বিপদ সংকেত

মায়ের সঙ্গে আড়ি?

০২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সুস্মিতা হাসান

চুলের ভেতর হাত ডুবিয়ে মায়ের মায়াবী হাতের বিলি কাটা,

ঘরের সবার অজান্তে নিজের পার্স থেকে বের করে বুক পকেট কিংবা হাতের মুঠোয় গুঁজে দেওয়া সামান্য কিছু টাকা। বাবার সামনে সন্তানের হয়ে লড়ে যাওয়াসহ প্রতিনিয়ত আরও কত কী করে যান মায়েরা।

মন খারাপের দিনে কখনও-সখনও সন্তানকে চোখ রাঙালেও নিজ থেকে ফের এসে আগ বাড়িয়ে কথা চালিয়ে যান খেপাটে আর আদুরে সন্তানটার সঙ্গে। আপনি দিনমান মায়ের গা-ঘেঁষে টইটই করে বেড়ান কিংবা তাকে ছেড়ে দূরে কোথাও যদি নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত থাকেন; তবু একজন মা প্রতি মিনিটে আপনার কথা তার স্মৃতিতে ঘুরপাক খাওয়ান কম করে হলেও তিনবার। জগতের সব মা-ই এমন। তারা যতটা ভাবেন নিজেকে নিয়ে, তার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি ভাবেন সন্তানদের নিয়ে। এই মায়ের সঙ্গেও অনেকে হুটহাট আড়ি দিয়ে বসেন।

ফলে যে সমস্যার মুখোমুখি হতে পারি তা জেনে নিই, চলুন-

উধাও হাসি

মায়ের সঙ্গে আড়ি নেওয়ার পর কোনো কাজেই যেন গতি আসতে চায় না। মন খারাপ আপনার যেমন থাকে, তার চেয়েও বেশি থাকে মায়ের। এর চেয়ে বাজে সিদ্ধান্ত আর হতে পারে না।

কাজে নেই গতি

কোনো কাজেই আপনি গতি পাবেন না। খুব পরিশ্রমী হলেও আপনার ভেতর থেকে গতি হারিয়ে যাবে। যে কোনো কাজে মুখ থুবড়ে পড়তে পারেন। গুরুত্বপূর্ণ কাজও অসমাপ্ত থেকে যেতে পারে!

একাকিত্বের ভূত

মায়ের চেয়ে একান্ত প্রিয় এবং কষ্টের ভার বহন করার মতো কেউ নেই পৃথিবীতে। যে যেভাবেই বুঝাক না কেন, সে আপনাকে ছাড়া কিছুই ভাবতে পারে না বা ভাবে না; তবু বিপদে পড়লেই সত্যিটা আঁচ করতে পারবেন। এতদিনে নিশ্চয়ই সেটা আঁচ করতেও পেরেছেন। তাই নিশ্চিন্তে বলা যায়, মায়ের সঙ্গে আড়ি নেওয়ার পর একাকিত্বের ভূত আপনার ভেতর জেঁকে বসবে। তাই সাধু সাবধান!

সফলতায় লাগাম

আর মায়ের সঙ্গে যদি কেউ দীর্ঘ আড়ি নেয়, তার অভিধান থেকে যেন সফলতা শব্দটা হারিয়ে যায়। যদিও মা কখনও সন্তানের অমঙ্গল বা নুয়ে পড়া মন থেকে চায় না। তবুও হেরে যাওয়ার দিকে আপনাকে টেনে নিয়ে যেতে চাইবে অসংখ্য দানব।

হতাশার ডানা

মনের ভেতর থেকে অন্যরকম এক হতাশার ডাক কানে আসবে আপনার। চলতি পথে কিংবা ঘরে বসেও সেই হতাশার ডানা ঝাপটানি শুনতে পাবেন। কোনোভাবেই এই ডানা ঝাপটানি থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন না।

বলি...

এমন অসংখ্য দানব প্রতিনিয়ত আপনাকে দাবড়ে বেড়াবে। তাই মায়ের সঙ্গে যারা আড়ি নিয়ে আছেন কিংবা আড়ির কথা ভাবছেন তারা নিজের ক্ষতি থেকে কাটিয়ে ওঠার জন্য হলেও এ পথ থেকে সরে আসুন। নিজেকে স্বপ্নের পথে টেনে নিয়ে যেতে চাইলে মায়ের সঙ্গে সুন্দর সম্পর্কের বিকল্প নেই! হ

© সমকাল 2005 - 2018

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : মুস্তাফিজ শফি । প্রকাশক : এ কে আজাদ

১৩৬ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা - ১২০৮ । ফোন : ৮৮৭০১৭৯-৮৫, ৮৮৭০১৯৫, ফ্যাক্স : ৮৮৭০১৯১, ৮৮৭৭০১৯৬, বিজ্ঞাপন : ৮৮৭০১৯০ । ইমেইল: info@samakal.com