রাজনীতি

সাক্ষাৎকার

আবার ক্ষমতায় আসবে আওয়ামী লীগ :নাসিম

প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০১৮     আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০১৮      

শাহেদ চৌধুরী ও রাজবংশী রায়

এখন নির্বাচন হলে জনগণ আবারও আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করবে বলে আশা আওয়ামী লীগ সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সরকারের ওপর জনগণের আস্থা আরও বেড়েছে।

সরকারের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে সমকালকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বিএনপি আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তার মতে, বিএনপির সামনে এর বাইরে আর কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচনকালীন সরকারে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীকে

রাখা হবে না বলেও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। সেইসঙ্গে বিএনপির সঙ্গে সংলাপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিয়েছেন বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক।

সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদ নাসিম সরকার পরিচালনায় দলের সীমাবদ্ধতার দিকগুলোর প্রতিও আলোকপাত করেছেন। তিনি বলেছেন, কিছু ক্ষেত্রে সরকারের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। রাজধানী ঢাকায় যানজটের দুর্ভোগ কমেনি। দ্রব্যমূল্য পরিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে আসেনি। কিছু পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি নিয়ে সরকারে অস্বস্তি আছে। তা ছাড়া প্রশাসনিক ক্ষেত্রে এখনও প্রত্যাশিত গতি আসেনি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ধীরগতির কারণে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডও মন্থর হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের কিছু উচ্ছৃঙ্খল নেতার অতি উৎসাহী কর্মকাণ্ডে বিরক্ত মোহাম্মদ নাসিম। তার ভাষায়, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর কিছু নেতার অতি উৎসাহী কর্মকাণ্ড কিংবা স্বেচ্ছাচারিতা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। এটাকে পরিপূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী কঠোরভাবেই অপরাধীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছেন। কেউ কেউ দল থেকে বহিস্কৃত হয়েছেন, মন্ত্রিসভা থেকেও বাদ পড়েছেন কেউ কেউ। মোট কথা, অপরাধ করে কেউই পার পাচ্ছেন না। কাউকেই ছাড়া হচ্ছে না। এটাই তখন সরকারের নীতি।

আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, সব কিছু ঠিকঠাক আছে। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ১৪ দল জোটগতভাবে আবারও নির্বাচনে লড়বে। আর এই মুহূর্তে ১৪ দলীয় জোট সম্প্রসারণের কোনো চিন্তা-ভাবনা নেই। তবে খুব দ্রুতই ১৪ দলের শীর্ষ নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন। আর মনোনয়ন নিয়ে ১৪ দলীয় জোটে কোনো ধরনের সংকট তৈরি হবে না বলেও বিশ্বাস করছেন মোহাম্মদ নাসিম।

বিএনপিকে আগামী নির্বাচনের লড়াইয়ে আওয়ামী লীগের প্রধান প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখছেন মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেছেন, বিএনপি অবশ্যই একটি বড় রাজনৈতিক দল। এই দলটি দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিল। তাদের জনসমর্থন আছে। আর্থিকভাবেও তারা সচ্ছল। সেইসঙ্গে তারা স্বাধীনতাবিরোধী এবং জঙ্গি-সাম্প্রদায়িক অপশক্তির সমর্থনও পাচ্ছে। তাই আগামী নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগের।

বিএনপি নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের নামে বড় আওয়াজ দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মোহাম্মদ নাসিম। তার ভাষায়, সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচন হবে। এর কোনো বিকল্পও নেই। আর নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার বলতে দুনিয়ার কোথাও কিছু নেই। সুতরাং নির্বাচন হবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। সরকার শুধু ধারাবাহিকতা রক্ষা করবে। প্রশাসন থাকবে নির্বাচন কমিশনের অধীনে। আসলে সরকারকে চাপে রাখার পাশাপাশি নেতাকর্মীদের চাঙ্গা রাখতেই বিএনপি ওই দাবি তুলছে বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, শেষ পর্যন্ত তারা বর্তমান কাঠামোতেই নির্বাচনে অংশ নেবে। দলীয় কর্মসূচি পালনের বেলায় বিএনপিকে কোনো বাধা দেওয়া হচ্ছে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদ নাসিম। তিনি বলেছেন, আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা ছাড়া বিএনপির সামনে অন্য কোনো বিকল্প নেই। মানুষ নির্বাচন চায়। শান্তি চায়। নির্বাচিত সরকারই মানুষের প্রত্যাশা। রাজপথে হরতাল কিংবা অবরোধে জনসমর্থন নেই। মানুষ তথাকথিত আন্দোলন চায় না। তিনি আরও বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংলাপের আগ্রহ দেখালেও বিএনপি সাড়া দেয়নি। জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলন করেছে। সুতরাং তাদের সঙ্গে এখন আর কোনো স্তরেই সংলাপের সুযোগ নেই। তা ছাড়া অতীতে কোনো রাজনৈতিক সংলাপই সফল হয়নি। সংলাপের নামে নাটক হয়েছে। পরস্পর পরস্পরকে দোষারোপ করেছে।

আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের বিজয়ে শতভাগ আশাবাদী মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, দেশের সর্বস্তরের মানুষের বিবেচনায় অসাম্প্রদায়িকতা, শান্তি, উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য একমাত্র আওয়ামী লীগই পরীক্ষিত রাজনৈতিক শক্তি। এ ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের বিকল্প আওয়ামী লীগ। বিএনপি স্বাধীনতাবিরোধীদের পাশাপাশি জঙ্গি অপশক্তিকে লালন-পালন করে বলেই মানুষ তাদের কাছে কিছু আশা করে না। মানুষ তাদের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

প্রতিকূল অবস্থায় গত নির্বাচন আয়োজনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ১৪ দলের এই মুখপাত্র বলেছেন, ওই সময়ে নির্বাচন ভণ্ডুল করে অসাংবিধানিক সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য কথিত আন্দোলনের নামে সন্ত্রাস-নৈরাজ্য ও জ্বালাও-পোড়াও করছিল বিএনপি-জামায়াতে ইসলামী। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ১৯৭১ সালের চিহ্নিত খুনিদের রক্ষার জন্য বিএনপির ওপর ভর করেছিল। জনরায়ে ক্ষমতায় আসার বেলায় আওয়ামী লীগকে ঠেকানোর জন্য ভয়াবহ চক্রান্তেও লিপ্ত ছিল তারা। ওরা জানত, সুষ্ঠু নির্বাচনে ক্ষমতায় আসবে আওয়ামী লীগ। আর সেটা হলে দণ্ডিত খুনিদের রায় কার্যকর করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই তারা অসাংবিধানিক সরকার চেয়েছিল। এ কারণে প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে তথাকথিত অবরোধের নামে জনগণের সম্পদ ধ্বংস করেছিলেন খালেদা জিয়া। সেই অবস্থায় নির্বাচনের মাধ্যমে সাংবিধানিক সরকার প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না সরকারের সামনে। সরকার ওই চ্যালেঞ্জেও জয় পেয়েছে।

বর্তমান সরকারকে দেশের ইতিহাসে সব চাইতে সফল রাজনৈতিক সরকার হিসেবে দাবি করে মোহাম্মদ নাসিম বলেছেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি গণতান্ত্রিক সরকার ধারাবাহিকভাবে দেশ পরিচালনা করছে। সরকারের ধারাবাহিকতা আছে বলেই অনেকের বিরোধিতার পরও পদ্মা সেতু নির্মাণের কার্যক্রম শুরুর পাশাপাশি বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধান হয়েছে। ইতিমধ্যে পদ্মা সেতু দৃশ্যমানও হয়েছে। গ্রাম পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত হয়েছে। প্রবৃদ্ধি বেড়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। সব মিলিয়ে সর্বত্র এখন দৃশ্যমান উন্নয়নের ছড়াছড়ি। তিনি রোহিঙ্গা সমস্যা মোকাবেলার পাশাপাশি আশ্রয় ও খাদ্য দিয়ে রোহিঙ্গাদের সহায়তা করার ঘটনাকে সরকারের বড় একটি অর্জন হিসেবে দেখছেন।

তিনি বলেন, অশুভ শক্তির চরম বিরোধিতার পাশাপাশি খুন-সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে উৎসাহিত করার পরও সরকার জঙ্গি দমনসহ নানা বিষয়ে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে সফলতা অর্জন করেছে। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দণ্ড কার্যকর হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ঘাতকদের দণ্ড কার্যকর হচ্ছে। সরকার দুর্নীতি দমনে কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে। সুশাসন প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ ও শিক্ষা খাতে অনেক উন্নতি হয়েছে। গ্রামীণ অর্থনীতি অনেক চাঙ্গা হয়েছে। সমুদ্র জয় হয়েছে। ভারতের সঙ্গে সীমান্ত চুক্তি হয়েছে। সব দেশের সঙ্গেই এখন বাংলাদেশের সুসম্পর্ক।

বিষয় : সাক্ষাৎকার

পরবর্তী খবর পড়ুন : একতরফা নির্বাচন করতে চায় সরকার :ফখরুল

আরও পড়ুন

নেইমারের মতো ফাউলের শিকার হননি আর কেউ

নেইমারের মতো ফাউলের শিকার হননি আর কেউ

১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ দেখেছেন ও এখন বেচে আছেন এমন মানুষের ...

জকিগঞ্জে দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী

জকিগঞ্জে দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী

সিলেটের জকিগঞ্জের সুরমা-কুশিয়ারা নদীর পানি ২ সেন্টিমিটার কমলেও লোকালয়ে বৃদ্ধি ...

প্রত্যাশা নয়, ভালোর আশায় দ. কোরিয়া

প্রত্যাশা নয়, ভালোর আশায় দ. কোরিয়া

মহাদেশীয় কোটার কারণে বিশ্বকাপে এশিয়ার দল থাকে বটে। কিন্তু শিরোপার ...

'জায়ান্ট-কিলার' সুইডেনের সামনে দ. কোরিয়া

'জায়ান্ট-কিলার' সুইডেনের সামনে দ. কোরিয়া

রাশিয়া বিশ্বকাপে সব থেকেও 'কি যেন নেই নেই' ভাব, তার ...

ইব্রাহিমের ছবি মনে করিয়ে দেয় তরুণ সাইফফে

ইব্রাহিমের ছবি মনে করিয়ে দেয় তরুণ সাইফফে

বলিউড অভিনেতা সাইফ আলী খান ও কারিনা কাপুরের ছেলে তৈমুর ...

তাদের কাছে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নয়, ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ: কাদের

তাদের কাছে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা নয়, ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ: কাদের

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসার বিষয়টি নিয়ে তার দলের নেতারা ...

মাগুরায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মেয়ে নিহত

মাগুরায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মেয়ে নিহত

মাগুরা-যশোর সড়কের মাগুরার শালিখা উপজেলার কৃষ্ণপুর এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-মেয়ে ...

ছুটি শেষেও সচিবালয়ে ঈদের আমেজ

ছুটি শেষেও সচিবালয়ে ঈদের আমেজ

তিন দিন সরকারি ছুটির পর আজ সোমবার খুলেছে সব সরকারি ...