ময়মনসিংহ

বাকৃবি গবেষকদের সাফল্য

ইলিশের পূর্ণাঙ্গ জীবনরহস্য উন্মোচন

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮     আপডেট: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

বাকৃবি প্রতিনিধি

প্রথমবারের মতো ইলিশের পূর্ণাঙ্গ জীবন রহস্য উন্মোচন করলেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক। ভৌগোলিক নির্দেশক পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর দেশি ইলিশের জীবন রহস্য প্রস্তুতকরণ, জিনোমিক ডাটাবেজ স্থাপনে প্রায় দুই বছরের গবেষণায় সাফল্য পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন বাকৃবির ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলম ও তার সহযোগী গবেষকরা।

শনিবার সকালে বাকৃবি সাংবাদিক সমিতিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন গবেষকরা।

গবেষকরা জানান, প্রায় দুই বছরের গবেষণাকালে তারা দেশের বঙ্গোপসাগর ও মেঘনা থেকে পূর্ণবয়স্ক ইলিশ সংগ্রহ করেন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিস জেনেটিক্স অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি এবং পোল্ট্রি বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জিনোমি ল্যাবরেটরি থেকে সংগৃহীত ইলিশের উচ্চ গুণগত মানের জিনোমিক ডিএনএ প্রস্তুত করা হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের 'জিনউইজ' নামের জিনোম সিকোয়েন্সিং সেন্টার থেকে সংগৃহীত ইলিশের পৃথক প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কম্পিউটারে বিভিন্ন বায়োইনফরম্যাটিক্স প্রোগ্রাম ব্যবহার করে সংগৃহীত প্রাথমিক তথ্য থেকে ইলিশের পূর্ণাঙ্গ ডি-নোভো জিনোম সিকুয়েন্স বা জীবনরহস্য আবিষ্কার করা হয়।

তবে পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্স বিশ্লেষণ করে ইলিশ জিনোমে জিনের সংখ্যা জানার কাজ অব্যাহত রয়েছে বলে জানান গবেষকরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সামছুল আলমের নেতৃত্বে গবেষক দলের অন্যরা হলেন, পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্লা, বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম ও ফিশারিজ বায়োলজি অ্যান্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ গোলাম কাদের খান। 

ইলিশের পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের প্রয়োজনীতা সম্পর্কে প্রধান গবেষক প্রফেসর ড. মো. সামছুল আলম বলেন, ইলিশ বাংলাদেশের জাতীয় মাছ। দেশের পাশাপাশি বিদেশেও এর চাহিদা প্রচুর। যেহেতু ইলিশের মোট উৎপাদনের প্রায় ৬০ শতাংশ বাংলাদেশে হয়, তাই ইলিশ উৎপাদন আরও বাড়াতে পারলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে দেশ। আর ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে আমাদের জানতে হবে এর জন্ম, বৃদ্ধি, প্রজননসহ বিভিন্ন বিষয়ে। এছাড়া ইলিশ একটি পরিযায়ী মাছ। এরা ডিম ছাড়ার জন্য সাগর থেকে নদীতে আসে। আর এই পূর্ণাঙ্গ জিনোম সিকুয়েন্স থেকেই জানা যাবে, এরা কখন, কোথায় ডিম দেবে। কারণ জিনোমই জীবের সকল জৈবিক বৈশিষ্ট্য নিয়ন্ত্রণ করে। আর এসব জানা গেলে সরকার খুব সহজেই বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে ইলিশের টেকসই আহরণ এবং উৎপাদন নিশ্চিত করতে পারবে।

তিনি আরও বলেন, ইলিশের পূর্ণাঙ্গ ডি-নোভো জিনোম সিকোয়েন্সিং এর গবেষণা কাজটি গবেষকদের নিজস্ব উদ্যোগ, স্বেচ্ছাশ্রম এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছে। এ গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলদেশের মৎস্য সেক্টর পূর্ণাঙ্গ জিনোম গবেষণার যুগে প্রবেশ করল।

আরও পড়ুন

ভারতের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে পাকিস্তান

ভারতের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে পাকিস্তান

এশিয়া কাপের সুপার ফোরের ম্যাচে একটি করে ম্যাচ জিতে এগিয়ে ...

বাংলাদেশ হবে বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ: রাসিক মেয়র

বাংলাদেশ হবে বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ: রাসিক মেয়র

আগামী ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে অন্যতম ...

১০ জেলায় নতুন ডিসি

১০ জেলায় নতুন ডিসি

নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পেয়েছে দেশের ১০ জেলা।রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ...

চট্টগ্রামে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ২

চট্টগ্রামে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ২

চট্টগ্রামে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও সিএনজি অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে দুইজন ...

আরাধ্যকে বিব্রত করে ছবি না করার সিদ্ধান্ত অভিষেকের

আরাধ্যকে বিব্রত করে ছবি না করার সিদ্ধান্ত অভিষেকের

দুই বছর পর অভিষেক বচ্চন বলিউডে ফিরেছেন অনুরাগ কাশয়াপ পরিচালিত ...

২৬ ঘণ্টা পর বগুড়া দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু

২৬ ঘণ্টা পর বগুড়া দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু

প্রায় ২৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকার বগুড়া দিয়ে আবারও ট্রেন চলাচল ...

বাংলাদেশ এখন রোল মডেল: স্পিকার

বাংলাদেশ এখন রোল মডেল: স্পিকার

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, নারী উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন ...

ভিয়েতনামকে হারিয়ে গ্রুপ সেরা মেয়েরা

ভিয়েতনামকে হারিয়ে গ্রুপ সেরা মেয়েরা

গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ এবং ভিয়েতনামের সমান পয়েন্ট ছিল। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ...