দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা মৃত্যু ঝুঁকি বাড়ায়: গবেষণা

প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল ২০১৮     আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০১৮      

অনলাইন ডেস্ক

রাতে যারা দেরি করে ঘুমাতে যান এবং সকালে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠেন তাদের অকালে মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকে।

যুক্তরাজ্যের ৪ লাখ ৩৩ হাজার মানুষের ওপর জরিপ চালিয়ে গবেষকরা এমন তথ্য পেয়েছেন বলে বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

জরিপে দেখা গেছে, সকালে তাড়াতাড়ি ওঠা ব্যক্তিদের চেয়ে রাতজাগা মানুষের অকাল মৃত্যুর আশঙ্কা ১০ শতাংশ বেশি। এছাড়া দেরি করে ঘুম থেকে ওঠার কারণে বিভিন্ন মানসিক ও শারীরিক জটিলতার শিকার হতে হয়।

বিজ্ঞানীরা এ সংক্রান্ত গবেষণার জন্য চার ধরনের মানুষকে বেছে নেন— যারা নিয়মিত সকালে ওঠেন, যারা মাঝে মাঝে সকালে ওঠেন, যারা মাঝে মাঝে দেরি করে ঘুমান এবং যারা নিয়মিত রাত জাগেন। এই চারটি ক্যাটাগরিতে থাকা অংশগ্রহণকারীদের বয়স ৩৮ থেকে ৭৩ বছরের মধ্যে।

আন্তর্জাতিক ক্রোনবায়োলজি জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রটিতে দেখা গেছে, যারা নিয়মিত সকালে ঘুম থেকে ওঠেন তাদের গড় আয়ু রাতজাগা ব্যক্তিদের থেকে সাড়ে ছয় বছর বেশি।

তবে এর সঙ্গে ব্যক্তির বয়স, লিঙ্গ, গোত্র, ওজন, আর্থসামাজিক অবস্থা, খাদ্যাভ্যাস, লাইফস্টাইল ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় জড়িত। এই সবগুলো বিষয়ের সামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেব শেষেই দেখা যায়, সকালে যারা ঘুম থেকে ওঠেন, তাদের অকাল মৃত্যুর হার সবচেয়ে কম। আর যাদের দেহঘড়ি অনিয়মে চলে তাদের এই ঝুঁকি বাড়তেই থাকে।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, রাত জাগার বদভ্যাস যারা গড়ে তুলেছেন তাদের ৯০ শতাংশ বিভিন্ন মানসিক ব্যাধির শিকার হন। ৩০ শতাংশের থাকে ডায়বেটিসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি। এছাড়া স্নায়বিক সমস্যা থেকে শুরু করে অন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়।

সুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রোনোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ম্যালকম ভনের মতে, রাত জাগার এই সমস্যা বর্তমানে জনস্বাস্থ্য সমস্যায় রূপ নিয়েছে, যা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। এই সমস্যা দূর করতে অর্থাৎ সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সঙ্গে দেহঘড়ির সামঞ্জস্য ঘটাতে কি কি পদক্ষেপ নিতে হবে এ বিষয়ে আরো গভীর গবেষণার প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ক্রিস্টেন নুটসন জানান, অবেলায় খাওয়া দাওয়া, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, ব্যয়াম না করা, রাতে ঘুম থেকে ওঠা বা মাদক সেবন— এ ধরনের বদভ্যাসের পেছনে প্রধান কারণ দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ। এমন বিভিন্ন অনিয়মের ফলে মানুষের ঘুমের সময় ওলট পালট হয়ে যায় বলে জানান তিনি।

তবে রাত জাগার কারণেই যে একজন মানুষের শরীর-মন পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে— এমনটাও ভাবার কোনো কারণ নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন অধ্যাপক নুটসন। তিনি জানান, শরীরের ৪০ থেকে ৭০ শতাংশ জৈব প্রক্রিয়া বা দেহঘড়ির পরিচালনা নির্ভর করে জিনের বৈশিষ্টের ওপর। বাকিটা তার বয়স ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশের ওপর নির্ভর করে। অর্থাৎ কিছু বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। আবার কয়েকটি ক্ষেত্রে চাইলেই পরিবর্তন আনা সম্ভব।

আরও পড়ুন

১৩ আসামিকে বাদ দিয়ে গোপনে চার্জশিট

১৩ আসামিকে বাদ দিয়ে গোপনে চার্জশিট

চট্টগ্রামে যুবলীগ নেতা মেহেদী হাসান বাদল হত্যা মামলার চার্জশিট জমা ...

ঝুঁকিতে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

ঝুঁকিতে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

চীনের জেডটিই করপোরেশনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ ...

'মেয়ে পঙ্গু হয়ে গেল, এখন আমি কী করব'

'মেয়ে পঙ্গু হয়ে গেল, এখন আমি কী করব'

সংসারে অভাব, তাই প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পেরোতে পারেননি রোজিনা আক্তার। ...

হাতিরঝিলে ভাসছে গাছ

হাতিরঝিলে ভাসছে গাছ

শীতকালে ঝরে পড়া পাতাগুলো নতুন করে গজাচ্ছে। এ দৃশ্য স্বপ্নের ...

দু'দলেই একাধিক প্রার্থী

দু'দলেই একাধিক প্রার্থী

শরীয়তপুর-৩ (ভেদরগঞ্জ, ডামুড্যা ও গোসাইরহাট) আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ ...

এবার হাত খুললেন ডি ভিলিয়ার্স

এবার হাত খুললেন ডি ভিলিয়ার্স

সময় একটু বেশি নিয়ে ফেললেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। আইপিএলের ১১ ...

 দিবারাত্রির টেস্টে ভারতের না

দিবারাত্রির টেস্টে ভারতের না

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের টেস্ট সিরিজ নির্ধারিত হয়ে আছে নভেম্বর-ডিসেম্বরে। ঠিক ...

রোহিঙ্গা সংকটে ঢাকাকে কমনওয়েলথ নেতাদের অকুণ্ঠ সমর্থন

রোহিঙ্গা সংকটে ঢাকাকে কমনওয়েলথ নেতাদের অকুণ্ঠ সমর্থন

মিয়ানমারের রাখাইনে সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ করে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে ...