অতিরিক্ত ভিডিও গেমস

প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনায় প্রভাব

বিপদ সংকেত

১২ আগস্ট ২০১৮

হাসান আশিক

প্রযুক্তির হাত ধরে ভিডিও গেমস খেলা এখন খুব সহজলভ্য বিষয়ে পরিণত হয়েছে। নিজের সেলফোনেই এখন নানা বয়সী মানুষ নিজেকে ব্যস্ত রাখেন গেমসে। আর যারা এ রাজ্যের প্রবল খেলোয়াড়, তাদের তো ভিডিও গেমসের নানাবিধ যন্ত্রপাতিরও অভাব নেই। কিন্তু ভেবে দেখেছেন, ভিডিও গেমস আসক্তি আপনার জন্য কতটা বিপদ বয়ে আনতে পারে? চলুন, ভাবি-

আচরণে আগ্রাসন

ভিডিওতে আসক্ত মানুষের আচার-আচরণ অনেকটাই আগ্রাসী ধরনের হয়ে থাকে। খুব অল্পতেই রিঅ্যাক্ট করার প্রবণতা প্রবল থাকে তাদের মধ্যে। আপনি যদি এমন আচরণ রপ্ত করেন, তাহলে ভিডিও গেমসের প্রেতাত্মাকে নিজের কাঁধ থেকে সরিয়ে ফেলার প্রধান দায়িত্বটি কিন্তু আপনাকেই নিতে হবে।

অসামাজিক প্রাণ

মানুষ সামাজিক প্রাণী। নিজের এই সত্তাটিকে কেউ কেউ খুব একটা পছন্দ না করলেও, কোনো মানুষের পক্ষেই সমাজ-বিমুখ হয়ে সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব নয়। কিন্তু সমস্যা হলো, ভিডিও গেমসে আসক্তি একজন স্বাভাবিক মানুষকে ধীরে ধীরে অসামাজিক প্রাণে পরিণত করে। গেমসে ডুবে থাকার কারণে অতি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণেও অনাগ্রহী হওয়ার প্রবণতা প্রবল হয়ে ওঠে তাদের মধ্যে।

মূল্যবোধের ঘাটতি

জীবনকে ভিডিও গেমসের মতো কাল্পনিক জগতের মনে হতে পারে। ফলে গেমসে আসক্ত মানুষের মধ্যে প্রবলভাবে দেখা যেতে পারে যথার্থ মূল্যবোধের ঘাটতি। মূল্যবোধবিহীন মানুষ যে পশুর সমতুল্য, সে কথা তো বলাই বাহুল্য।

জীবনে ধস

সমীক্ষায় দেখা গেছে, ভিডিও গেমসে আসক্ত শিক্ষার্থীরা প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনায় রেজাল্ট খুবই খারাপ করেন। দিন যত যেতে থাকে, উন্নতির বদলে বরং অবনতি হতে থাকে তাদের ফলে। আর যারা পাঠশালার চৌকাঠ পেরিয়ে, ক্যারিয়ার শুরু করে দিয়েছেন, তারা কর্মক্ষেত্রে প্রতিনিয়ত হারাতে থাকেন গ্রহণযোগ্যতা।

বলি

নিজের জীবনকে নিজ হাতে গোল্লায় তো নিয়ে যেতে না চাইলে, ভিডিও গেমসে আসক্তি কাটিয়ে উঠুন।

© সমকাল 2005 - 2018

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫, ৮৮৭০১৯৫, ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১, ৮৮৭৭০১৯৬, বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০ । ইমেইল: info@samakal.com