রাজনীতি

আসছে ভোট: ঢাকা-১৬

প্রার্থী বাছাইয়ে চমক দেখাতে পারে বিএনপি

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮     আপডেট: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮       প্রিন্ট সংস্করণ     

কামরুল হাসান

ঢাকা-১৬ (পল্লবী-রূপনগর) আসনটি একসময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। আগামী নির্বাচনে আসনটি পুনরুদ্ধার করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিএনপি। কিন্তু একাদশ জাতীয় নির্বাচনে এই আসনে একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশী নিয়ে কিছুটা বেকায়দায় রয়েছে বিএনপির হাইকমান্ড। এ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী তালিকায় রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসানউল্লাহ হাসান, সহসভাপতি এ কে এম মোয়াজ্জেম হোসেন ও সহসভাপতি আলতাবউদ্দিন মোল্লা।

চমক সৃষ্টির লক্ষ্যে এ আসনে নতুন কাউকে  মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে বলেও গুঞ্জন রয়েছে। ঢাকা উত্তর  সিটি করপোরেশনভুক্ত পল্লবী থানার ২, ৩, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ড এবং রূপনগর থানার আংশিক এলাকা (৭ নম্বর ওয়ার্ডের অংশবিশেষ) নিয়ে ঢাকা-১৬ আসনটি গঠিত। ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সীমানা পুনর্বিন্যাসের মাধ্যমে সাবেক ঢাকা-১১ আসন ভেঙে ঢাকা-১৪, ঢাকা-১৫ ও ঢাকা-১৬ নামে তিনটি আসন গঠন করা হয়। ওই নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপি থেকে ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া প্রার্থী হয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহর কাছে পরাজিত হন। ২০১৪ সালে বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় টানা দুই মেয়াদ এ আসনের দখল আওয়ামী লীগের হাতে রয়েছে।

আসনটি একসময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। কয়েক দফায় মরহুম হারুনুর রশিদ মোল্লাহ ও এস এ খালেকসহ বিএনপির কয়েকজন নেতাই এখানে (তৎকালীন ঢাকা-১১ আসন) এমপি হয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘ ১০ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকা এবং সরকারি হামলা-মামলায় পর্যুদস্ত হওয়ার কারণে সাংগঠনিকভাবে অনেকটাই বিপর্যস্ত দলটি।

এ অবস্থায় আসনটি পুনরুদ্ধারে শক্ত কোনো প্রার্থী দিতে চেষ্টা করছে বিএনপি হাইকমান্ড। এক্ষেত্রে ২০০৮-এর নির্বাচনের দলীয় প্রার্থী ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া এবারও নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছেন। তবে তার বাড়ি কুমিল্লা জেলায় হওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার সখ্য তেমনভাবে গড়ে ওঠেনি। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, দলের জ্যেষ্ঠ নেতা হিসেবে রফিকুল ইসলাম মিয়াকে সবাই সম্মান করেন। কিন্তু তিনি বর্তমানে শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় দলীয় কর্মকাণ্ডে অনেকটা নিষ্ফ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন। নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার দূরত্বও তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে প্রায় ৪২টি মামলা রয়েছে। এই মামলা জটিলতা ও অসুস্থতার কারণে রফিকুল ইসলাম মিয়া নির্বাচন করতে না পারলে তার স্ত্রী অধ্যাপক ড. শাহিদা রফিক ঢাকা-১৬ আসনের মনোনয়ন চাইবেন বলেও শোনা যাচ্ছে।

দলের আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিএনপির ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল হক তরুণ প্রার্থী হিসেবে নেতাকর্মীদের পছন্দের তালিকার শীর্ষে রয়েছেন। এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ায় এবং জাতীয় পর্যায়ে তার আলাদা ইমেজ থাকায় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক অবস্থান এবং জনগণের সঙ্গে সখ্য তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। ছাত্ররাজনীতি দিয়ে তার রাজনৈতিক হাতেখড়ি। তবে ক্রীড়াজগতে থাকায় দীর্ঘ কয়েক বছর পরোক্ষভাবে রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ২০১৩ সালে জাতীয় খেলা থেকে অবসর নিয়ে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের পর বিএনপির দুর্দিনে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় রাজনীতিতে প্রবেশ করায় সবার নজর কাড়েন তিনি। অল্প সময়ের মধ্যে নিজের যোগ্যতার প্রমাণ দিয়ে দলের মধ্যে গড়ে তুলেছেন শক্ত অবস্থান। সক্রিয় রাজনীতির কারণে গ্রেফতার, রিমান্ড ও কারাগারে যেতে হয়েছে এই নেতাকে। আবার খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের কাছেও গড়ে তুলেছেন আস্থার জায়গা। এলাকার নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে অকৃত্রিমভাবে দাঁড়ানোর কারণে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন তিনি। এসব কারণে এলাকার বিএনপি ও সব অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরাই আগামী নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে তাকে চাইছেন।

আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কমিশনার আহসানউল্লাহ হাসান থানা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনে অনিয়মের অভিযোগে কিছুটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। বেশ কয়েকটি কমিটি গঠনে তিনি যোগ্যদের অবমূল্যায়ন করেছেন- এমন অভিযোগে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামের শীর্ষ নেতারাও আহসানউল্লাহও ওপর ক্ষুব্ধ। তবে আহসানউল্লাহ হাসান অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের ১৭ বছর ওয়ার্ড কমিশনার, এক দফায় ডেপুটি মেয়র এবং অবিভক্ত ঢাকা মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। দীর্ঘদিন জনপ্রতিনিধি থাকায় এলাকার মানুষের মধ্যে তার পরিচিতি রয়েছে।

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় থাকা এ কে এম মোয়াজ্জেম হোসেনও নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছেন। ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সহসভাপতি ও কৃষক দলের সহসভাপতি মোয়াজ্জেমের পক্ষে এলাকায় তার শুভেচ্ছা সংবলিত ব্যানার ও পোস্টার শোভা পাচ্ছে। নিজ অর্থায়নে এলাকায় একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। রাজনৈতিক কারণে তার বিরুদ্ধে আটটি মামলা হয়েছে বিগত দিনে।

মিরপুর এলাকার ঐতিহ্যবাহী মোল্লা পরিবারের সন্তান ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সহসভাপতি আলতাবউদ্দিন মোল্লাও এই আসন থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ১৯৮০ সাল থেকে যুবদলের রাজনীতি দিয়ে তিনি বিএনপিতে সক্রিয় রয়েছেন। এই আসনের রাজনীতি অনেকটা প্রভাবশালী মোল্লা পরিবার দিয়ে নিয়ন্ত্রক হওয়ায় তিনি অনেকটা সুবিধাজনক স্থানে রয়েছেন বলে মনে করছেন তার অনুসারীরা।

ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া সমকালকে বলেন, এ মুহূর্তে নির্বাচনের চেয়ে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টিকেই অধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা। তবে বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিলে ঢাকা-১৬ আসন থেকে নির্বাচন করবেন তিনি। মামলা জটিলতা কিংবা শারীরিক অসুস্থতার কারণে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না পারলে তার স্ত্রী নির্বাচন করবেন কি-না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটা ভবিষ্যতেই বলা যাবে।

আমিনুল হক বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির পর নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে দলীয় মনোনয়ন চাইবেন তিনি। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পেয়ে দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আস্থার প্রতিদান দিতে দলের প্রতিটি কর্মসূচিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি এলাকার নির্যাতিত নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের আইনি ও নানা সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। এসব বিবেচনায় তিনি এই আসনে দলের মনোনয়ন পাবেন বলে তার বিশ্বাস রয়েছে তার।

আহসানউল্লাহ হাসান বলেন, আগামী নির্বাচনে দল তাকে মনোনয়ন দিলে জনগনের সমর্থনে এই আসনে জয়লাভ করতে পারবেন বলেই তার বিশ্বাস। নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, যারা দলে সক্রিয় নেতা নন, তারা কীভাবে জানবেন দলের জন্য তিনি কী করেছেন! ২০১৪-২০১৫ সালের আন্দোলনে তার সক্রিয় ভূমিকার জন্যই দল তাকে দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক করেছে।

এ কে এম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ৩০ বছর ধরে মিরপুর-পল্লবী এলাকায় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তিনি। তিনি একমাত্র নেতা যিনি বিগত দিনে কর্মীদের রেখে এলাকা ত্যাগ করেননি। সব সময়ে দলের পাশে ছিলেন। সামাজিক ও রাজনৈতিক তার অবস্থানের কারণে দল সুযোগ দিলে ধানের শীষের এই আসন পুনরুদ্ধার করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী।

আলতাব উদ্দিন মোল্লা বলেন, এই আসনের বিএনপিদলীয় সাবেক এমপি হারুন মোল্লা ১৯৯২ সালে মৃত্যুবরণ করার পর উপনির্বাচনে তিনি মনোনয়ন চেয়েছিলেন। এরপর ২০০১ ও ২০০৮ সালেও তিনি মনোনয়ন চেয়েছিলেন। দলের প্রতি তার ত্যাগ ও বিশ্বস্ততার কারণে এবার তিনি মনোনয়নের বিষয়ে আশাবাদী।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশ হবে বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ: রাসিক মেয়র

বাংলাদেশ হবে বিশ্বের অন্যতম ধনী দেশ: রাসিক মেয়র

আগামী ৩০ থেকে ৩৫ বছর পর বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে অন্যতম ...

১০ জেলায় নতুন ডিসি

১০ জেলায় নতুন ডিসি

নতুন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পেয়েছে দেশের ১০ জেলা।রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ...

চট্টগ্রামে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ২

চট্টগ্রামে ত্রিমুখী সংঘর্ষে নিহত ২

চট্টগ্রামে প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও সিএনজি অটোরিকশার ত্রিমুখী সংঘর্ষে দুইজন ...

আরাধ্যকে বিব্রত করে ছবি না করার সিদ্ধান্ত অভিষেকের

আরাধ্যকে বিব্রত করে ছবি না করার সিদ্ধান্ত অভিষেকের

দুই বছর পর অভিষেক বচ্চন বলিউডে ফিরেছেন অনুরাগ কাশয়াপ পরিচালিত ...

২৬ ঘণ্টা পর বগুড়া দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু

২৬ ঘণ্টা পর বগুড়া দিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু

প্রায় ২৬ ঘণ্টা বন্ধ থাকার বগুড়া দিয়ে আবারও ট্রেন চলাচল ...

বাংলাদেশ এখন রোল মডেল: স্পিকার

বাংলাদেশ এখন রোল মডেল: স্পিকার

স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, নারী উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন ...

ভিয়েতনামকে হারিয়ে গ্রুপ সেরা মেয়েরা

ভিয়েতনামকে হারিয়ে গ্রুপ সেরা মেয়েরা

গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশ এবং ভিয়েতনামের সমান পয়েন্ট ছিল। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ ...

প্রযুক্তি ও শিক্ষা নির্ভর দেশ গড়তে হবে: পলক

প্রযুক্তি ও শিক্ষা নির্ভর দেশ গড়তে হবে: পলক

তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেছেন, ডিজিটাল ...