রাজনীতি

সমাবেশে চাঙ্গা বিএনপি

সমাবেশ শান্তিপূর্ণ হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে নেতাকর্মীদের মধ্যে

প্রকাশ: ১৪ নভেম্বর ২০১৭      

মোশাররফ বাবলু

রাজধানীতে বড় ধরনের শোডাউনের পর উজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। দলীয় সূত্রের দাবি, রোববার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শান্তিপূর্ণ জনসমাবেশের মধ্য দিয়ে তাদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসছে। মামলা-মোকদ্দমায় আত্মগোপনে থাকা নেতাকর্মীরাও প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছেন। ওই সমাবেশের পর আগামী সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার মনোভাব ফিরে পেয়েছেন বলে মনে করেন নেতারা। সমাবেশ সফল করায় গতকাল সোমবার এক টুইটবার্তায় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের অভিনন্দন জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।  



'জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস' উপলক্ষে সমাবেশটি করলেও কার্যত এটি রাজনৈতিক শোডাউনে রূপ নেয়। অপ্রীতিকর কিছু ঘটার আশঙ্কা ছিল সমাবেশ ঘিরে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহনশীলতা ও উচ্চ পর্যায়ে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে শান্তিপূর্ণভাবে সমাবেশ সম্পন্ন হওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে নেতাকর্মীদের মধ্যে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ২৩ শর্ত দিলেও সেই নিয়ম ভেঙে মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দিয়েছেন নেতাকর্মীরা।



সরকারি দল আওয়ামী লীগ ও বিরোধী দল বিএনপির এই সহনশীল আচরণকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্নেষকরা। তারা বলছেন, এ ধরনের আচরণ বজায় থাকলে দেশে গণতন্ত্র চর্চার পথ সুগম হবে।  



এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্নেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ আনোয়ার হোসেন সমকালকে বলেন, বিএনপি নির্বিঘ্নে সমাবেশ শেষ করেছে তা ইতিবাচক, যদিও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বক্তব্যে নতুনত্ব কিছু নেই। তিনি বলেন, সেনাবাহিনীকে বিচারিক ক্ষমতা প্রদান করা উচিত হবে না। এ জন্য নির্বাচন কমিশনের আরপিও সংশোধন করা উচিত। বিএনপি চেয়ারপারসন উন্নতমানের বক্তব্য দিয়েছেন, হিংসাত্মক কিছু বলেননি।


তার বক্তব্যে মনে হয়েছে বিএনপি হার্ডলাইনে যাবে না। হয়তো তারা নির্বাচনে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে সমাবেশকে কেন্দ্র করে জনদুর্ভোগ চরমে ছিল মন্তব্য করে তিনি বলেন, সমাবেশের জন্য একটি স্থান নির্ধারণ করা উচিত। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছিলেন ছুটির দিন ছাড়া সমাবেশ করা যাবে না। তিনি বলেন, ছুটির দিনে সমাবেশ হলেও জনদুর্ভোগ কমবে বলে মনে হয় না।  



সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার সমকালকে বলেন, সরকারের দেওয়া শর্তের মধ্যে থেকে বিএনপি সমাবেশ করেছে। তবে সরকারের অনুমতি দেওয়া এবং কোনো সহিংসতা না ঘটা স্বস্তিদায়ক। যদিও দেশের প্রধান দু'দলই নিজ নিজ পক্ষে অনড়। তারা নিজেদের সুবিধামতো নির্বাচন করতে চায়। দু'দলই অনড় থাকলে এবং শক্তিমত্তা দেখালে পরিস্থিতি অচলাবস্থার দিকে যাবে। এটা দেশবাসীর কখনও কাম্য নয়।  



এ প্রসঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সমকালকে বলেন, সমাবেশে ব্যাপক লোকসমাগম ঠেকাতে সরকার বিভিন্ন স্থানে বাধা ও গণপরিবহন বন্ধ করে দিয়েছিল। এর পরও মানুষজন হেঁটে সমাবেশে স্বতঃস্ম্ফূর্তভাবে এসেছে। সরকার বাধা দিয়েও আটকাতে পারেনি। জনসভা শেষ পর্যন্ত জনসমুদ্রে রূপ নেয়। বিশাল সমাবেশ করতে পারায় দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে আস্থা ফিরে আসছে। আগামীতে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জনগণ ধানের শীষে ভোট দেবে এবং বিএনপি ক্ষমতায় যাবে। এই সমাবেশের মধ্য দিয়ে দলের সাংগঠনিক শক্তি মজবুত হবে বলেও মনে করেন তিনি। 



শ্রমিক দিবস উপলক্ষে ২০১৬ সালের ১ মে সর্বশেষ রাজধানীতে সমাবেশ করেছিল বিএনপি। নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ওই সমাবেশেও প্রধান অতিথির বক্তব্য দিয়েছিলেন দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। কিন্তু ১২ নভেম্বরের সমাবেশটি ছিল ব্যতিক্রম। কারণ প্রায় দু'বছর ঢাকায় কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল করতে না পারায় সরকারের ওপর নাখোশ ছিলেন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীরা। বিরোধী দলকে রাস্তায় নামতে দিচ্ছে না সরকার- এই অভিযোগ বিএনপির পক্ষ থেকে দেশি-বিদেশি কূটনীতিকদেরও জানানো হয়েছে। যে কারণে দীর্ঘদিন পর সমাবেশ করতে পারায় দলের নেতাকর্মীদের যে হতাশা ও সন্দেহ ছিল, তা কেটে গেছে।  



গত এক মাসে পরপর তিনটি কর্মসূচিতে ব্যাপক শোডাউন করেছে বিএনপি। এর আগে লন্ডন থেকে খালেদা জিয়া দেশে ফেরার পর বিমানবন্দর থেকে গুলশানের বাসভবন পর্যন্ত রাস্তার দু'ধারে ব্যাপক লোকসমাগম হয়েছিল। রোহিঙ্গার শিবির পরিদর্শনে ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রাস্তায় নেতাকর্মীরা ব্যাপক শোডাউন করে তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। এই গণসংযোগকে কেন্দ্র করে সারাদেশের নেতাকর্মীরা কিছুটা চাঙ্গা হয়েছেন। তবে ফেনীতে সাংবাদিকদের গাড়িতে হামলা ও ঢাকায় ফেরার পথে ফেনীর মহীপালে যাত্রীবাহী বাসে অঘ্নিসংযোগের ঘটনাও বিএনপির পক্ষে গেছে বলে মনে করেন বিএনপি নেতারা। সর্বশেষ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করতে পারায় বিএনপি পুরোপুরি নির্বাচনমুখী না হলেও সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা সক্রিয় হয়ে উঠবেন। পাশাপাশি নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার কৌশল খুঁজবে দলটি।  



দলের কয়েকজন ভাইস চেয়ারম্যান ও যুগ্ম মহাসচিব পর্যায়ের নেতা সমকালকে জানান, সরকার বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়ার পরও সমাবেশে ব্যাপক লোকসমাগম হয়েছে। সমাবেশে নেতাকর্মী ও সর্বস্তরের মানুষ যেভাবে যোগ দিয়েছেন, তাতে মনে হচ্ছে, মানুষ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার পরিবর্তন চায়। 



অন্যদিকে স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গণপরিবহন বন্ধ থাকার পরও যেভাবে মানুষ সমাবেশে যোগ দিয়েছে, তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। দেশবাসীর আর বুঝতে বাকি নেই যে, বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রেখে কোনো লাভ হবে না। সংলাপ-সমঝোতার মধ্য দিয়ে আগামী নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে হবে।

আরও পড়ুন

জুভেন্টাসের সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ে নকআউটে বার্সা

জুভেন্টাসের সঙ্গে গোলশূন্য ড্রয়ে নকআউটে বার্সা

উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বের ম্যাচে টানা দ্বিতীয় ড্র করেছে ...

নৌকায় চড়তে চান নাজমুল হুদা

নৌকায় চড়তে চান নাজমুল হুদা

বিএনপির এক সময়কার ডাকসাইটে নেতা ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা এখন আওয়ামী ...

ন্যায়বিচার চায় পরিবার

ন্যায়বিচার চায় পরিবার

কুমিল্লার কলেজছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের এক বছর আট মাস ...

 আওয়ামী লীগে দ্বন্দ্ব-বিবাদ বিএনপিতে দুর্বল প্রার্থী

আওয়ামী লীগে দ্বন্দ্ব-বিবাদ বিএনপিতে দুর্বল প্রার্থী

নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনে একাধিক মনোনয়নপ্রার্থী থাকায় অভ্যন্তরীণ মতানৈক্য প্রকট হয়ে ...

হাজারীখিল মাতাচ্ছে ১২৩ প্রজাতির পাখি

হাজারীখিল মাতাচ্ছে ১২৩ প্রজাতির পাখি

মথুরা, কাঠময়ূর ও হুদহুদ। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ ...

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বৃহস্পতিবার চুক্তি হতে পারে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বৃহস্পতিবার চুক্তি হতে পারে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা থেকে বাঁচতে পালিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে ...

হরিষে বিষাদ

হরিষে বিষাদ

ভাগ্নির বিয়েতে আনন্দে নাচানাচি করছিলেন মামা শাহাবুল ইসলাম (২৮)। কিন্তু পাশেই ...

বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে বাড়তি ক্লাস নেওয়ার নির্দেশ

বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে বাড়তি ক্লাস নেওয়ার নির্দেশ

দেশের প্রতিটি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে বাল্যবিয়ে আর নারীর প্রতি ...