রাজনীতি

রাজশাহীতে ঐক্যফ্রন্টের সমাবেশে নেতারা

নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ চাই

প্রকাশ: ০৯ নভেম্বর ২০১৮     আপডেট: ১০ নভেম্বর ২০১৮      

সৌরভ হাবিব, রাজশাহী

জনসভায় বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর— সমকাল

তফসিল ঘোষণার পর রাজশাহীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রথম জনসভায় নেতারা বলেছেন, সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি করতে হবে, তা না হলে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে না। আমরা নির্বাচনে আসতে চাই। সাত দফা দাবি মেনে নিয়ে সরকারকে সেই সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। না মানলে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মধ্য দিয়েই দাবি আদায় করা হবে। এ সময় তারা নির্বাচনের আগেই কারাগারে আটক বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করেন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে নগরীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে ঐক্যফ্রন্টের জনসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। তবে এই সমাবেশে ঐক্যফ্রন্টের প্রধান নেতা ড. কামাল হোসেনের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও অসুস্থতার কারণে তিনি আসতে পারেননি। বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, জনসভায় আসার সময় পুলিশ তাদের নেতাকর্মীদের পথে পথে বাধা দিয়েছে। তার পরও মানুষের উপস্থিতিতে মাদ্রাসা মাঠ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়েছে। কারণ তারা খালেদা জিয়ার মুক্তি চায়। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায়।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকের প্রশ্ন দেশে গণতন্ত্র থাকবে কি থাকবে না, আমাদের কথা বলার অধিকার, ভোট দেওয়ার অধিকার, সংগঠন করার অধিকার থাকবে কি থাকবে না- এটা মৌলিক প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজ আমাদের নেত্রীকে কারাগারে আটকে রেখেছে সরকার। খালেদা জিয়া অত্যন্ত অসুস্থ। এক মাস ধরে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। ডাক্তাররা বলেছেন, তিনি এখনও সুস্থ নন। তার পরও সরকার তাকে আবারও কারাগারে পাঠিয়েছে। কারাগারে তার বিচার হচ্ছে। ব্রিটিশ আমলে হয়নি, পাকিস্তান আমলেও এমন হয়নি। গণতন্ত্রের জন্য যে মানুষটি স্বাধীনতা যুদ্ধে নির্যাতিত হয়েছেন, স্বামী হারিয়েছেন, ছেলেকে হারিয়েছেন, আরেক ছেলে নির্বাসিত, তাকে কারাগারে দিনের পর দিন হত্যার চেষ্টা করা হচ্ছে। যারা আজ রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়েছে, তারা পুলিশ দিয়ে আজ গণতন্ত্র হত্যা করতে চায়। আমরা ঐক্য গড়েছি। খালেদা জিয়া যখন কারাগারে গেলেন, তখন তিনি বলে গেছেন হিংসা চাই না, সংঘাত চাই না, শান্তি চাই। সুষ্ঠুভাবে আন্দোলন করবেন। জনগণের ঐক্য, বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলবেন। আমরা তারই নির্দেশে দেশের মানুষকে এক করে ঐক্য তৈরি করেছি। সংগ্রাম করছি। সেজন্য আমরা সংলাপে গিয়েছিলাম। বলেছিলাম, সাত দফা মানতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে। নির্বাচনকালীন সরকার নিরপেক্ষ হতে হবে। খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। অন্যথায় সংলাপ অর্থবহ হবে না। সেজন্যই আমরা একতাবদ্ধ হয়েছি। কারণ আমরা গণতন্ত্র ফিরে পেতে চাই। খালেদা জিয়াসহ সব রাজবন্দির মুক্তি দিতে হবে। তবেই আলোচনা ফলপ্রসূ হবে। নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে। তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। অন্যথায় নির্বাচন তফসিল গ্রহণযোগ্য হবে না।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের সভাপতি আ স ম আব্দুর রব বলেন, আমরা নির্বাচনে আসতে চাই। নির্বাচনে আসতে দিন। খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন, নেতাকর্মীদের মুক্তি দিন। আমরা সংলাপের দাবি করেছিলাম, সংলাপ হয়েছে। কিন্তু আশা পূরণ হয়নি। দেশের শতকরা ৯০ শতাংশ মানুষ আমাদের সঙ্গে। তাদের না মেনে, ঐক্যফ্রন্টকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হতে পারে না। তিনি আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে বলেন, তফসিলের পর আন্দোলনকে বেআইনি বলেন? যখন আপনারা বিরোধী দলে ছিলেন, তখন বেআইনি ছিল না? তফসিল না পেছালে, দাবি না মানলে কঠোর আন্দোলন হবে। লড়াই হবে, এ লড়াই গণতন্ত্রের লড়াই, ভোটের লড়াই, এ লড়াইয়ে জিততে হবে। নির্বাচন কমিশনে পদযাত্রা হবে, লংমার্চ হবে, শোভাযাত্রা হবে।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে চাইলে ঐক্যফ্রন্টকে অটুট রাখতে হবে। নির্বাচন চাইলে, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় না চাইলে লড়তে হবে। খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে বলেছিলেন- আমি যদি মরেও যাই হরতাল দিতে পারবে না। তার এই সিদ্ধান্ত দেশের ১৭ কোটি মানুষের হৃদয় স্পর্শ করেছে। খালেদা জিয়াকে আর বন্দি করে রাখা সম্ভব নয়। তিনি পুলিশকে উদ্দেশ করে বলেন, 'খালি শেখ হাসিনার কথা নয়, আমার কথাও শুনবেন। যে পুলিশ ঘুষ দিয়ে পুলিশে ভর্তি হয়েছেন, আমি মাদ্রাসা মাঠে কথা দিয়ে গেলাম, আপনাদের ঘুষের টাকা ফিরিয়ে দেব। যারা আওয়ামী লীগের আমলে পুলিশে ভর্তি হয়েছেন, তাদের প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে ফেরত দেব।'

বঙ্গবন্ধুকে স্মরণ করে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কারণে আমি জীবন ঝরিয়েছি। তার জন্য রাজনীতিতে এসেছি। যতদিন বেঁচে থাকব, বঙ্গবন্ধুকে হৃদয়ে লালন করে বেঁচে থাকব। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আর জিয়াউর রহমানের এই যে দ্বন্দ্ব, এই দ্বন্দ্ব করে যারা দেশকে লুটেপুটে খাচ্ছে, আল্লাহ যদি আমাকে সময় দেয়- তাহলে এই দ্বন্দ্ব ঘুচিয়ে দেব।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, ১০ বছর মানুষ ভোটের অধিকার হারিয়েছে। দু'বার সংলাপের পরও আমরা কাঙ্ক্ষিত ফল পাইনি। কারণ শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়তে চান না। তিনি নভেম্বরে কথা দিয়েছিলেন, কোনো সভা-সমাবেশে বাধা দেওয়া হবে না, নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হবে না। কিন্তু তিনি কথার বরখেলাপ করেছেন। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় দুই হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন একটি অদক্ষ ও অযোগ্য কমিশন। যতদিন অনির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে চলতে পারবে না।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, মানুষের আশা-ভরসার শেষ স্থান বিচার বিভাগ। কিন্তু এই বিচার বিভাগকেও আওয়ামী লীগ সরকার নষ্ট করেছে। খালেদা জিয়াকে ছাড়া দেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন সম্ভব নয়, তাকে ছাড়া জনগণ নির্বাচন করতে দেবে না।

নাগরিক ঐক্যর আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার যে পরিবেশ করে রেখেছে, তাতে এই নির্বাচনে অংশ নেওয়া যাবে না। এই নির্বাচন ২৩ ডিসেম্বর না হয়ে যদি ২৩ জানুয়ারি হতো, তবে আমাদের অংশ নিতে সমস্যা হতো না। বিএনপি কোনো সংঘাতের রাজনীতি চায় না, আমরা সামরিক বাহিনী চাই না, নির্বাচন বানচাল করতে চাই না। আবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেও চাই না। ওরা মনে করেছে, রাজপথে গাড়ি আটকে, গ্রেফতার করে, তারা নির্বাচনের বৈতরণী পার হবে। সে আশায় গুড়ে বালি, তা হতে দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, বিএনপি একটা পার্টি, তাদের চেয়ারপারসনকে কারাগারে রেখে তারা নির্বাচনে যাবে কেন? তার সারা শরীরে ব্যথা, হাঁটতে পারেন না। কিন্তু সমস্ত নিয়ম ভেঙে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ক্ষমতায় থেকে শেখ হাসিনা যদি মনে করেন, এক মাঘে শীত যায়, তাহলে ভুল করেছেন।

ঐক্যফ্রন্টের রাজশাহী বিভাগীয় সমন্বয়ক মিজানুর রহমান মিনুর সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এলডিপির সভাপতি কর্নেল অলি আহমেদ, গণফোরামের মহাসচিব মোস্তফা মহসিন মন্টু, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. মঈন খান, বিএনপি নেতা আমান উল্লাহ আমান, বরকত উল্লাহ বুলু, মির্জা আব্বাস, ব্যারিস্টার আমিনুল হক, গণস্বাস্থ্যের চেয়ারম্যান ড. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, এলডিপির মহাসচিব রেজওয়ান আহমেদ প্রমুখ।

আরও পড়ুন

আত্রাইয়ে ভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেল শিশুর

আত্রাইয়ে ভ্যানের ধাক্কায় প্রাণ গেল শিশুর

নওগাঁর আত্রাইয়ে রিকশা ভ্যানের ধাক্কায় মো. হাবিব (৩) নামে এক ...

প্রস্তুতি ম্যাচে রান পেলেন সৌম্য

প্রস্তুতি ম্যাচে রান পেলেন সৌম্য

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ঘরের মাঠে প্রস্তুতি ম্যাচে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিলেন সৌম্য সরকার। ...

আইয়ুব বাচ্চুর স্মরণে ১১ মিনিটের পরিবেশনা

আইয়ুব বাচ্চুর স্মরণে ১১ মিনিটের পরিবেশনা

কিংবদন্তি গিটার বাদক আইয়ুব বাচ্চু। ঠিক এক মাস আগে আমাদের ...

বাংলা একাডেমির ৪ পুরস্কার ঘোষণা

বাংলা একাডেমির ৪ পুরস্কার ঘোষণা

বাংলা একাডেমি পরিচালিত বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নামে চারটি পুরস্কার ঘোষণা করা ...

লিনগার্ড-কেন শো'তে সেমিতে ইংল্যান্ড

লিনগার্ড-কেন শো'তে সেমিতে ইংল্যান্ড

বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে গোল করা সহজ হবে না। ...

হাতেকলমে নায়িকাকে বাইক শেখাচ্ছেন নায়ক

হাতেকলমে নায়িকাকে বাইক শেখাচ্ছেন নায়ক

অভিনয়ের জন্য কত কিছুই না করতে হয়। এই যেমন অভিনেত্রী ...

মহেশখালীতে র‌্যাবের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত ১

মহেশখালীতে র‌্যাবের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত ১

মহেশখালীর প্যারাবণে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' একজন নিহত ...

বিএনপির দ্বিতীয় দিনের সাক্ষাৎকার, ভিডিও কনফারেন্সে তারেক

বিএনপির দ্বিতীয় দিনের সাক্ষাৎকার, ভিডিও কনফারেন্সে তারেক

রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সোমবার দ্বিতীয় দিনের মতো ...