রাজনীতি

সংবিধানে নির্বাচনকালীন সরকার বলেও কিছু নেই: মওদুদ

প্রকাশ: ১৩ জানুয়ারি ২০১৮      

সমকাল প্রতিবেদক

ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ—ফাইল ছবি

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, 'ভোটের আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের কথা বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন। কারণ সংবিধানে নিরপেক্ষ সরকার বলে যেমন কিছু নেই, তেমনি নির্বাচনকালীন সরকার বলেও কিছু নেই।

জাতিকে বিভ্রান্ত করতেই এটা বলা হচ্ছে। সর্বোপরি তিনি (প্রধানমন্ত্রী) তার বক্তব্যে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও দুঃখের কোনো প্রতিফলন ঘটাতে পারেননি।'

জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে শনিবার 'ডেমোক্রেটিক মুভমেন্ট' আয়োজিত 'বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা ও গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব বলেন।

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী আসলে তার বক্তব্যে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের কথাই বলেছেন। সেটাই তিনি বলার চেষ্টা করেছেন। তবে সকলের প্রত্যাশা ছিল-কীভাবে একটা সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করা যায়, সে ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী কিছু বলবেন। কিন্তু সে ব্যাপারে তিনি কিছুই বলেননি। এতে জাতি হতাশ হয়েছে।'

তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে দেশের আসল চিত্র তুলে ধরেননি। তিনি তার সরকারের উন্নয়নের কথা বলেছেন এবং বিরোধী দলকে কিভাবে আঘাত করা যায়, সেভাবেই তিনি বক্তব্যে দিয়েছেন। কিন্তু দেশে যে গণতন্ত্র নাই, আইনের শাসন বিলুপ্তির পথে, প্রধান বিচারপতির অপসারণের মধ্যে দিয়ে বিচার বিভাগের মৃত্যু হয়েছে, নিম্ন আদালত নির্বাহী বিভাগের অধীনে গেছে, বিচার বিভাগের পৃথকীকরণে মাসদার হোসেনের মামলার যে মৃত্যু ঘটেছে, সংসদ যে অকার্যকর, ৫ জানুয়ারির নির্বাচন যে একটি ভোটবিহীন নির্বাচন হয়েছে, নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দিবে কি-না বা সেনা মোতায়েন করা হবে কি-না, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, গুম, খুন, নারী-শিশু নির্যাতন, সাগর-রুনির হত্যা বিচার, জনগণের টাকা লুণ্ঠন করা হচ্ছে, এসব বিষয়ে কিছু শুনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি এসব তার বক্তব্যে বলেন নাই। সুতরাং তার ভাষণ একতরফা ভাষণ।'

এ ছাড়া শেখ হাসিনার সরকার একটি 'অনির্বাচিত সরকার এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়নি' এই কথাটাও তিনি বলতে ভুলে গিয়েছেন বলে জানান ব্যারিস্টার মওদুদ।

সাবেক এই আইনমন্ত্রী বলেন, 'এখন দেশের সকলেই এক কঠিন সময় পার করছে। কখন যে কে গ্রেফতার হয় তার কোনো হিসেব নেই। কিন্তু এরপরও কোনো উপায় নাই, সকলকে এগিয়ে যেতে হবে। গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার, আইনের শাসন, বিচারবিভাগ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনতে হবে। সুতরাং যতই নির্যাতন ও বিএনপি চেয়ারপারসনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হোক না কেন, কোনো কিছুই ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।'

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি শাহাদাত হোসেন সেলিমের সভাপতিত্বে সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মুজিবুর রহমান সারোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, ন্যাপের মহাসচিব গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

আরও পড়ুন

এক মাসের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

এক মাসের মধ্যেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে মো. আবদুল হামিদের ৫ বছর মেয়াদ পূর্ণ হচ্ছে ...

পরিবেশের সর্বনাশ

পরিবেশের সর্বনাশ

'ত্রিশ বছর আগেও চার-পাঁচটি জেলেপল্লী ছিল সাভারের সাধাপুর থেকে ধামরাই ...

একই সুতোয় দুই বাংলা

একই সুতোয় দুই বাংলা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তরাঞ্চল আর বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গ- এ দুই এলাকায় যেসব ...

আওয়ামী লীগে একক প্রার্থী বিএনপিতে অস্থিরতা

আওয়ামী লীগে একক প্রার্থী বিএনপিতে অস্থিরতা

একক প্রার্থী নিশ্চিত থাকায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ...

মেয়ে হয়ে জন্মানোই ছিল অপরাধ!

মেয়ে হয়ে জন্মানোই ছিল অপরাধ!

প্রথম সন্তান মেয়ে হওয়ায় বাবার চাওয়া ছিল পরেরটি ছেলে হোক। ...

ভালো হওয়ার সুযোগ পাবে 'বিপথগামীরা'

ভালো হওয়ার সুযোগ পাবে 'বিপথগামীরা'

জঙ্গিবাদে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জ থেকে এক তরুণকে ...

রিয়ালের স্বস্তির জয়

রিয়ালের স্বস্তির জয়

সবশেষ গত বছরের ডিসেম্বরে সেভিয়াকে বিধ্বস্ত করে লা লীগায় জয়ের ...

পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভের মুখে ওবায়দুল কাদের

পদবঞ্চিতদের বিক্ষোভের মুখে ওবায়দুল কাদের

গঠন প্রক্রিয়ায় থাকা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসম্পাদক পদ নিয়ে ...