রাজনীতি

জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য নয়: ড. কামাল

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮     আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮      

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

জামায়াতে ইসলামীকে সঙ্গে নিয়ে কোনো বৃহত্তর ঐক্যে যাবেন না বলে জানিয়েছেন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান।

ড. কামাল হোসেন বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে সঙ্গে নিয়ে কোনো বৃহত্তর ঐক্যে যাব না। সারা জীবনে করিনি, শেষ জীবনে করতে যাব কেন?

সাম্প্রতিক সময়ে গণগ্রেফতার ও ধরপাকড় নিয়ে গণফোরামের উদ্যোগে এই সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করা হয়।

অন্য কয়েকটি দলকে নিয়ে নির্বাচনের আগে দেশের রাজনীতিতে 'জাতীয় ঐক্য' তথা 'তৃতীয় একটি ধারা' তৈরির প্রক্রিয়ায় রয়েছেন থাকা ড. কামাল হোসেন। এই প্রক্রিয়ায় বিএনপিরও যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

এ অবস্থায় বিএনপির জোটসঙ্গী জামায়াতকে রেখেই বিএনপির সঙ্গে কোনো 'বৃহত্তর ঐক্যে' যাবেন কী-না- এমন প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল আরও বলেন, 'আমি ও আমাদের দল ওই ধরনের কোনো ঐক্যে যাবে না। অন্য কোনো দল করবে কিনা আমি জানি না। তবে আমি যতটুকু জানি, ওরা (জামায়াতে ইসলামী) তো এখন দলও নয়। ইতোমধ্যে তাদের নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে।'

'জাতীয় ঐক্য' গড়ার কাজ কতটা এগিয়েছে- জানতে চাইলে গণফোরাম সভাপতি বলেন, এই ঐক্যের কাজ আগাচ্ছে। ঐক্য গড়ে উঠছে, আগাচ্ছে। ঐক্য হলে সবাই জানতেও পারবেন। আমরা সেটাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখতে চাই।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিচারে কারাগারের ভেতরে আদালত বসানো 'সংবিধানসম্মত হয়নি' বলে মন্তব্য করেন গণফোরামের সভাপতি। তিনি বলেন, তার ধারণা বিএনপি, এটা আদালতে চ্যালেঞ্জ করবে। আদালতই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে তিনি (ড. কামাল) আদালতে গেলে এটাই বলবেন, এটা সংবিধানসম্মত নয়।

ড. কামাল বলেন, বিরোধীদলীয় নেত্রীকে (খালেদা জিয়া) আটক করা হয়েছে। তার ব্যাপারে জেলখানায় বিচার-টিচার- এসব ঠিক নয়। কর্নেল তাহেরের বিচারের সঙ্গে খালেদা জিয়ার বিচার মেলানো হয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে, কর্নেল তাহেরের বিচার হয়েছিল সামরিক আদালতে। সামরিক শাসনে সেই বিচার হয়েছে। ৪১ বছরের আগের উদাহরণ একটা দিয়ে এটা (আদালত স্থানান্তর) করার কোনো যুক্তি থাকতে পারে না। আর এই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত সরকারের পক্ষেও যাবে না।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় দ্রুত তাকে হাসপাতালে পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কেউ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া উচিৎ, চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন। খালেদা জিয়া বিরোধী দলের নেতা, প্রধানমন্ত্রীও ছিলেন। তিনি অসুস্থ হওয়ায় তাকে হাসপাতালে পাঠানো উচিত। এটাই আমাদের দেশের ঐতিহ্য। সরকারের ভুলে যাওয়া উচিৎ নয়, আমরা সভ্যসমাজে বাস করি।

আরেক প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন সামনে রেখে দেশে স্বাভাবিক পরিবেশ নেই দাবি করে ড. কামাল বলেন, আগেই বলেছিলাম নির্বাচনটা আদৌ হবে কি-না! আসলে নির্বাচনটা হোক। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য পরিবেশ দরকার। কিন্তু এখন ভয়ভীতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমরা নির্বাচন চাই, কিন্তু দেশে স্বাভাবিক পরিবেশ নেই।

সংবাদ সম্মেলনের বিষয়বস্তু নিয়ে এই সংবিধান বিশেষজ্ঞ বলেন, যেভাবে ধরপাকড় হচ্ছে- এটা নিয়ে উদ্বেগের কারণ আছে। কাউকে গ্রেফতার করতে হলে গ্রেফতারি পরোয়ানাসহ ইউনিফর্ম পরে আসতে হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করতে হবে, যেন সে জামিন চাইতে পারে। বিশেষ কারণে দুই-একবার সাদা পোশাকে গ্রেফতার করা যেতে পারে। তবে এটা এখন নিয়মিত করা হচ্ছে। কারো অপরাধ থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। তাও সংবিধানে স্পষ্ট করে উল্লেখ আছে, কীভাবে আইনের আওতায় আনতে হবে। এখন যা হচ্ছে সরকার তা করতে পারে না।

তিনি বলেন, আমরা বেআইনি শাসনে চলে যাচ্ছি। সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে, সাবধান হতে হবে। সমস্যার সমাধান করতে হবে। দ্রুত ধরপাকড় বন্ধ করতে হবে। ক্ষমতার প্রয়োগ হবে আইন ও সংবিধানের ভিত্তিতে। কিন্তু এখন যেভাবে সাদা পোশাকে ধরা হচ্ছে- সেটা সংবিধানসম্মত নয়, আইনের লঙ্ঘন। সরকার সংবিধান লঙ্ঘন করে দেশ চালাচ্ছে।

সমাবেশ: জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার ব্যানারে আগামী ২২ সেপ্টেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছিল। এক মাস আগে এই সমাবেশের অনুমতি চেয়েও পাওয়া যায়নি।

এই অবস্থায় সমাবেশটি রাজধানীর গুলিস্থানের মহানগর নাট্যমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে এবং এর জন্য অনুমতি মিলিছে বলে জানান ড. কামাল হোসেন।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কেন সমাবেশ করতে দেওয়া হয়নি- জানতে চাইলে তিনি ক্ষুদ্ধ কন্ঠে বলেন, 'এটা সরকারকে জিজ্ঞাসা করুন। আমরা অনুমতি পাইনি। তাছাড়া আমি অনুমতি- এমন শব্দ বুঝি না। সরকার যখন তখন সেখানে সমাবেশ করবে, আর আমরা বা বিরোধীদল চাইলে করতে দেওয়া হবে না- এটা কী করে সম্ভব? এটা সংবিধানের ১৬ আনা পরিপন্থি।'

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট জগলুল হায়দার আফ্রিক, আওম শফিক উল্লাহ, নৃপেণ ঘোষ, অ্যাডভোকেট সগীর আনোয়ার, সাইদুর রহমান, মোশতাক আহমেদ, জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সদস্য সচিব আবম মোস্তফা আমিন প্রমুখ।

আরও পড়ুন

সর্বোচ্চ ৬৫ আসনে ছাড় দেবে বিএনপি

সর্বোচ্চ ৬৫ আসনে ছাড় দেবে বিএনপি

একাদশ সংসদ নির্বাচনে জোট শরিকদের মধ্যে আসন বণ্টন নিয়ে মহাসংকটে ...

গ্রামাঞ্চল পাবে শহরের সুবিধা

গ্রামাঞ্চল পাবে শহরের সুবিধা

গ্রামাঞ্চলকে শহরের সুবিধায় আনতে ব্যাপক পরিকল্পনা রয়েছে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ...

প্রত্যাবাসন আজ শুরু হচ্ছে না

প্রত্যাবাসন আজ শুরু হচ্ছে না

বহুল প্রতীক্ষিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া আজ বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে না। ...

ডায়াবেটিস থেকে শিশুদের রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে

ডায়াবেটিস থেকে শিশুদের রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে

ঘাতক ব্যাধি ডায়াবেটিস থেকে শিশুদের রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ...

লোকজ সুরে খুঁজে পাই প্রাণের স্পন্দন

লোকজ সুরে খুঁজে পাই প্রাণের স্পন্দন

'লোকগানের কথায় রয়েছে জীবনের দিকনির্দেশনা। এর ঐন্দ্রজালিক সুর অদ্ভুত এক ...

দুর্ধর্ষ এক ভাড়াটে খুনির থানায় যাতায়াত!

দুর্ধর্ষ এক ভাড়াটে খুনির থানায় যাতায়াত!

দক্ষ রাজমিস্ত্রি হিসেবেই মিরপুর, ভাসানটেক ও কাফরুল এলাকার মানুষজন চিনতেন ...

নির্বাচন পেছানোর দাবি নিয়ে বসবে নির্বাচন কমিশন: সচিব

নির্বাচন পেছানোর দাবি নিয়ে বসবে নির্বাচন কমিশন: সচিব

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পেছাতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দাবি নিয়ে নির্বাচন ...

ইসির সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচন পেছানোর বিরোধিতা আ. লীগের

ইসির সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচন পেছানোর বিরোধিতা আ. লীগের

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আবারও পেছানোর বিরোধিতা করেছে আওয়ামী ...