেমন হবে- এমন প্রশ্নে খালেকুজ্জামান বলেন, যেমন আছে তেমন থাকলে অতীতের মতোই হবে। ঝাল-নুনের মাত্রা বাড়বে। আর শাসক দলকে আন্দোলনের চাপে পরিস্থিতির যতটা ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটানো যাবে, সেই মাত্রায় সন্তুষ্টি বা গণআস্থা ফেরানো যেতে পারে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নির্বাচনকে সামনে রেখে কোন দিকে মোড় নেবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে ঘোলাটে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। কারণ, বর্তমান পরিস্থিতি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, সুশাসন, জনমনে স্বস্তি ও আস্থা, নিরাপত্তা ইত্যাদির বিপরীতে অবস্থান করছে।

দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে জোট-মহাজোট গঠনের বেলায় নানামুখী মেরুকরণ চলছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তার মিত্ররা নিজেদের জোট ১৪ দল ও মহাজোট সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। অন্যদিকে রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপিও ২০ দলীয় জোটের বাইরের সরকারবিরোধী ও সমমনা দলগুলোকে নিয়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তোলার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এ অবস্থায় খালেকুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন বাসদসহ দেশের আটটি বামপন্থি দলের সমন্বয়ে নতুন জোট 'গণতান্ত্রিক বাম জোট' গড়ে উঠেছে।

নির্বাচনকেন্দ্রিক এই নানা মেরুকরণ সম্পর্কে প্রবীণ বামপন্থি নেতা খালেকুজ্জামানের মূল্যায়ন, নির্বাচনের আগে ক্ষমতার হিসাব-নিকাশ, ক্ষমতার অংশীদারিত্ব ও হালুয়া-রুটির বণ্টন, আত্মপ্রতিষ্ঠার সুযোগ গ্রহণ, ক্ষমতাসীনদের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য বলপ্রয়োগের শক্তি নির্মাণ, দরকষাকষির ক্ষমতা বাড়ানো ইত্যাদি বিষয় বুর্জোয়া-পাতিবুর্জোয়া দলগুলোর মধ্যে কাজ করে। ব্যতিক্রম বাদ দিলে বামপন্থি শক্তিগুলো জোটবদ্ধ হয় তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য সমাজতন্ত্র-সাম্যবাদ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের লক্ষ্যে গণতান্ত্রিক পর্যায়ে গণতান্ত্রিক শক্তি ও ব্যবস্থাকে প্রসারিত করা, গণসম্পৃক্তি বাড়ানো ও পার্লামেন্টের ভেতরে-বাইরে যুগপৎ লড়াইয়ের ক্ষেত্র রচনা করা। মেরুকরণের বিষয়টিকে বামপন্থিরা সেই নিরিখেই দেখছেন।

আগামী নির্বাচন নিয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, একটা অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ রচনা করা এবং জনজীবনের সব সমস্যা নিয়ে বামপন্থিদের চলমান আন্দোলনকে আরও বেগবান করা থেকে নির্বাচনকে আলাদা করে দেখছে না গণতান্ত্রিক বাম জোট। তবে ভোট কাছে আসতে থাকলে তার গুরুত্ব বাড়বে। যদিও এটি কেবল নির্বাচনী জোট নয়। আন্দোলন ও আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচন- উভয় কর্তব্য সামনে রেখেই এই জোট এগিয়ে চলছে।

আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে নতুন এই জোটের চিন্তা-ভাবনা প্রসঙ্গে খালেকুজ্জামান বলেন, পরিস্কার জবাব দেওয়ার সময় এখনও আসেনি। নির্বাচন কমিশন তো এখনও ঠিক করেই উঠতে পারেনি যে কী প্রক্রিয়ায় নির্বাচন হবে এবং তাদের প্রতি অনাস্থা কীভাবে দূর করবে।

বামপন্থিদের নতুন এই জোট আগামী দিনে স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রেখে লড়াই-সংগ্রাম অব্যাহত রাখবে না-কি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোটভুক্ত হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তার দাবি, 'আমরাই তো একটা জোট। ফলে অন্য জোটে যাবার কথাটা অবান্তর। তবে আমাদের জোটের এবং ক্ষমতাসীনদের জোটের বাইরে থাকা অপরাপর গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল শক্তিসহ জোটবদ্ধরা কারা কীভাবে ভাবছেন, তা জানতে ও বুঝতে আমরা আগ্রহী। একটা রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে অপরাপর রাজনৈতিক দল ও শক্তিগুলোর ভাবনা, পর্যবেক্ষণ, কর্মনীতি ও কর্মকৌশল জানা প্রয়োজন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সম্প্রতি গণতান্ত্রিক বাম জোটের অন্যতম প্রধান শরিক বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। একই সঙ্গে বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামানসহ অন্য কয়েকটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে টেলিফোনালাপ অথবা বৈঠকও করেছেন সরকারের প্রভাবশালী এই মন্ত্রী। ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে আসলে কী কথা হলো জানতে চাইলে খালেকুজ্জামান বলেন, 'আমাদের সঙ্গে কোনো কথা হয়নি। তিনি (ওবায়দুল কাদের) আমার অসুস্থতা শুনে দেখতে আসতে চেয়েছিলেন। তবে সড়কের বেহাল দশার কারণে ছোট গলিতে গাড়ি ঢোকাতে না পেরে চলে গেছেন। এর বাইরে কোনো কথা হয়নি।'

আগামী নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতির ব্যবহার প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা ও পরে তা থেকে পিছিয়ে আসার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বাসদের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ইভিএম নিয়ে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার যে সাতটি পয়েন্ট তুলে ধরে 'নোট অব ডিসেন্ট' দিয়েছেন তাতে এটা স্পষ্ট যে নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করা যুক্তিসঙ্গত হবে না। তাছাড়া প্রধান নির্বাচন কমিশনারও কর্তার ইচ্ছায় কর্ম সম্পাদনে ব্যস্ত। তাই প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের বক্তব্যের পর ইভিএম থেকে পিছিয়ে গেছেন বলে তার সর্বশেষ বক্তব্যে মনে হয়েছে। যদি প্রকৃত অর্থেই পিছিয়ে থাকেন, তবে জাতির জন্য সেটাই মঙ্গলময়।



ভাঙন রোধে নদীর গতিপথ বুঝতে হবে: ড. মমিনুল হক

 অনলাইন ডেস্ক

নদীমাতৃক বাংলাদেশে 'নদী ভাঙন' একটি বাস্তবতা। প্রতি বছর হাজার হাজার ...

১৪ ঘণ্টা আগে

দর্শক হলমুখী করতে চলচ্চিত্রে মেধার পরিচয় দিতে হবে: মিশা সওদাগর

 অনিন্দ্য মামুন

মিশা সওদাগর। নাম শুনলেই একজন ভিলেন চরিত্রের অভিনয়শিল্পীর প্রতিচ্ছ্ববি ভেসে ...

১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অগণতান্ত্রিক শক্তিকে সমর্থন করি না

 লোটন একরাম

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেছেন, ...

০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮

এখন সংলাপের প্রয়োজন নেই

 অমরেশ রায়

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও 'নির্বাচনকালীন সরকার' বিষয়ে বিএনপির সঙ্গে ...

২০ আগস্ট ২০১৮