একুশে গ্রন্থমেলাই পুরো এক মাস চলে

১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৮

মেহেদী হাসান

বইমেলা আগের চেয়ে অনেক পরিচ্ছন্ন। আয়তন বেড়েছে মেলার। এটা সবার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। আশা করছি বইমেলার আগামী দিনগুলো ভালোই হতে থাকবে। আমাদের প্রত্যাশার শেষ নেই। কিছু প্রত্যাশা পূরণ হয়, আবার নতুন প্রত্যাশার জন্ম নেয়। বাংলা একাডেমি সবসময় সচেষ্ট আছে প্রকাশক ও পাঠকের প্রত্যাশা পূরণে। তাদেরও সীমাবদ্ধতা আছে। এই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার জন্য সবার উচিত একাডেমিকে সহযোগিতা করা। মেলায় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে পাঠকের নিরাপত্তার বিষয়টি। কারণ তাদের শিশু ও নারীর সংখ্যা অনেক।

আমরা চাই সবাই মেলায় এসে বই কিনুক এবং আনন্দের সঙ্গে বাসায় ফিরুক। আমাদের প্রকাশকরা যেভাবে সাজিয়ে-গুছিয়ে স্টল বা প্যাভিলিয়ন বানান, তা যে কোনো আন্তর্জাতিকমানের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। বাংলা একাডেমি আয়োজিত একুশে গ্রন্থমেলা- যা পুরো একটি মাস চলে। পৃথিবীর কোনো দেশে এত দীর্ঘ সময়ের বইমেলা হয় বলে আমার জানা নেই। শুধু তাই নয়, এত লোকসমাগমও পৃথিবীর কোথাও হয় না। মুক্তবাজার অর্থনীতির মতো বইমেলাকেও সারাবিশ্বের জন্য মুক্তি দিতে হবে। আমরা চাই মননশীলতার মুক্তি। আমরা চাই সৃজনশীলতার মুক্তি।

যে কোনো আন্তর্জাতিক মেলা মানেই যে কোনো দেশ তাদের মননশীল ও সৃজনশীল বই নিয়ে অংশগ্রহণ করবে। বইমেলার পুরনো ঐতিহ্য অক্ষুণ্ণ রেখে আলাদা করে আন্তর্জাতিক বইমেলার আয়োজন করা যেতে পারে। বাংলা একাডেমি ইতিমধ্যে বেশ কয়েকটি সাহিত্য সম্মেলন সম্পন্ন করেছে। আন্তর্জাতিক বইমেলাও শুরু করা যেতে পারে বাংলা একাডেমিকে দিয়ে।

বইমেলা পাঠকপ্রিয় না হলে এত জমজমাট হতো না। প্রকাশকরা তাদের জন্যই নতুন নতুন বই প্রস্তুত করেন। মেলাকে সাজান পাঠকের মতো করে। তবে নতুন পাঠক সৃষ্টিতে উদ্যোগ নিতে হবে পরিবারকে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিতে হবে মননশীল ও সৃজনশীল বই। প্রতিটি জেলায়, উপজেলায়, গ্রামে, স্কুলে এবং মহল্লায় পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে। এ বছর বাংলাপ্রকাশ থেকে আসছে প্রায় শ'খানেক বই। আমাদের প্রকাশনী থেকে দেশের খ্যাতিমান লেখক হাসান আজিজুল হক, আবুল আহসান চৌধুরী, মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী, ইমদাদুল হক মিলন, ইকতিয়ার চৌধুরী, সুব্রত যড়ূয়া, ড. আলী আজগর, হাবীবুল্লাহ সিরাজী, আলী ইমাম, কাইজার চৌধুরী, ড. মাহবুব সাদিক, সরকার আবদুল মান্নান, ফরিদুর রেজা সাগর, শাইখ সিরাজ, সেলিনা হোসেন, পবিত্র সরকার, অমর মিত্র, শ্যামল কান্তি দাশ, বিপ্রদাশ বডুয়া, হাশেম খান, সুজন বডুয়া, হাসান হাফিজ, আমীরুল ইসলামসহ বহু গুণী লেখকের বই বের হচ্ছে। বাংলাপ্রকাশ মেলায় থাকবে বৈচিত্র্যময় বইয়ের সমাহার। গল্প, উপন্যাস, ছড়া, কবিতা ছাড়াও আমাদের প্রকাশনা থেকে আসছে জ্ঞান-বিজ্ঞানের বেশ কিছু বই। প্রবন্ধ, নিবন্ধও আছে, আছে রান্নাবান্নার বই।

আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে এমন কিছু লেখকের বই বের হচ্ছে, যাদের আমরা নতুন বলি না। তারা দীর্ঘদিন ধরে লিখছেন। হয়তো বই বের হচ্ছে এই প্রথম। আমি তাদের মেধা ও মননের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। আশা করি এই তারুণ্য একদিন সাহিত্য-সংস্কৃতির সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রে পরিণত হবে। আমাদের প্রকাশনা থেকে উল্লেখযোগ্য পাঁচটি বই হচ্ছে- মমতাময়ী, আত্মকথা ১৯৭১, বঙ্গবন্ধু : পয়েট অব পলিটিক্স, ৭ই মার্চ : রেসকোর্স থেকে ইউনেসকো এবং বাংলাভাষা ও বানানের সহজ পাঠ। এসব বই যেমন ইতিহাসের আকরগ্রন্থ হিসেবে সমৃদ্ধ, তেমনি মুদ্রণ সৌকর্যের দিক দিয়েও আকর্ষণীয়।

প্রকাশক, বাংলাপ্রকাশ

© সমকাল 2005 - 2018

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫, ৮৮৭০১৯৫, ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১, ৮৮৭৭০১৯৬, বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০ । ইমেইল: info@samakal.com