রাজনীতি

আ'লীগ তৃণমূলের দাবি

ব্যবসায়ী নয় সৎ নেতাকে প্রার্থী চাই

প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০১৮       প্রিন্ট সংস্করণ     

অমরেশ রায়

আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থী বাছাইকালে নেতাদের সততা, দক্ষতা ও কর্মীদের মূল্যায়নের সক্ষমতাকে বিবেচনায় আনার তাগিদ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতারা। তারা বলেছেন, দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাকে প্রার্থী করবেন, তার পক্ষেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন। তবে ব্যবসায়ী ও কর্মীবিরূপ নেতা নন; সৎ ও আদর্শবান রাজনৈতিক নেতাকে প্রার্থী হিসেবে দিতে হবে। তাহলেই জনগণের সমর্থন নিয়ে নৌকাকে বিজয়ী করা যাবে। 


গতকাল শনিবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন চত্বরে আওয়ামী লীগের তৃতীয় পর্যায়ের বিশেষ বর্ধিত সভায় তৃণমূল নেতারা এসব কথা বলেন। দেশের বিভিন্ন আসনের এমপিরা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করছেন- এমন অভিযোগ তুলে ধরে তারা দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ফেরাতে নেত্রীর হস্তক্ষেপ চান। 


আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এ সভায় ঢাকা, খুলনা, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের অধীন প্রতিটি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক, ইউনিয়ন পরিষদের দলীয় চেয়ারম্যান এবং মহানগরের অধীন দলের প্রতিটি ওয়ার্ড সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক ও দলীয় কাউন্সিলররা যোগ দেন। দলের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ ও উপদেষ্টা পরিষদ নেতারা এবং জেলা ও মহানগর সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। এতে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর চার বিভাগের পাঁচ জন নেতা বক্তব্য রাখার সুযোগ পান। 


এ সময় ময়মনসিংহ বিভাগের পক্ষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দলের নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার গণ্ডা ইউনিয়ন সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সনজু মিয়া বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার সুযোগ পাওয়াতে আওয়ামী লীগ করে তার আর কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। তিনি বলেন, নেত্রী যাকেই আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন দেবেন, তাকে নির্বাচিত করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব। তার এলাকার এমপি (নেত্রকোনা-৩) ইফতিকার উদ্দিন তালুকদার পিন্টু নিজের ব্যবসা নিয়েই ব্যস্ত থাকেন। ঠিকমতো এলাকায় আসেন না; জনগণ ও নেতাকর্মীদের কোনো সময় দেন না। দলের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তৃণমূল নেতাকর্মীদের মূল্যায়নও করেন না। তাই তারা চান কোনো ব্যবসায়ী নয়, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সৎ, আদর্শবান ও ত্যাগী ব্যক্তিকে আগামীতে মনোনয়ন দেওয়া হোক। 


ঢাকা বিভাগের পক্ষে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মানিক সরদার বলেন, যোগ্যতা ও দক্ষতা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শুধু বাংলাদেশ নয়; সারাবিশ্বকেই নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। তিনি দক্ষিণবঙ্গের মানুষের জন্য পদ্মা সেতু করে দিচ্ছেন। এই সেতুর মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন হবে। শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীরা এক ও অভিন্ন। তারা নৌকার বিজয়ের জন্য কাজ করে যাবেন। আগামী নির্বাচনে জেলার তিনটি আসনেই বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রীকে উপহার দিতে সক্ষম হবেন তারা। 


খুলনা বিভাগের পক্ষে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান সরকারের মাধ্যমে বিগত দিনে কুষ্টিয়ার অনেক উন্নয়ন হয়েছে। এই উন্নয়নে তৃণমূলের মানুষ খুশি, নেতাকর্মীরাও অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ। 


একই বিভাগের পক্ষে বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার বেতাগা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান স্বপন কুমার দাশ বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সময়ও দুই-একজন নেতা এদিক-সেদিক করলে তৃণমূল নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ছিলেন। এখনও তারা তৃণমূলে ঐক্যবদ্ধ। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণের চলমান অগ্রযাত্রায় নৌকার প্রার্থীদের আগামী নির্বাচনে বিজয়ী করে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করবেন তারা। 


লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার তিনবিঘা করিডোর এলাকার দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কামাল হোসেন প্রধান বলেন, প্রধানমন্ত্রী এক সময়কার ভারতীয় এই ছিটমহলের (বর্তমানে বাংলাদেশের সীমানাভুক্ত) মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করেছেন। তার অবদান, তার ঋণ দহগ্রামবাসী কোনোদিন পরিশোধ করতে পারবেন না। তিনি বলেন, আজকে বাংলাদেশের যে উন্নয়ন, তা অব্যাহত রাখতে হলে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হাতে হাত মিলিয়ে, কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে অবশ্যই নৌকা মার্কাকে বিজয়ী করতে হবে। 


তৃণমূলের এসব নেতার বক্তব্য শুনে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা বলেন, আগামী নির্বাচনে নেতাকর্মীদের ভোট চাইতে হবে নৌকার পক্ষে। কাকে প্রার্থী করা হয়েছে- সেটি যেন তারা যাচাই-বাছাই করতে না যান। যাচাই-বাছাই করতে গেলেই দলকে হারতে হবে, ক্ষমতায় আসা যাবে না। কারও (প্রার্থী) চেহারা দেখারও দরকার নেই। মানুষের মধ্যে শুধু নৌকার পক্ষে প্রচার করতে হবে। 


দলকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি মানুষের ঘরে ঘরে গিয়ে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রচারের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজ নিজ এলাকায় গিয়ে জনমত তৈরি করতে হবে। সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। এদেশে সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও মাদকের স্থান হবে না। তাই নেতাকর্মীদেরও সমাজের সবাইকে নিয়ে এগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। 

আরও পড়ুন

শেষের রোমাঞ্চে হার আফগানদের

শেষের রোমাঞ্চে হার আফগানদের

এখন পর্যন্ত এশিয়া কাপের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ম্যাচ উপহার দিয়েছে পাকিস্তান-আফগানিস্তান। ...

বরিশালে ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা

বরিশালে ইউপি চেয়ারম্যানকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা

বরিশালের উজিরপুর উপজেলার জল্লাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিশ্বজিৎ হালদার নান্টুকে ...

দুবাই যাচ্ছেন সৌম্য-ইমরুল

দুবাই যাচ্ছেন সৌম্য-ইমরুল

ড্রেসিংরুম থেকেই জরুরি তলব ঢাকায়-ওপেনিংয়ে কিছুই হচ্ছে না। সৌম্য সরকারকে ...

খালেদা জিয়ার সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ

খালেদা জিয়ার সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ

বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। ...

'নায়ক' গেলো সেন্সরে

'নায়ক' গেলো সেন্সরে

ঢাকাই ছবির জনপ্রিয় নায়ক বাপ্পি ও নবাগতা অধরা খান জুটির ...

সোনাহাট স্থলবন্দরে শ্রমিকদের সংঘর্ষ, ১৪৪ ধারা জারি

সোনাহাট স্থলবন্দরে শ্রমিকদের সংঘর্ষ, ১৪৪ ধারা জারি

কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার সোনাহাট স্থলবন্দরে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। ...

পাকিস্তানকে ভালো লক্ষ্য দিল আফগানরা

পাকিস্তানকে ভালো লক্ষ্য দিল আফগানরা

এশিয়া কাপে নিজেদের ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে আফগানিস্তান। ভালো রান সংগ্রহ ...

চার জাতির টুর্নামেন্টে দর্শক মেসি

চার জাতির টুর্নামেন্টে দর্শক মেসি

আগামী মাসে সৌদি আরবে চার জাতির একটি টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হবে। ...