পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি

অসতর্কতায় সর্বনাশ

প্রচ্ছদ

১২ আগস্ট ২০১৮

গোলাম কিবরিয়া

উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ফল ঘোষিত হওয়ার পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিটা আরও বেড়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা যতটা না উদ্বিগ্ন তার চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন তাদের পিতা-মাতা ও অভিভাবকরা। সন্তানকে নিয়ে সব পিতা-মাতাই স্বপ্ন দেখেন। এই স্বপ্ন বাস্তাবায়ন করতে প্রয়োজন সচেতনতা।

মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত

জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মধ্যে অন্যতম এইচএসসি পরীক্ষার পরের ভর্তি পরীক্ষা। এই পরীক্ষার পরই চলে আসে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, যে সময়ে তোমার নেওয়া একটিমাত্র সিদ্ধান্ত পুরো জীবনের দৃশ্যপটই বদলে দিতে পারে। আমরা ছোটবেলা থেকেই অবচেতন মনে নিজেদের নিয়ে কিছু স্বপ্ন লালন করি আর অপেক্ষা করতে থাকি কখন সেই সময় আসবে যখন সে অবাস্তব স্বপ্নটা বাস্তবে রূপান্তর হতে দেখতে পাব। একটা সময় সব ধাপ পেরিয়ে আমরা একদম দোরগোড়ায় এসে পৌঁছে যাই। কিন্তু এই সময়ে একটা ভুল সিদ্ধান্ত আমাদের জীবনটাকে হতাশার বিশাল সমুদ্রে ফেলে দিতে পারে!

বিষয় নির্বাচন

এই সমস্যায় অনেকেই পড়েন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগে কোন বিষয়ে আপনি পড়তে চান এবং কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে চান তাও ঠিক করে নিতে হবে। অনেকে এসব ঠিক না করেই ইচ্ছেমতো ফরম তোলেন আর ভর্তি পরীক্ষার জন্য ছোটাছুটি করেন। ফলে, তাড়াহুড়ো আর অতিরিক্ত জার্নিতে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। এতে গুরুত্বপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় এবং পছন্দের বিষয়ও হারাতে হয়। যা পরে খুবই হতাশায় ভোগায়।

বাড়তি সচেতনতা

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন সবাই দেখে। কিন্তু পর্যাপ্ত সিট না থাকায় মেধার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ছাত্ররাই জায়গা করে নিতে পারে। এইক্ষেত্রে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় এবং কিছু ইউনিট আছে যেগুলোতে একটু সতর্কতার সঙ্গে পরীক্ষা দিলে আপনি ভালো করতে পারেন। কিছু ইউনিটের আবার ফরমও কম তোলা হয়। এইক্ষেত্রে আগ্রহ থাকলে সেসব ইউনিটের ফরমও তুলে রাখতে পারেন দ্বিতীয় অপশন হিসেবে। এই বুদ্ধিটা খুব কাজে দিতে পারে। প্রথম অপশন মিস হলে দ্বিতীয় অপশন কাজে লাগাতে পারবেন অনায়াসে।

ইউনিটভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা

ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত ইউনিটভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এর ধারাবাহিকতায় 'ক' ইউনিট সাধারণত বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য, 'খ' ইউনিট মানবিক এবং 'গ' ইউনিট ব্যবসায় শাখা শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত। তবে সব বিশ্ববিদ্যালয়েই কিন্তু ইউনিটের এমন ধারাবাহিকতা রক্ষা করা হয় না। এ কারণে ভর্তি ফরম সংগ্রহের সময় এটি ভালোভাবে জেনে নিতে হবে।

বিষয়ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষা

কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে বিষয়ভিত্তিক ভর্তি পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হয়। যেমন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন নিয়ে যারা পড়তে চান তারা সরাসরি আইন অনুষদের অধীনে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমুদ্রবিজ্ঞান নিয়ে পড়তে চাইলে 'ছ' ইউনিটে সমুদ্রবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের অধীনে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। তবে যেভাবেই ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হোক না কেন সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি মোটামুটি একই রকম।

কোচিং সংযোগ

ভর্তি পরীক্ষার আগে স্টুডেন্টদের করা সব থেকে কমন প্রশ্ন- কোন কোচিংয়ে পড়লে ভালো হয়? আসলে বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার সঙ্গে কোচিং সেন্টারের খুব বেশি একটা সংযোগ নেই। কোচিং সেন্টার আমাদের পড়ার ক্ষেত্রে শুধু দিকনির্দেশনা দিতে পারে; কিন্তু চান্স পাওয়ার জন্য পড়াশোনা আপনার নিজেরই করতে হবে। কোচিংয়ে পড়া এক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক না। এমনকি কোনো কোচিংয়ে না পড়েও চান্স পাওয়া সম্ভব।

মাথায় রাখবেন

ূ যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী, প্রথমেই সেগুলোর একটি তালিকা করে ফেলা দরকার।

ূ প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় স্বতন্ত্র কিছু নিয়ম মেনে চলে। কাজেই বিশ্ববিদ্যালয় ভেদে প্রস্তুতি খানিকটা আলাদা হওয়া বাঞ্ছনীয়।

ূ ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে অনেকে দূর-দূরান্ত থেকে ঢাকায় এসে কোচিং করেন। তারা বিভিন্ন মেসে ওঠেন। তাদের কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা উচিত। পরিবেশ ও নিরাপত্তা যাচাই করে মেসে ওঠা উচিত। সবসময় স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ও বিশুদ্ধ পানি পান করতে হবে। তা না হলে রোগে আক্রান্ত হয়ে স্বপ্ন ধূলিসাৎ হতে পারে।

ূ ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে একশ্রেণির চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। এদের থেকে সাবধান থাকতে হবে।

প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি

মানুষের জীবনে প্রত্যাশা থাকাটা খুবই স্বাভাবিক। এটাও স্বাভাবিক পারিপার্শ্বিক প্রত্যাশার চাপ। কিন্তু একটু ভেবে দেখা উচিত, সেই প্রত্যাশা কতটুকু বাস্তবিক। আপনি বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতি রেকে স্বপ্ন দেখুন। বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতি না রেখে প্রত্যাশা থাকলে প্রাপ্তি খাতায় তো অসঙ্গতি ধরা পড়বেই। তাই স্বপ্ন বা লক্ষ্য স্থির করতে নিজেকে প্রস্তুত করুন। বাধা-বিপত্তি আসবে। কখনও এটা ভাবা উচিত নয় আমার স্বপ্ন এখনই পূরণ হতে হবে। প্রাপ্তি কতটুকু এটা না ভেবে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাওয়াই শুভবুদ্ধির লক্ষণ। নয়তো সময় নষ্ট ছাড়া আর কিছুই হবে না। এতে বরং হতাশাই বাড়বে।

স্বপ্ন পূরণের পথে

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দের বিষয়ে পড়তে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস। নিজের লক্ষ্য জানা থাকলে সেটা স্থির করে সেদিকে এগিয়ে যেতে হবে আত্মবিশ্বাস নিয়ে। নির্দিষ্ট বিষয় ঠিক করে, নিজের জগৎটাকে আবিস্কার করার পথে হাঁটুন। আর নিজের জগৎটাকে আবিস্কার করতে পারলেই আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে লক্ষ্য এবং স্বপ্নপূরণের পথে নিশ্চিত এগিয়ে যেতে পারবেন।

© সমকাল 2005 - 2018

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫, ৮৮৭০১৯৫, ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১, ৮৮৭৭০১৯৬, বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০ । ইমেইল: info@samakal.com