রাজনীতি

ঢাকায় ভোটের হাওয়া

ঢাকায় ভোটের হাওয়া কাউন্সিলর প্রার্থীরাও মাঠে

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০১৮     আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০১৮      

অমরেশ রায় ও কামরুল হাসান

ঢাকা সিটি করপোরেশনের (ডিসিসি) উত্তর ও দক্ষিণের নতুন ৩৬টি ওয়ার্ডের নির্বাচন সামনে রেখে মাঠে নেমে পড়েছেন সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর তাদের এই প্রচার ও গণসংযোগ আরও গতি পেয়েছে। সেইসঙ্গে কাউন্সিলর পদে দলীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে নানামুখী তদবির ও লবিং চলছে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সম্ভাব্য প্রার্থীদের।

গত মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপনির্বাচনের পাশাপাশি দুই সিটি করপোরেশনে নতুনভাবে যুক্ত হওয়া ১৮টি করে মোট ৩৬টি ওয়ার্ডের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেইসঙ্গে দুই অংশে ছয়টি করে মোট ১২ জন সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরও নির্বাচিত হবেন। ঢাকা মহানগরীর দুই অংশে থাকা আটটি করে মোট ১৬টি ইউনিয়নকে ভেঙে নতুন এই ৩৬টি ওয়ার্ড গঠন করে সিটি করপোরেশনে যুক্ত করা হয়েছে।

২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত ডিসিসি নির্বাচনে উত্তর ও দক্ষিণের মেয়র ছাড়াও ৯৩টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন হয়েছিল। যার মধ্যে ডিএনসিসিতে ৩৬ এবং ডিএসসিসিতে ৫৭টি ওয়ার্ড ছিল। ওই সময় ৩১টি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদেও ভোট হয়। নতুন যুক্ত ওয়ার্ডসহ মোট ওয়ার্ড সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ডিএনসিসিতে ৫৪ এবং ডিএসসিসিতে ৭৫। অর্থাৎ দুই সিটি মিলিয়ে মোট ওয়ার্ড সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২৯টি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ডিএনসিসি ও ডিএসসিসি- উভয় অংশের প্রতিটি ওয়ার্ডেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের পক্ষে পোস্টার, ব্যানার ও বিলবোর্ডে ছেয়ে গেছে। নির্বাচনী এলাকার বিভিন্ন স্থানে নানা ইস্যুতে ভোটারদের শুভেচ্ছা জানিয়ে ছবিসহ এসব পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন টানানো হয়েছে। কেউ কেউ আবার বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামসহ এলাকার উন্নয়নে নিজের ভূমিকা তুলে ধরে লিফলেট প্রকাশ করে ভোটারদের সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা করছেন। প্রার্থীদের বেশিরভাগই নির্বাচনী প্রস্তুতিমূলক সভা-সমাবেশের পাশাপাশি এলাকাবাসীর সঙ্গে গণসংযাগ ও মতবিনিময়, দলীয় ও সামাজিক কর্মসূচিগুলোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন এবং দুস্থদের মধ্যে দান-খয়রাতের মাধ্যমে ব্যস্ত সময় পার করছেন। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণায় সব এলাকাতেই এখন নির্বাচনী হাওয়া বইছে।

এ ক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের তৎপরতাই বেশি দেখা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের অন্য শরিক দলগুলোর অল্প কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর তৎপরতাও চোখে পড়েছে। আর সরকারবিরোধী প্রধান দল বিএনপি এবং তার নেতৃত্বাধীন ২০ দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরাও বসে নেই। রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকায় সরকারবিরোধী এসব সম্ভাব্য প্রার্থীও সরকার সমর্থক সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে সমানতালে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের শরিক ও সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির (এরশাদ) সম্ভাব্য কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থীও ঢাকার দুই সিটিতেই নির্বাচনী তৎপরতা চালাচ্ছেন। এর বাইরে সংখ্যায় কম হলেও বাম দলগুলোর সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরাও নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছেন। এ ছাড়া এলাকায় বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও স্বতন্ত্র ও নির্দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের কথা জানান দিয়েছেন।

ক্ষমতাসীন জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা :ডিসিসি উত্তর ও দক্ষিণ অংশের ৩৬টি ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগ থেকে গড়ে ৭-৮ জন করে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। সংরক্ষিত ১২টি ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর পদেও প্রায় অর্ধশত নারী নেত্রী সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জোর তদবির-লবিংয়ের পাশাপাশি নির্বাচনী তৎপরতা চালাচ্ছেন। এ হিসাবে কেবল ক্ষমতাসীন দল থেকেই চারশ'র বেশি সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী এখন নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়।

আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় বিদায়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং বিদায়ী ইউপি মেম্বারদের সংখ্যাই বেশি। ইউনিয়ন ভেঙে সিটি করপোরেশনের নতুন ওয়ার্ড গঠিত হওয়ায় এসব জনপ্রতিনিধি এবার কাউন্সিলর নির্বাচন করার দিকে ঝুঁকেছেন। এ ছাড়া দল, সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের মহানগর, থানা ও সদ্য সাবেক ইউনিয়ন নেতারাও দলীয় সমর্থন প্রত্যাশী। প্রায় সবাই নানা তদবির-লবিংয়ের পাশাপাশি দলের কেন্দ্রীয় ও নগরের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করে দলীয় সমর্থন লাভের চেষ্টা করছেন।

তবে ক্ষমতাসীন দলটি ওয়ার্ডভিত্তিক দলসমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নির্ধারণের কাজ এখনও শুরু করেনি। কেন্দ্র থেকে নির্দেশ এলে কিছুদিনের মধ্যেই দলের ঢাকা মহানগর নেতারা থানা কমিটিগুলোর মাধ্যমে ওয়ার্ডভিত্তিক যাচাই-বাছাই শুরু করার কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন মাধ্যমে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থান, জনপ্রিয়তা ও জয়লাভের সম্ভাবনা নিয়ে মাঠ জরিপও চালানো হবে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা তৈরি করে দলীয় নীতিনির্ধারক নেতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। এরপরই আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আলোচনার পর কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে দলীয় সমর্থন চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা।

এদিকে, ঐক্যবদ্ধ নির্বাচনের দাবি নিয়ে ১৪ দলের শরিক দলগুলোর অল্পসংখ্যক সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীও নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছেন। মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনী তৎপরতাও চোখে পড়েছে। এসব সম্ভাব্য প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী এলাকার কোথাও কোথাও পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন লাগিয়ে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান সমকালকে জানান, উত্তরের নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে দলসমর্থিত প্রার্থী নির্ধারণে কেন্দ্র থেকে এখনও তাদের কাছে কোনো নির্দেশনা আসেনি। কেন্দ্রের নির্দেশনা পাওয়ামাত্রই এ বিষয়ে তৎপরতা শুরু করবেন তারা।

দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ একই তথ্য জানিয়ে বলেন, যে কোনো নির্বাচনেই একটি বড়, ক্ষমতাসীন দল ও জোটের সম্ভাব্য প্রার্থীদের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে বেশি হবে- এটিই স্বাভাবিক। তবে যাচাই-বাছাই শেষে ডিসিসির নতুন ওয়ার্ডগুলোতে যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থীদেরই দলীয় সমর্থন দেওয়ার চেষ্টা করবেন তারা।

বিরোধী জোটের তৎপরতা :প্রায় প্রতিটি ওয়ার্ডে সরবেই চলছে বিএনপির সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রস্তুতি। বর্তমানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অনেকটা স্থিতিশীল থাকায় এবং সরকার সমর্থকদের হামলা-মামলা কম হওয়ায় রাজপথের প্রধান এই বিরোধী দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা প্রকাশ্যেই নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার সুযোগ পাচ্ছেন। এলাকার নেতৃত্ব বহাল রাখার পাশাপাশি মাঠ হারাতে নারাজ দলটির থানা-ওয়ার্ড ও সদ্য সাবেক ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা। কাউন্সিলর পদে ভোটের লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি শুরু করেছেন তারা। সম্ভাব্য এই প্রার্থী তালিকায় বিএনপি সমর্থক বেশ কয়েকজন সদ্যবিদায়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং মেম্বারও রয়েছেন।

দেখা গেছে, নতুন ৩৬টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে বিএনপি থেকে গড়ে চারজন করে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী নির্বাচনী তৎপরতা চালাচ্ছেন। আর ১২টি সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করতে গড়ে দু'জন করে নারী নেত্রী তৎপর রয়েছেন। এ হিসাবে বিএনপি থেকে দেড় শতাধিক সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। এ ছাড়া বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলের অন্য শরিকদের মধ্যে কয়েকটি ছোট দলের অল্পসংখ্যক সম্ভাব্য প্রার্থীও এরই মধ্যে এলাকাভিত্তিক নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছেন।

বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল এ প্রসঙ্গে সমকালকে বলেন, দলীয় সমর্থনপ্রত্যাশী নেতারা কাউন্সিলর পদে নির্বাচনের জন্য নিজ উদ্যোগেই প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছেন। দলীয়ভাবে এখনও সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে বসা হয়নি। খুব শিগগির তাদের নিয়ে বৈঠকে বসে দল সমর্থিত চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হবে। অন্যান্য সময়ের মতো এই নির্বাচনও সুষ্ঠু হবে না- এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেও বিএনপি শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের মাঠে থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসানও একই ধরনের অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

বিষয় : ঢাকায় ভোটের হাওয়া

পরবর্তী খবর পড়ুন : যখন আওয়ামী লীগ জেতে কিংবা হারে

গাড়ির হর্ন বাজানোয় চালককে খুন!

গাড়ির হর্ন বাজানোয় চালককে খুন!

চট্টগ্রাম নগরীর চট্টেশ্বরী পল্টন রোডে গাড়ির হর্ন বাজানোকে কেন্দ্র করে ...

নেইমারের চুল নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়

নেইমারের চুল নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়

ব্রাজিল তারকা নেইমারের চুলের নতুন নতুন স্টাইলের কথা সবার জানা। ...

রেকর্ড ফাউলের শিকার নেইমার

রেকর্ড ফাউলের শিকার নেইমার

১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ দেখেছেন এবং এখনও বেঁচে আছেন এমন মানুষের ...

জকিগঞ্জে দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী

জকিগঞ্জে দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী

সিলেটের জকিগঞ্জের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি ২ সেন্টিমিটার কমলেও লোকালয়ে বৃদ্ধি ...

প্রত্যাশা নয়, ভালোর আশায় দ. কোরিয়া

প্রত্যাশা নয়, ভালোর আশায় দ. কোরিয়া

মহাদেশীয় কোটার কারণে বিশ্বকাপে এশিয়ার দল থাকে বটে। কিন্তু শিরোপার ...

তাদের কাছে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নয়, ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ: কাদের

তাদের কাছে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নয়, ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ: কাদের

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়টি নিয়ে তার দলের নেতারা ...

মাগুরায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মেয়ে নিহত

মাগুরায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মেয়ে নিহত

মাগুরা-যশোর সড়কের মাগুরার শালিখা উপজেলার কৃষ্ণপুর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মেয়ে ...

নতুন সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ

নতুন সেনাপ্রধান আজিজ আহমেদ

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজিজ ...