মেধাবী মুখ

শিক্ষকতা করতে চাই

০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

শারমিন আক্তার সেজ্যোতি

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পরই নিজেকে নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেন প্রদীপ। প্রতিটি ক্লাস-পরীক্ষা ও অ্যাসাইনমেন্টকে নিতেন অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে। সব সময় ভাবতেন, জীবনে বড় হতে হলে পড়াশোনার বিকল্প নেই। তাই পড়াশোনাকেই বেছে নিয়েছিলেন লক্ষ্য পূরণের হাতিয়ার হিসেবে। নিজের অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের মাধ্যমে স্নাতকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের চারটি বিভাগের মধ্যে সিজিপিএ ৩.৯০ পেয়ে অর্জন করেন প্রথম স্থান এবং তারই পুরস্কার হিসেবে গত ২৫ জুলাই পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক -২০১৭।

বলছিলাম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিন্যান্স ও ব্যাংকিং বিভাগে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত প্রদীপ চন্দ্র বিশ্বাসের কথা। প্রদীপের বাড়ি নরসিংদী জেলার মনোহরদী উপজেলার পাইকান গ্রামে। বড় হয়েছেন গ্রাম্য পরিবেশেই। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় বেশ মনোযোগী। ২০১০ সালে ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে বড়চাপা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর ২০১২ সালে বড়চাপা মহাবিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় শিক্ষা থেকে জিপিএ ৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায়। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায়ও পান আশানুরূপ ফল। ভর্তি হন স্বপ্নের ক্যাম্পাস জাবিতে। শপথ নিয়েছিলেন পদচ্যুত না হওয়ার। তাই বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রথম দিন থেকেই ক্লাসে ছিলেন নিয়মিত ও মনোযোগী। চেষ্টা করতেন প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন শেষ করতে। পাশাপাশি অংশগ্রহণ করতেন বিভিন্ন শিক্ষা সহায়ক কার্যক্রমে। অবসরে বন্ধুদের সঙ্গে মেতে উঠতেন আড্ডায়। প্রদীপ বলেন, পরিবারে শত বাধা-বিপত্তি সত্ত্বেও বাবা আমাকে সর্বদা পড়াশোনায় উৎসাহ দিতেন, আমাকে পড়ার সুযোগ করে দিতেন। আর ব্যক্তিজীবনে মায়ের অবদান অনস্বীকার্য। তার অবদান কোনো মানদণ্ড দিয়ে মাপা সম্ভব নয়। বাবা-মা সর্বদা আমাকে ভালো ফলের চেয়ে একজন ভালো মানুষ হতে শিক্ষা দিতেন। তবে আমি খুব ভাগ্যবান যে, জীবনে অসংখ্য শিক্ষকের স্নেহ ও গাইডলাইন পেয়েছি। কীভাবে পড়লে আরও ভালো করা যায় সে বিষয়ে বিভাগের প্রত্যেক শিক্ষক আমাকে সর্বদা দিকনির্দেশনা দিতেন। পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনেও তারা আমাকে সাহায্য-সহযোগিতা করতেন। শিক্ষকরাই প্রকৃত মেন্টর। আর তাই পেশা হিসেবে শিক্ষকতাই পছন্দ প্রদীপের। ফিন্যান্স বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করার পাশাপাশি এ বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করারও ইচ্ছা আছে  তার।

© সমকাল 2005 - 2018

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫, ৮৮৭০১৯৫, ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১, ৮৮৭৭০১৯৬, বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০ । ইমেইল: info@samakal.com